শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯

ক্রয়-বিক্রয় / কেনা-বেচা / ব্যবসা


ক্রয়-বিক্রয় / কেনা-বেচা / ব্যবসা :



প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের প্রাণ ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন৷ তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং মারে মরে৷ তাদের প্রতি তাওরাত ,ইনজীল কুরআনে(জান্নাতের ওয়াদা) আল্লাহর জিম্মায় একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা বিশেষ৷ আর আল্লাহর চাইতে বেশী নিজের ওয়াদা পূরণকারী আর কে আছে? কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনা-বেচা করছো সে জন্য আনন্দ করো৷ এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য ::১১১,

(১২:১৯) ওদিকে একটি কাফেলা এলো৷ তারা তাদের পানি সংগ্রাহককে পানি নেবার জন্য পাঠালো৷ সে কূয়ার মধ্যে পানির ডোল নামিয়ে দিল৷ সে (ইউসুফকে দেখে) বলে উঠলো, “কী সুখবর! এখানে তো দেখছি একটি বালক৷তারা তাকে পণ্য দ্রব্য হিসেবে লুকিয়ে ফেললো৷ অথচ তারা যা কিছু করছিল সে সম্পর্কে আল্লাহ অবহিত ছিলেন৷ ২০) শেষে তারা তাকে সামান্য দামে কয়েক দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিল৷  আর তার দামের ব্যাপারে তারা বেশী আশা করছিল না৷  

(১৪:৩১) হে নবী! আমার যে বান্দারা ঈমান এনেছে তাদেরকে বলে দাও, তারা যেন নামায কায়েম করে এবং যা কিছু আমি তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে (সৎপথে) ব্যয় করে ৪১ সেই দিন আসার আগে যেদিন না বেচা-কেনা হবে আর না হতে পারবে বন্ধু বাৎসল্য৷

(নূর:৩৭) যারা ব্যবসায় ও বেচাকেনার ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ এবং নামায কায়েম ও যাকাত আদায় করা থেকে গাফিল হয়ে যায় না ৷ তারা সেদিনকে ভয় করতে থাকে যেদিন হৃদয় বিপর্যস্ত ও দৃষ্টি পাথর হয়ে যাবার উপক্রম হবে ৷




====================================
প্রশ্ন: ৪৩: বন্ধক দেয়া-নেয়ার ইসলামী রীতি

ক্রম: ক্রমাগত


ক্রম : ক্রমাগত :

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় ধীরে ধীরে ক্রম অনুসারে সহজ থেকে কঠিন বিভিন্ন ধাপের অনুসরণ :

(৩০-রূম: ৩৯) যে সূদ তোমরা দিয়ে থাকো, যাতে মানুষের সম্পদের সাথে মিশে তা বেড়ে যায়, আল্লাহর কাছে তা বাড়ে না ৷ ৫৯   আর যে যাকাত তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দিয়ে থাকো, তা প্রদানকারী আসলে নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করে৷ ৬০  
৫৯ . সুদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপনসূচক এটিই প্রথম আয়াতএখানে শুধুমাত্র এতটুকু কথা বলা হয়েছে যে, তোমরা তো একথা মনে করে সুদ দিয়ে থাকো যে, যাকে আমি এ অতিরিক্ত সম্পদ দিচ্ছি তাঁর ধন- দৌলত বেড়ে যাবেকিন্তু আসলে আল্লাহর কাছে সুদের মাধ্যমে ধন- দৌলত বৃদ্ধি হয় না বরং যাকাতের মাধ্যমে বৃদ্ধি হয়সামনের দিকে এগিয়ে যখন মদিনা তাইয়েবায় সুদ হারাম হবার হুকুম নাযিল করা হয তখন সেখানে অতিরিক্ত একথা বলা হয় ------------------" আল্লাহ সুদকে ক্ষতিগ্রস্ত করেন এবং সাদকাকে বিকশিত করেন" (পরবর্তী বিধানের জন্য দেখুন সূরা আলে ইমরান , ১৩০ আয়াত এবং আল বাকারাহ ২৭৫ আয়াত থেকে ২৮১ আয়াত
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ দু'দলে বিভক্ত হয়ে গেছেনএকদল বলেন, এখানে রিবা শব্দের এমন সুদের কথা বলা হয়নি যাকে শরীয়াতের দৃষ্টিতে হারাম করা হয়েছে বরং এমন ধরনের দান, তোহফা ও হাদিয়াকে সুদ বলা হয়েছে যা গ্রহীতা পরবর্তীকালে ফেরত দেবার সময় তা বর্ধিত আকারে ফেরত দেবে, এরূপ সংকল্প সহকারে দেয়া হয়অথবা একথা মনে করে দেয়া হয় যে, তা দাতাঁর কোন ভাল কাজে লাগবে অথবা তাঁর আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করা দাতাঁর নিজের জন্য ভালো হবেএটি ইবনে আব্বাস (রা), মুজাহিদ (রা), দ্বাহহাক (রা), কাতাদাহ, ইকরামাহ, মুহাম্মদ ইবনে কা'ব আল কুরাযী ও শা'বীর উক্তিআর সম্ভবত তারা এ ব্যাখ্যা এ জন্য করেছেন যে, আয়াতে এ কর্মের ফল হিসেবে কেবলমাত্র এতটুকু বলা হয়েছে যে, আল্লাহর কাছে ব্যাপারটি তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট হতো তাহলে ইতিবাচকভাবে বলা হতো, আল্লাহর দরবারে তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে
দ্বিতীয় দলটি বলেন, না, শরীয়াত যে রিবাকে হারাম গণ্য করেছে এখানে তাঁর কথাই বলা হয়েছেএ মত প্রকাশ করেছেন হযরত হাসান বাসরী ও সুদ্দী এবং আল্লামা আলূসীর মতে আয়াতের বাহ্যিক অর্থ এটিই কারণ আরবী ভাষায় রিবা শব্দটি এ অর্থেই ব্যবহৃত হয় মুফাসসির নিশাপুরীও এ ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করেছেন
আমার মতে এ দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিই সঠিককারণ পরিচিত অর্থ পরিত্যাগ করার জন্য ওপরে প্রথম ব্যাখ্যার স্বপক্ষে যে যুক্তি দেখানো হয়েছে তা যথেষ্ঠ নয়সূরা রুম যে সময় নাযিল হয় সে সময় কুরআন মজীদ সুদ হারাম হওয়ার কথা ঘোষণা করেনিতাঁর কয়েক বছর পর একথা ঘোষিত হয়এ জন্য সে পূর্ব থেকেই মন- মানসিকতা তৈরি করার কাজে লিপ্ত হয়মদের ব্যাপারেও পূর্বে শুধুমাত্র এতটুকু বলা হয়েছিল যে, এটা পবিত্র রিযিক নয় (আন নাহল ,৬৭ আয়াত) তাঁরপর বলা হয়, এর ক্ষতি এর লাভের চেয়ে বেশি( আল বাকারাহ ,২১৯) এরপর হুকুম দেয়া হয়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের ধারে কাছে যেয়ো না(আন নিসা ,৪৩) তাঁরপর এটিকে পুরোপুরি হারাম করার ঘোষণা দেয়া হয়অনুরূপভাবে এখানে সুদের ব্যাপারেও কেবলমাত্র এতটুকু বলেই থেমে যাওয়া হয়েছে যে, এটা এমন জিনিস নয় যার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি বরং সম্পদ প্রকৃতপক্ষে বৃদ্ধি হয় যাকাতের মাধ্যমেএরপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে (আল ইমরান, ১৩০ ) এবং সবশেষে সুদকেই চূড়ান্তভাবে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে (আল বাকারাহ ,২৭৫)
৬০ . এ বুদ্ধির কোন সীমা নির্ধারণ করা হয়নিযে ধরনের ঐকান্তিক সংকল্প, গভীর ত্যাগের অনুভূতি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রবল আকাঙ্ক্ষা সহকারে কোন ব্যক্তি আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করবে অনুরূপভাবেই আল্লাহ তাকে বেশি বেশি প্রতিদানও দেবেনতাই একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি খেজুরও দান করে তাহলে আল্লাহ তাকে বাড়িয়ে ওহোদ পাহাড়ের সমান করে দেন

===========================


প্রশ্ন: ৪৪: কোন আয়াতে বলা হয়েছে আখেরাতে অন্ধ ভাবে উঠানো হবে?


কুলক্ষুণে / অমঙ্গলজনক / অপয়া


 কিন্তু তাদের এমনি অবস্থা ছিল যে, ভাল সময় এলে তারা বলতো এটা তো আমাদের প্রাপ্য৷আর খারপ সময় এসে মূসা ও তার সাথীদেরকে নিজেদের জন্য কূলক্ষুণে গণ্য করতো৷ অথচ তাদের কুলক্ষণ তো আল্লাহর কাছে ছিল৷ কিন্তু তাদের অধিকাংশই ছিল অজ্ঞ-৭:১৩১
(৩৬-ইয়াসিন :১৮) জনপদবাসীরা বলতে লাগলো, “আমরা তো তোমাদেরকে নিজেদের জন্য অমঙ্গলজনক মনে করি৷ ১৪ 
১৪. তাদের এ বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল একথা বুঝানো যে, তোমরা আমাদের জন্য কুলক্ষুণে ও অশুভতোমরা এসে আমাদের উপাস্য দেবতাদের বিরুদ্ধে যেসব কথাবার্তা বলতে শুরু করেছো তার ফলে দেবতারা আমাদের প্রতি রুষ্ট হয়ে উঠেছে এবং এখন আমাদের ওপর যেসব বিপদ আসছে তা আসছে তোমাদেরই বদৌলতেঠিক এ একই কথাই আরবের কাফের ও মোনাফিরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে বলতোঃ
---------------------------
"যদি তারা কোন কষ্টের সম্মুখীন হতো, তাহলে বলতো, এটা হয়েছে তোমার কারণে "(আন নিসা, ৭৮)
তাই কুরআন মজীদে বিভিন্ন স্থানে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে , এ ধরনের জাহেলী কথাবার্তাই প্রাচীন যুগের লোকেরাও তাদের নবীদের সম্পর্কে বলতোসামূদ জাতি তাদের নবীকে বলতো ---------"আমরা তোমাকে ও তোমার সাথীদেরকে অমংগল জনক পেয়েছি"। (আন্ নমল: ৪৭)
আর ফেরাউনের জাতিও এ একই মনোভাবের অধিকারী ছিলঃ
---------------------------
"যখন তারা ভালো অবস্থায় থাকে তখন বলে, এটা আমাদের সৌভাগ্যের ফল এবং তাদের ওপর কোন বিপদ এলে তাকে মূসা ও তার সাথীদের অলক্ষুণের ফল গণ্য করতো। (আল আরাফ, ১৩১)


(৩৬-ইয়াসিন :১৯) রসূলরা জবাব দিল, তোমাদের অমংগল তোমাদের নিজেদের সাথেই লেগে আছে৷ ১৫  তোমাদের উপদেশ দেয়া হয়েছে বলেই কি তোমরা একথা বলছো? আসল কথা হচ্ছে, তোমরা সীমালংঘনকারী লোক৷ ১৬ 
১৫. অর্থাৎ কেউ কারোর জন্য অপয়া ও অলক্ষণ নয়প্রত্যেক ব্যক্তির তাকদীরের লিখন তার নিজেরই গলায় ঝুলছে কোন অকল্যাণ ও অঘটন ঘটলে তা হয় তার নিজের তাকদীরের ফল এবং শুভ ও কল্যাণকর কিছু ঘটলে তাও হয় তার তাকদীরের ফল
---------------------------
"প্রত্যেক ব্যক্তির কল্যাণ ও অকল্যাণের পরোয়ানা আমি তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছি"
১৬. আসলে তোমরা কল্যাণ থেকে পালাতে চাও এবং হিদায়াতের পরিবর্তে গোমরাহী পছন্দ করোতাই তোমরা যুক্তির মাধ্যমে হক ও বাতিলের ফায়সালা করার পরিবর্তে কুসংস্কার ও পৌরানিক ভাব কল্পনার মাধ্যমে বাহানাবাজি করছো
=======================================

প্রশ্ন: ৪৫: ওযু সংক্রান্ত আয়াত কোন সূরার কত নাম্বার আয়াতে আছে?


কক্ষপথ



দেখুন : > কুরআন > কুরআন বিজ্ঞান > মহাকাশ বিজ্ঞান > কক্ষপথ

 কক্ষপথ : মহাবিশ্বের সবকিছুই একটি নির্দ্দিষ্ট নিয়মে নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমন করছে : এটিও এক মহান আল্লাহর অস্তিত্ব তাঁর একত্ববাদের প্রমাণ :


(৩৬-ইয়াসিন :৪০) না সুর্যের ক্ষমতা আছে চাঁদকে ধরে ফেলে ৩৫ এবং না রাত দিনের ওপর অগ্রবর্তী হতে পারে, ৩৬ সবাই এক একটি কক্ষপথে সন্তরণ করছে৷৩৭ 
৩৫. এ বাক্যের দুটি অর্থ হতে পারে এবং দুটি অর্থই সঠিকএকটি হচ্ছে, চাঁদকে ধরে নিজের দিকে টেনে নেবার অথবা তার গতিপথে প্রবেশ করে তার সাথে সংঘাত বাধাবার ক্ষমতা সূর্যের নেইদ্বিতীয়টি হচ্ছে, চাঁদের উদয়ের জন্য যে সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সূর্য কখনো তার মধ্যে প্রবেশ করতে পারে নারাতে চাঁদ আকাশে আলো ছড়াচ্ছে এ সময় হঠাৎ দিগন্তে সূর্যের উদয় সম্ভব নয়
৩৬. অর্থাৎ দিনের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাবর আগে কখনো রাত এসে যাওয়া এবং দিনের আলোর জন্য যে সময় নির্ধারিত রয়েছে তার মধ্যে অকস্মাত নিজের অন্ধাকার নিয়ে তার উপস্থিত হওয়া কখনো সম্ভব নয়
৩৭. মুলে "ফালাক"শব্দ ব্যবহার করা হয়েছেআরবী ভাষায় "ফালাক" মানে গ্রহ-নক্ষত্রের কক্ষপথ(Orbit)এবং এর অর্থ আকাশের অর্থ থেকে ভিন্ন। "সবাই একটি কক্ষপথে সাঁতরাচ্ছে" এ উক্তি চারিটি সত্যের প্রতি অংগুলি নির্দেশ করছেএক, কেবলমাত্র, সূর্য ও চন্দ্র নয় বরং সমস্ত তারকা ও গ্রহ এবং সমগ্র আকাশ জগত আবর্তন করছেদুই, এদের প্রত্যেকের আকাশ অর্থাৎ প্রত্যকের আবর্তন পথ বা কক্ষপথ আলাদাতিন, আকাশসমূহ তারকারাজিকে নিয়ে আবর্তন করছে না বরং তারকারাজি আকাশসমূহে আবর্তন করছেচার, আকাশসমূহে তারকাদের আবর্তন এমনভাবে হচ্ছে যেমন কোন তরল পদার্থে কোন জিনিস ভেসে চলে
জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোচনা এ আয়াতগুলোর মুল উদ্দেশ্য নয় রবং মানুষকে একথা বুঝানোই এর উদ্দেশ্য যে, যদি সে চোখ মেলে তাকায় এবং নিজের বুদ্ধি ব্যবহার করে তাহলে পৃথিবী থেকে আকাশ পর্যন্ত যেদিকেই তাকাবে সেদিকেই তার সামনে আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তার একত্বের অসংখ্য ও অগণিত যুক্তি -প্রমাণের সমাবেশ দেখতে পাবেএ অবস্থায় সে কোথাও নাস্তিক্যবাদ ও শিরকের সপক্ষে একটি যুক্তি -প্রমাণের সমাবেশ দেখতে পাবে না আমাদের এ পৃথিবী যে সৌরজগতের (Solar System)অন্তরভুক্ত তার বিশালত্বের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তার কেন্দ্রীয় সূর্যটি পৃথিবীর তিন লক্ষ গুণ বড় এবং তার সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ নেপচুনের দূরত্ব সূর্য থেকে কমপক্ষে ২শ' ৭৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইলে গিয়ে পৌছে বিশালত্ব সত্ত্বেও এ সৌরজগত একটি বিরাট বিশাল ছায়াপথের নিছক একটি ছোট অংশ মাত্র আমাদের এ সৌরজগত যে ছায়াপথটির (Galaxy)অন্তরভুক্ত তার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন (৩শ' কোটি)সূর্য রয়েছে এবং তার নিকটবর্তী সূর্যটি আমাদের পৃথিবী থেকে এত দূরে অবস্থান করছে যে, তার আলো এখানে পৌছুতে ৪ বছর সময় লাগেতারপর এ ছায়াপথই সমগ্র বিশ্ব-জাহান নয়বরং এতদিনকার পর্যবেক্ষণ থেকে অনুমান করা হয়েছে যে, প্রায় ২০ লক্ষ নীহারিকাপুঞ্জের মধ্যে এটিও একটি এবং এদের নিকটতম নীহারিকা আমাদের থেকে এত বেশী দূরত্বে অবস্থিত যে, তার আলো আমাদের পৃথিবীতে পৌছুতে ১০ লক্ষ বছর লাগেআর আমাদের অত্যাধুনিক দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে সবচেয়ে দূরের যে নীহারিকা দৃষ্টিগোচর হয় তার আলো দুনিয়ায় পৌছুতে ১০ কোটি বছর লাগেএরপরও মানুষ সমগ্র বিশ্ব-জাহান দেখে নিয়েছে, একথা বলা যায় নাআল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বের সামান্যতম অংশমাত্র এতদিন পর্যন্ত মানুষ পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেসামনের দিকে আরো আত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ উপকরণ উদ্ভাবিত ও সংগৃহিত হলে আরো কতো ব্যাপকতা মানুষের সামনে উন্মুক্ত হবে তা বলা সম্ভব নয়
বিশ্ব-জাহান সম্পর্কে এ পর্য়ন্ত যে পরিমান তথ্য সংগৃহীত হয়েছে তা থেকে প্রমাণিত হয়, আমাদের এ ক্ষুদ্র পৃথিবীটি যেসব উপাদানে গঠিত এ সমগ্র বিশ্ব-জাহান সে একই উপাদানে গঠিত হয়েছে এবং এর মধ্যে আমাদের পৃথিবীর মতো একই নিয়ম সক্রিয় রয়েছেনয়তো এ পৃথিবীতে বসে আমরা যে অতি দূরবর্তী বিশ্বগুলো পর্যবেক্ষণ করছি, তাদের দূরত্ব পরিমাপ করছি এবং তাদের গতির হিসেব করছি এসব কোনক্রমেই সম্ভবপর হতো নাএসব কি একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ নয় যে এ সমস্ত বিশ্ব-জাহান একই আল্লাহর সৃষ্টি এবং একই শাসকের রাজ্য৷ তারপর যে নিয়ম-শৃংখলা, প্রজ্ঞা-কলাকৌশল, দক্ষতা, -শিল্পকারিতা ও সম্পর্ক -সম্বন্ধ এসব লাখো লাখো ছায়াপথ ও তাদের মধ্যে সঞ্চরণশীল শত শত কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে পাওয়া যায় তা দেখে কি কোন বুদ্ধিমান মানুষ একথা কল্পনা করতে পারে যে, এসব কিছু আপনা -আপনিই হয়ে গেছে৷ এ নিয়ম -শৃংখলার পেছনে কি কোন ব্যবস্থাপক, এ কলা -কৌশলের পেছনে কোন জ্ঞানী কৌশল, এ শিল্পকর্মের পেছনে কোন শিল্পী এবং এ সমন্বয় ও সম্পর্কের পেছনে কোন পরিকল্পনাকারী নেই৷

আরো বিস্তারিত দেখুন : > নাস্তিক > বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ববাদের  প্রমাণ  সমূহ

=============================================

প্রশ্ন: ৪৬: রাসূলুল্লাহ (সা:) কি ইলমে গায়েবের অধিকারী ?