কসম :
৫:৮৯, ৭:২১,
(৩০-রূম: ৫৫) আর যখন সেই সময় শুরু হবে, যখন অপরাধীরা কসম খেয়ে খেয়ে বলবে , আমরা তো মুহূর্তকালের বেশি অবস্থান করিনি৷
এভাবে তারা দুনিয়ার জীবনে প্রতারিত হতো৷
(১২:৬৬) তাদের বাপ বললো,
“আমি কখনোই তাকে তোমাদের সাথে পাঠাবো না যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে আমার কাছে অংগীকার করবে৷ এ মর্মে যে তাকে নিশ্চয়ই আমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে তবে হাঁ যদি কোথাও তোমরা ঘেরাও হয়ে যাও তাহলে ভিন্ন কথা৷”
যখন তারা তার কাছে অংগীকার করলো তখন সে বললো,
“দেখো আল্লাহ আমাদের একথার রক্ষক৷”
(নুর:৫৩) এ মুনাফিকরা আল্লাহর নামে শক্ত কসম খেয়ে,
বলে, ‘‘ আপনি হুকুম দিলে আমরা অবশ্যই ঘর থেকে বের হয়ে পড়বো ৷ ’’ তাদেরকে বলো, ‘‘ কসম খেয়ো না , তোমাদের আনুগত্যের অবস্থা জানা আছে ৷ তোমাদের কার্যকালাপ সম্বন্ধে আল্লাহ বেখবর নন৷
মুনাফিকেরা মু’মিনদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য মু’মিনদের সামনে কসম খায়৷ অথচ যদি তারা যদি মুমিন হয়ে থাকে তাহলে তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে সন্তুষ্ট করার কথা চিন্তা করবে,
কারণ তারাই এর বেশী হকদার -৯:৬২
(১৬:৩৮) এরা আল্লাহর নামে শক্ত কসম খেয়ে বলে,
“আল্লাহ কোনো মৃতকে পুনর্বার জীবিত করে উঠাবেন না৷”-কেন উঠাবেন না ? এতো একটি ওয়াদা,
যেটি পুরা করা তিনি নিজের ওপর ওয়াজিব করে নিয়েছেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না
(১৬:৯১)
আল্লাহর অংগীকার পূর্ণ করো যখনই তোমরা তাঁর সাথে কোনো অংগীকার করো এবং নিজেদের কসম দৃঢ় করার পর আবার তা ভেঙে ফেলো না যখন তোমরা আল্লাহকে নিজের ওপর সাক্ষী
বানিয়ে নিয়েছো৷ আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপ সম্পর্কে
অবগত৷
(১৬:৯২)
তোমরা নিজেদের কসমকে পারস্পরিক ব্যাপারে ধোঁকা ও প্রতারণার হাতিয়ারে পরিণত করে থাকো, যাতে এক দল অন্য দলের তুলনায় বেশী ফায়দা হাসিল করতে পারো৷ অথচ আল্লাহ এ অংগীকারের মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করেন৷
(নূর:৬) আর যারা নিজেদের স্ত্রীদেরকে অভিযোগ দেয় এবং
তাদের কাছে তারা নিজেরা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন সাক্ষী
থাকে না , তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির সাক্ষ হচ্ছে (এই যে, সে) চার বার আল্লাহর নামে কসম খেয়ে সাক্ষ দেবে যে, সে (নিজের অভিযোগে)
সত্যবাদী ৭) এবং পঞ্চম বার বলবে, তার প্রতি আল্লাহর লা’নত হোক যদি সে (নিজের অভিযোগে) মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে
৷৮) আর স্ত্রীর শাস্তি এভাবে রহিত হতে পারে যদি সে চার বার আল্লাহর নামে কসম খেয়ে সাক্ষ দেয় যে, এ ব্যক্তি(তার অভিযোগে) মিথ্যাবাদী৯) এবং পঞ্চমবার
বলে, তার নিজের ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসুক যদি এ ব্যক্তি (তার
অভিযোগে) সত্যবাদী হয়৷
(বিস্তারিত দেখুন : ব > বিচার ব্যবস্থা)
শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য কসম খেয়েছে: কিন্তু আল্লাহর নির্বাচিত বান্দাদের উপর তার
জারিজুরি চলবে না :
(৩৮-সোয়াদ:৭৯) সে বললো, “ হে আমার রব! একথাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে এদেরকে যখন পুনরায় উঠানো হবে সে সময় পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও৷” ৮০) বললেন, ঠিক আছে, তোমাকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হলো ৮১) যার সময় আমি জানি৷” ৮২) সে বললো, “তোমার ইজ্জতের কসম,
আমি এদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করবোই, ৮৩) তবে একমাত্র যাদেরকে তুমি
একনিষ্ঠ করে নিয়েছো তাদেরকে ছাড়া৷” ৬৮ বললেন, ৮৪) “তাহলে এটিই সত্য এবং
আমি সত্যই বলে থাকি যে, ৮৫) আমি তোমাকে ৬৯ এবং এসব লোকদের মধ্য থেকে যারা তোমার আনুগত্য করবে তাদের বাইকে দিয়ে জাহান্নাম ভরে দেবো৷” ৭০
৬৮. এর অর্থ এ নয় যে ,
" আমি তোমার নির্বাচিত বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবো না ।" বরং এর অর্থ হচ্ছে , " তোমার নির্বাচিত বান্দাদের
ওপর আমার জারিজুরি খাটবে না। "
৬৯. " তোমাকে দিয়ে " শব্দের মাধ্যমে কেবলমাত্র ব্যক্তি ইবলিসকেই সম্বোধন করা হয়নি বরং সমগ্র জিন
জাতিকে
সম্বোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ ইবলিস ও তার সমগ্র
শয়তান দল যারা তার সাথে মিলে মানুষ জাতিকে গোমরাহ করার কাজে লিপ্ত থাকবে।
৭০) এ পুরো কাহিনীটি শুনানো হয় কুরাইশ সরদারদের একটি কথার জবাবে। তারা বলেঃ
أَأُنْزِلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ مِنْ بَيْنِنَا
“আমাদের মধ্যে কি এ একজনই লোক রয়ে গিয়েছিল যার ওপর যিকির, নাযিল করা হয়েছে?”
৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে যা বলা হয়েছে তাই ছিল এর জবাব। সেখানে বলা হয়েছে, “তোমরা কি আল্লাহর রহমতের ভাণ্ডারের মালিক, তোমরা কি আকাশ ও পৃথিবীর বাদশাহ এবং কাকে আল্লাহ নবী করা হবে ও কাকে করা হবে না এ ফায়সালা করা কি তোমাদের কাজ? ” দ্বিতীয় জবাব এবং এর মধ্যে কুরাইশ সরদারদেরকে যা বলা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মোকাবিলায় ইবলিসের হিংসা ও অহংকারের সাথে মিলে যায়। ইবলিসও আল্লাহ যাকে চান তাকে খলিফা বা প্রতিনিধি করবেন তাঁর এ অধিকার মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল। সে আদমের সামনে মাথা নত করার হুকুম মানেনি এবং তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করার হুকুম মানছো না। তার সাথে তোমাদের এ সামঞ্জস্য কেবলমাত্র এখানেই শেষ হয়ে যাবে না বরং তোমাদের পরিণামও আবার তাই হবে যা তার জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে অর্থাৎ দুনিয়ায় আল্লাহর লানত এবং আখেরাতে জাহান্নামের আগুন।
এ সঙ্গে এ কাহিনীর আওতায় আরো দু’টি কথাও বুঝানো হয়েছে। এক, এ দুনিয়ায় যে মানুষই আল্লাহর নাফরমানি করছে সে আসলে তার সে চিরন্তন শত্রুর ফাঁদে আটকে যাচ্ছে,
যে সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই মানবজাতিকে ফুসলিয়ে কুপথে পরিচালনা করার স্থির সিদ্ধান্ত করে রেখেছে। দুই, যে ব্যক্তি অহংকারের কারণে আল্লাহর নাফরমানি করে এবং তারপর নিজের এ নাফরমানি করার নীতির ওপর জিদ ধরে থাকে, আল্লাহর দৃষ্টিতে সে চরম ঘৃণিত। আল্লাহর কাছে এ ধরনের মানুষের কোন ক্ষমা নেই।
কিভাবে
শয়তানের সৃষ্টি হল তা বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য দেখুন : ন > নবদের কাহিনী > হযরত আদম আ: ।
যেসব কাফেররা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ও ইসলামের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করে তাদের কসম বিশ্বাসযোগ্য নয় :
কুফরের পতাকাবাহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর : ৯:১২ (যেসব কাফের মুশরেকরা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ও তোমাদের দীনের ওপর বাড়াবাড়ি করে, হয়তো এতে তারা থামবে, কারণ তাদের কসম বিশ্বাসযোগ্য নয়)
সৎকাজ বর্জনের কসম খাওয়া নিন্দনীয় : যদিও কেউ মানসিক কষ্ট দিয়ে থাকে :
(নূর:২২) তোমাদের মধ্য
থেকে যারা প্রাচুর্য ও সামর্থের অধিকারী তারা যেন এ মর্মে কসম খেয়ে না বসে যে, তারা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন, গরীব-মিসকীন ও আল্লাহর
পথে গৃহত্যাগকারীদেরকে সাহায্য করবে না ৷
কিবতীকে ভুলক্রমে হত্যার পর মূসা আ: এর ভবিষ্যতে কোন অপরাধীকে সাহায্য না করা শপথের প্রকৃত স্বরূপ :
(২৮-ক্বাছাছ
: ১৭) মূসা শপথ করলো, "হে আমার রব! তুমি আমার প্রতি এই যে অনুগ্রহ করেছো২৫ এরপর আমি আর অপরাধীদের সাহায্যকারী হবো না৷"২৬
(২৫. অর্থাৎ
আমার কাজটি যে গোপন থাকতে পেরেছে, শত্রু জাতির কোন ব্যক্তি যে আমাকে দেখতে পায়নি এবং আমার সরে যাওয়ার যে সুযোগ ঘটেছে, এই অনুগ্রহ।
২৬. মূসার এ
অংগীকার অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক শব্দাবলীর মাধ্যমে সাধিত হয়েছে। এর অর্থ কেবল এই নয় যে, আমি কোন অপরাধীর সহায়ক হবো না
বরং এর অর্থ এটাও হয় যে, আমার সাহায্য-সহায়তা কখনো এমন লোকদের পক্ষে থাকবে না যারা দুনিয়ায় জুলুম ও
নিপীড়ণ চালায় । ইবনে জারীর এবং অন্য কয়েকজন তাফসীরকারক এভাবে এর একেবারে সঠিক অর্থ
নিয়েছেন যে, সেই দিনই মূসা ফেরাউন ও তার সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার অংগীকার করেন।কারণ ফেরাউনের সরকার ছিল একটি জালেম সরকার এবং সে আল্লাহর এ সরযমীনে একটি অপরাধমূলক ব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছিল। তিনি অনুভব করেন, কোন ঈমানদার ব্যক্তি একটি জালেম সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হতে এবং তার শক্তি ও
পরাক্রান্ত বৃদ্ধির কাজে সহায়তা করতে পারে না।
মুসলিম আলেমগণ সাধারণভাবে মূসার এ অংগীকার থেকে একথা প্রমাণ করেছেন যে, একজন মু'মিনের কোন জালেমকে সাহায্য করা
থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা উচিত। সে জালেম কোন ব্যক্তি , দল, সরকার বা রাষ্ট্র যেই হোক না কেন । প্রখ্যাত তাবেঈ আতা ইবনে আবী রাবাহর কাছে এক ব্যক্তি বলে, আমার ভাই বনী উমাইয়া সরকারের অধীনে কূফার গভর্ণরের কাতিব (সচিব) , বিভিন্ন বিষয়ের ফায়সালা করা তার কাজ নয়, তবে যেসব ফায়সালা করা হয় সেগুলো তার কলমের সাহায্যেই
জারী হয়। এ চাকুরী না করলে সে ভাতে মারা যাবে। আতা জবাবে এ আয়াতটি পাঠ করেন এবং বলেন, তোমার ভাইয়ের নিজের কলম ছুঁড়ে
ফেলে দেয়া উচিত , রিযিকদাতা হচ্ছেন আল্লাহ । আর একজন কাতিব 'আমের শা'বীকে জিজ্ঞেস করেন, "হে আবু 'আমর! আমি শুধুমাত্র হুকুমনামা লিখে তা জারী করার
দায়িত্ব পালন করি মূল ফায়সালা করার দায়িত্ব আমার নয়। এ জীবিকা কি আমার জন্য বৈধ ৷
" তিনি জবাব দেন , "হতে পারে কোন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হত্যার ফায়সালা করা হয়েছে এবং তোমার কলম দিয়ে তা জারী
হবে। হতে পারে, কোন সম্পদ নাহক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অথবা কারো গৃহ
ধ্বসানোর হুকুম দেয়া হয়েছে এবং তা তোমার কলম দিয়ে জারী হচ্ছে" । তারপর ইমাম এ আয়াতটি পাঠ করেন। আয়াতটি শুনেই কাতিব বলে ওঠেন, "আজকের পর থেকে আমার কলম বনী
উমাইয়ার হুকুমনামা জারী হবার কাজে ব্যবহৃত হবে না।" ইমাম বললেন, "তাহলে আল্লাহও তোমাকে রিযিক
থেকে বঞ্চিত করবেন না।"
আবদুর রহমান ইবনে মুসলিম যাহ্হাককে শুধুমাত্র বুখারায় গিয়ে সেখানকার লোকদের
বেতন বণ্টন করে দেবার কাজে পাঠাতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি সে দায়িত্ব গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেন। তাঁর বন্ধুরা বলেন, এতে ক্ষতি কি ৷ তিনি বলেন, আমি জালেমদের কোন কাজেও সাহায্যকারী হতে চাই না।@
ইমাম আবু হানীফার একটি ঘটনা তাঁর নির্ভরযোগ্য জীবনীকারগণ আল মুওয়াফ্ফাক আল মক্কী, ইবনুল বায্যার আল কারওয়ারী, মুল্লা আলী কারী প্রমূখ সবাই তাঁদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে , তারই পরামর্শক্রমে বাদশাহ মনসূরের প্রধান সেনাপতি হাসান ইবনে কাহ্তুবাহ একথা বলে নিজের
পদ থেকে ইস্তফা দেন যে, আজ পর্যন্ত এতটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু এ যদি জুলুমের পথে হয়ে থাকে তাহলে আমার আমল নামায় আমি আর কোন অপরাধের
সংখ্যা বাড়াতে চাই না। )
হযরত আইয়ুব আ: এর কসমের কাফফারা : ৮০ দোররা মারার পরিবর্তে আশিটি বেত একসাথে করে একবার আঘাত করা কখন জায়েয হবে ?
(৩৮-সোয়াদ:৪৪.) (আর আমি তাঁকে বললাম) এক আটি ঝাড়ু নাও এবং তা দিয়ে আঘাত করো এবং নিজের কসম ভঙ্গ করো না।৪৬ আমি তাঁকে সবরকারী পেয়েছি, উত্তম বান্দা ছিল সে, নিজের রবের অভিমুখী।৪৭
টিকা: ৪৬) এ শব্দগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, হযরত আইয়ূব (আ) রুগ্ন অবস্থায় নারাজ হয়ে কাউকে মারার কসম খেয়েছিলেন। (কথিত আছে, স্ত্রীকে মারার কসম খেয়েছিলেন) আর এ কসম খাওয়ার সময় তিনি একথাও বলেছিলেন যে, তোমাকে এতো ঘা দোররা মারবো। আল্লাহ যখন তাঁকে সুস্থতা দান করলেন এবং যে রোগগ্রস্ত অবস্থায় ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি এ কসম খেয়েছিলেন এ ক্রোধ স্তিমিত হয়ে গেলো তখন তিনি একথা মনে করে অস্থির হয়ে পড়লেন যে, কসম পুরা করতে গেলে অযথা একজন নিরপরাধকে মারতে হয় এবং কসম ভেঙে ফেললেও গোনাহগার হতে হয়। এ উভয় সংকট থেকে আল্লাহ তাঁকে উদ্ধার করলেন। আল্লাহ তাঁকে হুকুম দিলেন, একটি ঝাড়ু নাও, তাতে তুমি যে পরিমাণ কোড়া মারার কসম খেয়েছিলে সে পরিমাণ কাঠি থাকবে এবং সে ঝাড়ু দিয়ে কথিত অপরাধীকে একবার আঘাত করো এর ফলে তোমার কসমও পুরা হয়ে যাবে এবং সেও অযথা কষ্টভোগ করবে না।
কোন কোন ফকীহ এ রেওয়ায়াতটিকে একমাত্র হযরত আইয়ূবের জন্য নির্ধারিত মনে করেন। আবার কতিপয় ফকীহের মতে অন্য লোকেরাও এ সুবিধাদান থেকে লাভবান হতে পারে। প্রথম অভিমতটি উদ্ধৃত করেছেন ইবনে আসাকির হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এবং আবু বকর জাসসাস মুজাহিদ থেকে। ইমাম মালেকেরও অভিমত এটিই। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ,
ইমাম যুফার ও ইমাম শাফেঈ দ্বিতীয় অভিমতটি অবলম্বন করেছেন। তাঁরা বলেন, কোন ব্যক্তি যদি তার খাদেমকে দশ ঘা কোড়া মারার কসম খেয়ে বসে এবং পরে দশটি কোড়া মিলিয়ে তাকে এমনভাবে কেবলমাত্র একটি আঘাত করে যার ফলে কোড়াগুলোর প্রত্যেকটির কিছু অংশ তার গায়ে ছুঁড়ে যায় তাহলে তার কসম পুরো হয়ে যাবে।
বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায়, নবী ﷺ
বেশী রোগগ্রস্ত বা দুর্বল হবার কারণে যে যিনাকারী একশো দোররার আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা রাখতো না তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি প্রয়োগ করার ব্যাপারে এ আয়াতে বিবৃত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। আল্লামা আবু বকর জাসসাস হযরত সাঈদ ইবনে সা’দ ইবনে উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বনী সা ’য়েদে এক ব্যক্তি যিনা করে। সে এমন রুগ্ন ছিল যে, তাকে অস্থি-চর্মসার বলা যেতো। এ কারণে নবী ﷺ
হুকুম দিলেনঃ
خذوا عثقالا فيه ماة شمراخ فاضربوه بها ضرية واحدة
“খেজুরের একটি ডাল, নাও, যার একশোটি শাখা রয়েছে এবং তা দিয়ে একবার এ ব্যাক্তিকে আঘাত করো।” (আহকামূল কুরআন)
মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ ইবনে মাজাহ, তাবারানী, আবদুল রাজ্জাক ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থসমূহেও এ সমর্থক কতিপয় হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে একথা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় যে, নবী ﷺ রোগী ও দুর্বলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিই অবলম্বন করেছিলেন। তবে ফকীহগণ এক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছেন যে, প্রত্যেকটি শাখা বা পাতার কিছু না কিছু অংশ অপরাধীর গায়ে অবশ্যই লাগা উচিত এবং একটি আঘাতই যথেষ্ট হলেও অপরাধীকে তা যেন কোন না কোন পর্যায়ে আহত করে। অর্থাৎ কেবল স্পর্শ করা যথেষ্ট নয় বরং আঘাত অবশ্যই করতে হবে।
এখানে এ প্রশ্নও দেখা দেয় যে, যদি কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম খেয়ে বসে এবং পরে জানা যায় যে, সে বিষয়টি অসঙ্গত,
তাহলে তার কি করা উচিত। নবী ﷺ প্রত্যেকে এ ব্যাপারে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন,
এ অবস্থায় মানুষের পক্ষে যা ভালো, তাই করা উচিত এবং এটিই তার কাফফারা। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে, এ অসঙ্গত কাজের পরিবর্তে মানুষের ভাল কাজ করা এবং নিজের কসমের কাফফারা আদায় করে দেয়া উচিত। এ আয়াতটি এ দ্বিতীয় হাদীসটিকে সমর্থন করে। কারণ একটি অসঙ্গত কাজ না করাই যদি কসমের কাফফরা হতো তাহলে আল্লাহ আইয়ূবকে একথা বলতেন না যে, তুমি একটি ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করে নিজের কসম পুরা করে নাও। বরং বলতেন, তুমি এমন অসঙ্গত কাজ করো না এবং এটা না করাই তোমার কসমের কাফফরা। (আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আন নূর, ২০ টীকা)
এ
আয়াত থেকে
একথাও জানা
যায় যে, কোন
ব্যক্তি কোন
বিষয়ে কসম
খেলে সঙ্গে
সঙ্গেই তা
পুরা করা
অপরিহার্য হয়
না। হযরত আইয়ূব
রোগগ্রস্ত অবস্থায়
কসম খেয়েছিলেন
এবং তা
পূর্ণ করেন
পুরোপুরি সুস্থ
হবার পর
এবং সুস্থ
হবার পরও
তাও সঙ্গে
সঙ্গেই পুরা
করেননি।
কেউ
কেউ এ
আয়াতকে শরয়ী
বাহানাবাজীর সপক্ষে
যুক্তি হিসেবে
দাঁড় করিয়েছেন। সন্দেহ
নেই,
হযরত আইয়ূবকে
যা করতে
বলা হয়েছিল
তা একটি
বাহানা ও
ফন্দিই ছিল। কিন্তু
তা কোন
ফরয থেকে
বাঁচার জন্য
করতে বলা
হয়নি বরং
বলা হয়েছিল
একটি খারাপ
কাজ থেকে
রক্ষা পাওয়ার
জন্য। কাজেই শরীয়াতে
একমাত্র এমন
বাহানা ও
ফন্দি জায়েয
যা মানুষের
নিজের সত্তা
থেকে অথবা
অন্য কোন
ব্যক্তি থেকে
জুলুম,
গোনাহ ও
অসৎ প্রবণতা
দূর করার
জন্য করা
হয়ে থাকে। নয়তো
হারামকে হালাল
বা ফরয
বাতিল অথবা
সৎকাজ থেকে
রেহাই পাবার
জন্য বাহানাবাজি
করা বা
ফন্দি আঁটা
গোনাহর উপরি
গোনাহ। বরং এর
সূত্র গিয়ে
কুফরীর সাথে
মেলে।
কারণ
এসব অপবিত্র
উদ্দেশ্যে যে
ব্যক্তি বাহানা
করে সে
যেন অন্য
কথায় আল্লাহকে
ধোঁকা দিতে
চায়। যেমন যে
ব্যক্তি যাকাত
দেয়া থেকে
রেহাই পাবার
জন্য বছর
শেষ হবার
আগে নিজের
সম্পদ অন্য
কারো কাছে
স্থানান্তর করে
সে নিছক
একটি ফরয
থেকেই পালায়ন
করে না
বরং সে
একথাও মনে
করে যে, আল্লাহ
তার এ
প্রকাশ্য কাজ
দেখে প্রতারিত
হবে এবং
তাকে ফরযের
আওতাভুক্ত মনে
করবে না। এ
ধরনের ‘হীলা’ বা বাহানার
বিষয়সমূহ যেসব
ফকীহ তাদের
কিতাবের অন্তর্ভুক্ত
করেছেন,
শরীয়াতের বিধান
থেকে পৃষ্ঠ
প্রদর্শন করার
জন্য এসব
বাহানাবাজীর আশ্রয়
নিতে উদ্বুদ্ধ
করা তাঁদের
উদ্দেশ্য নয়
বরং তাদের
উদ্দেশ্য হচ্ছে, যদি
কোন ব্যাক্তি
গোনাহকে আইনের
রূপ দান
করে গা
বাঁচিয়ে বের
হয়ে আসে, তাহলে
কাযী বা
শাসক তাকে
পাকড়াও করতে পারেন না। তার শাস্তির ভার আল্লাহর হাতে সোপর্দ হয়ে যায়।
================================
প্রশ্ন ৩৬ : তাফহীমুল কুরআন সার্চ এ্যাপের উইন্ডোজ ভার্সন চাই যাতে আল কুরআন বাংলা ও আরবী শব্দ দিয়ে সার্চ করা যায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন