শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯

কুরআন




কুরআন :



(২৮-ক্বাছাছ : ৪৩) পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোকে ধ্বংস করার পর আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম লোকদের জন্য আত্মজ্ঞান লাভের সহায়ক, পথনির্দেশনা ও রহমত হিসেবে, যাতে লোকেরা শিক্ষা গ্রহণ করে৷

(হাজ্ব:৫১) আর যারা আমার আয়াতকে খাটো করার চেষ্টা করবে তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী৷

(হাজ্ব:৫২) ...এভাবে শয়তান যাকিছু বিঘ্ন সৃষ্টি করে আল্লাহ তা দূর করে দেন এবং নিজের আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।



কুরআনের কিছু না জানা : ২:৭৮,

কিতাবের হুকুম গোপন করার কুফল : ২:৫৯, ১৭৪, ৫:১৫ (আহলে কিতাবগণও কিতাবের হুকুম গোপন করে),

কুরআন কোন ধরণের লোকদেরকে হেদায়েত দান করে ? : ২:৩-৪,

কুরআন আল্লাহর কিতাব এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ হলে এর মতো একটি সুরা রচনা করে নিয়ে আসো : ২:২৩, ৬:৯৩,

কিতাব নিজ হাতে লিখে তা আল্লাহর বলে চালিয়ে দেওয়া : ২:৭৮, ৭৯, ৩:৭৮-৮০,

যারা কুরআন শোনে কিন্তু মানতে চায় না : এবং অপরকেও কুরআন শুনতে দিতে চায় না : ৬:২৫-২৯, ১৫৭,

কুরআন নাযিল সংক্রান্ত : ২:১৮৫, ২১৩, ৩:৩, ৪, ৩:১৬৮ (কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য বর্ণনা ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ), ৪:১০৫, ১১৩, ১৭৪, ৫:১৫-১৬, ৪৮, ৪৯, ৬:১৯, ৩৮, ৬:৯১ (মানুষের উপর নাযিল করা কিতাব), ৯২, ১০৪ (অন্তদৃষ্টির আলো), ১৫৫ (বরকতপুর্ন কিতাব), ১৫৬, ১৫৭,



কুরআন পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী :

২:৮৯, ৯১, ৩:৩, ৪, ৪:৪৩-৫০ (প্রত্যেক আসমানী কিতাব তার পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী), ৬:১৫৬, ১৫৭,

কুরআনের আয়াত রহিত করণ প্রসঙ্গ : ২:১০৬,

কুরআন বিশুদ্ধতার চ্যালেঞ্জ ও যুক্তি সমূহ : ২:২, ২:২৩, ৪:৮২,

প্রশ্ন সমূহ : কুরআন নাযিল সংক্রান্ত প্রশ্ন সমূহ : ৫:১০১, ১৩২, ৬:৭-৯ (কাগজে লেখা কুরআন), ৬:১০৫ (কুরআন অন্য কারো কাছ থেকে শিখে এসেছো – রাসুল সা: কে একথা বলা), ৭:২,





কুরআন ও সিজদা :

প্রকৃত ঈমানদারদের পরিচয় হচ্ছে তারা আল্লাহর কুরআন শুনে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে :

(৩২- আস-সাজদা : ১৫) আমার আয়াতের প্রতি তো তারাই ঈমান আনে যাদেরকে এ আয়াত শুনিযে যখন উপদেশ দেয়া হয় তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে ……।

বিস্তারিত দেখুন : স > সিজদা। এবং আল কুরআনে বর্ণিত সিজদার আয়াত সমুহ।





কুরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা কর :

(৩৮-সোয়াদ:২৯) এটি একটি অত্যন্ত বরকতপূর্ন কিতাব, যা (হে মুহাম্মদ!) আমি তোমার প্রতি নাযল করেছি, যাতে এরা তার আয়াত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে এবং জ্ঞানী ও চিন্তাশীশরা তা থেকে শিক্ষা নেয়৷



কুরআনে বিভিন্ন বিষয়ের পুনরাবৃত্তির কারণ কি ?

(৩৯-যুমার:২৩) আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাযিল করেছেন, এমন একটি গ্রন্থ যার সমস্ত অংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ ৪৩ যার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের পূনরাবৃত্তি করা হয়েছে৷



৪৩. ঐ সব বাণীর মধ্যে কোন বৈপরীত্য ও বিরোধ নেই। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা কিতাব একই দাবী , একই আকীদা - বিশ্বাস এবং চিন্তা ও কর্মের একই আদর্শ পেশ করে। এর প্রতিটি অংশ অন্য সব অংশের এবং প্রতিটি বিষয় অন্য সব বিষয়ের সত্যায়ন , সমর্থন এবং ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষেণ করে । অর্থ ও বর্ণনা উভয় দিক দিয়েই এ গ্রন্থের পূর্ণ মিল ও সামঞ্জস্য (Consistency ) বিদ্যমান।



(আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআনের ভূমিকা)





কুরআন ব্যাখ্যা করার মূলনীতি সমূহ :



কুরআনের শব্দাবলীর বাইরে অন্য অর্থ গ্রহণ করা কেবলমাত্র চারটি অবস্থায়ই সঠিক হতে পারে

(৩৮-সোয়াদ:৩৩) তখন (সে হুকুম দিল) তাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো তারপর তাদের পায়ের গোছায় ও ঘাড়ে হাত বুলাতে লাগলো৷ ৩৫

৩৫. এ আয়াতগুলোর অনুবাদ ও ব্যাখ্যার তাফসীরকারগণের মধ্যে বিভিন্ন মতের সৃষ্টি হয়েছে।

একটি দল এগুলোর অর্থ বর্ণনা করে বলেনঃ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম ঘোড়া দেখাশুনা ও তাদের দৌড় প্রতিযোগিতায় এতবেশী মশগুল হয়ে পড়েছিলেন যার ফলে আসরের নামাযের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। অথবা কারো কারো কথা মেনে নিজের কোন বিশেষ ওযীফা পড়তে ভুলে গিয়েছিলেন । এ ওয়ীফাটি তিনি পাঠ করতেন আসর ও মাগরিবের নামাযের মাঝামাঝি সময়। কিন্তু সেদিন সূর্য ডুবে গিয়েছিল অথচ তিনি নামায পড়তে বা ওযীফা পাঠ করতে পারেনি। ফলে তিনি হুকুম দিলেনঃ ঘোড়াগুলো ফিরিয়ে আনো । আর সেগুলো ফিরে আসার পর হযরত সুলাইমান (আ) তরবারির আঘাতে সেগুলোকে হত্যা করতে বা অন্য কথায় আল্লাহর জন্য কুরবানী করতে লাগলেন । কারণ , সেগুলো তাঁকে আল্লার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছিল । এ ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে এ আয়াতগুলোর অনুবাদ এভাবে করা হয়েছেঃ " তখন সে বললো , আমি এ সম্পদের প্রতি আসক্তি এত বেশী পছন্দ করেছি যার ফলে আমার রবের স্মরণ (আসরের নামায বা বিশেষ ওযীফা ) থেকে গাফেল হয়ে গেছি , এমনকি (সূর্য পশ্চিমাকাশের অন্তরালে ) লুকিয়ে পড়েছে। (তখন সে হুকুম দিল ) ফিরিয়ে আনো ঐ (ঘোড়া ) গুলোকে। (আর যখন সেগুলো ফিরে এলো ) তখন তাদের পায়ের গোছায় ও ঘাড়ে (তরবারির ) হাত চালিয়ে দিল। " এ ব্যাখ্যাটি কোন কোন খ্যাতিমান তাফসীরকারের দেয়া হলেও এটি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য নয়। কারণ , এখানে তাফসীরকারকে নিজের পক্ষ থেকে তিনটি কথা বাড়াতে হয় , যেগুলোর কোন উৎস ও ভিত্তি নেই। প্রথমত তিনি ধরে নেন , হযরত সুলাইমানের আসরের নামায বা এ সময় তিনি যে একটি বিশেষ ওয়ীফা পড়তেন তেমন কোন ওযীফা এ কাজে মশগুল থাকার কারণে ছুটে গিয়েছিল । অথচ কুরআনের শব্দাবলী হচ্ছে কেবলমাত্রঃ

আরবী -------------------------------------------------------------------------

এ শব্দগুলোর অনুবাদ তো এভাবেও করা যেতে পারে যে , " আমি এ সম্পদ এত বেশী পছন্দ করে ফেলেছি , যার ফলে আমার রবের স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে পড়েছি। " কিন্তু এর মধ্যে আসরের নামায বা কোন বিশেষ ওযীফার অর্থ গ্রহণ করার কোন প্রসংগ বা পূর্বসূত্র নেই। দ্বিতীয়ত তারা এটাও ধরে নেন যে , সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। অথচ সেখানে সূর্যের কোন কথা বলা হয়নি। বরং (আরবী ------------------------------------) শব্দাবলী পড়ার পর মানুষের চিন্তা স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসে পেছনের আয়াতে উল্লেখিত (আরবী ---------------) এর দিকে। তৃতীয়, এটাও ধরে নেন যে , হযরত সুলাইমান ঘোড়াগুলোর পায়ের গোড়ায় ও ঘাড়ে খালি হাত বুলাননি বরং তলোয়ারসহ হাত বুলান। অথচ কুরআনে (আরবী ---------------) শব্দ বলা হয়নি এবং এখানে এমন কোন প্রসংগ বা পর্বসূত্রও নেই যার ভিত্তিতে হাত বুলানোকে তরবারিসহ হাত বুলানো অর্থে গ্রহণ করা যেতে পারে । কুরআনের ব্যাখ্যা করার এ পদ্ধতির সাথে আমি নীতিগতভাবে ভিন্নমত পোষণ করি। আমার মতে কুরআনের শব্দাবলীর বাইরে অন্য অর্থ গ্রহণ করা কেবলমাত্র চারটি অবস্থায়ই সঠিক হতে পারে। এক , কুরআনের বাক্যের মধ্যেই তার জন্য কোন পুর্বসূত্র বা প্রসংগ থাকবে। দুই , কুরআনের অন্য কোন জায়াগায় তার প্রতি কোন ইংগিত থাকবে। তিন . কোন সহীহ হাদীসে এ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। অথবা চার , তার অন্য কোন নির্ভরযোগ্য উৎস থাকবে। যেমন ইতিহাসের বিষয় হলে ইতিহাসে এ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পাওযা যেতে হবে। প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের বিষয় হলে নির্ভরযোগ্য তাত্বিক গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে হবে। আর শরীয়াতের বিধানের বিষয় হলো ইসলামী ফিকহের উৎস এর ব্যাখ্যা পেশ করবে। যেখানে এর মধ্য থেকে কোন একটি বিষয়ও থাকবে না সেখানে নিছক নিজস্বভাবে একটি কিসসা রচনা করে কুরআনের অন্তরভুক্ত করে দেয়া আমার মতে সঠিক নয়।

একটি দল উপরোক্ত অনুবাদ ও ব্যাখ্যার সামান্য বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেন , (আরবী ----------------------) এবং (আরবী --------------) উভয়ের মধ্যে যে সর্বনাম রয়েছে সেটি হচ্ছে সূর্য। অর্থাৎ যখন আসরের নামায ছুটে গেলো এবং সূর্য অস্তমিত হলো তখন হযরত সুলাইমান (আ) বিশ্ব জাহান পরিচালনায় নিযুক্ত কর্মকর্তাগণকে অর্থাৎ ফেরেশতাগণকে বললেন , সূর্যকে ফিরিয়ে আনো , যাতে আসরের সময় ফিরে আসে এবং আমি নামায পড়তে পারি। এর ফলে সূর্য ফিরে এলো এবং তিনি নামায পড়ে নিলেন । কিন্তু এ ব্যাখ্যাটি ওপরের ব্যাখ্যাটির চাইতে ও আরো বেশী অগ্রহণযোগ্য । এ জন্য নয় যে , আল্লাহ সূর্যকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম নন বরং এ জন্য যে , আল্লাহ আদৌ এর কোন উল্লেখই করেননি । বরং হযরত সুলাইমানের জন্য যদি এত বড় মু'জিযার প্রকাশ ঘটতো তাহলে অবশ্যই তা উল্লেখযোগ্য হওয়া উচিত ছিল। এর আরো একটি কারণ এই যে , সূর্যের অস্তমিত হয়ে তারপর আবার ফিরে আসা এমন একটি অসাধারণ ঘটনা যে , যদি সত্যিই তা ঘটে থাকতো তাহলে দুনিয়ার ইতিহাসে তা কখনো অনুল্লেখিত থাকতো না । এ ব্যাখ্যার সপক্ষে তাঁরা কতিপয় হাদীস পেশ করেও একথা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে , সূর্যের অস্তমিত হয়ে পুনর্বার ফিরে আসার ঘটনা মাত্র একবার ঘটেনি বরং কয়েকবার এ ঘটনা ঘটেছে । মি'রাজের ঘটনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সূর্যকে ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। খন্দকের যুদ্ধের সময়ও নবী করীমের (সা) তাঁর কোলে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছিলেন এবং তাঁর আসরের নামায কাযা হয়ে গিয়েছিল । নবী করীম (সা) সূর্যকে ফিরিয়ে আনার দোয়া করেন এবং তা ফিরে আসে। কিন্তু যে ব্যাখ্যার সমর্থনে এ হাদীসগুলো বর্ণনা করা হয়েছে এগুলো থেকে তার সপক্ষে প্রমাণ পেশ করা তার চাইতেও দুর্বল। হযরত আলী সম্পর্কে যে হাদীস বর্ণনা করা হয়ে থাকে তার সকল বর্ণনা পরস্পরা ও বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে ইবনে তাইমিয়া একে বনোয়াট ও জাল হাদীস প্রমাণ করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন , এর কোন ভিত্তি নেই। ইবনে জাওযী বলেন , নিসন্দেহে এটি জাল হাদীস। খন্দকের যুদ্ধের সময় সূর্যকে ফিরিয়ে আনার হাদীসটি ও অনেক মুহাদ্দিসের মতে যঈফ এবং অনেকের মতে বানোয়াট। অন্যদিকে মি'রাজেরর হাদীসে আসল ব্যাপারটি হচ্ছে , যখন নবী করীম (সা) মক্কার কাফেরদেরকে কাছে মি'রাজের রাতের অবস্থা বর্ণনা করছিলেন তখন কাফেররা তাঁর কাছে প্রমাণ চাইলো। তিনি বললেন , বাইতুল মাসদিসের পথে অমুক জায়গায় একটি কাফেলার দেখা পেয়েছিলাম এবং তাদের সাথে অমুক ঘটনা ঘটেছিল । কাফেররা জিজ্ঞেস করলো , সে কাফেলাটি কবে মক্কায় পৌঁছুবে ৷ তিনি জবাব দিলেন , অমুক দিন । যখন সেদিনটি এলো কুরাইশরা সারদিন কাফেলার অপেক্ষা করতে লাগলো , এমনকি সন্ধ্যা হয়ে গেলো। তখন নবী (সা) দেয়া করলেন যেন সূর্য ততক্ষণ পর্যন্ত অস্তমিত না হয় যতক্ষণ কাফেলা না এসে যায়। কাজেই দেখা গেলো সূর্য ডুবার আগে তারা পৌঁছে গেছে। এ ঘটনাটিকে কোন কোন বর্ণনাকারী এভাবে বর্ণনা করেছেন যে , সেদিন দিনের সময় এক ঘন্টা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল এবং এই বাড়তি সময় পর্যন্ত সূর্য দাঁড়িয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে , এ ধরনের হাদীস এত বড় অস্বাভাবিক ঘটনার প্রমাণের ক্ষেত্রে সাক্ষ হিসেবে যথেষ্ট হতে পারে কি ৷ যেমন আমি আগেই বলে এসেছি , সূর্যের ফিরে আসা বা ঘন্টা খানিক আচকে থাকা কোন সাধারণ ঘটনা নয়।

এ ধরনের ঘটনা যদি সত্যিই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকতো তাহলে সারা দুনিয়ায় হৈ চৈ পড়ে যেতো। দু'চারটি খবরে ওয়াহিদের যে হাদীসের বর্ণনাকারী কোন স্তরে মাত্র একজন মধ্যে তার আলোচনা কেমন করে সীমাবদ্ধ থাকতো ৷

মুফাসসিরগণের তৃতীয় দলটি এ আয়াতগুলোর এমন অর্থ গ্রহণ করেন যা একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি এর শব্দগুলো পড়ে এ থেকে গ্রহণ করতে পারে। এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী ঘটনা কেবলমাত্র এতটুকুঃ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সামেন যখন উন্নত ধরনের ভাল জাতের ঘোড়ার একটি পাল পেশ করা হলো তখন তিনি বললেন , অহংকার বা আত্মম্ভরিতা করার জন্য অথবা শুধুমাত্র আত্মস্বার্থের খাতিরে এ সম্পদ আমার কাছে প্রিয় নয়। বরং এসব জিনিসের প্রতি আমার আকর্ষণকে আমি আমার রবের কালেমা বুলন্দ করার জন্য পছন্দ করে থাকি । তারপর তিনি সে ঘোড়াগুলোর দৌড় করালেন এমনকি সেগুলো দৃষ্টি বাইরে চলে গেলো। এরপর তিনি সেগুলো ফেরত আনালেন। সেগুলো ফেরত আসর পর ইবনে আব্বাসের বক্তব্য অনুযায়ী:

আরবী -----------------------------------------------------------------------------

" তিনি তাদের পায়ের গোছায় ও ঘাড়ে আদর করে হাত বুলাতে লাগলেন " আমাদের মতে এ ব্যাখ্যাটিই সঠিক। কারণ কুরআন মজীদের শব্দাবলীর সাথে এটি পূর্ণ সামঞ্জস্য রাখে এবং অর্থকে পূর্ণতা দান করার জন্য এর মধ্যে এমন কোন কথা বাড়িয়ে বলতে হয় না যা কুরআনে নেই , কোন সহীহ হাদীসে নেই এবং বনী ইসরাঈলের ইতিহাসেও নেই।

এ প্রসংগে একথাটিও সামনে থাকা উচিত যে , আল্লাহ হযরত সুলাইমানের পক্ষে এ ঘটনাটি উল্লেখ করেছেনঃ (আরবী ----------------------) (নিজের রবের দিকে বেশী বেশী ফিরে আসা ব্যক্তিই হচ্ছে সর্বোত্তম বান্দা ) এর প্রশংসা বাণী উচ্চারণ করার অব্যবহিত পরেই করেছেন।

এ থেকে পরিস্কার জানা যায় , আসলে একথা বলাই এখানে উদ্দেশ্য ছিল যে , দেখো , সে আমার কত ভাল বান্দা ছিল , বাদশাহীর সাজ সরঞ্জাম তার কাছে পছন্দনীয় ছিল দুনিয়ার খাতিরে নয় বরং আমার জন্য , নিজের পরাক্রান্ত অশ্ববাহিনী দেখে দুনিয়াদার ও বৈষয়িক ভোগ লালসায় মত্ত শাসনকর্তাদেগর মতো সে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেনি বরং সে সময়ও তার মনোজগতে ভেসে উঠেছে আমারই স্মৃতি।



কুরআন একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিতাব, যার এক অংশ আরেক অংশের সত্যায়ন করে, কুরআনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে :

(৩৯-যুমার:২৩) আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাযিল করেছেন, এমন একটি গ্রন্থ যার সমস্ত অংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ ৪৩ যার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের পূনরাবৃত্তি করা হয়েছে৷ এসব শুনে সে লোকদের লোম শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে৷ তারপর তাদের দেহমন বিগলিত হয়ে আল্লাহর স্মরণে প্রতি আকৃষ্ট হয়৷ এটা হচ্ছে আল্লাহর হিদায়াত৷ এর দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে নিয়ে আসেন৷ আর যাকে আল্লাহ নিজেই হিদায়াত দান করেন না তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই৷



৪৩. ঐ সব বাণীর মধ্যে কোন বৈপরীত্য ও বিরোধ নেই। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা কিতাব একই দাবী , একই আকীদা - বিশ্বাস এবং চিন্তা ও কর্মের একই আদর্শ পেশ করে। এর প্রতিটি অংশ অন্য সব অংশের এবং প্রতিটি বিষয় অন্য সব বিষয়ের সত্যায়ন , সমর্থন এবং ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষেণ করে । অর্থ ও বর্ণনা উভয় দিক দিয়েই এ গ্রন্থের পূর্ণ মিল ও সামঞ্জস্য (Consistency ) বিদ্যমান।





কুরআন আল্লাহর পক্ষথেকে নাযিলকৃত ওহী : এর একটি প্রমাণ হলো : এতে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো পুংখানুপুংখ রূপে বর্ণনা করা হয়েছে :



(২৮-ক্বাছাছ : ৪৫) বরং এরপর (তোমার যুগ পর্যন্ত) আমি বহু প্রজন্মের উদ্ভব ঘটিয়েছি এবং তাদের ওপর অনেক যুগ অতিক্রান্ত হয়ে গেছে৷৬২ তুমি মাদয়ানবাসীদের মধ্যেও উপস্থিত ছিলে না, যাতে তাদেরকে আমার আয়াত শুনাতে পারতে৬৩ কিন্তু আমি সে সময়কার এসব তথ্য জানাচ্ছি৷



৬২. অর্থাৎ সরাসরি এ তথ্যগুলো লাভ করার কোন উপায় তোমাদের ছিল না। আজ দু'হাজার বছরের বেশী সময় অতিবাহিত হয়ে যাবার পরও যে, তোমরা এ ঘটনাবলীকে এমনভাবে বর্ণনা করছো যেন তোমাদের চোখে দেখা ঘটনা , আল্লাহর অহীর মাধ্যমে এসব তথ্য তোমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া এর আর কোন কারণ নেই।

৬৩. অর্থাৎ যখন মূসা মাদয়ানে পৌঁছেন, তাঁর সাথে সেখানে যা কিছু ঘটে এবং দশ বছর অতিবাহিত করে যখন তিনি সেখান থেকে রওয়ানা দেন তখন সেখানে কোথাও আপনার কোন পাত্তাই ছিল না। আপনি আজ মক্কার অলিতে গলিতে যে কাজ করে বেড়াচ্ছেন সে সময় মাদয়ানে জনবসতিগুলোতে সে কাজ করতেন না। আপনি চোখে দেখে এ ঘটনাবলীর উল্লেখ করছেন না বরং আমার মাধ্যমেই তোমরা এ জ্ঞানও লাভ করছো।



(২৮-ক্বাছাছ : ৪৬) আর তুমি তূর পাহাড়ের পাশেও তখন উপস্থিত ছিলে না যখন আমি (মূসাকে প্রথমবার) ডেকেছিলাম৷ কিন্তু এটা তোমার রবের অনুগ্রহ (যার ফলে তোমাকে এসব তথ্য দেয়া হচ্ছে )৬৪ যাতে তুমি তাদেরকে সতর্ক করো যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি,৬৫ হয়েতা তারা সচেতন হয়ে যাবে৷

৬৪. এ তিনটি কথাই পেশ করা হয়েছে মুহাম্মদ (সঃ) এর নবুওয়াতের সপক্ষে প্রমান হিসেবে। যখন এ কথাগুলো পেশ করা হয়েছিল তখন মক্কার সমস্ত সরদার ও সাধারন কাফেররা কোন প্রকারে তাঁকে অ-নবী এবং নাউযুবিল্লাহ নবুওয়াতের মিথ্যা দাবীদার প্রমান করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। তাদেরকে সাহায্য করার জন্য ইয়াহুদী উলামা ও খৃষ্টান 'রাহিব' তথা সংসারত্যাগী-যোগী সন্ন্যাসীরাও হেজাযের জনপদগুলোতে উপস্তিত ছিল। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামও কোন মহাশূন্য থেকে এসে কোরআন শুনিয়ে যেতেন না। বরং তিনি ছিলেন সেই মক্কারই বাসিন্দা। তাঁর জীবনের কোন একটি দিকও তাঁর জনপদ ও গোত্রের লোকদের কাছে গোপন ছিল না। এ কারনেই যখন এ প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের আকারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের প্রমানস্বরূপ এ তিনটি কথা বলা হলো তখন মক্কা, হেজায এবং সারা আরবের কোন এক ব্যক্তিও উঠে এমন বেহুদা কথা বলেনি যা আজকের পাশ্চাত্য প্রাচ্যবিদরা বলছেন। যদিও মিথ্যা তৈরি করার ব্যাপারে তারা এদের চেয়ে কম যেতো না তবুও যে ডাহা মিথ্যা এক মুহুর্তের জন্যও চলতে পারে না তা তারা বলতো কেমন করে। তারা কেমন করে বলতো, হে মুহাম্মদ, তুমি অমুক অমুক ইহুদী আলেম ও খৃষ্টান রাহেবের কাছ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করে এনেছো! কারন সারাদেশে এ উদ্দেশ্যে তারা কোন একজনেরও নাম নিতে পারত না। তারা কারো নাম নেবার সাথে সাথেই প্রমান হয়ে যেত যে, নবী (সঃ) তার কাছ থেকে কোন তথ্য সংগ্রহ করেননি। তারা কেমন করে বলতো, হে মুহাম্মদ! বিগত ইতিহাস এবং সাহিত্য ও যাবতীয় বিদ্যার গ্রন্থরাজি সম্বলিত একটি লাইব্রেরী তোমার আছে! সেই গ্রন্থরাজির সহায়তায় তুমি এসব বক্তৃতা দিচ্ছো। কারন লাইব্রেরী তো দূরের কথা, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের আশে পাশে কোথাও থেকে তারা এসব তথ্য সম্বলিত একটি কাগজের টুকরোও বের করতে সক্ষম ছিল না। মক্কার প্রতিটি শিশুও জানতো, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম লেখাপড়া জানা লোক নন। আবার কেউ একথাও বলতে পারত না যে, তিনি কিছু অনুবাদক নিযুক্ত করে রেখেছেন, তারা হিব্রু, সুরিয়ানী ও গ্রীক গ্রন্থরাজি থেকে তরজমা করে তাঁকে দেয়। তারপর তাদের সবচেয়ে বড় বেহায়া লোকটিও এ দাবী করার সাহস করতো না যে, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের বাণিজ্য সফরে গিয়ে আপনি এ তথ্যাবলী সংগ্রহ করে এনেছিলেন। কারন এ সফরে তিনি একা ছিলেন না। মক্কারই বাণিজ্যিক কাফেলা প্রত্যেক সফরে তাঁর সাথে থাকতো। যদি তখন কেউ এ ধরনের দাবী করতো তাহলে শত শত জীবিত সাক্ষী এ সাক্ষ্য দিতো যে, সেখানে তিনি কারো কাছ থেকে কোন পাঠ নেননি। আর তাঁর ইন্তিকালের পর তো দু'বছরের মধ্যেই রোমানদের সাথে মুসলমানরা যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে গিয়েছিল। যদি মিথ্যামিথ্যাই সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে কোন খৃষ্টান রাহেব বা ইহুদী রব্বির সাথে নবী (সঃ) কোন আলাপ আলোচনা করে থেকে থাকতেন তাহলে রোমান সরকার তিলকে তাল করে দিত এবং এ প্রপাগন্ডা করতে একটুও পিছপাও হতো না যে, মুহাম্মদ (সঃ) (নাউযুবিল্ল্‌হ) সবকিছু এখান থেকে শিখে গেছেন এবং এখান থেকে মক্কায় গিয়ে নবী সেজে বসেছেন। মোটকথা যে যুগে কুরআনের এ চ্যালেঞ্জ কুরাইশদের কাফের ও মুশরিকদের জন্য মৃত্যুর বারতা ঘোষণা করত এবং তাকে মিথ্যা বলার প্রয়োজন বর্তমান যুগের পাশ্চাত্য প্রাচ্যবিদদের তুলনায় তাদের জন্য ছিল অনেক বেশি, সে যুগে কোন ব্যক্তিও কোথাও থেকে এমন কোন উপাদান সংগ্রহ করে আনতে পারেনি যা থেকে একথা প্রমান হতে পারতো যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এর কাছে ওহী ছাড়া এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করার দ্বিতীয় এমন কোন মাধ্যম আছে যার উল্লেখ করা যেতে পারে।

এ কথাও জেনে রাখা উচিত, কুরআন এই চ্যালেঞ্জ শুধু এখানেই দেয়নি বরং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাহিনী প্রসঙ্গে দিয়েছে। হযরত যাকারিয়া ও হযরত মারয়ামের কাহিনী বর্ণনা করে বলেছেঃ

"এ হচ্ছে অদৃশ্য খবরের অন্তরভূক্ত, যা আমি ওহীর মাধ্যমে তোমাকে দিচ্ছি। তুমি তাদের আশেপাশে কোথাও ছিলে না যখন তারা মারয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বকে গ্রহন করবে একথা জানার জন্য তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল। তুমি তখনও উপস্থিত ছিলে না যখন তারা ঝগড়া করছিল। (আলে ইমরানঃ ৪৪)

হযরত ইউসুফের কাহিনী বর্ণনা করার পর বলা হচ্ছেঃ

"এ হচ্ছে গায়েবের খবরের অন্তরভূক্ত, যা আমি ওহীর মাধ্যমে তোমাকে দিচ্ছি। তুমি তাদের (অর্থাৎ ইউসুফের ভাইদের) আশেপাশে কোথাও উপস্থিত ছিলে না। যখন তারা নিজেদের করনীয় সম্পর্কে ঐকমত্য পোষন করেছিল এবং যখন তারা ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছিল।" (ইউসুফঃ ১০২)

অনুরূপভাবে হযরত নূহের বিস্তারিত কাহিনী বর্ননা করে বলা হয়েছেঃ

"এ কথাগুলো গায়েবের খবরের অন্তরভূক্ত, যা আমি তোমাকে অহীর মাধ্যমে জানিয়েছি। তোমার ও তোমার জাতির ইতিপূর্বে এর কোন জ্ঞান ছিল না।" (হুদঃ ৪৯)

এ জিনিসটির বার বার পুনরাবৃত্তি থেকে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, কুরআন মজীদ যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া কিতাব এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম যে আল্লাহর রসূল তার একটি প্রধান যুক্তি এই ছিল যে, শত শত হাজার হাজার বছর আগে যেসব ঘটনা ঘটে গেছে তার বিস্তারিত বর্ণনা আসছে একজন নিরক্ষর ব্যক্তির মুখ থেকে। ওহী ছাড়া সেগুলো জানার কোন উপায় তাঁর করায়ত্ব নেই। যেসব গুরুত্বপূর্ণ কারনের ভিত্তিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের সমকালীন লোকেরা বিশ্বাস করতে চলেছিল যে, যথার্থই তিনি আল্লাহর নবী এবং তাঁর কাছে আল্লাহর ওহী আসে এ জিনিসটি ছিল তাঁর অন্যতম। এখন যেকোন ব্যক্তি নিজেই ধারনা করতে পারে, ইসলামী আন্দোলনের বিরোধীদের জন্য সে যুগে এ চ্যালেঞ্জের প্রতিবাদ করা কতটা গুরুত্ববহ হয়ে থাকতে পারে এবং তারা এর বিরুদ্ধে প্রমান সংগ্রহ করার জন্য কিভাবে সর্বাত্নক চেষ্টা চালিয়ে থাকতে পারে। তাছাড়া এটাও অনুমান করা যেতে পারে যে, যদি এ চ্যালেঞ্জের মধ্যে সামান্যতমও কোন দুর্বলতা থাকত তাহলে তাকে মিথ্যা প্রমান করার জন্য সাক্ষ-প্রমান সংগ্রহ করা সমকালীন লোকদের জন্য কঠিন হতো না।

৬৫. আরবে হযরত ইসমাঈল ও হযরত শো'আইব আলাইহিমাস সালাম ছাড়া আর কোন নবী আসেননি। প্রায় দু'হাজার বছরের এ সুদীর্ঘ সময়ে বাইরের নবীদের দাওয়াত অবশ্যই সেখানে পৌঁছেছে। যেমন হযরত মূসা, হযরত সুলাইমান ও হযরত ঈসা আলাইহিমুস সালামের দাওয়াত। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কোন নবীর আবির্ভাব সেখানে ঘটেনি।



ভুল ব্যাখ্যা :



কুরআনের বিভিন্ন আয়াত সমূহের প্রচলিত/কোন কোন ব্যক্তির ভুল ব্যাখ্যা ও তার জওয়াব :



বিস্তারিত দেখুন : ভ > ভুল ব্যাখ্যা।





কুরআন কোন ধরণের লোকদেরকে হেদায়েত দান করে? কুরআন রহমত ও পথপ্রদর্শক কাদের জন্য ?

(আরো দেখুন : হ > হেদায়েত)

কুরআন মু’মিনদের জন্য জিকির স্মারক উপদেশ : ৭:২,

(১৬:৬৪) ...... এ কিতাব পথনির্দেশ ও রহমত হয়ে নাযিল হয়েছে তাদের জন্য যারা একে মেনে নেবে৷

(১৬:৮৯) আমি এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যা সব জিনিস পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে এবং যা সঠিক পথনির্দেশনা, রহমত ও সুসংবাদ বহন করে তাদের জন্য যারা আনুগত্যের শির নত করে দিয়েছে৷

(১৭:৮২) আমি এ কুরআনের অবতরণ প্রক্রিয়ায় এমন সব বিষয় অবতীর্ণ করছি যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত এবং জালেমদের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না৷

(২০:৩) এ তো একটি স্মারক এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে ভয় করে৷

(এটা তো একটা স্মরণ করা ও স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং এজন্য পাঠানো হয়েছে যে, যার মনে আল্লাহর ভয় আছে সে এটা শুনে সজাগ হবে। এখন যদি কিছু লোকের মনে আল্লাহর ভয় একদম না থেকে থাকে এবং তাদের হক ও বাতিলের কোন পরোয়াই না থাকে তাহলে তাদের পেছনে সময় নষ্ট করার কোন প্রয়োজনই তোমার নেই।)

(২৮-ক্বাছাছ : ৫১) আর আমি তো অনবরত তাদের কাছে (উপদেশ বাণী) পৌঁছিয়ে দিয়েছি, যাতে তারা গাফলতি থেকে সজাগ হয়ে যায়৷৭১

৭১. অর্থাৎ উপদেশের ব্যাপারে আমি কোন কসুর করিনি। এ কুরআনে আমি অনবরত উপদেশ বিতরন করে এসেছি। কিন্তু যে জিদ ও একগুয়েমি পরিহার করে হৃদয়কে বিদ্বেষমুক্ত রেখে সত্যকে সোজাসুজি গ্রহন করতে প্রস্তুত হয়ে যায় সে-ই একমাত্র হিদায়াত লাভ করতে পারে।

(২৮-ক্বাছাছ : ৫২) যাদেরকে আমি এর আগে কিতাব দিয়েছিলাম তারা এর (কুরআন ) প্রতি ঈমান আনে৷(ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : হ > হেদায়েত > কুরআন কোন ধরণের লোকদেরকে হেদায়েত দেয়)

(২৮-ক্বাছাছ : ৫৩) আর যখন তাদেরকে এটা শুনানো হয়, তারা বলো, "আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এটি যথার্থই সত্য আমাদের রবের পক্ষ থেকে, আমরা তো আগে থেকেই মুসলিম৷"(ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : হ > হেদায়েত > কুরআন কোন ধরণের লোকদেরকে হেদায়েত দেয়)

(৩১-লোকমান:২) এগুলো জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত৷ ৩) পথনির্দেশনা ও অনুগ্রহ সৎকর্মশীলদের জন্য ২



২ . অর্থাৎ এ আয়াতগুলো সঠিক পথনির্দেশক এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহের রূপলাভ করে এসেছে। কিন্তু এ পথনির্দেশনা ও অনুগ্রহ থেকে লাভবান হয় একমাত্র তারাই যারা সৎকাজ করার পথ অবলম্বন করে, সৎ হতে চায়, কল্যাণ ও ন্যায়ের সন্ধান করে এবং অসৎকাজ সম্পর্কে যখনই সতর্ক করে দেয়া হয় তখনই তা পরিহার করে এবং কল্যাণ ও ন্যায়ের পথ যখনই সামনে খুলে রেখে দেয়া হয় তখনই সে পথে চলতে শুরু। আর যারা অসৎকাজ করে ও অসৎ মনোবৃত্তির অধিকারী তারা এ পথনির্দেশনা কে লাভবান হবে না এবং এ অনুগ্রহেরও কোন অংশ পাবে না।



(২৮-ক্বাছাছ : ৩) আমি মূসা ও ফেরাউনের কিছু যথাযথ বৃত্তান্ত তোমাকে শুনাচ্ছি এমনসব লোকদের সুবিধার্থে যারা ঈমান আনে৷২

(২. অর্থাৎ যারা কথা মেনে নিতে প্রস্তুত নয় তাদেরকে কথা শুনানো তো অর্থহীন। তবে যারা মনের দুয়ারে একগুঁয়েমীর তালা ঝুলিয়ে রাখে না। এ আলোচনায় তাদেরকেই সম্বোধন করা হয়েছে। )



কুরআন হেদায়েত ও সুসংবাদ কোন ধরণের লোকদের জন্য ?

জবাব: যাদের মধ্যে তিনটি গুণ রয়েছে তাদের জন্য : যারা ১। নামায কায়েম করে , ২। যাকাত দেয়, ৩। আখিরাতে এক্বিন রাখে।

(২৭.নামল:২) পথনির্দেশ ও সুসংবাদ এমন মুমিনদের জন্য ৩) যারা নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয় এবং তারা এমন লোক যারা আখেরাতে পুরোপুরি বিশ্বাস করে।

(অর্থাৎ, কুরআন মজীদের আয়াতগুলো কেবলমাত্র এমনসব লোকদেরই পথ নির্দেশনা দেয় এবং শুভ পরিণামের সুসংবাদও একমাত্র এমনসব লোকদের দান করে যাদের মধ্যে দু'টি বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে, তারা ঈমান আনে। ঈমান আনার অর্থ হচ্ছে তারা কুরআন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত গ্রহণ করে। এক আলাহকে নিজেদের একমাত্র উপাস্য ও রব বলে মেনে নেয়। কুরআনকে আলাহর কিতাব হিসেবে স্বীকার করে নেয়। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের সত্য নবী বলে মেনে নিয়ে নিজেদের নেতা রূপে গ্রহণ করে। এ সংগে এ বিশ্বাসও পোষণ করে যে, এ জীবনের পর দ্বিতীয় আর একটি জীবন আছে, সেখানে আমাদের নিজেদের কাজের হিসেব দিতে এবং প্রত্যেকটি কাজের প্রতিদান লাভ করতে হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে , তারা এ বিষয়গুলো কেবলমাত্র মেনে নিয়েই বসে থাকে না বরং কার্যত এগুলোর অনুসরণ ও আনুগত্য করতে উদ্বুদ্ধ হয়। এ উদ্বুদ্ধ হবার প্রথম আলামত হচ্ছে এই যে, তারা নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয়। এ দু'টি শর্ত যারা পূর্ণ করবে কুরআন মাজীদের আয়াত তাদেরকেই দুনিয়ায় সত্য সরল পথের সন্ধান দেবে। এ পথের প্রতিটি পর্যায়ে তাদেরকে শুদ্ধ ও অশুদ্ধ এবং ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য বুঝিয়ে দেবে। তার প্রত্যেকটি চৌমাথায় তাদেরকে ভুল পথের দিকে অগ্রসর হবার হাত থেকে রক্ষা করবে। তাদেরকে এ নিশ্চয়তা দান করবে যে, সত্য-সঠিক পথ অবলম্বন করার ফল দুনিয়ায় যাই হোক না কেন শেষ পর্যন্ত তারই বদৌলতে চিরন্তন সফলতা তারাই অর্জন করবে এবং তারা মহান আলাহর সন্তুষ্টি লাভের সৌভাগ্য লাভে সক্ষম হবে।)

(৩১-লোকমান:২) এগুলো জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত৷ ৩) পথনির্দেশনা ও অনুগ্রহ সৎকর্মশীলদের জন্য ৪) যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আখেরাতে বিশ্বাস করে৷৫) এরাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথে রয়েছে এবং এরাই সাফল্য লাভ করবে৷



কুরআন মু’মিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমত স্বরূপ:



কুরআন মু’মিনদের জন্য জিকির স্মারক উপদেশ : ৭:২,

‍কুরআন মু’মিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমত স্বরূপ -৭: ৫২, ২০৩,

এবং যে তা গ্রহণ করে নেয় তার জন্য পথনির্দেশনা ও রহমত – ১০:৫৭, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য (এ কুরআন) হেদায়াত ও রহমত৷(১২:১১১)

(১৬:৮৯) আমি এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যা সব জিনিস পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে এবং যা সঠিক পথনির্দেশনা,

কুরআন তার অনুসারীদেরকে নেতৃত্বের আসনে বসিয়ে দেয়: কিন্তু কিভাবে ?

(৩২- আস-সাজদা : ২৪) আর যখন তারা সবর করে এবং আমার আয়াতের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় পোষণ করতে থাকে তখন তাদের মধ্যে এমন নেতা সৃষ্টি করে দেই যারা আমার হুকুম অনুসারে পথপ্রদর্শন করতো ৷ ৩৭

৩৭ . অর্থাৎ এ কিতাব বনী ইসরাঈলকে যে শ্রেষ্ঠ জাতিসত্তায় পরিণত করে এবং তাদেরকে উন্নতির যে উচ্চ শিখরে পৌঁছিয়ে দেয় তা নিছক তাদের মধ্যে কিতাব এসে যাওয়ার ফল ছিল না। এ কিতাব কোন তাবীজ বা মাদুদদলী ধরনের কিছু ছিল না যে, এ জাতির গলায় ঝুলিয়ে দেবার সাথে সাথেই তারা উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে থাকে। বরং আল্লাহর আয়াতের প্রতি তারা যে দৃঢ় প্রত্যয় স্থাপন করে এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার ব্যাপারে যে সবর ও অবিচল নিষ্ঠা প্রদর্শন করে, এ সমস্ত অলৌকিকতা ছিল তারই ফল। স্বয়ং বনী ইসরাঈল জাতির মধ্যে তারাই নেতৃত্ব লাভ করে যারা তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের প্রতি প্রকৃত বিশ্বস্ত ছিল এবং যারা বৈষয়িক স্বার্থোদ্ধার ও স্বাদ আস্বাদনের সীমা ছাড়িয়ে যেত না। সত্যপ্রিয়তার খাতিরে তারা যখন দৃঢ়ভাবে প্রত্যেকটি বিপদের মোকাবিলা করে, প্রত্যেকটি ক্ষতি ও কষ্ট বরদাশত করে এবং নিজেদের প্রবৃত্তির কামনা থেকে নিয়ে বহিরাগত দীনের শত্রুদের পর্যন্ত প্রত্যেকের বিরূদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামে লিপ্ত হয় তখনই তারা দুনিয়ায় নেতৃত্বের আসনে বসে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আরবের কাফেরদেরকে এ মর্মে সতর্ক করা যে, আল্লাহর কিতাবের অবতরণ যেমন বনী ইসরাঈলের ভাগ্যের ফায়সালা করেছিল তেমনিভাবে এ কিতাবের অবতরণও আজ তোমাদের ভাগ্যের ফায়সালা করে দেবে। এখন তারাই নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করবে যারা একে মেনে নিয়ে ধৈর্য ও অবিচলতার সাথে সত্যের অনুসরণ করে চলবে। যারা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের ভাগ্যবিপর্যয় দেখা দিয়েছে।



কুরআন কোন ধরণের লোকদেরকে হেদায়েত দান করেনা ?

১। যারা পরকাল অস্বীকার করে :

(১৭:৪৫) যখন তুমি কুরআন পড়ো তখন আমি তোমার ও যারা আখেরাতের প্রতি ঈমান আনে না তাদের মাঝখানে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দেই৷ ৪৬) এবং তাদের মনের ওপর এমন আবরণ চড়িয়ে দেই যেন তারা কিছুই বুঝে না এবং তাদের কানে তালা লাগিয়ে দেই৷ আর যখন তুমি কুরআনে নিজের একমাত্র রবের কথা পড়ো তখন তারা ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়৷







কুরআন / আসমানী কিতাবের জ্ঞান প্রাপ্ত ব্যক্তির কারামত / অলৌকিক কার্যাবলী প্রদর্শনের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশী :

(২৭-নমল:৩৮) সুলাইমান বললো,“হে সভাসদগণ! তারা অনুগত হয়ে আমার কাছে আসার আগে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার কাছে নিয়ে আসতে পারে?”৩৯) এক বিশালকায় জিন বললো, আপনি নিজের জায়গা ছেড়ে ওঠার আগেই আমি তা এনে দেবো৷আমি এ শক্তি রাখি এবং আমি বিশ্বস্ত৷৪০) কিতাবের জ্ঞান সম্পন্ন অপর ব্যক্তি বললো “আমি আপনার চোখের পলক ফেলার আগেই আপনাকে তা এনে দিচ্ছি৷”৪৭ যখনই সুলাইমান সেই সিংহাসন নিজের কাছে রক্ষিত দেখতে পেলো অমনি সে চিৎকার করে উঠলো, এ আমার রবের অনুগ্রহ, আমি শোকরগুযারী করি না নাশোকরী করি তা তিনি পরীক্ষা করতে চান৷” আর যে ব্যক্তি শোকরগুযারী করে তার শোকর তার নিজের জন্যই উপকারী৷ অন্যথায় কেউ অকৃতজ্ঞ হলে, আমার রব করো ধার ধারে না এবং আপন সত্তায় আপনি মহীয়ান৷



(৪৭. এ ব্যক্তি কে ছিল, তার কাছে কোন্ বিশেষ ধরনের জ্ঞান ছিল এবং যে কিতাবের জ্ঞান তার আয়ত্বাধীন ছিল সেটি কোন্ কিতাব ছিল, এ সম্পর্কে কোন চূড়ান্ত ও নিশ্চিত কথা বলা সম্ভবপর নয়। কুরআনে বা কোন সহীহ হাদীসে এ বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করা হয়নি। তাফসীরকারদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ বলেন, সে ছিল একজন ফেরেশ্তা আবার কেউ কেউ বলেন, একজন মানুষই ছিল। তারপর সে মানুষটিকে চিহ্নিত করার ব্যাপারেও তাদের মধ্যে মতদ্বৈধতা রয়েছে। কেউ আসফ ইবনে বরখিয়াহ (Asaf-B-Barchiah)-এর নাম বলেন । ইহুদী রাব্বীদের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ছিলেন মানব প্রধান (Prince of Men) কেউ বলেন, তিনি ছিলেন খিযির। কেউ অন্য করোর নাম নেন। আর ইমাম রাযী এ ব্যাপারে জোর দিয়ে বলতে চান যে, তিনি ছিলেন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম নিজেই। কিন্তু এদের কারো কোন নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। আর ইমান রাযীর বক্তব্য তো কুরআনের পূর্বাপর আলোচনার সাথে কোন সামঞ্জস্য রাখে না। এভাবে কিতাব সম্পর্কেও মুফাস্সিরগণের বিভিন্ন বক্তব্য পেশ করেছেন। কেউ বলেন, এর অর্থ লাওহে মাহফুজ এবং কেউ বলেন, শরীয়াতের কিতাব। কিন্তু এগুলো সবই নিছক অনুমান। আর কিতাব থেকে ঐ অর্জিত জ্ঞান সম্পর্কেও বিনা যুক্তি-প্রমাণে ঐ একই ধরনের অনুমানের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। আমরা কেবলমাত্র কুরআনে যতটুকু কথা বলা হয়েছে অথবা তার শব্দাবলী থেকে যা কিছু প্রকাশিত হয়েছে ততটুকু কথাই জানি ও মানি। ঐ ব্যক্তি কোনক্রমেই জ্বিন প্রজাতির অর্ন্তভূক্ত ছিল না এবং তার মানব প্রজাতির অর্ন্তভূক্ত হওয়াটা মোটেই অসম্ভব ও অস্বাভাবিক নয়। তিনি কোন অস্বাভাবিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন না। তার এ জ্ঞান আল্লাহর কোন কিতাব থেকে সংগৃহীত ছিল। জ্বিন নিজের দৈহিক শক্তি বলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে এ সিংহাসন উঠিয়ে আনার দাবী করছিল। কিন্তু এ ব্যক্তি আসমানী কিতাবের শক্তিবলে মাত্র এক লহমার মধ্যে তা উঠিয়ে আনলেন।)





কুরআন হচ্ছে রহমত, কিন্তু কাদের জন্য কুরআন রহমত? উত্তর : মুমিনদের জন্য, যারা কুরআন মেনে চলে :

(২৭.নামল:৭৭) আর এ হচ্ছে পথ নির্দেশনা ও রহমত মুমিনদের জন্য৷৯৪

(৯৪. অর্থাৎ তাদের জন্য যারা এ কুরআনের দাওয়াত গ্রহণ করে এবং কুরআন যা পেশ করেছ তা মেনে নেয়। এ ধরণের লোকেরা তাদের জাতি যে গোমরাহীতে লিপ্ত রয়েছে তা থেকে রক্ষা পাবে। এ কুরআনের বদৌলতে তারা জীবনের সহজ সরল পথ লাভ করবে এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হবে। কুরাইশ বংশীয় কাফেররা এর কল্পনাও আজ করতে পারে না। এ অনুগ্রহের বারিধারাও মাত্র কয়েক বছর পরই দুনিয়াবাসী দেখে নিয়েছে। দুনিয়াবাসী দেখেছে, যেসব লোক আরব মরুর এক অখ্যাত অজ্ঞাত এলাকায় অবহেলিত জীবন যাপন করছিল এবং কুফুরী জীবনে বড়জোর একদল সফল নিশাচর দস্যু হতে পারতো তারাই এ কুরআনের প্রতি ঈমান আনার পর সহসাই সারা দুনিয়ার একটি বিশাল ভূখণ্ডের শাসনকর্তায় পরিণত হয়ে গেছে। )

(২৯-আনকাবুত:৫১) .......আসলে যারা ঈমান আনে তাদের জন্য এর মধ্যে রয়েছে রহমত ও নসিহত৷ ৯২

৯২ . অর্থাৎ নিসন্দেহে এ কিতাব অবতীর্ণ হওয়া আল্লাহর মহা অনুগ্রহ স্বরূপ। এর মধ্যে রয়েছে বান্দার জন্য বিপুল পরিমাণ উপদেশ ও নসিহত। কিন্তুএ থেকে একমাত্র তারাই উপকৃত হতে পারে যারা এর প্রতি ঈমান আনে।



(৩১-লোকমান:২) এগুলো জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত৷ ৩) পথনির্দেশনা ও রহমত সৎকর্মশীলদের জন্য

‍কুরআন মু’মিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমত স্বরূপ -৭: ৫২, ২০৩,





রহমানের বান্দা তারাই যারা কুরআনের আয়াত শুনে অন্ধ ও বধিরের ন্যায় আচরণ করে না :

(২৫.ফুরকান:৭৩) তাদের যদি তাদের রবের আয়াত শুনিয়ে উপদেশ দেয় হয় তাহলে তারা তার প্রতি অন্ধ বধির হয়ে থাকে না৷

(বিস্তারিত: র > রহমান > রহমানের বান্দা কারা ? )





কুরআনের আয়াত / কুরআনের দাওয়াত অগ্রাহ্য কারীদের শাস্তি :

(মু’মিনুন: ৬৫) ---এখন বন্ধ করো তোমাদের আর্তচিৎকার আমার পক্ষ থেকে এখন কোন সাহায্য দেয়া হবে না ৷৬৬)আমার আয়াত তোমাদের শোনানো হতো, তোমরা তো (রসূলের আওয়াজ শুনতেই ) পিছন ফিরে কেটে পড়তে,৬৭) অহংকারের সাথে তা অগ্রাহ্য করতে, নিজেদের আড্ডায় বসে তার সম্পর্কে গল্প দিতে ও আজেবাজে কথা বলতে।

কুরআন অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব : ৩:৪, ৫:৮৬,

কুরআন বিরোধী / কুরআনের দাওয়াত রোধকারীদের বর্ণনা : ৬:২৫-২৯, ৯১,

কুরআনের আয়াত শুনে যারা পিছনে ফিরে কেটে পড়ে তাদের শাস্তি :

(মু’মিনুন:৬৬) আমার আয়াত তোমাদের শোনানো হতো, তোমরা তো (রসূলের আওয়াজ শুনতেই ) পিছন ফিরে কেটে পড়তে।

(মু’মিনুন:৬৪) অবশেষে যখন আমি তাদের বিলাসপ্রিয়দেরকে আযাবের মাধ্যমে পাকড়াও করবো তখন তারা আবার চিৎকার করতে থাকবে৬৫) ---এখন বন্ধ করো তোমাদের আর্তচিৎকার আমার পক্ষ থেকে এখন কোন সাহায্য দেয়া হবে না ৷



কুরআনে কি দাড়ির কথা উল্লেখিত হয়েছে ? নবী রাসুলদের কি দাড়ি ছিল ?

(২০:৯৪) হারুন জবাব দিল, “হে আমার সহোদর ভাই! আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরে টেনো না৷ আমার আশংকা ছিল, তুমি এসে বলবে যে, তুমি বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো এবং আমার কথা রক্ষা করোনি৷





কুরআনকে সহজ করে নাযিল করা হয়েছে বুঝার জন্য : তাই মাতৃভাষা / আরবী ভাষায় নাযিল করা হয়েছে :

(১৮:৮৮) আর তাদের মধ্য থেকে যে ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তার জন্য আছে ভালো প্রতিদান এবং আমরা তাকে সহজ বিধান দেবো৷”

(১৯:৯৭) বস্তুত হে মুহাম্মাদ! এ বাণীকে আমি সহজ করে তোমার ভাষায় এজন্য নাযিল করেছি যাতে তুমি মুত্তাকীদেরকে সুখবর দিতে ও হঠকারীদেরকে ভয় দেখাতে পারো৷

(২০:১১৩) আর হে মুহাম্মাদ! এভাবে আমি একে আরবী কুরআন বানিয়ে নাযিল করেছি এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সতর্কবাণী করেছি হয়তো এরা বক্রতা থেকে বাঁচবে বা এদের মধ্যে এর বদৌলতে কিছু সচেতনতার নিদর্শন ফুটে উঠবে৷

(৩৯-যুমার:২৮) আরবী ভাষার কুরআন ৪৬ যাতে কোন বক্রতা নেই৷৪৭ যাতে তারা মন্দ পরিণাম থেকে রক্ষা পায়৷

টিকা: ৪৬. অর্থাৎ এ কিতাব অন্য কোন ভাষায় নাযিল হয়নি যে , তা বুঝার জন্য মক্কা ও আরবের লোকদের কোন অনুবাদক বা ব্যাখ্যাকারের দরকার হয়। এ কিতাব তাদের নিজের ভাষায় নাযিল হয়েছে। যা তারা নিজেরাই সরাসরি বুঝতে সক্ষম।

টিকা: ৪৭. অর্থাৎ তার মধ্যে কোন বক্রতা বা জাটিলতাপূর্ণ কোন কথা নেই যে , তা বুঝা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হবে। বরং এর মধ্যে পরিস্কারভাবে সহজ - সরল কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তি এখান থেকে জেনে নিতে পারে এ গ্রন্থ কোন জিনিসকে ভ্রান্ত বলে এবং কেন বলে ৷ কোন জিনিসকে সঠিক বলে এবং কিসের ভিত্তিতে ৷ কি স্বীকার করাতে চায় এবং কোন জিসিস অস্বীকার করাতে চায়। কোন কোন কাজের নির্দেশ দেয় এবং কোন কোন কাজে বাধা দেয়।



(বিস্তারিত : ম > মাতৃভাষা, আ > আরবী ভাষা)







কুরআন মুখস্ত করা সহজ করে দেওয়া হয়েছে :

(২০:১১৪).......আর দেখো, কুরআন পড়ার ব্যাপারে দ্রুততা অবলম্বন করো না যতক্ষণ না তোমার প্রতি তার অহী পূর্ণ হয়ে যায় এবং দোয়া করো, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমাকে আরো জ্ঞান দাও৷

কুরআন তেলাওয়াত করার আদেশ : কুরআন কিভাবে তেলাওয়াত করতে হবে ?



(২৯-আনকাবুত:৪৫) (হে নবী !) তোমার প্রতি অহির মাধ্যমে যে কিতাব পাঠানো হয়েছে তা তেলাওয়াত করো৭৭

৭৭ . আপাত দৃষ্টিতে নবী (সা) কে সম্বোধন করা হয়েছে কিন্তু আসলে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে উদ্দেশ্যে করেই বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের ওপর সে সময় যেসব জুলুম-নিপীড়ন চালানো হচ্ছিল এবং ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য তাদের যেসব কঠিন সমস্যা ও সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল সে সবের মোকাবিলা করার জন্য পিছনের চার রুকুতে অনবরত সবর, দৃঢ়তা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার উপদেশ দেবার পর এখন তাদেরকে বাস্তব ব্যবস্থা হিসেবে কুরআন তেলাওয়াত ও নামায কায়েম করার কথা বলা হচ্ছে। কারণ এ দু 'টি জিনিসই মু'মিনকে এমন সুগঠিত চরিত্র ও উন্নতর যোগ্যতার অধিকারী করে যার সাহায্যে সে বাতিলের প্রবল বন্যা এবং দুষ্কৃতির ভয়াবহ ঝনঝার মোকাবিলায় শুধু মাত্র টিকে থাকতে নয় বরং তার গতি ফিরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু কুরআন তেলাওয়াত ও নামাযের মাধ্যমে এ শক্তি মানুষ তখনই অর্জন করতে পারে যখন সে কুরআনের তেলাওয়াত শুধুমাত্র শব্দগুলো পাঠ করেই ক্ষান্ত হয় না বরং তার শিক্ষাগুলোও সঠিকভাবে অনুধাবন করে হৃদয়ের প্রতিটি তন্ত্রীতে সেগুলোকে সঞ্চারিত করে যেতে থাকে এবং তার নামায কেবলমাত্র শারীরিক কসরতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তার অন্তরের প্রতিধ্বনি এবং চরিত্র ও কর্মেও সক্রিয় শক্তিতে পরিণত হয়। সামনের দিকের বক্তব্যে কুরআন মাজীদ নিজেই নামাযের কাঙ্ক্ষিত গুণ বর্ণনা করছে। আর কুরআন তেলাওয়াতের ব্যাপারে এতটুকু জানা দরকার যে, মানুষের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে তার হৃদয়তন্ত্রীতে যে তেলাওয়াত আঘাত হানতে পারে না তা তাকে কুফরীর বন্যা প্রবাহের মোকাবেলায় শক্তি তো দূরের কথা ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার শক্তিও দান করতে পারে না। যেমন হাদীসে একটি দল সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

---------------------------

"তারা কুরআন পড়বে কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালীল নীচে নামনে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন শর ধনুক থেকে বের হয়ে যায়।" (বুখারী , মুসলিম, মুয়াত্তা)

আসলে যে তেলাওয়াতের পরে মানুষের মন-মানস, চিন্তা-চেতনা ও চরিত্র কর্মনীতিতেও কোন পরিবর্তন আসে না বরং কুরআন পড়ার পরও কুরআন যা নিষেধ করে মানুষ তা সব করে যেতে থাকে তা একজন মু'মিনের কুরআন তেলাওয়াত হতেই পারে না। এ সম্পর্কে তো নবী (সা) পরিষ্কার বলেনঃ -----------------"কুরআনের হারামকৃত জিনিসকে যে হালাল করে নিয়েছে সে কুরআনের প্রতি ঈমান আনেনি।" (তিরমিযী) এ ধরনের তেলাওয়াত মানুষের আত্মিক সংশোধন এবং তার আত্মায় শক্তি সঞ্চার করার পরিবর্তে তাকে আল্লাহর মোকাবিলায় আরো বেশি বিদ্রোহী এবং নিজের বিবেকের মোকাবেলায় আরো বেশি নির্লজ্জ করে তোলে। এ অবস্থায় তার মধ্যে চরিত্র বলে কোন জিনিসেরই আর অস্তিত্ব থাকে না।কারণ যে ব্যক্তি কুরআনকে আল্লাহর কিতাব বলে মেনে নেয়, তা পাঠ করে তার মধ্যে আল্লাহ তাকে কি নির্দেশ দিয়েছেন তা জানতেও থাকে এবং তারপর তার নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে যেতে থাকে, তার ব্যাপারটা তো দাঁড়ায় এমন একজন অপরাধীর মতো যে আইন না জানার কারণে নয় বরং আইন সম্পর্কে ভালোভাবে জানার পর অপরাধমূলক কাজ করে। এ অবস্থাটিকে মহানবী (সা) একটি ছোট্ট বাক্যেও মধ্য দিয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে সুস্পষ্ট করে তোলে ধরেছেনঃ----------------" কুরআন তোমার পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ।" (মুসলিম) অর্থাৎ যদি কুরআনকে যথাযথভাবে অনুসরণ করে চলা হয় তাহলে তা তোমার জন্য সাক্ষ্য ও প্রমাণ হবে। দুনিয়া থেকে আখেরাত পর্যন্ত যেখানেই তোমাকে জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে সেখানেই তুমি নিজের সাফাই হিসেবে কুরআনকে পেশ করতে পারবে। অর্থাৎ তুমি বলতে পারবে, আমি যা কিছু করেছি এ কিতাব অনুযায়ী করেছি। যদি তোমার কাজ যথার্থই কুরআন অনুযায়ী হয়ে থাকে তাহলে দুনিয়ায় ইসলামের কোন বিচারক তোমাকে শাস্তি দিতে পারবেন না এবং আখেরাতে হাশরের ময়দানেও তোমাকে পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু যদি এ কিতাব তোমার কাছে পৌঁছে গিয়ে থাকে এবং তা পড়ে তুমি জেনে নিয়ে থাকো তোমার রব তোমাকে কি বলতে চান, তোমাকে কোন কাজের হুকুম দেন, কোন কাজ করতে নিষেধ করেন এবং আবার তুমি তার বিরোধী কর্মনীতি অবলম্বন করো, তাহলে এ কিতাব তোমার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। আল্লাহর আদালতে এ কিতাব তোমার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলাকে আরো বেশি জোরদার করে দেবে। এরপর না জানার ওজর পেশ করে শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া অথবা হালকা শাস্তি লাভ করা তোমার জন্য সম্ভব হবে না।



কুরআন হচ্ছে বাস্তবসম্মত জীবন ঘনিষ্ঠ কিতাব :

(২১:১০) হে লোকেরা ! আমি তোমাদের প্রতি এমন একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্যে তোমাদেরই কথা আছে, তোমরা কি বুঝ না ?

কুরআন বিরোধীদের শাস্তি : আল্লাহর ওয়াদা তারা অবশ্যই আগুন দেখবে :

(হাজ্ব:৭২) তাদেরকে বলো, “আমি কি তোমাদের বলবো, এর চেয়ে খারাপ জিনিস কি? আগুন৷ আল্লাহ এরি প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য দিয়ে রেখেছেন, যারা সত্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং তা বড়ই খারাপ আবাস৷

(৩৪-সাবা: ৪) আর এ কিয়ামত এ জন্য আসবে যে, যারা ঈমাম এনেছে ও সৎকাজ করতে থেকেছে তাদেরকে আল্লাহ পুরস্কৃত করবেন, তাদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিযিক৷ ৫) আর যারা আমার আয়াতকে ব্যর্থ করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি৷৮

৮. ওপরে আখেরাতের সম্ভাবনার যুক্তি পেশ করা হয়েছিল এবং এখানে তার অপরিহার্যতার যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, এমন একটি সময় অবশ্যই আসা উচিত যখন জালেমদেরকে তাদের জলুমের এবং সৎকর্মশীলদেরকে তাদের সৎকাজের প্রতিদান দেয়া হবে। যে সৎকাজ করবে সে পুরস্কার পাবে এবং যে খারাপ কাজ করবে সে শাস্তি পারে, সাধারণ বিবেক বৃদ্ধি এটা চায় এবং এটা ইনসাফেরও দাবী। এখন যদি তোমরা দেখো, বর্তমান জীবনে প্রত্যেকটি অসৎলোক তার অসৎকাজের পুরোপুরি সাজা পাচ্ছে না। এবং প্রত্যেকটি সৎলোক তার সৎকাজের যথার্থ পুরস্কার লাভ করছে না বরং অনেক সময় অৎসকাজ ও সৎকাজের উলটো ফলাফল পাওয়া যায়, তাহলে তোমাদের স্বীকার করে নিতে হবে যে, যুক্তি, বিবেক ও ইনসাফের এ অপরিহার্য দাবী একদিন অব্শ্যই পূর্ণ হতে হবে। সেই দিনের নামই হচ্ছে কিয়ামত ও আখেরাত। তার আসা নয় বরং না আসাই বিবেক ও ইসসাফের বিরোধী।



(ব্যাখ্যার জন্য দেখুন: প> পরকাল > আখিরাত প্রয়োজন কেন ? )





কুরআনের কিছু অংশ মানা ও কিছু অংশ না মানার পরিণাম :

২:৮৫, ৩:২৩, ২৪,









(১৭:১০৫) এ কুরআনকে আমি সত্য সহকারে নাযিল করেছি এবং সত্য সহকারেই এটি নাযিল হয়েছে৷



(১৭:৮৮) বলে দাও, যদি মানুষ ও জিন সবাই মিলে কুরআনের মতো কোনো একটি জিনিস আনার চেষ্টা করে তাহলে তারা আনতে পারবে না, তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়ে গেলেও৷

কুরআন না মানার পরিণতি : দুনিয়ায় হবে সংকীর্ণ জীবন ও আখিরাতে ‍উঠানো হবে অন্ধ করে :

(২০:১২৪) আর যে ব্যক্তি আমার “যিকির (উপদেশমালা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জন্য হবে দুনিয়ায় সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে উঠাবো অন্ধ করে৷১২৫) -সে বলবে, “হে আমার রব! দুনিয়ায় তো আমি চক্ষুষ্মান ছিলাম কিন্তু এখানে আমাকে অন্ধ করে উঠালে কেন? ১২৬) আল্লাহ বললেন, “হাঁ, এভাবেই তো৷ আমার আয়াত যখন তোমার কাছে এসেছিল, তুমি তাকে ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হচ্ছে৷১২৭) -এভাবেই আমি সীমা লংঘনকারী এবং নিজের রবের আয়াত অমান্যকারীকে (দুনিয়ায়) প্রতিফল দিয়ে থাকি১০৮ এবং আখেরাতের আযাব বেশী কঠিন এবং বেশীক্ষণ স্থায়ী৷





আল্লাহর সাথে কথা বলা প্রসঙ্গে : আল্লাহর আয়াত সমূহ বুঝে পাঠ করাই আল্লাহর সাথে কথা বলা:

তারা বলে , আল্লাহ আমাদের সাথে কেন কথা বলেন না ? অথচ আল্লাহ সুষ্পষ্ট আয়াত সমূহ নাযিল করেছেন ২:১১৮, ২:২৫৩, (নবীদের সাথে কথা বলা )





কুরআনে সব কিছুই বর্ণনা করা হয়েছে :

৬:৩৮, ৬:১১৪,

মুহাম্মদ সা: এর প্রতি সতর্ক বানী : যদি কুরআন ছিনিয়ে নিয়ে যাই …. :

(১৭:৮৬) আর হে মুহাম্মদ! আমি চাইলে তোমার কাছ থেকে সবকিছুই ছিনিয়ে নিতে পারতাম, যা আমি অহীর মাধ্যমে তোমাকে দিয়েছি, তারপর তুমি আমার মুকাবিলায় কোনো সহায়ক পাবে না, সে তা ফিরিয়ে আনতে পারে৷৮৭) এই যে যাকিছু তুমি লাভ করেছো, এসব তোমার রবের হুকুম, আসলে তাঁর অনুগ্রহ তোমার প্রতি অনেক বড়৷



লিখিত কুরআন :আকাশে আরোহণ করে লিখিত কুরআন নিয়ে আসো : নবীর কাছে কাফেরদের দাবী :

(১৭:৯৩)অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে এবং তোমার আরোহণ করার কথাও আমরা বিশ্বাস করবো না যতক্ষণ না তুমি আমাদের প্রতি একটি লিখিত পত্র আনবে, যা আমরা পড়বো৷”



কুরআন কি ? : কুরআনের পরিচয় :

কুরআনে কোন কিছুই বর্ণনা করা বাকী রাখা হয়নি :

(৬:৩৮) مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ ۚ

-কিতাবে কোন কিছুই লিখতে আমি বাদ দেইনি।



কুরআন হচ্ছে ফায়সালা :

(১৬:১) এসে গেছে আল্লাহর ফায়সালা৷ এখন আর একে ত্বরান্বিত করতে বলো না।

কুরআন হচ্ছে ফুরকান তথা সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী :

(ফুরকান:১) বড়ই বরকত সম্পন্ন তিনি যিনি এ ফুরকান যাতে সে সারা বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হয় - তারঁ বান্দার ওপর নাযিল করেছেন।

কুরআন হচ্ছে সতর্ককারী :

(ফুরকান:১)...এ ফুরকান যাতে এটা সারা বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হয় - তারঁ বান্দার ওপর নাযিল করেছেন।



কুরআন হচ্ছে মতভেদ নিরসনকারী কিতাব :

(২৭.নামল:৭৬) যথার্থই এই কোরআন বনীইসরাইলকে বেশিরভাগ এমন সব কথার স্বরূপ বর্ণনা করে যেগুলোতে তারা মতভেদ করে৷

(অদৃশ্যজ্ঞানী আল্লাহর জ্ঞানের একটি প্রকাশ হচ্ছে এই যে, একজন নিরক্ষর ব্যক্তির মুখ থেকে এ কুরআনে এমন সব ঘটনার স্বরূপ উদ্ঘাটন করা হচ্ছে যা বনী ইসরাঈলের ইতিহাসে ঘটেছে। অথচ বনী ইসরাঈলদের আলেমদের মধ্যেও তাদের নিজেদের ইতিহাসের এসব ঘটনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে (এর নজির সূরা নমলের প্রথম দিকের রুকূগুলোতেই পাওয়া যাবে, যেমন আমরা টীকায় বলেছি)।)



কুরআন হচ্ছে ‍মু’মিনদের জন্য রহমত ও পথ প্রদর্শক :

(২৭-নমল:৭৭) আর এ হচ্ছে পথ নির্দেশনা ও রহমত মুমিনদের জন্য৷৯৪



(৯৪. অর্থাৎ তাদের জন্য যারা এ কুরআনের দাওয়াত গ্রহণ করে এবং কুরআন যা পেশ করেছ তা মেনে নেয়। এ ধরণের লোকেরা তাদের জাতি যে গোমরাহীতে লিপ্ত রয়েছে তা থেকে রক্ষা পাবে। এ কুরআনের বদৌলতে তারা জীবনের সহজ সরল পথ লাভ করবে এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হবে। কুরাইশ বংশীয় কাফেররা এর কল্পনাও আজ করতে পারে না। এ অনুগ্রহের বারিধারাও মাত্র কয়েক বছর পরই দুনিয়াবাসী দেখে নিয়েছে। দুনিয়াবাসী দেখেছে, যেসব লোক আরব মরুর এক অখ্যাত অজ্ঞাত এলাকায় অবহেলিত জীবন যাপন করছিল এবং কুফুরী জীবনে বড়জোর একদল সফল নিশাচর দস্যু হতে পারতো তারাই এ কুরআনের প্রতি ঈমান আনার পর সহসাই সারা দুনিয়ার একটি বিশাল ভূখণ্ডের শাসনকর্তায় পরিণত হয়ে গেছে।)



কুরআন হচ্ছে জ্ঞানগর্ভ কিতাব :

(৩১-লোকমান: ১) আলিফ লাম মীম৷২) এগুলো জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত৷ ১

১ . অর্থাৎ এমন কিতাবের আয়াত যা জ্ঞানে পরিপূর্ণ , যার প্রত্যেকটি কথা জ্ঞানগর্ভ ।

কুরআন হচ্ছে “জিকর” তথা উপদেশ, এবং পরিস্কার পঠনযোগ্য কিতাব:

(৩৬-ইয়াসিন :৬৯).....এটি একটি উপদেশ এবং পরিস্কার পঠনযোগ্য কিতাব,

বিস্তারিত দেখুন : জ > জিকর।

هَٰذَا ذِكۡرٞۚ...... ٤٩

(৩৮-সোয়াদ:৪৯.) এ ছিল একটি স্মরণ।

কুরআনে জ্ঞান না থাকা :

২:৭৮



কুরআন কাদেরকে পথ দেখায় ? কুরআন জ্ঞানবানদের পথ দেখায় :

(৩৪-সাবা: ৬) হে নবী! জ্ঞানবানরা ভালো করেই জানে, যা কিছু তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে তা পুরোপুরি সত্য এবং তা পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথ দেখায়৷ ৯



৯. অর্থাৎ বিরোধিরা তোমার উপস্থাপিত সত্যকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য যতই জোর দিক না কেন তাদের এসব প্রচেষ্টা ও কৌশল সফলকাম হতে পারবে না। কারণ এসব কথার মাধ্যমে তারা কেবলমাত্র মূর্খদেরকেই প্রতারিত করতে পারবে। জ্ঞানবানরা তাদের প্রতারণারজালে পা দেবে না।



কুরআন জীবিত লোকদের পথ দেখায় : এখানে জীবিত শব্দের অর্থ কি ?

(৩৬-ইয়াসিন :৭০) যাতে সে প্রত্যেক জীবিত ব্যক্তিকে সতর্ক করে দিতে পারে ৫৯ এবং অস্বীকারকারীদের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়৷

৫৯. জীবন বলতে চিন্তাশীল ও বিবেকবান মানুষ বুঝানো হয়েছে। যার অবস্থা পাথরের মতো নির্জীব ও নিষ্ক্রিয় নয়। আপনি তার সামনে যতই যুক্তি সহকারে হক ও বাতিলের পার্থক্য বর্ণনা করেন না কেন এবং যতই সহানুভূতি সহকারে তাকে উপদেশ দেন না কেন সে কিছুই শোনে না, বোঝে না এবং নিজের জায়গা থেকে একটুও নড়ে না।



লিখিত কুরআন :

কুরআন লিখিত আকারে নাযিল করার জন্য দাবী কাফেরদের :

৪:১৫৩, ৬:৭,



কুরআন সংরক্ষণ :

আরো দেখুন : র > রূহ > রূহ : জিবরাঈল আ: ।

কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহার এবং কুরআন ব্যতীত অন্যান্য আসমানী কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট উম্মতদের :

৫:৪৪, ৬:৯১,

লৌহ মাহফুজ থেকে কুরআনের নাযিল কালীন সময়ে এর শ্রবণ থেকে শয়তানদের দূরে রাখা হয় :

(২৬.শুআরা:২১০) এ (সুস্পষ্ট কিতাবটি) নিয়ে শয়তানরা অবতীর্ণ হয়নি৷২১১) এ কাজটি তাদের শোভাও পায় না৷ এবং তারা এমনটি করতেই পারে না৷২১২) তাদের কে তো এর শ্রবন থেকেও দূরে রাখা হয়েছে৷১৩৩



(১৩৩. অর্থাৎ কুরআনের বাণী হৃদয়ে সঞ্চার করার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা তো দূরের কথা যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে রুহুল আমীন তা নিয়ে চলতে থাকেন এবং যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মনোরাজ্যে তিনি তা নাযিল করেন তখন এ সমগ্র ধারাবাহিক কার্যক্রমের কোন এক জায়গায়ও শয়তানদের কান লাগিয়ে শোনারও কোন সুযোগ মেলে না। আশেপাশে কোথাও তাদের ঘুরে বেড়াবার কোন অবকাশই দেয়া হয় না। কোথাও থেকে কোনভাবে কিছু শুনে টুনে দু'একটি কথা চুরি করে নিয়ে গিয়ে তারা নিজেদের বন্ধু বান্ধবদের বলতে পারতো না যে, আজ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বাণী শুনাবেন অথবা তাঁর ভাষণে অমুক কথা বলা হবে। (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আল হিজর ৮-১২ ও আস সাফফাত ৫-৭ টীকা, সূরা আল জিন ৮-৯ও ২৭ আয়াত))

যিনি কুরআন নাযিল করেছেন তিনিই এর সংরক্ষক : কুরআনের সংরক্ষক আল্লাহ নিজেই :

(১৫:৯) আর এ বাণী (জিকর) , একে তো আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক৷

(একারণেই আজ দেড় সহস্রাব্দ পার হয়ে যাওয়ার পরও কুরআনের একটি নুকতারও কেউ পরিবর্তণ করতে পারেনি, কুরআন কেহ বিশ্বাস করুক বা না করুক সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার , কিন্তু মুহাম্মদ সা: এর উপর যে কুরআন নাযিল হয়েছে, সেটি সম্পূর্ন অবিকৃত অবস্থায় এখনো আমাদের কাছে, পৃথিবীর কাছে বিদ্যমান আছে, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় কারো নেই, এটা কুরআনের একটি বাস্তব ও জ্বলন্ত মু’জেযা)



কুরআন প্রতিষ্ঠা :

যিনি কুরআন নাযিল করেছেন , একে মঞ্জিলে মকসুদে পৌছানোর দায়িত্বও তাঁর :

(২৮-ক্বাছাছ : ৮৫) হে নবী! নিশ্চিত জেনো, যিনি এ কুরআন তোমার ওপর ন্যস্ত করেছেন তিনি তোমাকে একটি উত্তম পরিণতিতে পৌঁছিয়ে দেবেন৷

আরো দেখুন : দ > দ্বীন প্রতিষ্ঠা ।







কুরআন ও কাফির :



এ কুরআন আমার কখনো মানবো না এবং এর পূর্বে আগত কোন কিতাবকে ও স্বীকার করবো না - কাফিরদের বক্তব্য :



(৩৪-সাবা: ৩১) এ কাফেররা বলে, “আমার কখনো এ কুরআন মানবো না এবং এর পূর্বে আগত কোন কিতাবকে ও স্বীকার করবো না”৷ ৫০

টিকা: ৫০. এখানে আরবের কাফেরদের কথা বলা হয়েছে, যারা কোন আসমানী কিতাবের কথা স্বীকার করত না।









যারা কুরআন মানতে চায়না আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি জবাব :



(৩৪-সাবা: ৩১)…….. হায়! যদি তোমরা দেখতে এদের তখনকার অবস্থা যখন এ জালেমরা নিজেদের রবের সামনে দাড়িয়ে থাকবে৷ সে সময় এরা একে অন্যকে দোষারোপ করবে৷ যাদেরকে দুনিয়ায় দাবিয়ে রাখা হয়েছিল তারা ক্ষমতাগর্বীদেরকে বলবে, “যদি তোমরা না থাকতে তাহলে আমরা মুমিন হতাম”৷ ৫১



টিকা: ৫১. অর্থাৎ সাধারন মানুষ, যারা আজ দুনিয়ায় নিজেদের নেতা, সরদার, পীর ও শাসকদের অন্ধ অনুসারী এবং তাদের বিরুদ্ধে কোন উপদেশদাতার কথারই কর্ণপাত করতে প্রস্তুত নয়, তারাই যখন প্রকৃত সত্য কি ছিল এবং তাদের নেতারা তাদেরকে কি বুঝাচ্ছিল তা স্বচক্ষে দেখবে এবং যখন তারা একথা জানতে পারবে যে, এ নেতাদের অনুসরণ তাদেরকে এ পরিণতির সম্মুখীন করে দিচ্ছে তখন তারা নিজেদের এসব মনীষীদের বিরুদ্ধে মারমুখ হবে এবং চিৎকার করে বলবে, হতভাগার দল! তোমরাই তো আমাদেরকে গোমরাহ করেছ। আমাদের সমস্ত বিপদের জন্য তোমরাই দায়ী। তোমরা আমাদের পথভ্রষ্ট না করলে আমরা আল্লাহ ও রসূলের কথা মেনে নিতাম।





কুরআন সম্বন্ধে কাফিরদের বিভিন্ন মিথ্যাচার, মন্তব্য, বক্তব্য ও কাজ :

আরো দেখুন : ক > কুরআনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমূহ ও তার জবাব।

৬:২৫, ২৬, ৬:৯১,



কুরআনকে যারা হাসিঠাট্টার বস্ততে পরিণত করবে, পরকালে রাসুল সা: তাদের বিরুদ্ধে আল্লহর নিকট মামলা দায়ের করবেন :

(২৫.ফুরকান:৩০) আর রসূল বলবে, “ হে আমার রব! আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা এ কুরআনকে হাসি - ঠাট্টার লক্ষবস্তুতে পরিণত করেছিল ৷





কুরআনের আয়াত সমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার শাস্তি :

(মু’মিনুন:১০৪) আগুন তাদের মুখের চামড়া জ্বালিয়ে দেবে এবং তাদের চোয়াল বাইরে বের হয়ে আসবে ৷ ৯৭ ১০৫) ----‘‘তোমরা কি সেসব লোক নও যাদের কাছে আমার আয়াত শুনানো হলেই বলতে এটা মিথ্যা?’’



(৯৭ . মূলে-----শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ----- আরবী ভায়ায় এমন চেহারাকে বলা হয় যার চামড়া আলাদা হয়ে গেছে এবং দাঁত বাইরে বের হয়ে এসেছে । যেমন খাশির ভুনা মাথা । আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে (রা) এক ব্যক্তি ''কালেহ''-এর অর্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন :---------------অর্থাৎ ''তুমি কি ভুনা খাশির কল্লা দেখোনি৷'')

কাফিরদের জন্য কুরআন পাঠ করা কিরূপ :

৩:১১০, ১০৮







কুরআন হচ্ছে যিকির / কুরআন হচ্ছে উপদেশ :



কুরআন মু’মিনদের জন্য জিকির স্মারক উপদেশ : ৭:২,

(১৫:৬) এরা বলে, “ওহে যার প্রতি যিকির অবতীর্ণ হয়েছে, তুমি নিশ্চয়ই উন্মাদ !



("যিকির" বা বাণী শব্দটি পারিভাষিক অর্থে কুরআন মজীদে আল্লাহর বাণীর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে । আর এ বাণী হচ্ছে আগাগোড়া উপদেশমালায় পরিপূর্ণ । পূর্ববর্তী নবীদের ওপর যেগুলো কিতাব নাযিল হয়েছিল সেগুলো সবই "যিকির" ছিল এবং এ কুরআন মজীদও যিকির । যিকিরের আসল মানে হচ্ছে স্মরণ করিয়ে দেয়া , সতর্ক করা এবং উপদেশ দেয়া ।)



(১৫:৯) আর এ বাণী (জিকর) , একে তো আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক৷

(একারণেই আজ দেড় সহস্রাব্দ পার হয়ে যাওয়ার পরও কুরআনের একটি নুকতারও কেউ পরিবর্তণ করতে পারেনি, কুরআন কেহ বিশ্বাস করুক বা না করুক সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার , কিন্তু মুহাম্মদ সা: এর উপর যে কুরআন নাযিল হয়েছে, সেটি সম্পূর্ন অবিকৃত অবস্থায় এখনো আমাদের কাছে, পৃথিবীর কাছে বিদ্যমান আছে, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় কারো নেই, এটা কুরআনের একটি বাস্তব ও জ্বলন্ত মু’জেযা)



(৩৭- আস সফ্ফাত :১৬৭) তারা তো আগে বলে বেড়াতো ১৬৮) হায়! পূর্ববর্তী জাতিরা যে “যিকির” লাভ করেছিল তা যদি আমাদের কাছে থাকতো ১৬৯) তাহলে আমরা হতাম আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা৷ ৯২

৯২. একই বিষয়বস্তু সূরা ফাতিরের ৪২ আয়াতে আলোচিত হয়েছে।



(৩৮-সোয়াদ:১) সা-দ৷ ১ উপদেশপূর্ণ ২ কুরআনের পপথ৷

টিকা: ২. মূল শব্দ হচ্ছে (আরবী ------------------) এর দু'টি অর্থ হতে পারে। এক , (আরবী -------------) অর্থাৎ জ্ঞান , প্রজ্ঞা ও মহাপাণ্ডিত্যপূর্ণ। দুই , (আরবী-----------) অর্থাৎ উপদেশ পরিপূর্ণ। অর্থাৎ ভুলে যাওয়া শিক্ষা আবার স্মরণ করিয়ে দেয় এবং গাফলতি থেকে সজাগ করে দেয়।



(আরো দেখুন : জ > জিকর)



কুরআনের মধ্যে উপদেশ দেবার দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করা হয়েছে :

(৩৮-সোয়াদ:২) বরং এরাই, যারা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে, প্রচণ্ড অহংকার ও জিদে লিপ্ত হয়েছে৷ ৩

৩. যদি ইবনে আব্বাস ও দ্বাহ্‌হাক বর্ণিত সা-দ- এর ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়, তাহলে এবাক্যের অর্থ হবে, "জ্ঞানপূর্ণ বা উপদেশমালায় পরিপূর্ণ কুরআনের কসম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাম সত্য কথা উপস্থাপন করছেন । কিন্তু যারা অস্বীকার করার ওপর অবিচল রয়েছে তারা আসলে জিদ ও অহংকারে লিপ্ত হয়েছে । " আর যদি সাদকে এমন সব হরফে মুকাত্তা ' অন্তরভুক্ত করা হয় যাদের অর্থ নির্ধারণ করা যেতে পারে না তাহলে এখানে বলতে হবে কসমের জবাব উহ্য রয়েছে যা " বরং " তার পরবর্তী বাক্যাংশ নিজেই একথা প্রকাশ করছে। অর্থাৎ এ অবস্থায় সম্পূর্ণ বাক্যটি এভাবে হবে , " এ অস্বীকারকারীদের অস্বীকার করার কারণ এ নয় যে , তাদের সামনে যে দীন পেশ করা হচেছ তার মধ্যে কোন ত্রুটি আছে অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সামনে সত্য প্রকাশে কোন ত্রুটি করেছেন , বরং এর কারণ হচ্ছে কেবলমাত্র তাদের মিথ্যা অহংকার , তাদের জাহেলী আত্মম্ভরিতা এবং তাদের হঠকারিতা , আর উপদেশে পরিপূর্ণ এ কুরআন এ ব্যাপারে সাক্ষী , যা দেখে প্রত্যেক নিরপেক্ষ ব্যক্তি স্বীকার করবে যে , এর মধ্যে উপদেশ দেবার দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করা হয়েছে।





কুরআন হচ্ছে বরকত সম্পন্ন কিতাব / বরকত সম্পন্ন জিকর :

(২১:৫০) আর এখন এ বরকত সম্পন্ন “যিকির” আমি (তোমাদের জন্য) নাযিল করেছি৷ তবুও কি তোমরা একে মেনে নিতে অস্বীকার করো ?

(৩৮-সোয়াদ:২৯) এটি একটি অত্যন্ত বরকতপূর্ন কিতাব, ৩১



৩১. বরকতের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে , " কল্যাণ ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি ।" কুরআন মজীদকে বরকত সম্পন্ন কিতাব বলার অর্থ হচ্ছে এই যে , এটি মানুষের জন্য একটি অত্যন্ত উপকারী কিতাব। এ কিতাবটি তার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য সর্বোত্তম বিধান দান করে । এর বিধান মেনে চলায় মানুষের লাভই হয় কেবল , কোন প্রকার ক্ষতির আশংকা নেই।





কুরআন স্পষ্ট, কুরআনের বক্তব্য সুষ্পষ্ট : এতে কোন বক্রতা নেই :

(১৮:১) প্রশংসা আল্লাহরই যিনি তাঁর বান্দার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন এবং এর মধ্যে কোনো বক্রতা রাখেননি৷২) একদম সোজা কথা বলার কিতাব,

(হাজ্ব:১৬) --এ ধরনেরই সুস্পষ্ট কথা সহযোগে আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আল্লাহ যাকে চান তাকে সৎপথ দেখান৷

(নুর:৫৮) ....এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিজের বাণী সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন..।

(নুর:৫৯).... এভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াত তোমাদের সামনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং তিনি সবকিছু জানেন ও বিজ্ঞ৷

(নুর:৬১) ..এভাবে আল্লাহ তোমাদের সামনে আয়াত বর্ণনা করেন, আশা করা যায় তোমরা বুঝে শুনে কাজ করবে ৷



(২৬.শুআরা:২) এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত৷

কুরআন প্রকৃত সত্য :

এগুলোর আল্লাহর কিতাবের আয়াত৷ আর তোমরা রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যাকিছু নাযিল হয়েছে তা প্রকৃত সত্য- (১৩:১)

(৩৫-ফাতির:৩১) (হে নবী!) আমি তোমার কাছে অহীর মাধ্যমে যে কিতাব পাঠিয়েছি সেটিই সত্য, সত্যায়িত করে এসেছ তার পূর্বে আগত কিবাতগুলোকে৷ ৫৩

৫৩. এর অর্থ হচ্ছে ,পূর্বে আগত নবীগণ যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি তার বিরোধী কোন নতুন কথা বলছেন না । বরং সকল নবী চিরকাল যে আদি ও চিরন্তন সত্য পেশ করে গেছেন তিনি তারই পুনরাবৃত্তি করছেন ।



(৩৮-সোয়াদ: ১) সা-দ৷ ১ উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ৷



১. সম্‌স্ত " মুকাত্তা'আত " হরফের মতো ' সা-দ' এর অর্থ চিহ্নিত করা যদিও কঠিন তবুও ইবন আব্বাস (রা) ও যাহহাকের এ উক্তিও কিছুটা মনে দাগ কাটে যে এর অর্থ হচ্ছে , (আরবী --------------------------) অথবা (আরবী -----------------) অর্থাৎ " মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যবাদী। তিনি যা বলছেন সবই সত্য।"







কুরআনকে রূহ বলা হয়েছে :

(১৬:২) তিনি এ রূহকে তাঁর নির্দেশানুসারে ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার ওপর চান নাযিল করেন৷



কুরআন বিশ্ববাসীর জন্য নসীহত ও ফরমান :

কুরআন মু’মিনদের জন্য জিকির স্মারক উপদেশ : ৭:২,

এটা তো দুনিয়াবাসীদের জন্য সাধারণভাবে একটি নসীহত ছাড়া আর কিছুই নয়৷(১২:১০৪),

একটি ফরমান৷ এর আয়াতগুলো পাকাপোক্ত এবং বিস্তারিতভাবে বিবৃত হয়েছে, এক পরম প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে৷১১:১।

(১৪:৫২) এটি একটি পয়গাম সব মানুষের জন্য এবং এটি পাঠানো হয়েছে এ জন্য যাতে এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা যায় এবং তারা জেনে নেয় যে, আসলে আল্লাহ মাত্র একজনই আর যারা বুদ্ধি-বিবেচনা রাখে তারা সচেতন হয়ে যায়৷

কুরআন অবিশ্বাসীদের জন্য লৌহশলাকার ন্যায় তাদের অন্তরে প্রবেশ করে :

৩:১০১, ১০৮,

(১৫:১২) এ বাণীকে অপরাধীদের অন্তরে আমি এভাবেই (লৌহ শলাকার মতো) প্রবেশ করাই৷’ ১৩) তারা এর প্রতি ঈমান আনে না৷ এ ধরনের লোকদের এ রীতি প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে৷



কুরআনের একই আয়াত ঈমানদার ও কাফির/মুনাফিকদের উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে :



যখন কোন নতুন সূরা নাযিল হয় তখন তাদের কেউ কেউ (ঠাট্রা করে মুসলমানদের ) জিজ্ঞেস করে, বলো, এর ফলে তোমাদের কার ঈমান বেড়ে গেছে? (এর জবাব হচ্ছে) যারা ঈমান এনেছে (প্রত্যেকটি অবতীর্ণ সুরা) যথার্থই ঈমান বাড়িয়েই দিয়েছে এবং তারা এর ফলে আনন্দিত৷ তবে যাদের অন্তরে (মুনাফিকী) রোগ বাসা বেঁধেছিল তাদের পূর্ব কলুষতার ওপর (প্রত্যেকটি নতুন সূরা) আরো একটি কলুষতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তারা মৃত্যু পর্যন্ত কুফরীতে লিপ্ত রয়েছে- ৯:১২৪, ১২৫,



যখন কোন সূরা নাযিল হয়, এরা চোখের ইশারায় একে অন্যকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের কেউ দেখতে পায়নি তো? তারপর চুপে চুপে সরে পড়ে৷ আল্লাহ তাদের মন বিমুখ করে দিয়েছেন কারণ তারা এমন একদল লোক যাদের বোধশক্তি নেই -৯:১২৭



(১৫:১২) এ বাণীকে অপরাধীদের অন্তরে আমি এভাবেই (লৌহ শলাকার মতো) প্রবেশ করাই৷’



(ব্যাখ্যা:ঈমানদারদের মধ্যে তো এই "বাণী " হৃদয়ের শীতলতা ও আত্মার খাদ্য হয়ে প্রবেশ করে । কিন্তু অপরাধীদের অন্তরে তা বারুদের মত আঘাত করে এবং তা শুনে তাদের মনে এমন আগুন জ্বলে ওঠে যেন মনে হয় একটি গরম শলাকা তাদের বুকে বিদ্ধ হয়ে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে ।-তাফহীমুল কুরআন)

(১৭:৮২) আমি এ কুরআনের অবতরণ প্রক্রিয়ায় এমন সব বিষয় অবতীর্ণ করছি যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত এবং জালেমদের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না৷



কুরআনে একই কথা বার বার ও বিভিন্নভাবে বলার কারণ :

(১৭:৪১) আমি এ কুরআনে নানাভাবে লোকদেরকে বুঝিয়েছি যেন তারা সজাগ হয়, কিন্তু তারা সত্য থেকে আরো বেশী দূরে সরে যাচ্ছে৷

(১৭:৮৯) আমি এ কুরআনে লোকদেরকে নানাভাবে বুঝিয়েছি কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার করার ওপরই অবিচল থাকে৷

(১৮:৫৪) আমি এ কুরআনে লোকদেরকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়েছি কিন্তু মানুষ বড়ই বিবাদপ্রিয়৷

কুরআনে বর্ণিত ভবিষ্যৎবানী সমূহ, যা পরবর্তীতে অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছিল :

দেখুন : ভ > ভবিষ্যৎবানী ।



কুরআন হচ্ছে আলো :

কুরআন হচ্ছে আলো : ৭:১৫৭,



কুরআন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসে :

সেই মহান সত্তা তো তিনিই যিনি তাঁর বান্দার কাছে স্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করছেন যাতে তোমাদেরকে অন্ধাকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন-৫৭:৯,

এটি একটি কিতাব, তোমার প্রতি এটি নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর মধ্যে নিয়ে আসো তাদের রবের প্রদত্ত সুযোগ ও সামর্থের ভিত্তিতে-১৪:১,

কুরআন সোজা পথ দেখায় :

(১৭:৯) আসলে এ কুরআন এমন পথ দেখায় যা একেবারেই সোজা৷ যারা একে নিয়ে ভাল কাজ করতে থাকে তাদেরকে সে সুখবর দেয় এ মর্মে যে, তাদের জন্য বিরাট প্রতিদান রয়েছে৷

কুরআন দ্বারা কি পাহাড় চালনা বা পৃথিবী বিদীর্ন বা মৃতকে কথা বলানো যায় ?- তাহলে কি হত ?

(১৩:৩১) আর কী হতো, যদি এমন কোন কুরআন নাযিল করা হতো যার শক্তিতে পাহাড় চলতে থাকতো অথবা পৃথিবী বিদীর্ণ হতো কিংবা মৃত কবর থেকে বের হয়ে কথা বলতে থাকতো ?” (এ ধরনের নিদর্শন দেখিয়ে দেয়া তেমন কঠিন কাজ নয়) বরং সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই হাতে কেন্দ্রীভূত৷ তাহলে ঈমানদাররা কি (এখানো পর্যন্ত কাফেরদের চাওয়ার জবাবে কোন নিদর্শন প্রকাশের আশায় বসে আছে এবং তারা একথা জেনে) হতাশ হয়ে যায়নি যে, যদি আল্লাহ চাইতেন তাহলে সমগ্র মানব জাতিকে হেয়াদাত দিয়ে দিতেন ?

কুরআন হচ্ছে রোগের নিরাময় ও ঔষধ :

(১৭:৮২) আমি এ কুরআনের অবতরণ প্রক্রিয়ায় এমন সব বিষয় অবতীর্ণ করছি যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত ।





কুরআন সবকিছুর বিশদ বিবরণ, বিশদ ব্যাখ্যামুলক ও অকাট্য জ্ঞানভিত্তিক কিতাব



কুরআন বিশদ ব্যাখ্যামুলক ও জ্ঞানভিত্তিক কিতাব-৭:৫২, একটি ফরমান৷ এর আয়াতগুলো পাকাপোক্ত এবং বিস্তারিতভাবে বিবৃত হয়েছে, এক পরম প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে-১১:১। এবং সবকিছুর বিশদ বিবরণ (১২:১১১)



কুরআন নাযিল হয়েছে সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে :

(২৭-নমল:৬) আর ( হে মুহাম্মদ !) নিসন্দেহে তুমি এ কুরআন লাভ করছো এক প্রাজ্ঞ ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে৷



( অর্থাৎ এ কুরআনে যেসব কথা বলা হচ্ছে এগুলো কোন উড়ো কথা নয়। এগুলো কোন মানুষের আন্দাজ অনুমান ও মতামত ভিত্তিকও নয়। বরং এক জ্ঞানবাদ প্রাজ্ঞ সত্তা এগুলো নাযিল করছেন। তিনি নিজের সৃষ্টির প্রয়োজন ও কল্যাণ এবং তার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন। বান্দাদের সংশোধন ও পথনির্দেশানার জন্য তাঁর জ্ঞান সর্বোত্তম কৌশল ও ব্যবস্থা অবলম্বন করে। )







কুরআন অন্তরের রোগের নিরাময় / মানসিক রোগের চিকিৎসা :

হে লোকেরা! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নসীহত এসে গেছে৷ এটি এমন জিনিস যা অন্তরের রোগের নিরাময়-১০:৫৭



কুরআন এর জন্য মানুষের আনন্দিত হওয়া উচিত :

হে নবী! বলো, “এ জিনিসটি যে, তিনি পাঠিয়েছেন এটি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার মেহেরবানী৷ এ জন্য তো লোকদের আনন্দিত হওয়া উচিত৷ -১০:৫৮,

(১৩:৩৬) হে নবী! যাদেরকে আমি আগে কিতাব দিয়েছিলাম তারা তোমার প্রতি আমি যে কিতাব নাযিল করেছি তাতে আনন্দিত৷ আর বিভিন্ন দলে এমন কিছু লোক আছে যারা এর কোন কোন কথা মানে না৷ (কুরআন যেহেতু পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়ন করে, তাই কোন কোন আহলে কিতাব কেন কুরআন মানছে না – এটি তার জওয়াব)।







কুরআন আল্লাহ প্রেরণ করেছেন : এটা মানুষের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ এবং মেহেরবানী :

হে নবী! বলো, “এ জিনিসটি যে, তিনি পাঠিয়েছেন এটি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার মেহেরবানী৷-১০:৫৮,

সেই মহান সত্তা তো তিনিই যিনি তাঁর বান্দার কাছে স্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করছেন যাতে তোমাদেরকে অন্ধাকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন৷ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতীব দয়ালু ও মেহেরবান-৫৭:৯,

কুরআন হচ্ছে মু’মিনদের জন্য সুসংবাদ :

(১৬:৮৯) আমি এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যা সব জিনিস পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে এবং যা সঠিক পথনির্দেশনা, রহমত ও সুসংবাদ বহন করে তাদের জন্য যারা আনুগত্যের শির নত করে দিয়েছে৷

(১৬:১০২) ...এবং তাদেরকে সাফল্য ও সৌভাগ্যের সুসংবাদ দান করা যায়৷

(১৭:৯) আসলে এ কুরআন এমন পথ দেখায় যা একেবারেই সোজা৷ যারা একে নিয়ে ভাল কাজ করতে থাকে তাদেরকে সে সুখবর দেয় এ মর্মে যে, তাদের জন্য বিরাট প্রতিদান রয়েছে৷

(১৮:১) প্রশংসা আল্লাহরই যিনি তাঁর বান্দার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন এবং এর মধ্যে কোনো বক্রতা রাখেননি৷২) একদম সোজা কথা বলার কিতাব, যাতে লোকদেরকে আল্লাহর কঠিন শাস্তি থেকে সে সাবধান করে দেয় এবং ঈমান এনে যারা সৎকাজ করে তাদেরকে সুখবর দিয়ে দেয় এ মর্মে যে, তাদের জন্য রয়েছে ভালো প্রতিদান৷ ৩) সেখানে তারা থাকবে চিরকাল৷

(১৯:৯৭) বস্তুত হে মুহাম্মাদ! এ বাণীকে আমি সহজ করে তোমার ভাষায় এজন্য নাযিল করেছি যাতে তুমি মুত্তাকীদেরকে সুখবর দিতে ও হঠকারীদেরকে ভয় দেখাতে পারো৷

(২৭.নামল:২) পথনির্দেশ ও সুসংবাদ এমন মুমিনদের জন্য ৩) যারা নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয় এবং তারা এমন লোক যারা আখেরাতে পুরোপুরি বিশ্বাস করে।





কুরআন সমস্ত ধন-সম্পদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ :

তারা যা কিছু জমা করছে সে সবের চেয়ে এটি অনেক ভাল”-১০:৫৮,

কুরআন অপরাধীদের জন্য শাস্তির সংবাদ দেয় :

(১৭:১০) আর যারা আখেরাত মানে না তাদেরকে এ (কুরআন) সংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি৷



কুরআন হিকমত ও জ্ঞানে পরিপূর্ণ

কিতাব ও হিকমত শিক্ষা করা মুসলমানদের একান্ত দায়িত্ব এবং কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া উম্মতের দায়িত্ব এবং এটা নবীদের দায়িত্ব ছিল : ২:১২৯, ১৫১,



এমন একটি কিতাবের আয়াত যা হিকমত ও জ্ঞানে পরিপূর্ণ -১০:১,



কুরআন হচ্ছে মহাসত্য :

প্রকৃতপক্ষে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে এ কিতাব মহাসত্য হয়েই এসেছে৷ :১০:৯৪,





কুরআনের বক্তব্য সুষ্পষ্ট , কুরআন নিজের বক্তব্য পরিস্কার ভাবে বল দেয়:

এগুলো এমন কিতাবের আয়াত যা নিজের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করে৷ -১২:০১,

এগুলো আল্লাহর কিতাব ও সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত৷-১৫:১,

(১৬:৮৯) আমি এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যা সব জিনিস পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে

(নুর:৪৬) আমি পরিষ্কার সত্য বিবৃতকারী আয়াত নাযিল করে দিয়েছি তবে আল্লাহই যাকে চান সত্য সরল পথ দেখান ৷

(২৭.নামল:১) ....এগুলো কুরআনের ও এক সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত ।



("সুস্পষ্ট কিতাবের" একটি অর্থ হচ্ছে, এ কিতাবটি নিজের শিক্ষা , বিধান ও নিদের্শগুলোর একেবারে দ্ব্যর্থহীন পদ্ধতিতে বর্ণনা করে দেয়। এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, এটি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্ট পদ্ধতিতে তুলে ধরে। আর তৃতীয় একটি অর্থ এই হয় যে , এটি যে আল্লাহর কিতাব সে ব্যাপারটি সুস্পষ্ট। যে ব্যক্তি চোখ খুলে এ বইটি পড়বে, এটি যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজের তৈরী করা কথা নয় তা তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।)





কুরআন অধ্যয়ন ও কুরআন নিয়ে গবেষণা ও চিন্তা ভাবনা করার আদেশ :

(১৬:৪৪) আগের রসূলদেরকেও আমি উজ্জ্বল নিদর্শন ও কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছিলাম এবং এখন এ বাণী তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদের সামনে সেই শিক্ষার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে যেতে থাকো৷ যা তাদের জন্য অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে লোকেরা (নিজেরাও) চিন্তা-ভাবনা করে৷

কুরআন হচ্ছে সমস্ত মতভেদের নিরসনকারী :

(১৬:৬৪) আমি তোমার প্রতি এ কিতাব এজন্য অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি এ মতভেদের তাৎপর্য এদের কাছে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরো৷ যার মধ্যে এরা ডুবে আছে৷



কুরআন ও জিহাদ :

(বিস্তারিত দেখুন : জ > জিহাদ)

কুরআনের মাধ্যমে জিহাদ করাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় জিহাদ :

(২৫.ফুরকান:৫২) কাজেই হে নবী, কাফেরদের কথা কখনো মেনে নিয়ো না এবং এ কুরআন নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তম জিহাদ করো৷



কুরআনের মা্ধ্যমেই দাওয়াতী কাজ করতে হবে যদিও অস্বীকারকারীদের বাধার মুখে পড়তে হয় তবুও:

(হাজ্ব:৭২) আর যখন তাদেরকে আমার পরিষ্কার আয়াত শুনিয়ে দেয়া হয় তখন তোমরা দেখো সত্য অস্বীকারকারীদের চেহারা বিকৃত হয়ে যাচ্ছে এবং মনে হতে থাকে এ-ই বুঝি যারা তাদেরকে আমার আয়াত শুনায় তাদের ওপর তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে৷





কুরআন হচ্ছে আইন : (আরো দেখুন : আ > আইন, ব > বিচার ব্যবস্থা )

কুরআন হচ্ছে আইন :

কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী বিচার ফায়সাল করতে হবে : ৪:৫৯, ৪:১০৫, ৫:৪৩-৪৮, ৫:৪৯, ৫০,

৬:৫৭, ১১৪, ১১৫

কুরআন ও অন্যান্য আসমানী কিতাব সমূহ সবই ছিল আইন গ্রন্থ :

৫:৪৩-৪৮, ৫:৪৯, ৫০,

৬:৫৭, ১১৪, ১১৫

কুরআনের আইন মেনে চলা ও প্রতিষ্ঠা করা ফরয :

(নূর:১) এটি একটি সূরা, আমি এটি নাযিল করেছি এবং একে ফরয করে দিয়েছি আর এর মধ্যে সুস্পষ্ট নির্দেশসমূহ নাযিল করেছি, হয়তো তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে৷

(নূর:২) ব্যভিচারিনী ও ব্যভিচারী উভয়ের প্রত্যেককে এক শত বেত্রাঘাত করো৷ আর আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি কোন মমত্ববোধ ও করুণা যেন তোমাদের মধ্যে না জাগে যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনো ৷ আর তাদেরকে শাস্তি দেবার সময় মু’মিনদের একটি দল যেন উপস্থিত থাকে ৷

কুরআন অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা গ্রহণ না করে, আইন ও বিচার ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তারা জালিম, ফাসিক ও কাফির :

৪:৬০, ৫:৪৩, ৫:৪৭, ৫:৪৫. ৪৬-৫০,





কুরআনের ব্যাখ্যা :



কুরআনের সরকারী ব্যাখ্যা দাতা হলেন রাসুল সা: : হাদীস হচ্ছে কুরআনের ব্যাখ্যা :

(১৬:৪৪) আগের রসূলদেরকেও আমি উজ্জ্বল নিদর্শন ও কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছিলাম এবং এখন এ বাণী তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদের সামনে সেই শিক্ষার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে যেতে থাকো৷ যা তাদের জন্য অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে লোকেরা (নিজেরাও) চিন্তা-ভাবনা করে৷





কুরআন শোনার আদব সমূহ :

কুরআন শুনতে হবে খোলা মন নিয়ে :

এর মধ্যে শিক্ষা আছে এমন লোকদের জন্য যারা (খোলা কানে নবীর দাওয়াত )শোনে -১০:৬৭,

কুরআন শুনতে হবে চুপ করে ও মনোযোগ সহকারে :

কুরআন পাঠ শুনতে হবে ‍চুপ করে এবং মনযোগ সহকারে : ৭:১২৪,

মুস্তামিন বা নিরাপত্তা প্রার্থী সংক্রান্ত হুকুম : তাদেরকে কুরআন শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে : ৯:৬,

(২০:২) তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে যে উপদেশ আসে, তা তারা দ্বিধাগ্রস্তভাবে শোনে এবং খেলার মধ্যে ডুবে থাকে ৩) তাদের মন (অন্য চিন্তায়) আচ্ছন্ন.......৷



মুস্তামিন বা নিরাপত্তা প্রার্থী সংক্রান্ত হুকুম : তাদেরকে কুরআন শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে :

৯:৬,

বাজে গল্পসল্প না করে কুরআন অধ্যয়ন কর , কুরআন শ্রবণ করো :

(মু’মিনুন:৬৫) ---এখন বন্ধ করো তোমাদের আর্তচিৎকার আমার পক্ষ থেকে এখন কোন সাহায্য দেয়া হবে না ৷৬৬) আমার আয়াত তোমাদের শোনানো হতো, তোমরা তো (রসূলের আওয়াজ শুনতেই ) পিছন ফিরে কেটে পড়তে, ৬৭) অহংকারের সাথে তা অগ্রাহ্য করতে, নিজেদের আড্ডায় বসে তার সম্পর্কে গল্প দিতে ও আজেবাজে কথা বলতে ৷

আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে আমরা যাতে মুসলিম হই : এবং লোকদেরকে কুরআন পড়ে শুনাই :

(২৭-নমল:৯১)...আমরা মুসলিম হয়ে থাকার ৯২) এবং এ কুরআন পড়ে শুনাবার হুকুম দেয়া হয়েছে”৷

কুরআন শুনে যাদের লোম শিউরে ওঠে :

(৩৯-যুমার:২৩) ...... কুরআন শুনে সে লোকদের লোম শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে৷ তারপর তাদের দেহমন বিগলিত হয়ে আল্লাহর স্মরণে প্রতি আকৃষ্ট হয়৷ এটা হচ্ছে আল্লাহর হিদায়াত৷ এর দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে নিয়ে আসেন৷ আর যাকে আল্লাহ নিজেই হিদায়াত দান করেন না তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই৷











কুরআন পড়া / কুরআন তেলাওয়াত এর আদব সমূহ :

কুরআন পাঠ করার সময় শয়তানের হস্তক্ষেপ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে :

(১৬:৯৮) তারপর যখন তোমরা কুরআন পড়ো তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর শরণ নিতে থাকো৷



কুরআন বুঝে পড়া :

(নুর:৪৬) আমি পরিষ্কার সত্য বিবৃতকারী আয়াত নাযিল করে দিয়েছি তবে আল্লাহই যাকে চান সত্য সরল পথ দেখান ৷

মাতৃভাষায় কুরআন বুঝে নেয়া জরুরী :

(১২:২) আমি একে আরবী ভাষায় কুরআন বানিয়ে নাযিল করেছি, যাতে তোমরা (আরববাসীরা) একে ভালোভাবে বুঝতে পারো৷

(বিস্তারিত দেখুন : ম > মার্তৃভাষা, আ > আরবী ভাষা)

ঈমান সুদৃঢ় করার জন্য কুরআন বুঝে পড়া জরুরী :

(১৬:১০২) এদেরকে বলো, একে তো রূহুল কুদুস ঠিক ঠিকভাবে তোমার তোমার রবের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছে, যাতে মুমিনদের ঈমান সুদৃঢ় করা যায়



কুরআনের জ্ঞান অর্জন করা মু’মিনদের জন্য ফরজ :

কিতাব ও হিকমত শিক্ষা করা মুসলমানদের একান্ত দায়িত্ব এবং কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া উম্মতের দায়িত্ব এবং এটা নবীদের দায়িত্ব ছিল : ২:১২৯, ১৫১,



বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাকিয় যারা কুরআন পাঠ করে। কিতাব পাঠ করে এবং বলে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত কিন্তু তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত নয় :

৩:৭৮-৮০,



ফজরে কুরআন পাঠের ব্যবস্থা কর : অর্থাৎ ফজরের নামাজ পড় ও নামাজে কুরআন পাঠ কর:

(১৭:৭৮) নামায কায়েম করো সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে নিয়ে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত এবং ফজরে কুরআন পড়ারও ব্যবস্থা করো৷ কারণ ফজরের কুরআন পাঠ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে৷

(ফজরের কুরআন পরিলক্ষিত হওয়ার মানে হচ্ছে, আল্লাহর ফেরেশতারা এর সাক্ষী হয় । হাদীসে সুস্পষ্ট একথা বর্ণনা করা হয়েছে যদিও ফেরেশতারা প্রত্যেক নামায ও প্রত্যেক সৎকাজের সাক্ষী তবুও যখন ফজরের নামাযের কুরআন পাঠে তাদের সাক্ষের কথা বলা হয়েছে তখন এ থেকে পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে যে, এ কাজটি একটি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী । এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাযে দীর্ঘ আয়াত ও সূরা পড়ার পদ্ধতি অবলম্বন করেন । সাহাবায়ে কেরামও তাঁর এ পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং পরবর্তী ইমামগণ একে মুসতাহাব গণ্য করেন ।)



কুরআন বুঝে পাঠ করা :

আল্লাহর সাথে কথা বলা প্রসঙ্গে : আল্লাহর আয়াত সমূহ বুঝে পাঠ করাই আল্লাহর সাথে কথা বলা:

তারা বলে , আল্লাহ আমাদের সাথে কেন কথা বলেন না ? অথচ আল্লাহ সুষ্পষ্ট আয়াত সমূহ নাযিল করেছেন ২:১১৮, ২:২৫৩, (নবীদের সাথে কথা বলা ) , ৪:১৬৪,(মূসা আ: এর সাথে সরাসরি আল্লাহর কথা বলা )

কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে, তবে কুরআন বুঝে পাঠ করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বেশী :

২:২২১, ৩:১০৮, ২:৭৮

কুরান পাঠ করে শুনানো (অবশ্যই অর্থ সহকারে) নবীওয়ালা কাজ তথা দাওয়াত ও জিহাদী কাজের একটি বড় অংশ :

(২৯-আনকাবুত:৫১) আর এদের জন্য কি এ (নিদর্শন ) যথেষ্ঠ নয় যে, আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদেরকে পড়ে শুনানো হয়?

(আরে দেখুন : দ > দাওয়াতী কাজ > দাওয়াতী কাজ করতে হবে কুরআনের মাধ্যমে ) ।

কুরআন পাঠ এবং তদনুযায়ী আমল করা এমন একটি ব্যবসা যাতে কোন ক্ষতির সম্ভাবনাই নেই, বরং শুধুমাত্র লাভ আর লাভ :

(৩৫-ফাতির:২৯) যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে খরচ করে, নিসন্দেহে তারা এমন একটি ব্যবসায়ের প্রত্যাশী যাতে কোনক্রমেই ক্ষতি হবে না৷ ৩০) (এ ব্যবসায়ে তাদের নিজেদের সবকিছু নিয়োগ করা কারণ হচ্ছে এই যে) যাতে তাদের প্রতিদান পুরোপুরি আল্লাহ তাদেরকে দিয়ে দেন এবং নিজের অনুগ্রহ থেকে আরো বেশী করে তাদেরকে দান করবেন৷ ৫১ নিসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও গুনগ্রাহী৷ ৫২

৫১. ঈমানদারদের এ কাজকে ব্যবসায়ের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। কারণ মানুষ ব্যবসায়ের নিজের অর্থ, শ্রম, ও মেধা নিয়োগ করে কেবলমাত্রা আসল ফেরত পাবার এবং শ্রমের পারিশ্রমিক লাভ করার জন্য নয় বরং বাড়তি কিছু মুনাফা অর্জন করার জন্য। অনুরূপভাবে একজন মু'মিন ও আল্লহর হুকুম পালন, তার ইবাদাত বন্দেগী এবং তার দীনের জন্য সংগ্রাম সাধনায় নিজের ধন, সময়, শ্রম ও যোগত্যা নিয়োগ করে শুধুমাত্র এসবের পুরাপুরি প্রতিদান লাভ করার জন্য নয় বরং এই সংগে আল্লাহ তার নিজ অনুগ্রহে বাড়তি অনেক কিছু দান করবেন এই আশায়। কিন্তু উভয় ব্যবসায়ের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ পার্থিব ব্যবসায়ের নিছক মুনাফালাভেরই আশা থাকে না, লোকসান এবং দেউলিয়া হয়ে যাবার আশংকাও থাকে। কিন্তু একজন আন্তরিকতা সম্পন্ন বান্দা আল্লাহর সাথে যে ব্যবসায় করে তাতে লোকসান ও ক্ষতির কোন আশংকাই নেই।

৫২. অর্থাৎ নিজের আন্তরিকতা সম্পন্ন মু'মিনদের সাথে আল্লাহ এমন সংকীর্ণমনা প্রভুর মত ব্যবহার করেন না, যে কথায় কথায় পাকড়াও করে এবং সামান্য একটি ভুলের দরুন নিজের কর্মচারীর সমস্ত সেবা ও বিশ্বস্ততা অস্বীকার করে। তিনি মহানুভব দানশীল প্রভু। তার বিশ্বস্ত বান্দার ভুল ভ্রান্তি তিনি উপেক্ষা করে যান এবং তার পক্ষে যা কিছু সেবা করা সম্ভব হয়েছে তাকে যথার্থ মূল্য দান করেন।







কুরআন হচ্চে সবচেয়ে বড় মু’জিযা :

কুরআনই হচ্ছে সবচেয়ে বড় মু’জিযা :

কাফেররা বলল : “হে নবী তুমি একটি মু’জিযা নিয়ে আসলেনা কেন?” জবাবে রাসুল সা: বললেন, “আমার কাছে কুরআন পাঠানো হয়েছে”। অর্থাৎ, কুরআনই হচ্ছে সবচেয়ে বড় মু’জিযা। -৭:২০৩,

(১৫:৯) আর এ বাণী (জিকর) , একে তো আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক৷

(একারণেই আজ দেড় সহস্রাব্দ পার হয়ে যাওয়ার পরও কুরআনের একটি নুকতারও কেউ পরিবর্তণ করতে পারেনি, কুরআন কেহ বিশ্বাস করুক বা না করুক সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার , কিন্তু মুহাম্মদ সা: এর উপর যে কুরআন নাযিল হয়েছে, সেটি সম্পূর্ন অবিকৃত অবস্থায় এখনো আমাদের কাছে, পৃথিবীর কাছে বিদ্যমান আছে, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় কারো নেই, এটা কুরআনের একটি বাস্তব ও জ্বলন্ত মু’জেযা, এ বিষয়টি পৃথিবীর দ্বিতীয় কোন গ্রন্থের ক্ষেত্রে ভাবাও অকল্পনীয়)



(২০:১৩৩) তারা বলে, এ ব্যক্তি নিজের রবের পক্ষ থেকে কোন নিশানী (মুজিযা) আনে না কেন? আর এদের কাছে কি আগের সহীফাগুলোর সমস্ত শিক্ষার সুস্পষ্ট বর্ণনা এসে যায়নি?

( অর্থাৎ এটা কি কোন ছোটখাটো মু'জিযা যে, তাদের মধ্য থেকে এক নিরক্ষর ব্যক্তি এমন একটি কিতাব পেশ করেছেন, যাতে শুরু থেকে নিয়ে এ পর্যন্তকার সমস্ত আসমানী কিতাবের বিষয়বস্তু ও শিক্ষাবলীর নির্যাস বের করে রেখে দেয়া হয়েছে৷ মানুষের পথ নির্দেশনার জন্য ঐ সমস্ত কিতাবের মধ্যে যা কিছু ছিল তা কেবলমাত্র তার মধ্যে একত্রই করা হয়নি বরং তা এমন উন্মুক্ত করে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দেয়া হয়েছে যে, একজন মরুচারী বেদুইনও তা অনুধাবন করে লাভবান হতে পারে।)

কুরআন হচ্ছে সবচেয়ে বড় মু’জিযা, এর আরেকটি অকাট্য প্রমাণ হচ্ছে : রাসুল সা: নিরক্ষর ছিলেন :

(২৯-আনকাবুত:৪৮) (হে নবী ) ইতিপূর্বে তুমি কোন কিতাব পড়তে না এবং স্বহস্তে লিখতেও না, যদি এমনটি হতো, তাহলে মিথ্যাচারীরা সন্দেহ পোষণ করতে পারতো৷৪৯) আসলে এগুলো হচ্ছে উজ্জ্বল নিদর্শন এমন লোকদের মনের মধ্যে যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে এবং জালেমরা ছাড়া আর কেউ আমার আয়াত অস্বীকার করে না৷৫০) এরা বলে “ কেনই বা এই ব্যক্তির ওপর নিদর্শনাবলী অবর্তীর্ণ করা হয়নি ৯০ এর রবের পক্ষ থেকে?” বলো, “নিদর্শনাবলী তো রয়েছে আল্লাহর কাছে এবং আমি কেবলমাত্র পরিষ্কারভাবে সতর্ককারী ৷৫১) আর এদের জন্য কি এ (নিদর্শন ) যথেষ্ঠ নয় যে, আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদেরকে পড়ে শুনানো হয়? ৯১ আসলে যারা ঈমান আনে তাদের জন্য এর মধ্যে রয়েছে রহমত ও নসিহত৷ ৯২

(বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : ন > নিরক্ষর > রাসুল সা: কি সত্যিই নিরক্ষর ছিলেন ? : )

(ম > মু’জিযা > কুরআনই হচ্ছে সবচেয়ে বড় মু’জিযা)









কুরআন নাযিল সংক্রান্ত :

(২০:২) আমি এ কুরআন তোমার প্রতি এজন্য নাযিল করেনি যে, তুমি বিপদে পড়বে৷

আর তোমরা রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যাকিছু নাযিল হয়েছে তা প্রকৃত সত্য- (১৩:১)

(২০:৪) যে সত্তা পৃথিবী ও সুউচ্চ আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে এটি নাযিল করা হয়েছে৷

(৩২-আস-সিজদা: ১) আলিফ লাম মীম৷২) এ কিতাবটি রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ , এতে কোন সন্দেহ নেই৷ (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : স > সন্দেহ, হ > হুরুফে মুকাত্তাআত কি ? )



এ কুরআন প্রবল পরাক্রমশালী ও করুণাময় সত্তার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত:



(৩৬-ইয়াসিন :৫) (এবং এ কুরআন) প্রবল পরাক্রমশালী ও করুণাময় সত্তার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত, ৩



৩. এখানে কুরাআন নাযিলের দুটি গুণের কথা বলা হয়েছে। এক, তিনি প্রবল ও পরাক্রান্ত। দুই, তিনি করুণাময়। প্রথম গুণটি বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে এ সত্যটি সম্পর্কে সতর্ক করা যে, এ কুরআন কোন অক্ষম উপদেষ্টার উপদেশ নয় যে, একে উপেক্ষা করলে তোমাদের কোন ক্ষতি হবে না। বরং এটি এমন বিশ্ব-জাহানের মালিকের ফরমান যিনি সবার ওপর প্রবল পরাক্রান্ত, যাঁর ফায়সালাসমূহ প্রয়োগ করার পথে কোন শক্তি বাধা সৃষ্টি করতে পারে না এবং যার পাকড়াও থেকে রেহাই পাবার ক্ষমতা করো নেই। আর দ্বিতীয় গুণটি বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে এ অনুভুতি সৃষ্টি করা যে, তিনি নিছক দয়াপরবশ হয়ে তোমাদের হিদায়াত ও পথ দেখাবার জন্য নিজের রসূল পাঠিয়েছেন এবং এ মহান কিতাবটি নাযিল করেছেন, যাতে তোমরা গোমরাহী মুক্ত হয়ে এমন সরল সঠিক পথে চলতে পারো যে পথে চলে তোমরা দুনিয়া ও আখেরাতের সাফল্য লাভ করতে পারবে।



১। যে আল্লাহ এ বানী নাযিল করেছেন তিনি " আযীয " অর্থাৎ এমন মহা পরাক্রমশালী যে কোন শক্তিই তাঁর ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তাবলী কার্যকরী হওয়া ঠেকাতে পারে না :

২। তিনি ' হাকীম ' অর্থাৎ এ কিতাবে তিনি যে হিদায়ত দিচ্ছেন তা আগাগোড়া বিজ্ঞোচিত। কেবল কোন অজ্ঞ ও মূর্খই তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে :



(৩৯-যুমার:১) এ কিতাব মহা পরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত৷ ১



১ . এটা এ সূরার সংক্ষিপ্ত ভূমিকা । এতে শুধু এতটুকু বলা হয়েছে যে , এটা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজের কথা নয় যা অস্বীকারকারীরা বলছে। বরং এটা আল্লাহ তা'আলার বাণী। তিনি নিজে এ বাণী নাযিল করেছেন। এর সাথে আল্লাহর দু'টি গুণ উল্লেখ করে শ্রোতাদেরকে দু'টি মহাসত্য সম্পর্কে সাবধান করা হয়েছে যাতে তারা এ বাণীকে মামুলি জিনিস মনে না করে , বরং এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে। বর্ণিত গুণের একটি হচ্ছে , যে আল্লাহ এ বানী নাযিল করেছেন তিনি " আযীয " অর্থাৎ এমন মহা পরাক্রমশালী যে কোন শক্তিই তাঁর ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তাবলী কার্যকরী হওয়া ঠেকাতে পারে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে সামন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এমন কোন শক্তিও নেই। আরেকটি গুণ হচ্ছে , তিনি ' হাকীম ' অর্থাৎ এ কিতাবে তিনি যে হিদায়ত দিচ্ছেন তা আগাগোড়া বিজ্ঞোচিত। কেবল কোন অজ্ঞ ও মূর্খই তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , আস সাজদা টীকা , ১ )



আমি সত্যসহ এ কিতাব নাযিল করেছি :

(৩৯-যুমার:২) [হে মুহাম্মদ (সা)] আমি তোমার কাছে হকসহ এ কিতাব নাযিল করেছি৷ ২ তাই তুমি একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদাত করো৷ ৩



২ . অর্থাৎ তার মধ্যে যা আছে তা ন্যায় ও সত্য , বাতিলের কোন সংমিশ্রণ তার মধ্যে নেই।





কুরআন বিশ্ব জাহানের পালনকর্তার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত :



এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটি বিশ্ব জাহানের অধিকর্তার পক্ষ থেকে এসেছে৷-১০:৩৭,

সেই মহান সত্তা তো তিনিই যিনি তাঁর বান্দার কাছে স্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করছেন যাতে তোমাদেরকে অন্ধাকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন৷ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতীব দয়ালু ও মেহেরবান-৫৭:৯,

(২৬.শুআরা:১৯২) এটি রাব্বুল আলামীনের নাযিল করা জিনিস৷

কুরআন নাযিল করা হয়েছে এক জ্ঞানবান ও বিজ্ঞ সত্ত্বা আাল্লাহর পক্ষ থেকে :

(২৭.নামল:৬) আর ( হে মুহাম্মদ !) নিসন্দেহে তুমি এ কুরআন লাভ করছো এক প্রাজ্ঞ ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে৷

কুরআন নিয়ে আসেন হযরত জিব্রাঈল আ: এবং তাঁকে রূহ বলা হয়েছে :

(২৬.শুআরা:১৯৩) একে নিয়ে আমানতদার রূহ ১৯৪) অবতরন করেছে তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাও যারা (আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর সৃষ্টির জন্য) সতর্ককারী হয়। (বিস্তারিত দেখুন : র > রূহ > রূহ : হযরত জিব্রাঈল আ: )

মুহাম্মদ সা: এর অন্তরে কুরআন নাযিল করা হয় :

(২৬.শুআরা:১৯৩) একে নিয়ে আমানতদার রূহ ১৯৪) অবতরন করেছে তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাও যারা (আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর সৃষ্টির জন্য) সতর্ককারী হয়। (বিস্তারিত দেখুন : র > রূহ > রূহ : হযরত জিব্রাঈল আ: )



কুরআনের এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত নাযিল করা:

(১৬:১০১) যখন আমি একটি আয়াতের জায়গায় অন্য একটি আয়াত নাযিল করি-আর আল্লাহ ভালো জানেন তিনি কি নাযিল করবেন-তখন এরা বলে, তুমি নিজেই এ কুরআন রচনা কর৷ আসলে এদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না৷



কুরআন ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে নাযিল করার কারণ :

(১৭:১০৬) আর এ কুরআনকে আমি সামান্য সামান্য করে নাযিল করেছি, যাতে তুমি থেমে থেমে তা লোকদেরকে শুনিয়ে দাও এবং তাকে আমি (বিভিন্ন সময়) পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছি৷

(কুরআন পর্যায়ক্রমে নাযিল হওয়ার কারণ হচ্ছে – ১। একই কথা বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন কথার মোড়কে বার বার বুঝানো হয়েছে যাতে ঈমানদারদের বুঝ ও ঈমান আরো মজবুত হয় এবং ২। কাফেররা চিন্তা ভাবনা করার খোরাক পায় ও সময় পায়। ৩। দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য, যেমন : দাওয়াত, হিজরত, জিহাদ, রাষ্ট্র পরিচালনা ইত্যাদি ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।)

(১৬:১০১) যখন আমি একটি আয়াতের জায়গায় অন্য একটি আয়াত নাযিল করি-আর আল্লাহ ভালো জানেন তিনি কি নাযিল করবেন-তখন এরা বলে, তুমি নিজেই এ কুরআন রচনা কর৷ আসলে এদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না৷

(২৫.ফুরকান:৩২) অস্বীকারকারীরা বলে, “এ ব্যক্তির কাছে সমগ্র কুরআন একই সাথে নাযিল করা হলো না কেন?”হ্যাঁ, এমন করা হয়েছে এজন্য, যাতে আমি একে ভালোভাবে তোমার মনে গেঁথে দিতে থাকি এবং (এ উদ্দেশ্যে) একে একটি বিশেষ ক্রমধারা অনুযায়ী আলাদা আলাদা অংশে সাজিয়ে দিয়েছি৷৩৩) আর (এর মধ্যে এ কল্যাণকর উদ্দেশ্যও রয়েছে যে) যখনই তারা তোমার সামনে কোন অবিনব কথা (অথবা অদ্ভুত ধরনের প্রশ্ন) নিয়ে এসেছে তার সঠিক জবাব যথাসময়ে আমি তোমাকে দিয়েছি এবং সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছি৷

কুরআন আরবী ভাষায় নযিল করা হয়েছে, যাতে তোমরা বুঝতে পারো :

(১৯:৯৭) বস্তুত হে মুহাম্মাদ! এ বাণীকে আমি সহজ করে তোমার ভাষায় এজন্য নাযিল করেছি যাতে তুমি মুত্তাকীদেরকে সুখবর দিতে ও হঠকারীদেরকে ভয় দেখাতে পারো৷

(২০:১১৩) আর হে মুহাম্মাদ! এভাবে আমি একে আরবী কুরআন বানিয়ে নাযিল করেছি এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সতর্কবাণী করেছি হয়তো এরা বক্রতা থেকে বাঁচবে বা এদের মধ্যে এর বদৌলতে কিছু সচেতনতার নিদর্শন ফুটে উঠবে৷

(বিস্তারিত দেখুন : আ > আরবী ভাষা, ম > মার্তৃভাষা, ক > কুরআন বুঝার জন্য সহজ করে নাযিল করা হয়েছে)







কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য সমূহ:



১। ঈমান সুদৃঢ় করা,

২। অনুগতদের সোজা পথ দেখানো

৩। মুসলমানদের সুসংবাদ দেয়া :

(১৬:১০২) এদেরকে বলো, একে তো রূহুল কুদুস ঠিক ঠিকভাবে তোমার তোমার রবের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছে, যাতে মুমিনদের ঈমান সুদৃঢ় করা যায়, অনুগতদেরকে জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে সোজা পথ দেখানো যায় এবং তাদেরকে সাফল্য ও সৌভাগ্যের সুসংবাদ দান করা যায়৷

৪। পারস্পরিক মতভেদ দুর করার জন্যই কুরআন নাযিল করা হয়েছে :

(১৬:৬৪)আমি তোমার প্রতি এ কিতাব এজন্য অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি এ মতভেদের তাৎপর্য এদের কাছে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরো৷ যার মধ্যে এরা ডুবে আছে৷ এ কিতাব পথনির্দেশ ও রহমত হয়ে নাযিল হয়েছে তাদের জন্য যারা একে মেনে নেবে৷

৫। লোকদেরকে সতর্ক করা, সঠিক পথ দেখানো :

(২০:১১৩) আর হে মুহাম্মাদ! এভাবে আমি একে আরবী কুরআন বানিয়ে নাযিল করেছি এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সতর্কবাণী করেছি হয়তো এরা বক্রতা থেকে বাঁচবে বা এদের মধ্যে এর বদৌলতে কিছু সচেতনতার নিদর্শন ফুটে উঠবে৷

৬। আল্লাহর হুকুম / ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা :

(হাজ্ব:১৫) যে ব্যক্তি ধারণা করে, আল্লাহ দুনিয়ায় ও আখেরাতে তাকে কোনো সাহায্য করবেন না তার একটি রশির সাহায্যে আকাশে পৌঁছে গিয়ে ছিদ্র করা উচিত তারপর দেখা উচিত তার কৌশল এমন কোনো জিনিসকে (অর্থাৎ, আল্লাহর ফায়সালাকে) রদ করতে পারে কিনা যা তার বিরক্তি ও ক্ষোভের কারণ৷১৬) --এ ধরনেরই সুস্পষ্ট কথা সহযোগে আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আল্লাহ যাকে চান তাকে সৎপথ দেখান৷

(অর্থাৎ, মানুষের আসল কর্তব্য হচ্ছে ভালো মন্দ সর্বাবস্থায় সৎপথে অটল থাকা, আল্লাহর হুকুম/ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর হুকুম পালন করে যাওয়া, আরো দেখুন : ত > তাকদীর, স > সৎপথ)



কুরআনে কোন অভিনব কথা বলা হয়নি, বরং মানুষের নিজেদের প্রয়োজনের কথাই বলা হয়েছে :

(মু’মিনুন:৭১) ---না, বরং আমি তাদের নিজেদের কথাই তাদের কাছে এনেছি এবং তারা নিজেদের কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে৷ ৬৯



(৬৮ . এ ছোট্ট বাক্যটির মধ্যে একটি অনেক বড় কথা বলা হয়েছে । এটি ভালোভাবে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে । দুনিয়ায় সাধারণত অজ্ঞ মূর্খ লোকদের নিয়ম এই হয়ে থাকে যে, তাদের সামনে যে ব্যক্তি সত্য কথাটি বলে দেয় তারা তার প্রতি অসন্তষ্ট হয়। প্রকারন্তরে তারা যেন বলতে চায়, যা সত্য ও বাস্তব সম্মত তা না করুক সত্য সব অবস্থায়াই সত্য থাকে । সারা দুনিয়ার লোকেরা এক জোট হলেও সত্য ও বাস্তবতাকে এক এক ব্যক্তির ইচ্ছা ও বাসনা অনুযায়ী ঢেলে বের করে আনা এবং প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য বিপরীতমুখী বাসনার সাথে একাত্ন হওয়া তো দূরের কথা কোন বাস্তব ঘটনাকে অবাস্তব এবং সত্যকে অসত্যে পরিণত করাও সম্ভবপর নয়। নির্বুদ্ধিতায় আক্রান্ত বুদ্ধিবৃত্তি কখনো এ কথা চিন্তা করার প্রয়োজনই বোধ করে না যে, সত্য ও তাদের বাসনার মধ্যে যদি বিরোধ থাকে তাহলে এ দোষটা সত্যের নয় বরং তাদের নিজেদের । তার বিরোধিতা করে তারা তার কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না বরং তাদের নিজেদের ক্ষতি করবে । বিশ্ব-জাহানের এ বিশাল ব্যবস্থা যেসব অবিচল সত্য ও আইনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে তার ছত্রছায়ায় বাস করে মানুষের জন্য নিজের চিন্তা , বাসনা ও কর্মপদ্ধতিকে সত্য অনুযায়ী তৈরী করে নেয়া এবং এ উদ্দেশ্যে সর্বক্ষণ যুক্তি, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা করতে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই । কেবলমাত্র একজন নির্বোধই এখানে যা কিছু সে বোঝে বা যা কিছু হয়ে যাক বলে তার মন চায় অথবা নিজের বিদ্ধিষ্ট মনোভাবের কারণে যা কিছু হয়েছে বা হওয়া উচিত বলে সে ধারণা করে নিয়েছে তার ওপর দ্বিধাহীন হয়ে যাওয়া এবং তার বিরুদ্ধে কারোর সবচেয়ে শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত যুক্তি-প্রমাণও শুনতে প্রস্তুত না হওয়ার চিন্তা ও কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে ।

৬৯ . এখানে 'কথা' শব্দটির তিনটি অর্থ হওয়া সম্ভব এবং তিনটি অর্থই এখানে প্রযোজ্য।

(ক) 'কথা' প্রকৃতির বর্ণনা অর্থে । এ প্রেক্ষিতে আয়াতের অর্থ হবে , আমি অন্য কোন জগতের কথা বলছি না । বরং তাদের নিজেদেরই সত্য ও প্রকৃতি এবং তার দাবী-দাওয়া তাদের সামনে পেশ করছি , যাতে তারা নিজেদের এ ভুলে যাওয়া পাঠ মনে করতে পারে। কিন্তু তারা এটা গ্রহণ করতে পিছপাও হচ্ছে । তাদের এ পলায়ন কোন অসংশ্লিষ্ট জিনিস থেকে নয় বরং নিজেদেরই কথা থেকে।

(খ) 'কথা' উপদেশ অর্থে। এ প্রেক্ষিতে আয়াতের ব্যাখ্যা হবে , যা কিছু পেশ করা হচ্ছে তা তাদেরই ভালোর জন্য একটি উপদেশ এবং তাদের এ পলায়ন অন্য কোন জিনিস থেকে নয় বরং নিজেদেরই কল্যাণের কথা থেকে।

(গ) 'কথা' সম্মান ও মর্যাদা অর্থে । এ অর্থ গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে , আমরা এমন জিনিস তাদের কাছে এনেছি যা তারা গ্রহণ করলে তারাই মর্যাদা ও সম্মানের অধীকারী হবে । এ থেকে তাদের এ মুখ ফিরিয়ে নেয়া অন্য কোন জিনিস থেকে নয় বরং নিজেদেরই উন্নতি এবং নিজেদেরই উত্থানের একটি সুবর্ণ সুযোগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার নামান্তর।)



কুরআনের প্রতি আচরণ :



কুরআন ও মুসলমান :



কুরআনের প্রতি আমল, আনুগত্য ও আচরণের দিক থেকে মুসলমানদেরকে কুরআনে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে :



(৩৫-ফাতির:৩২) তারপর আমি এমন লোকদেরকে এ কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি যাদেরকে আমি ( এ উত্তরাধিকারের জন্য) নিজের বান্দাদের মধ্য থেকে বাছাই করে নিয়েছি৷৫৫ এখন তাদের মধ্য থেকে কেউ নিজের প্রতি জুলুমকারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ আল্লাহর হুকুমে সৎকাজে অগ্রবর্তী, এটিই অনেক বড় অনুগ্রহ৷ ৫৬

৫৬. অর্থাৎ এ মুসলমানরা সবাই একরকম নয়। বরং এরা তিন শ্রেনীতে বিভক্ত হয়ে গেছে।

এক- নিজেদের প্রতি জুলুমকারী। এরা হচ্ছে এমনসব লোক যারা আন্তরিকতা সহকারে কুরআনকে আল্লাহ কিতাব এবং মুহাম্মাদ (সা) কে আল্লাহর রসূল বলে মানে কিন্তু কার্যত আল্লাহর কিতাব ও রসূলের সুন্নাতের অনুসরণের হক আদায় করে না। এরা মু'মিন কিন্তু গোনাহদার। অপরাধী কিন্তু বিদ্রোহী নয়। দুর্বল ঈমানদার, তবে মুনাফিক এবং চিন্তা ও মননের দিক দিয়ে কাফের নয় । তাই এদেরকে আত্মনিপীড়ক হওয়া সত্তেও কিতাবের ওয়ারিসদের অন্তরভূক্ত এবং আল্লাহর নির্বাচিত বান্দাদের মধ্যে শামিল করা হয়েছে । নয়তো একথাসুস্পষ্ট, বিদ্রোহী, মুনাফিক এবং চিন্তা ও মননের দিক দিয়ে কাফেরদের প্রতি এ গুনাবলী আরোপিত হতে পারে না তিন শ্রেণীর মধ্য থেকে এ শ্রেণীর ঈমানদারদের কথা সবার আগে বলার কারণ হচ্ছে এই যে উম্মাতের মধ্যে এদের সংখ্যাই বেশী ।

দুইঃ মঝামাঝি অবস্থানকারী।এরা হচ্ছে এমন লোক যারা এ উত্তরাধিকারের হক কমবেশী আদায় করে কিন্তু পুরোপুরি করে না । হুকুম পালন করে এবং অমান্যও করে । নিজেদের প্রবৃত্তিকে পুরোপুরি লাগামহীন করে ছেড়ে দেয়নি বরং তাকে আল্লাহর অনুগত করার জন্য নিজেদের যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালায় কিন্তু কখনো তার বাগডোর ঢিলে করে দেয় এবং গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে । এভাবে এদের জীবনে ভালো ও মন্দ উভয় ধরনের কাজের সমাবেশ ঘটে। এরা সংখ্যায় প্রথম দলের চইতে কম এবং তৃতীয় দলের চেয়ে বেশী হয় । তাই এদেরকে দু' নম্বরে রাখা হয়েছে ।

তিনঃ ভালো কাজে যারা অগ্রবর্তী । এরা হয় কিতাবের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে প্রথম সারির লোক । এরাই আসলে এ উত্তরাধিকারের হক আদায়কারী । কুরআন ও সুন্নাতের অনুসরণের ক্ষেত্রেও এরা অগ্রগামী । আল্লাহর পয়গাম তাঁর বান্দাদের কাছে পৌছিয়ে দেবার ক্ষেত্রেও এরা এগিয়ে থাকে । সত্যদীনের জন্য ত্যাগ স্বীকারেও এরাই এগিয়ে যায় । তাছাড়া সত্য, ন্যায়, সুকৃতি ও কল্যাণের যে কোন কাজেও এরাই হয় অগ্রবর্তী । এরা জেনে বুঝে গোনাহ করে না । আর অজান্তে কোন গোনাহর কাজ আনুষ্ঠিত হলেও সে সম্পর্কে জানার সাথে সাথেই এদের মাথা লজ্জায় নত হয়ে যায়। প্রথম দু'টি দলের তুলনায় উম্মাতের মধ্যে এদের সংখ্যা কম । তাই এদের কথা সবার শেষে বলা হয়েছে, যদিও উত্তরাধিকারের হক আদায় করার ক্ষত্রে এরাই অগ্রগামী ।‍‍ ‍‌‌‌

"এটিই অনেক বড় অনুগ্রহ" বাক্যটির সম্পর্ক যদি নিকটতম বাক্যের সাথে ধরে নেয়া হয় তাহলে এর অর্থ হবে, ভলো কাজে অগ্রগামী হওয়াই হচ্ছে বড় অনুগ্রহ এবং যারা এমনটি করে মুসলিম উম্মতের মধ্যে তারাই সবার সেরা । আর এ বাক্যটির সম্পর্ক পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে মিল রেখে করা হলে এর অর্থ হবে, আল্লাহর কিতাবের উত্তরাধিকারের জন্য নির্বাচিত হওয়াই বড় অনুগ্রহ এবং আল্লাহর সকল বান্দাদের মধ্যে সেই বান্দাই সর্বশ্রেষ্ঠ যে কুরআন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান এনে নির্বাচনে সফলকাম হয়েছে ।





কুরআনের প্রতি কাফের,মুশরিক,মুনাফিক, সন্দেহপোষণকারী, অবিশ্বাসীদের আচরণ :



কুরআনকে খন্ড-বিখন্ড করা :

(১৫:৯১) যারা নিজেদের কুরআনকে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলে৷



কুরআনের কিছু অংশ মানা ও কিছু অংশ না মানা :

(২:৮৫) তাহলে কি তোমরা কিতাবের একটি অংশের ওপর ঈমান আনছো এবং অন্য অংশের সাথে কুফরী করছো?৯২ তারপর তোমাদের মধ্য থেকে যারাই এমনটি করবে তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছিত ও পর্যুদস্ত হবে এবং আখেরাতে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে ? তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আল্লাহ বেখবর নন৷






কুরআনের প্রতি সন্দেহ পোষণকারীদের প্রতি আল্লাহর বক্তব্য:





ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের কিতাব গুলো ভালো ভাবে পড়ে দেখো, তাহলে কুরআনের সত্যতার ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকবেনা :



(১০: ৯৪) এখন যদি তোমার সেই হিদায়াতের ব্যাপারে সমান্যও সন্দেহ থেকে থাকে যা আমি তোমার ওপর নাযিল করেছি তাহলে যারা আগে থেকেই কিতাব পড়ছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে নাও৷ প্রকৃতপক্ষে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে এ কিতাব মহাসত্য হয়েই এসেছে৷

(১০:৯৫) কাজেই তুমি সন্দেহকারীদের অন্তরভূক্ত হয়ো না এবং যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা বলেছে তাদের মধ্যেও শামিল হয়ো না, তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হবে৷





(২০:১২৪) আর যে ব্যক্তি আমার “যিকির (উপদেশমালা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জন্য হবে দুনিয়ায় সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে উঠাবো অন্ধ করে৷১২৫) -সে বলবে, “হে আমার রব! দুনিয়ায় তো আমি চক্ষুষ্মান ছিলাম কিন্তু এখানে আমাকে অন্ধ করে উঠালে কেন? ১২৬) আল্লাহ বললেন, “হাঁ, এভাবেই তো৷ আমার আয়াত যখন তোমার কাছে এসেছিল, তুমি তাকে ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হচ্ছে৷১২৭) -এভাবেই আমি সীমা লংঘনকারী এবং নিজের রবের আয়াত অমান্যকারীকে (দুনিয়ায়) প্রতিফল দিয়ে থাকি১০৮ এবং আখেরাতের আযাব বেশী কঠিন এবং বেশীক্ষণ স্থায়ী৷



আসমানী কিতাব সমূহে জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে আহলে জিকর বলা হয়েছে : এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে বলা হয়েছে :

(১৬:৪৩) হে মুহাম্মাদ ! তোমার আগে আমি যখনই রসূল পাঠিয়েছি, মানুষই পাঠিয়েছি, যাদের কাছে আমি নিজের অহী প্রেরণ করতাম৷ যদি তোমরা নিজেরা না জেনে থাকো তাহলে বাণীওয়ালাদেরকে জিজ্ঞেস করো৷

(ব্যাখ্যা : আহলে জিকর বা " বাণী ওয়ালা " অর্থাৎ আহলি কিতাবদের আলেম সমাজ এবং আরো এমন সব লোক যারা নাম - করা আলেম না হলেও মোটামুটি আসমানী কিতাবসমূহের শিক্ষা এবং পূর্ববর্তী নবীগণের জীবন বৃত্তান্ত জানেন- তাফহীমুল কুরআন)

(বিস্তারিত : জ > জিকর )



কুরআনকে জিকর বলা হয়েছে :

দেখুন : জ > জিকর > জিকর শব্দের অর্থসমূহ > কুরআনকে জিকর বলা হয়েছে







কুরআন মেনে না চলার দুনিয়াবী ও আখিরাতের শাস্তি : ১। দুনিয়া হবে সংকীর্ণ জীবন ও

২। আখিরাতে উঠানো হবে অন্ধ করে :



(২০:১২৪) আর যে ব্যক্তি আমার “যিকির (উপদেশমালা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জন্য হবে দুনিয়ায় সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে উঠাবো অন্ধ করে৷১২৫) -সে বলবে, “হে আমার রব! দুনিয়ায় তো আমি চক্ষুষ্মান ছিলাম কিন্তু এখানে আমাকে অন্ধ করে উঠালে কেন? ১২৬) আল্লাহ বললেন, “হাঁ, এভাবেই তো৷ আমার আয়াত যখন তোমার কাছে এসেছিল, তুমি তাকে ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হচ্ছে৷১২৭) -এভাবেই আমি সীমা লংঘনকারী এবং নিজের রবের আয়াত অমান্যকারীকে (দুনিয়ায়) প্রতিফল দিয়ে থাকি এবং আখেরাতের আযাব বেশী কঠিন এবং বেশীক্ষণ স্থায়ী৷



ওহীর মাধ্যমে কুরআন পাঠানো হচ্ছে, আর এটা পূ্র্ববর্তী সকল কিতাবের সত্যায়ন কারী :

(৩৫-ফাতির:৩১) (হে নবী!) আমি তোমার কাছে অহীর মাধ্যমে যে কিতাব পাঠিয়েছি সেটিই সত্য, সত্যায়িত করে এসেছ তার পূর্বে আগত কিবাতগুলোকে৷ ৫৩

৫৩. এর অর্থ হচ্ছে ,পূর্বে আগত নবীগণ যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি তার বিরোধী কোন নতুন কথা বলছেন না । বরং সকল নবী চিরকাল যে আদি ও চিরন্তন সত্য পেশ করে গেছেন তিনি তারই পুনরাবৃত্তি করছেন ।

আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : কুরআন ও পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব





কিতাব :



(৩৭- আস সফ্ফাত :১১৭) তাদের উভয়কে (মূসা ও হারূনকে) অত্যন্ত সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছি৷

(৫৭:২৫) আমি আমার রসূলদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং হিদায়াত দিয়ে পাঠিয়েছি৷ তাদের সাথে কিতাব ও মিযান নাযিল করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে৷

প্রত্যেক যুগের জন্য একটি কিতাব রয়েছে৷-১৩:৩৮,

(১৯:১২) “হে ইয়াহইয়া! আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো”৷ আমি তাকে শৈশবেই “হুকুম” দান করেছি।

(১৯:৩০) শিশু বলে উঠলো, “আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন ও নবী করেছেন।

(৩৫-ফাতির:২৯) যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে খরচ করে, নিসন্দেহে তারা এমন একটি ব্যবসায়ের প্রত্যাশী যাতে কোনক্রমেই ক্ষতি হবে না৷ ৩০) (এ ব্যবসায়ে তাদের নিজেদের সবকিছু নিয়োগ করা কারণ হচ্ছে এই যে) যাতে তাদের প্রতিদান পুরোপুরি আল্লাহ তাদেরকে দিয়ে দেন এবং নিজের অনুগ্রহ থেকে আরো বেশী করে তাদেরকে দান করবেন৷ ৫১ নিসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও গুনগ্রাহী৷ ৫২

৫১. ঈমানদারদের এ কাজকে ব্যবসায়ের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। কারণ মানুষ ব্যবসায়ের নিজের অর্থ, শ্রম, ও মেধা নিয়োগ করে কেবলমাত্রা আসল ফেরত পাবার এবং শ্রমের পারিশ্রমিক লাভ করার জন্য নয় বরং বাড়তি কিছু মুনাফা অর্জন করার জন্য। অনুরূপভাবে একজন মু'মিন ও আল্লহর হুকুম পালন, তার ইবাদাত বন্দেগী এবং তার দীনের জন্য সংগ্রাম সাধনায় নিজের ধন, সময়, শ্রম ও যোগত্যা নিয়োগ করে শুধুমাত্র এসবের পুরাপুরি প্রতিদান লাভ করার জন্য নয় বরং এই সংগে আল্লাহ তার নিজ অনুগ্রহে বাড়তি অনেক কিছু দান করবেন এই আশায়। কিন্তু উভয় ব্যবসায়ের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ পার্থিব ব্যবসায়ের নিছক মুনাফালাভেরই আশা থাকে না, লোকসান এবং দেউলিয়া হয়ে যাবার আশংকাও থাকে। কিন্তু একজন আন্তরিকতা সম্পন্ন বান্দা আল্লাহর সাথে যে ব্যবসায় করে তাতে লোকসান ও ক্ষতির কোন আশংকাই নেই।

৫২. অর্থাৎ নিজের আন্তরিকতা সম্পন্ন মু'মিনদের সাথে আল্লাহ এমন সংকীর্ণমনা প্রভুর মত ব্যবহার করেন না, যে কথায় কথায় পাকড়াও করে এবং সামান্য একটি ভুলের দরুন নিজের কর্মচারীর সমস্ত সেবা ও বিশ্বস্ততা অস্বীকার করে। তিনি মহানুভব দানশীল প্রভু। তার বিশ্বস্ত বান্দার ভুল ভ্রান্তি তিনি উপেক্ষা করে যান এবং তার পক্ষে যা কিছু সেবা করা সম্ভব হয়েছে তাকে যথার্থ মূল্য দান করেন।



আল্লাহ এমন কোন কিতাব / প্রমাণপত্র নাযিল করেননি, যেখানে অভাবীদের অভাব পুরণের, রোগ নিরাময়ের অথবা মানুষের ভাগ্য ভাঙ্গা গড়ার ক্ষমতা অন্য কাউকে দেওয়া হয়েছে :



(৩৫-ফাতির:৪০) (হে নবী!) তাদেরকে বলো, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমাদের যেসব শরীককে ডাকো কখনো কি তোমরা তাদেরকে দেখেছো? ৬৬ আমাকে বলো তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে? অথবা আকাশসমুহে তাদের কি শরীকানা আছে? (যদি একথা বলতে না পারো তাহলে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো) তাদেরকে কি আমি কোন কিতাব লিখে দিয়েছি যার ভিত্তিতে তারা (নিজেদের এ শিরকের জন্য) কোন সুস্পষ্ট প্রমাণপত্র লাভ করেছে? ৬৭ না বরং এ জালেমরা পরস্পরকে নিছক ধাপ্পা দিয়েই চলছে৷৬৮



৬৬. তোমাদের শরীক শব্দ ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে এই যে, তারা তো আসলে আল্লাহর শরীক নয়, মুশরিকরা নিজেরাই তাদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে রেখেছে ।



৬৭. অর্থাৎ আমার লেখা এমন কোন পরোয়ানা কি তাদের কাছে আছে যাতে আমি একথা লিখে দিয়েছি যে, অমুক অমুক ব্যক্তিকে আমি রোগ নিরাময় বা কর্মহীনদের কর্মসংস্থান অথবা অভাবীদের অভাব পূরণ করার ক্ষমতা দিয়েছি কিংবা অমুক অমুক ব্যক্তিকে আমি আমার ভূপৃষ্ঠের অমুক অংশের কর্তৃত্ব দান করেছি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকদের ভাগ্য ভাঙাগড়ার দায়িত্ব এখন তাদের হাতে কাজেই আমার বান্দাদের এখন তাদের কাছেই প্রার্থনা করা উচিত, তাদের কাছেই নজরানা ও মানত করা উচিত এবং যেসব নিয়ামতই তারা লাভ করে সে জন্য ঐ সব ছোট খোদাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। এ ধরনের কোন প্রমাণপত্র যদি তোমাদের কাছে থাকে তাহলে তা সামনে হাজির করো। আর যদি তা না থাকে তাহলে তোমরা নিজেরাই চিন্তা করো, এসব মুশরিকী আকীদা-বিশ্বাস ও কর্মধারা তোমরা কিসের ভিত্তিতে উদ্ভাবন করেছো৷ তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, পৃথিবী ও আকাশে কোথাও তোমাদের এসব বানোয়াট উপাস্যদের আল্লাহর সাথে শরীক হবার কোন আলামত পাওয়া যায়৷ এর জবাবে তোমরা কোন আলামত চিহ্নিত করতে পারো না। তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, আল্লাহ কি তাঁর কোন কিতাবে একথা বলেছেন অথবা তোমাদের কাছে বা ঐসব বানোয়াট উপাস্যদের কাছে আল্লাহর দেয়া এমন কোন পরোয়ানা আছে যা এ মর্মে সাক্ষ দেয় যে, তোমরা যেসব ক্ষমতা-ইখতিয়ার তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট করছো আল্লাহ নিজেই তাদেরকে সেগুলো দান করেছেন৷ তোমরা এটাও পেশ করতে পারো না। এখন যার ভিত্তিতে তোমরা এ আকিদা তৈরি করে নিয়েছো সেটি কি৷ তোমরা কি আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বের মালিক, যার ফলে আল্লাহর ক্ষমতা ইখতিয়ার যাকে ইচ্ছা ভাগ বাটোয়ারা করে দিচ্ছো৷



৬৮. অর্থাৎ এসব ধর্মীয় নেতা, পীর, পুরোহিত, গুরু, পন্ডিত, মাশায়েখ ও দরগাহের খাদেম এবং এদের এজেন্টরা নিছক নিজেদের দোকানদারীর পসরা সাজিয়ে বসার জন্য জনসাধারণকে বোকা বানাচ্ছে এবং নানা গাল গল্প তৈরি করে লোকদেরকে মিথ্যা ভরসা দিয়ে চলছে যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে অমুক অমুক সত্তার শরণাপন্ন হলে তোমাদের দুনিয়ার সমস্ত কাজের সমাধা হয়ে যাবে এবং আখেরাতে তোমরা যতই গোনাহ নিয়ে হাজির হও না কেন তারা তা ক্ষমা করিয়ে নেবে।



সহীফা ও কিতাবের মধ্যে পার্থক্য :



(৩৫-ফাতির:২৫) .... তাদের কাছে এসেছিল তাদের রসূলগণ সুষ্পষ্ট প্রমাণাদি ৪৬ সহীফা ও দীপ্তোজ্জল হিদায়াত দানকারী কিতাব ৪৭ নিয়ে৷



৪৬. অর্থাৎ এমন প্রমাণপত্র যা পরিষ্কারভাবে একথার সাক্ষ দিচ্ছিল যে, তারা আল্লাহর রসূল।

৪৭. সহীফা ও কিতাবের মধ্যে সম্ভবত একটি বড় পার্থক্য থেকে থাকবে। সেটি হচ্ছে এই যে, সহীফা প্রধানত ছিল উপদেশাবলী ও নৈতিক পথ নিদের্শনার সমষ্টি। অন্যদিকে কিতাবে বিবৃত থাকত একটি পূর্ণাংগ শরীয়াত ব্যবস্থা।



এদেরকে পূর্বে কোন কিতাব দেওয়া হয়নি অথবা পূর্বে কোন সতর্ককারী এদের কাছে পাঠানো হয়নি, এ কথার অর্থ কি ?



(৩৪-সাবা: ৪৪) অথচ না আমি এদেরকে পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছিলাম, যা এরা পড়তো, আর না তোমার পূর্বে এদের কাছে কোন সতর্ককারী পাঠিয়েছিলাম৷৬৪



টিকা: ৬৪. অর্থাৎ এর পূর্বে না এমন কোন কিতাব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে আর না এমন কোন রসূল আসেন, যিনি এসে তাদেরকে এমন শিক্ষা দেন, যার ফলে তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের বন্দেগী ও পূজা করতো। তাই তারা কোন জ্ঞানের ভিত্তিতে নয় পুরোপুরি মূর্খতা ও অজ্ঞতার ভিত্তিতে কুরআন ও মুহাম্মাদ (সা) এর তাওহীদের দাওয়াত অস্বীকার করছে। এর সপক্ষে তাদের কাছে কোন যুক্তি প্রমাণ নেই।



(ইয়াছিন : ৬) যাতে তুমি সতর্ক করে দাও এমন এক জাতিকে যার বাপ-দাদাকে সতর্ক করা হয়নি এবং এ কারণে তারা গাফলতিতে ডুবে আছে৷ ৪

টিকা: ৪. এ আয়াতের দুটি অনুবাদ হতে পারে। এর একটি অনুবাদ ওপরে করা হয়েছে। আর দ্বিতীয়টি এও হতে পারে যে, "একটি জাতির লোকদেরকে তুমি সে জিনিসের ভয় দেখাও যার ভয় তাদের বাপ-দাদাদেরকেও দেখানো হয়েছিল, কারণ তারা গাফলতিতে ডুবে আছে"। প্রথম অর্থটি গ্রহণ করলে বাপ-দাদা বলতে নিকট অতীতে অতিক্রান্ত বাপ-দাদাদের কথা বুঝানো হবে। কারণ দূর অতীতে আরব ভুখণ্ডে বহু নবী -রসূল এসেছিলেন। আর দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করলে এর অর্থ দাড়াবে প্রাচীনকালে এ জাতির পূবর্পুরুষদের কাছে নবীদের মাধ্যমে যে পয়গাম এসেছিল এখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করো। কারণ এরা তা ভুলে গেছে। এদিক দিয়ে দুটি অনুবাদের মধ্যে আসলে কোন বৈপরীত্য নেই এবং অর্থের দিক দিয়ে উভয় অনুবাদ সঠিক ও অর্থবহ।

এ জায়গায় সন্দেহ জাগে যে, এ জাতির পূববর্র্তী লোকেরা এমন একটি যুগ অতিক্রম করেছিল যখন তাদের কাছে কোন নবী আসেনি, এ সময়ে নিজেদের গোমরাহীর জন্য তারা নিজেরা কেমন করে দায়ী হতে পারে৷ এর জবাব হচ্ছে, আল্লাহ যখনই দুনিয়ায় কোন নবী পাঠান তখনই তাঁর শিক্ষা ও হিদায়াতের প্রভাব দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং বংশ পরম্পরায় এ প্রভাব বিস্তার লাভ করতে থাকে। এ প্রভাব যতদিন টিকে থাকে এবং নবীর অনুসারীদের মধ্যে যতদিন পযর্ন্ত এমনসব লোকের আবির্ভাব ঘটতে থাকে যারা হিদায়াতের প্রদীপ উজ্জ্বল করে যেতে থাকেন ততদিন পযর্ন্তকার সময়কে হিদায়াতবিহীন গণ্য করা যেতে পারে না। আর যখন এ নবী শিক্ষার প্রভাব একদম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় অথবা তা পুরোপুরি বিকৃত হয়ে যায় তখন সেখানে নতুন নবীর আবির্ভাব অপরিহার্য হয়ে ওঠে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের পূবে আরবে হযরত ইবরাহীম, ইসমাঈল, শোআইব, মূসা, ও ঈসা আলাইহিমুস সালামের শিক্ষার প্রভাব চতুরদিকে ছড়িয়েছিল। আর মাঝে মাঝে এ জাতির মধ্যে এমনসব লোকের আবির্ভাব ঘটতো অথবা বাইর থেকে আগমন হতে থাকতো যারা এ প্রভাবগুলোকে তরতাজা করে তুলতেন। যখন এ প্রভাবগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার কাছাকাছি পৌছে যায় এবং আসল শিক্ষাও বিকৃত হয়ে যায় তখন মহান আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠান এবং এমন ব্যবস্থা অবলম্বন করেন যার ফলে তাঁর হিদায়াতের প্রভাব নিশ্চিহ্ন হতে পারবে না এবং তা বিকৃত হতেও পারবে না। (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা সাবা, ৫ টীকা)।







কিতাবের জ্ঞান প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি কিতাব মেনে না চলে তবে সে হয়ে যায় কুকুরের ন্যায় :

৭:১৭৫, ৭:১৭৬,

নিজ হাতে কিতাব / গ্রন্থ লিখে তা আল্লাহর বলে চালিয়ে দেওয়া :

২:৭৮, ৭৯,

যিনি কিতাব নাযিল করেছেন, সাহায্যকারী তিনিই :

৭:১৯৬,

অযোগ্য লোক কিতাবের জ্ঞান লাভ করে / কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়ে দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলে মগ্ন হতে পারে, অথচ আশা করতে থাকে যে, তাদেরকে ক্ষমা করা হবে :

৭:১৬৯, ৭:১৭৫, ৭:১৭৬, (Av‡iv †`Lyb ÿgv jv‡fi Avkvq hviv ¸bvn Ki‡Z _v‡K) ,

(*অর্থাৎ গুনাহ করে। তারা জানে এ কাজটি করা গুনাহ তবুও এ আশায় তারা এ কাজটি করে যে, কোন না কোনভাবে তাদের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।কারণ তারা মনে করে, তারা আল্লাহর প্রিয়পাত্র এবং তারা যত কঠিন অপারাধই করুন না কেন তাদের ক্ষমতালাভ অপরিহার্য। এ ভূল ধারণার ফলে কোন গুনাহ করার পর তারা লজ্জিত হয় না এবং তাওবাও করে না। বরং ঐ একই ধরনের গুনাহ করার সুযোগ এলে তারা আবার তাতে জড়িয়ে পড়ে। এ হতভাগ্য লোকেরা এমন একটি কিতাবের উত্তরাধীকারী ছিল, যা তাদেরকে দুনিয়ার নেতৃত্বের পদে আসীন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের হীনমন্যতা ও নীচাশয়তার ফলে তারা এ সৌভাগ্যের পরশমণিটির সাহায্যে তুছ্ছ পার্থিব সম্পদ আহরণ করার চাইতে বড় কোন জিনিস উপার্জনের হিম্মাতই করলো না। তারা দুনিয়ার ন্যায়-ইনসাফ,সত্য-সততার পতাকাবহী এবং কল্যাণ ও সুকৃতির অগ্রপথিক ও পদপ্রদর্শক হবার পরিবর্তে নিছক দুনিয়ার কুকুর হয়েই রইল।*)



উম্মুল কিতাব :

(১৩:৩৯) আল্লাহ যা চান নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং যা চান কায়েম রাখেন৷ উম্মুল কিতাব তাঁর কাছেই আছে৷

(এটিও বিরোধীদের একটি আপত্তির জবাব। তারা বলতো, ইতিপূর্বে যেসব কিতাব এসেছে সেগুলোর উপস্থিতিতে আবার নতুন কিতাবের কি প্রয়োজন ছিল৷ তুমি বলছো, সেগুলো বিকৃত হয়ে গেছে, এখন সেগুলো নাকচ করে দেয়া হয়েছে এবং তার পরিবর্তে এ নতুন কিতাবের অনুসারী হবার হুকুম দেয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কিতাব কেমন করে বিকৃত হতে পারে৷ তুমি বলছো, এটি সেই আল্লাহর কিতাব যিনি তাওরাত ও ইঞ্জীল নাযিল করেছিলেন। কিন্তু এ কি ব্যাপার, তোমার কোন কোন পদ্ধতি দেখছি তাওরাতের বিধানের বিরোধী৷ যেমন কোন কোন জিনিস তাওরাত হারাম ঘোষণা করেছে কিন্তু তুমি সেগুলো হালাল মনে করে খাও। এসব আপত্তির জবাব পরবর্তী সূরাগুলোয় বেশী বিস্তারিত আকারে দেয়া হয়েছে। এখানে এগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাংগ জবাব দিয়ে শেষ করে দেয়া হয়েছে।"উম্মূল কিতাব" মানে আসল কিতাব অর্থাৎ এমন উৎসমূল যা থেকে সমস্ত আসমানী কিতাব উৎসারিত হয়েছে।)

আল্লাহর কিতাব/ আসমানী কিতাব :

(এ সাতে তওরাত/যাবুর/ইঞ্জিল/কুরআন দেখুন)



সবকিছু একটি কিতাবে লিখিত আছে : উম্মুল কিতাব

(হাজ্ব:৭০) ...সবকিছু একটি কিতাবে লিখিত আছে৷ আল্লাহর জন্য এটা মোটেই কঠিন নয়৷

(৩৩-আহযাব: ৬) …….আল্লাহর কিতাবে এ বিধান লেখা আছে৷



কুরআন ও পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব :

কুরআন পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোকে সত্যায়ন করে :

(৩৫-ফাতির:৩১) (হে নবী!) আমি তোমার কাছে অহীর মাধ্যমে যে কিতাব পাঠিয়েছি সেটিই সত্য, সত্যায়িত করে এসেছ তার পূর্বে আগত কিবাতগুলোকে৷ ৫৩

৫৩. এর অর্থ হচ্ছে ,পূর্বে আগত নবীগণ যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি তার বিরোধী কোন নতুন কথা বলছেন না । বরং সকল নবী চিরকাল যে আদি ও চিরন্তন সত্য পেশ করে গেছেন তিনি তারই পুনরাবৃত্তি করছেন ।



পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী কিতাব সমূহের সার নির্যাস হচ্ছে কুরআন:



আর এ কুরআন আল্লাহর অহী ও শিক্ষা ছাড়া রচনা করা যায় না৷ বরং এ হচ্ছে যা কিছু আগে এসেছিল তার সত্যায়ন এবং আল কিতাবের বিশাদ বিবরণ ৷-১০:৩৭,



পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী হচ্ছে কুরআন:



এ হচ্ছে যা কিছু আগে এসেছিল তার সত্যায়ন এবং আল কিতাবের বিশাদ বিবরণ ৷-১০:৩৭,





(১২:১১১) পূর্ববর্তী লোকদের এ কাহিনীর মধ্যে বুদ্ধি ও বিবেচনা সম্পন্ন লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে৷ কুরআনে এ যা কিছু বর্ণনা করা হচ্ছে এগুলো বানোয়াট কথা নয় বরং এগুলো ইতিপূর্বে এসে যাওয়া কিতাবগুলোতে বর্ণিত সত্যের সমর্থন।



পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সমূহের গুরুত্ব :

(১১:৪৩) বলো, “আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহর সাক্ষ যথেষ্ট এবং তারপর আসমানী কিতাবের জ্ঞান রাখে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির সাক্ষ৷

সুষ্পষ্ট কিতাবে সবকিছুই লিপিবদ্ধ আছে :

৬:৫৯,







আসমানী কিতাব সমূহ সম্পর্কে বর্ননা সমূহ :

(G mv‡_ ZIivZ / hveyi / BwÄj / KziAvb †`Lyb)



(১৭:২) আমি ইতিপূর্বে মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তাকে বনী ইসরাঈলের জন্য পথনির্দেশনার মাধ্যমে করেছিলাম এ তাকীদ সহকারে যে, আমাকে ছাড়া আর কাউকে নিজের অভিভাবক করো না৷

(১৭:৪) তারপর আমি নিজের কিতাবে বনী ইসরাঈলকে এ মর্মে সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে, তোমরা দুবার পৃথিবীতে বিরাট বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং ভীষণ বিদ্রোহাত্মক আচরণ করবে৷



মূসা আ: কে যে কিতাব দান করা হয়েছিল, তা ছিল বনী ইরাঈলের জন্য পথনির্দেশক :



(৩২- আস-সাজদা : ২৩) এর আগে আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি , কাজেই সেই জিনিসই পাওয়ার ব্যাপারে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়৷ ৩৫ এ কিতাবকে আমি বনী ইসরাঈলের জন্য পথনিদের্শক করেছিলাম৷৩৬

৩৫ . আপাতত দৃষ্টিতে নবী (সা) কে সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু আসলে বক্তব্যের লক্ষ হচ্ছে তারা, যারা নবী (সা ) এর রিসালাত এবং তার প্রতি আল্লাহর কিতাব নাযিল হবার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছিল। সূরার শুরুতে (২ ও ৩ আয়াতে যে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করা হয়েছে এখান থেকে সেদিকেই বক্তব্যের মোড় ফিরে যাচ্ছে। মক্কার কাফেররা বলছিল, মুহাম্মদ (সা) এর কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন কিতাব আসেনি, তিনি নিজেই সেটি রচনা করেছেন এবং এখন দাবী করছেন এটি আল্লাহ নাযিল করেছেন। এর একটি জবাব প্রথম দিকের আয়াতে দেয়া হয়েছিল, এখন দ্বিতীয় জবাব দেয়া হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে যে প্রথম কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, হে নবী ! এই মূর্খ লোকেরা তোমার প্রতি আল্লাহর কিতাব নাযিল হওয়া অসম্ভব মনে করছে এবং তারা চাচ্ছে প্রতি দু'জনে একজন এটি অস্বীকার না করলেও অন্তত যেন এ ব্যাপারে সন্দেহেই লিপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু এক বান্দার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাযিল হওয়াতো মানুষের ইতিহাসে কোন নতুন ঘটনা নয়। এর আগে বহু নবীর প্রতি কিতাব নাযিল হয়েছিল , এগুলোর মধ্যে মূসা (আ) কে প্রদত্ত কিতাবটি ছিল সবচেয়ে খ্যাতিমান। কাজেই একই ধরনের আর একটি জিনিস আজ তোমাদের দেয়া হয়েছে। তাহলে অযথা এর মধ্যে সন্দেহ করার মতো এমন নতুন কি তোমরা দেখলে ৷

৩৬ . অর্থাৎ সে কিতাবটিকে বনী ইসরাঈলের জন্য পথনির্দেশ লাভের মাধ্যমে পরিণত করা হয়েছিল এবং এ কিতাবটিকে ঠিক তেমনি তোমাদের পথনির্দেশ লাভের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগেই তিন আয়াতে একথা বর্ণনা করা হয়েছে। এ উক্তির পূর্ণ তাৎপর্য এর ঐতিহাসিক পটভূমি দৃষ্টিসমক্ষে রাখার পরই অনুধাবণ করা যেতে পারে। একথা ইতিহাস থেকে প্রমাণিত এবং মক্কার কাফেরদের কাছেও একথা অজানা ছিল না যে, বনী ইসরাঈল কয়েকশো বছর থেকে মিসরে চরম লাঞ্ছিত ও ঘৃণিত জীবন যাপন করে আসছিল । এ অবস্থায় আল্লাহ তাদের মধ্যে মূসার (আ) জন্ম দেন। তার মাধ্যমে এ জাতিকে দাসত্বমুক্ত করেন। তারপর তাদের প্রতি কিতাব নাযিল করেন এবং তার বদৌলতে সেই অনুন্নত ও নিষ্পেষিত জাতি পথের দিশা লাভ করে দুনিয়ার বুকে একটি খ্যাতিমান জাতিতে পরিণত হয়। এ ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে আরববাসীদেরকে বলা হচ্ছে, যেভাবে বনী ইসরাঈলকে পথের দিশা দান করার জন্য সেই কিতাব পাঠানো হয়েছিল ঠিক তোমাদেরকে পথের দিশা দান করার জন্য এ কিতাব পাঠানো হয়েছে।







পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলো কি আমাদের পড়া উচিত ?



ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের কিতাব গুলো ভালো ভাবে পড়ে দেখো, তাহলে কুরআনের সত্যতার ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকবেনা :



(১০: ৯৪) এখন যদি তোমার সেই হিদায়াতের ব্যাপারে সমান্যও সন্দেহ থেকে থাকে যা আমি তোমার ওপর নাযিল করেছি তাহলে যারা আগে থেকেই কিতাব পড়ছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে নাও৷ প্রকৃতপক্ষে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে এ কিতাব মহাসত্য হয়েই এসেছে৷

(১০:৯৫) কাজেই তুমি সন্দেহকারীদের অন্তরভূক্ত হয়ো না এবং যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা বলেছে তাদের মধ্যেও শামিল হয়ো না, তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হবে৷







আসমানী কিতাব সমূহে জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে আহলে জিকর বলা হয়েছে : এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে বলা হয়েছে :

(১৬:৪৩) হে মুহাম্মাদ ! তোমার আগে আমি যখনই রসূল পাঠিয়েছি, মানুষই পাঠিয়েছি, যাদের কাছে আমি নিজের অহী প্রেরণ করতাম৷ যদি তোমরা নিজেরা না জেনে থাকো তাহলে বাণীওয়ালাদেরকে জিজ্ঞেস করো৷

(ব্যাখ্যা : আহলে জিকর বা " বাণী ওয়ালা " অর্থাৎ আহলি কিতাবদের আলেম সমাজ এবং আরো এমন সব লোক যারা নাম - করা আলেম না হলেও মোটামুটি আসমানী কিতাবসমূহের শিক্ষা এবং পূর্ববর্তী নবীগণের জীবন বৃত্তান্ত জানেন, তাদেরকে বুঝানো হয়েছে। - তাফহীমুল কুরআন)



পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সমূহের গুরুত্ব :

(১১:৪৩) বলো, “আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহর সাক্ষ যথেষ্ট এবং তারপর আসমানী কিতাবের জ্ঞান রাখে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির সাক্ষ৷



কুরআন পরিবর্তন করার ক্ষমতা স্বয়ং রাসুলকেও দেওয়া হয়নি:

কথা বদলে ফেলা :

(১৭:৭৩) হে মুহাম্মাদ ! তোমার কাছে আমি যে অহী পাঠিয়েছি তা থেকে তোমাকে ফিরিয়ে রাখার জন্য এ লোকেরা তোমাকে বিভ্রাটের মধ্যে ঠেলে দেবার প্রচেষ্টায় কসুর করেনি, যাতে তুমি আমার নামে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা তৈরি করো৷ যদি তুমি এমনটি করতে তাহলে তারা তোমাকে নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো৷

(১৮:২৭) হে নবী! তোমার রবের কিতাবের মধ্য থেকে যাকিছু তোমার ওপর অহী করা হয়েছে তা (হুবহু) শুনিয়ে দাও৷ তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই, (আর যদি তুমি কারো স্বার্থে তার মধ্যে পরিবর্তন করো তাহলে) তাঁর হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে পালাবার জন্য কোনো আশ্রয়স্থল পাবে না৷



আল্লাহর কিতাব সমূহে জীবনের সকল বিভাগ সম্পর্কে সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে :

এরপর আমি মূসাকে কতকগুলো ফলকে জীবনের সকল বিভাগ সম্পর্কে উপদেশ এবং প্রত্যেকটি দিক সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশ লিখে দিলাম-৭:১৪৫,

তারপর মূসার ক্রোধ প্রশমিত হলে সে ফলকগুলি উঠিয়ে নিল৷ যারা নিজেদের রবকে ভয় করে তাদের জন্য ঐ সব ফলকে ছিল পথনির্দেশ ও রহমত-৭:১৫৪, ।

(২৭.নামল:১) ....এগুলো কুরআনের ও এক সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত ।



("সুস্পষ্ট কিতাবের" একটি অর্থ হচ্ছে, এ কিতাবটি নিজের শিক্ষা , বিধান ও নিদের্শগুলোর একেবারে দ্ব্যর্থহীন পদ্ধতিতে বর্ণনা করে দেয়। এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, এটি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্ট পদ্ধতিতে তুলে ধরে। আর তৃতীয় একটি অর্থ এই হয় যে , এটি যে আল্লাহর কিতাব সে ব্যাপারটি সুস্পষ্ট। যে ব্যক্তি চোখ খুলে এ বইটি পড়বে, এটি যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজের তৈরী করা কথা নয় তা তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।)





আল্লাহর কিতাব থেকে পথ নির্দেশনা লাভের শর্ত:

“এগুলো শক্ত হাতে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং তোমার জাতিকে এর উত্তম তাৎপর্যের অনুসরণ করার হুকুম দাও৷-৭:১৪৫,

(অর্থাৎ আল্লাহর বিধানের সরল, সোজা, ও সুষ্পষ্ট মর্ম ও তাৎপর্য গ্রহণ করো। একজন সহজ সরল বিবেক সম্পন্ন মানুষ , যার মনে কোন অসৎ উদ্দেশ্য ও বক্রতা নেই, সে সাধারণ বুদ্ধি দ্বারা যে অর্থ বোঝে , এখানে তার কথাই বলা হয়েছে। যারা আল্লাহর বিধানের সরল সোজা অর্থবোধক শব্দগুলো থেকে জটিল আইনগত মার প্যাঁচ এবং বিভ্রাট বিভ্রান্তি ও কলহ কোন্দাল সৃষ্টির পথ খুঁজে বের করে তাদের সেই সব কূটতর্ককে যাতে আল্লাহর কিতাবের অনুমোদিত বিষয় মনে না করা হয় তাই এ শর্ত আরোপ করা হয়েছে।)

কুরআনকে এবং রাসুল সা: এর রিসালাকে চ্যালেঞ্জ করে কাফেরদে বক্তব্য :

যদি এ কুরআন সত্য হয়েই থাকে তবে আমাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আনো অথবা আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ কর :৮:৩২,



কুরআন সম্পর্কে মুনাফিকদের ধারণা ও বক্তব্য সমূহ :

মুনাফিকেরা ভয় পায় কোরানের মাধ্যমে না আবার তাদের মনের গোপন কথা প্রকাশ হয়ে যায় : ৯:৬৪,



সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে আসমানী কিতাবসমূহের প্রকৃত উত্তরাধীকারী মুসলমান জাতি :

(৩৫-ফাতির:৩২) তারপর আমি এমন লোকদেরকে এ কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি যাদেরকে আমি ( এ উত্তরাধিকারের জন্য) নিজের বান্দাদের মধ্য থেকে বাছাই করে নিয়েছি৷৫৫ এখন তাদের মধ্য থেকে কেউ নিজের প্রতি জুলুমকারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ আল্লাহর হুকুমে সৎকাজে অগ্রবর্তী, এটিই অনেক বড় অনুগ্রহ৷ ৫৬



৫৫. অর্থাৎ মুসলমানদেরকে। সমগ্র মানবজাতি থেকে ছাঁটাই বাছাই করে তাদেরকে বের করা হয়েছে। এভাবে তারা হবে আল্লহর কিতাবের উত্তরাধিকারী এবং মুহাম্মাদ (সা) এর পরে এ কিতাব নিয়ে তারা অগ্রসর হবে। যদিও কিতাব পেশ করা হয়েছে তাদেরকে এ মর্যাদা ও গৌরবের জন্য নির্ধারিত করে নেয়া হয়েছে যে, তারাই হবে কুরআনের ন্যায় মহিমান্বিত কিতাবের ওয়ারিস এবং মুহাম্মাদ (সা) এর ন্যায় মহান রসূলের শিক্ষা ও হিদায়াতের বিশ্বস্ত সংরক্ষক।


কুরআন  ও বিজ্ঞান :

বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন ।




কুরআনের বিরুদ্ধে কাফিরদের অভিযোগ সমূহ ও আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জবাব :


বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন।


=======================================


প্রশ্ন: ৪৭ : কোরবানির সাথে কি আকিকা দেওয়া যাবে কিনা ?  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন