শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৯

আহলে কিতাব - ইহুদী / খ্রীষ্টান



আহলে কিতাব :







আহলে কিতাবগণ নাযিলকৃত কিতাবকে চেনে যেমনি ভাবে চেনে তাদের নিজেদের সন্তানদেরকে : ২:১৪৬, ৫:৮৩, ৬:২০, ১১৪,





আহলে কিতাব প্রসঙ্গ সমূহ :
আরো দেখুন : জ > জাতি > বিভিন্ন জাতির কুরআনিক পরিচয় ।











২:১৪০, ১৪৫, ১৪৬,


৩:৬৪-৭০ : ইবরাহীম আ: ইহুদী বা নাসারা ছিলেন না, তিনি ছিলেন হানীফ, এ আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ।


৩:৭১, ৭৫, ৭৬, ৯৮-১০০, ১০১






৫:৪১, ৫১, ৫৭, ৫৮,






আহলে কিতাবরা চায় কোন রকমে মুসলমানদেরকে কাফের বানাতে : ২:১০৯, ১৩৫,


৩:৬৯, ৭০, ৯৮-১০০, ১০১, ১১০-১১৫


৪:৪৫,


ইহুদী খ্রীষ্টানদের দাবী শুধুমাত্র তারাই জান্নাতে যাবে : ২:১১১,


আহলে কিতাবগণ জেনেশুনে সত্য গোপন করে এবং সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করে : ৩:৭১, ৯৯,






ইহুদীরা বলে খ্রীষ্টানরা কোন ভিত্তির উপর নেই এবং খ্রীষ্টানরা বলে ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপর নেই : ২:১১৩,






(আহলি কিতাব ও মুশরিক উভয় দলই কুফরী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলেও দু'দলকে দু'টি পৃথক নাম দেয়া হয়েছে। যাদের কাছে আগের নবীদের আনা কোন আসমানী কিতাব ছিল , তা যত বিকৃত আকারেই থাক না কেন , তারা তা মেনে চলতো , তাদেরকে বলা হয় আহলি কিতাব। আর যারা কোন নবীর অনুসারী ছিল না। কোন আসমানী কিতাবও মানতো না তারা মুশরিক। কুরআন মজীদের বহু স্থানে আহলি কিতাবদের শির্কের উল্লেখ করা হয়েছে ।যেমন খৃষ্টানদের সম্পর্কে বলা হয়েছে : তারা বলে ,আল্লাহ তিন খোদার একজন ।"( আল মায়েদাহ ৭৩ )"তারা মসীহকেও খোদা বলে। "(আল মায়েদাহ ১৭ )"তারা মসীহকে আল্লাহর পুত্র গণ্য করে।" (আত তাওবা ৩০ ) আবার ইহুদিদের সম্পর্কে বলা হয়েছে :"তারা উযাইরকে আল্লাহর পুত্র বলে "(আত তাওবা ৩০ ) কিন্তু এসব সত্ত্বে কুরআনের কোথাও তাদের জন্য মুশরিক পরিভাষা ব্যবহার করা হয়নি।বরং তাদের উল্লেখ করা হয়েছে "আহলি কিতাব" বা "যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল " শব্দের মাধ্যমে । অথবা ইয়াহুদ ও নাসারা শব্দদ্বয়ের মাধ্যমে । কারণ তারা তাওহিদী ধর্ম মানতো,তারপর শিরক করতো। বিপরীত পক্ষে অ - আহলি কিতাবদের জন্য পারিভাষিক পর্যায়ে মুশরিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ তারা শিরককেই আসল ধর্ম গণ্য করতো। তাওহীদকে তারা পুরোপুরি ও চূড়ান্তভাবে অস্বীকার করতো। এ দু'টি দলের মধ্যকার এ পার্থক্যটা শুধুমাত্র পরিভাষার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না,শরীয়াতের বিধানের মধ্যেও এ পার্থক্য ছিল।আহলি কিতাবার আল্লাহর নাম নিয়ে যদি কোন হালাল প্রাণীকে সঠিক পদ্ধতিতে যবেহ করে তাহলে তা মুসলমানের জন্য হালাল গণ্য করা হয়েছে।তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করারও অনুমতি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মুশরিকদের যবেহ করা প্রাণীও হালাল নয় এবং তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে অনুমতি দেয়া হয়নি।)


(৫৭:২৯) (তোমাদের এ নীতি অবলম্বন করা উচিত) যাতে কিতাবধারীরা, জানতে পারে যে, আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর তাদের একচেটিয়া অধিকার নেই, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ নিরংকুশভাবে আল্লাহরই হাতে নিবদ্ধ ৷ তিনি যাকে চান তা দেন৷ তিনি বড়ই অনুগ্রহশীল৷


যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি সঠিক ভাবে ঈমান আনেনা, আল্লাহ ও রাসূলের হারামকৃত জিনিসকে হারাম মনে করেনা ও সত্য দ্বীনকে নিজেদের দ্বীন বানায়না, সেই সমস্ত আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা জিযিয়া প্রদানে সম্মত হয় ও পদানত হয়ে থাকে:৯:২৯,


ইহুদীরা বলে وউযাইর আল্লাহর পুত্র” আর খ্রীষ্টানরা বলে وমসীহ আল্লাহর পুত্র”, এ সমস্ত আহলে কিতাবদের উপর আল্লাহর অভিশাপ:৯:৩০,






লোকেরা বলে, আল্লাহ কাউকে পুত্র বানিয়েন৷ সুবহানাল্লাহ -তিনি মহান-পবিত্র! তিনি তো অভাবমুক্ত৷ আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তার মালিকানাধীন৷ একথার সপক্ষে তোমাদের কাছে কি প্রমাণ আছে? তোমরা কি আল্লাহর সপক্ষে এমন সব কথা বলো যা তোমাদের জানা নেই? -১০:৬৮,

আহলে কিতাব তথা ইহুদী খ্রিষ্টানসহ কিতাবধারী সম্প্রদায়কে আহলে জিকর বলা হয়েছে :


(২১:৭) আর হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বেও আমি মানুষদেরকেই রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম, যাদের কাছে আমি অহী পাঠাতাম৷ তোমরা যদি না জেনে থাকো তাহলে আহলে কিতাবদেরকে জিজ্ঞেস করো৷





কোন সমস্ত আহলে কিতাবগণ মুসলমানদের মধ্যে গণ্য হবে ?


(৩০-রূম: ২) রোমানরা নিকটবর্তী দেশে পরাজিত হয়েছে এবং নিজেদের এ পরাজয়ের পর কয়েক বছরের মধ্যে তারা বিজয় লাভ করবে৷ (বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : ভ > ভবিষ্যৎবানী)


১ . ইবনে আব্বাস (রা) এবং অন্যান্য সাহাবী ও তাবেঈগণের বর্ণনা থেকে জানা যায়, রোম ও ইরানের এ যুদ্ধে মুসলমানদের সহানুভূতি ছিল রোমের পক্ষে এবং মক্কার কাফেরদের সহানুভূতি ছিল ইরানের পক্ষে। এর একটি কারণ ছিল, এক নবীর আগমনের পূর্বে পূর্ববর্তী নবীকে যারা মানতো নীতিগতভাবে তারা মুসলমানের সংজ্ঞারই আওতাভুক্ত হয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত পরবর্তী আগমনকারী নবীর দাওয়াত তাদের কাছে না পৌঁছে এবং তারা তা অস্বীকার না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুসলমানদের মধ্যেই গণ্য হতে থাকে।এদিক থেকে রোমানরা ছিল মুসলমানদের ঈমানী চিন্তা চেতনার সমর্থক গোষ্ঠী। (বিস্তারিত দেখুন, সূরা কাসাস, ৭৩ টীকা)

আহলে কিতাবগণ ইসলাম গ্রহণ করলে মূলত: তারা তাদের আসল ও মূল ধর্মেই ফিরে আসলো :


(২৮-ক্বাছাছ : ৫৩) আর যখন তাদেরকে এটা শুনানো হয়, তারা বলো, "আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এটি যথার্থই সত্য আমাদের রবের পক্ষ থেকে, আমরা তো আগে থেকেই মুসলিম৷"৭৩


(সুরা কাসাস : ৭৩ টিকা: "অর্থাৎ এর আগেও আমরা নবীদের ও আসমানী কিতাবের আনুগত্য করে এসেছি। তাই ইসলাম ছাড়া আমাদের অন্য কোন দ্বীন ছিল না। এখন যে নবী আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এনেছেন তাকেও আমরা মেনে নিয়েছি । কাজেই মূলত আমাদের দ্বীনের কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং আগেও যেমন আমরা মুসলমান ছিলাম তেমনি এখনও মুসলমান আছি।


একথা থেকে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন কেবলমাত্র তার নামই ইসলাম নয় বরং ""মুসলিম"" পরিভাষাটি শুধুমাত্র নবী করীমের (সা) অনুসারীগণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। বরং সব সময় এ ইসলামই ছিল সকল নবীর দ্বীন এবং সব জামানায় তাঁদের সবার অনুসারীগণ মুসলমানই ছিলেন। এ মুসলমানেরা যদি কখনো পরবর্তীকালে আগত কোন সত্য নবীকে মানতে অস্বীকার করে থাকে তাহলে কেবল তখনই তারা কাফের হয়ে গিয়ে থাকবে। কিন্তু যারা পূর্বের নবীকে মানতো এবং আগত নবীকে মেনে নিয়েছে তাদের ইসলামে কোন ছেদ পড়েনি। তারা পূর্বেও যেমন মুসলমান ছিল, পরেও তেমনি থেকেছে।


আশ্চর্যের কথা, বড় বড় জ্ঞানী গুনী ও আলেমদের মধ্যেও কেউ কেউ এ সত্যটি অনুধাবন করতে অক্ষম হয়েছেন। এমনকি এ সুস্পষ্ট আয়াতটি দেখেও তারা নিশ্চিন- হননি। আল্লামা সুয়ুতি "মুসলিম" পরিভাষাটি কেবলমাত্র মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের সাথেই বিশেষভাবে জড়িত এ মর্মে বিস-ারিত আলোচনা সম্বলিত একটি বই লিখেছেন। তারপর যখন এ আয়াতটি সামনে এসেছে তখন নিজেই বলেছেন, এখন তো আমার আক্কেল গুড়-ম হয়ে গেছে। কিন' এরপর বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম এ মর্মে যে, এ ব্যাপারে আমার হৃদয় প্রসারিত করে দাও। শেষে নিজের অভিমত প্রত্যাহার করার পরিবর্তে তিনি তারই ওপর জোর দিয়েছেন এবং আয়াতটির কয়েকটি ব্যাখ্যা পেশ করেছেন। এ ব্যাখ্যাগুলোর একটি অন্যটির চেয়ে বেশি ওজনহীন। যেমন তাঁর একটি ব্যাখ্যা হচ্ছে ঃ ------------- আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আমরা কুরআর আসার আগেই মুসলিম হয়ে যাবার সংকল্প পোষন করতাম। কারন আমাদের কিতাবসমূহ থেকে আমরা এর আসার খবর পেয়ে গিয়েছিলাম এবং আমাদের সংকল্প ছিল, তিনি আসলেই আমরা ইসলাম গ্রহন করে নেব। দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে, এ বাক্যাংশে ----------- শব্দের পরে --------- শব্দ উহ্য রয়েছে। অর্থ্যাৎ আগে থেকেই আমরা কুরআন মানতাম। কারন আমরা তার আগমনের আশা পোষন করতাম এবং পূর্বাহ্নেই তাঁর প্রতি ঈমান এনে বসেছিলাম। তাই তাওরাত ও ইন্‌জিল মানার ভিত্তিতে নয় বরং কুরআনকে তাঁর নাযিল হবার পূর্বে যথার্থ সত্য বলে মেনে নেবার জন্যই আমরা মুসলিম ছিলাম। তৃতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছেঃ আল্লাহর তকদীরে পূর্বেই আমাদের জন্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যে, মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনের আগমনে আমরা ইসলাম গ্রহন করে নেবো । তাই আসলে আমরা আগে থেকেই মুসলিম ছিলাম। এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্য থেকে কোনটি দেখে আল্লাহ প্রদত্ত হৃদয়ের প্রশস-তার কোন প্রভাব সেখানে আছে বলে মনে হচ্ছে না।


প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, কুরআন কেবলমাত্র এই একটি স্থানেই নয় বরং অসংখ্য জায়গায় এ সত্য বর্ণনা করেছে। কুরআন বলছে, আসল দ্বীন হচ্ছে একমাত্র ""ইসলাম"" (আল্লাহর আনুগত্য) এবং আল্লাহর বিশ্ব-জাহানে আল্লাহর সৃষ্টির জন্য এছাড়া দ্বিতীয় কোন দ্বীন হতে পারে না। সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে যে নবীই মানুষকে পথ নির্দেশ দেবার জন্য এসেছেন তিনি এ দ্বীন নিয়েই এসেছেন । আর নবীগণ হামেশাই নিজেরা মুসলিম থেকেছেন, নিজেদের অনুসারীদেরকে মুসলিম হয়ে থাকার তাগিদ করেছেন এবং তাঁদের যেসব অনুসারী নবুওয়াতের মাধ্যমে আগত আল্লাহর ফরমানের সামনে আনুগত্যের শির নত করে দিয়েছেন তারাও প্রতি যুগে মুসলিমই ছিলেন। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টান্ত স্বরূপ শুধুমাত্র গুটিকয় আয়াত পেশ করছি:


إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ


""আসলে আল্লাহর কাছে ইসলামই একমাত্র দ্বীন।"" (আল ইমরান : ১৯)
""আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন অবলম্বন করে তা কখনো গৃহীত হবে না।"" (আল ইমরান : ৮৫) হযরত নূহ আলাইহিস সালাম বলেনঃ "আমার প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো আল্লাহর এবং আমাকে হুকুম দেয়া হয়েছে আমি যেন মুসলিমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাই।"(ইউনুসঃ ৭২) হযরত ইবরাহীম আলাহহিস সালাম এবং তাঁর সন-ানদের সম্পর্কে বলা হয় ঃ "যখন রব তাঁকে বললেন, মুসলিম (ফরমানের অনুগত) হয়ে যাও, সে বললো আমি মুসলিম হয়ে গেলাম রব্বুল আলামীনের জন্য। আর এ জিনিসটিরই অসিয়াত করে ইবরাহীম তার সন-ারদেরকে এবং ইয়াকুবও ঃ হে আমার সন-ানরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দিনটিই পছন্দ করেছেন। কাজেই মুসলিম না হয়ে তোমরা কখনো মৃত্যুবরণ করো না। তোমরা কি তখন উপসি'ত ছিলে যখন ইয়াকূবের মৃত্যুর সময় এসে গিয়েছিল, যখন সে তার পুত্রদের জিজ্ঞেস করেছিল, আমার মৃত্যুর পর তোমরা কার বন্দেগী করবে আপনার মাবুদের এবং আপনার বাপ-দাদা ইবরাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকের মাবুদের তাঁকে একক মাবুদ হিসেবে মেনে নিয়ে। আর আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম।" (আল বাকারাহ ঃ ১৩১-১৩৩) "ইবরাহীম ইহুদী ছিল না, খৃষ্টানও ছিল না বরং একনিষ্ট মুসলিম।" (আলে ইমরান ঃ ৬৭) হযরত ইবরাহীম (আ) ও ইসমাইল (আ) নিজেই দোয়া করেন ঃ "হে আমাদের রব! আমাকে তোমরা মুসলিম (অনুগত) করো এবং আমাদের বংশ থেকে একটি উম্মত সৃষ্টি করো যে হবে তোমার মুসলিম।" (আল বাকারাহ ঃ ১২৮) হযরত লূতের কাহিনীতে বলা হচ্ছে ঃ "আমরা লূতের জাতির জনপদে কএকটি ঘর ছাড়া মুসলমানদের আর কোন ঘর পাইনি।" (আয-যারিয়াত ঃ ৩৬) হযরত ইউসুফ আলাইহিসা সলাম মহিমান্বিত রবের দরবারে নিবেদন করেন ঃ "আমাকে মুসলিম অবস'ায় মৃত্যু দান করো এবং সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দাও।" (ইউসুফ ঃ ১০১) হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর নিজের জাতিকে বলেন ঃ "হে আমার জাতি! যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকো, তাহলে তাঁরই ওপর ভরসা করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো।" (ইউনুস ঃ ৮৪) বনী ইসরাইলের আসল ধর্ম ইহুদীবাদ নয় বরং ইসলাম ছিল। বন্ধু ও শত্রু সবাই এ কথা জানতো। কাজেই ফেরাউন সাগরে ডুবে যেতে যেতে যে শেষ কথাটি বলে তা হচ্ছে ঃ "আমি মেনে নিলাম বনী ইসরাইল যার প্রতি ঈমান এনেছি তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এবং আমি মুসলিমদের অন-রভূক্ত।"(ইউনুস ঃ ৯০) বনী ইসরাইলের সকল নবীর দীনও ছিল এ ইসলাম ঃ "আমি তাওরাত নাযিল করেছি, যাতে ছিল হোদায়াত ও আলো, সে অনুযায়ী সে নবীগন তারা মুসলিম ছিল তাদের বিষয়াদির ফায়সালা করতো যারা ইহুদী হয়ে গিয়েছিল।" (আল মায়েদাহ ঃ ৪৪) এটিই ছিল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দীন। সেজন্য সাবার রানী তাঁর প্রতি ঈমান আনতে গিয়ে বলেছেন ঃ "আমি সুলাইমানের সাথে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের মুসলিম হয়ে গেলাম।" (আন্‌ নাম্‌ল ঃ ৪৪) আর এটিই চিল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর হাওয়ারীদের (সহযোগী) দীন ঃ "আর যখন আমি হাওয়ারীদের কাছে ওহী পাঠালাম এ মর্মে যে, ঈমান আনো আমার প্রতি এবং আমার রসূলের প্রতি তখন তারা বললো, আমরা ঈমান এনেছি এবং সাক্ষী থাকো আমরা মুসলিম।"(আল মায়েদাহ ঃ ১১১) যদি সন্দেহ পোষন করা হয় যে, আরবী ভাষায় "ইসলাম" ও "মুসলিম" শব্দ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন ভাষায় কেমন করে ব্যবহৃত হতে পারতো, তাহলে বলতে হয় যে, এটা নিছক একটা অজ্ঞতাপ্রসূত কথা। কারন এ আরবী শব্দগুলো আসল বিবেচ্য নয়, আরবী ভাষায় এ শব্দগুলো যে অর্থে ব্যবহৃত হয় সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। আসলে এ আয়াতগুলোতে যে কথাটি বলা হয়েছে সেটি হচ্ছে এই যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে প্রকৃত দীনটি এসেছে তা খৃষ্টবাদ, মূসাবাদ বা মুহাম্মদবাদ নয় বরং তা হচ্ছে নবীগন ও আসমানী কিতাবসমূহের মাধ্যমে আগত আল্লাহর ফরমানের সামনে আনুগত্যের শির নত করে দেয়া এবং এ নীতি আল্লাহর যে বান্দা যেখানেই যে যুগে অবলম্বন করেছে সে হয়েছে একই বিশ্বজনীন, আদি ও সত্য চিরন-ন সত্য দীনের অনুসারী। যারা এ দীনকে যথার্থ সচেতনতা ও আন-রিকতা সহকারে গ্রহন করেছে তাদের জন্য মূসার পরে ঈসাকে এবং ঈসার পরে মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মেনে নেয়া ধর্ম পরিবর্তন করা হবে না বরং হতে হবে প্রকৃত ও আসল ধর্মের অনুসরণ করার স্বাভাবিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবী। পক্ষান-রে যারা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের উম্মতের মধ্যে না জেনে বুঝে ঢুকে পড়েছে অথবা তাদের দলে জন্ম নিয়েছে এবং জাতীয় ও বংশীয় স্বর্থপ্রীতি যাদের জন্য আসল ধর্মে পরিণত হয়ে গেছে তারা ইহুদী ও খৃষ্টান হয়ে রয়ে গেছে এবং মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনে তাদের মূর্খতা ও অজ্ঞতার হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে গেছে। কারন তারা আল্লাহর শেষ নবীকে অস্বীকার করেছে। আর এটা করে তারা শুধু যে নিজেদের ভবিষ্যতে মুসলিম হয়ে থাকাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাই নয় বরং নিজেদের এ কার্যকলাপের মাধ্যমে তারা প্রমান করে দিয়েছে যে, তারা আসলে ইতিপূর্বেও "মুসলিম" ছিল না নিছক একজন নবীর বা কয়েকজন নবীর ব্যক্তিত্বের ভক্ত ও অনুরক্ত ছিল। অথবা পিতা-প্রপিতার অন্ধ অনুকরণকে ধর্মীয় আচারে পরিণত করে রেখেছিল। "









ইহুদী খ্রিষ্টানদের তথা অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলোকি মুসলমানদের পড়া উচিত ?


(২১:৭) আর হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বেও আমি মানুষদেরকেই রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম, যাদের কাছে আমি অহী পাঠাতাম৷ তোমরা যদি না জেনে থাকো তাহলে আহলে কিতাবদেরকে জিজ্ঞেস করো৷


(এ থেকে বুঝা যায় কুরআনের সত্যায়নের জন্য তাদের কিতাবগুলো আমাদের পড়া উচিত)


(৩৭- আস সফ্ফাত :১৫৬) অথবা তোমাদের কাছে তোমাদের এসব কথার স্বপক্ষে কোন পরিষ্কার প্রমাণপত্র আছে ? ১৫৭) তাহলে আনো তোমাদের সে কিতাব, যদি তোমরা সত্যবাদী হও৷ ৮৮


৮৮. অর্থাৎ ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা মনে করার জন্য দু'টি বুনিয়াদই হতে পারে। এ ধরনের কথা তারা বলতে পারে প্রত্যক্ষ দর্শনের ভিত্তিতে অথবা এ ধরনের দাবী । যারা করে তাদের কাছে আল্লাহ এমন কোন কিতাব থাকতে হবে যাতে আল্লাহ নিজেই ফেরেশতাদেরক নিজের কন্যা বলে উল্লেখ করে থাকবেন। এখন এ বিশ্বাসের প্রবক্তারা যদি কোন প্রত্যক্ষ দর্শনের দাবী করতো না পারে এবং এমন কোন কিতাব ও তাদের কাছে না থাকে যাতে একথা বলা হয়েছে , তাহলে নিছক উড়ো কথার ভিক্তিতে একটি দীনী বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করে নেয়া এবং বিশ্ব - জাহানের মালিকের সাথে সুস্পষ্ট হাস্যকর কথা সম্পৃক্ত করে দেয়ার চাইতে বড় মূর্খতা ও বোকামি আর কী হতে পারে।









মুসলমানদের সাথে আহলে কিতাবদের প্রতারণার কৌশল : আরো দেখুন : প > প্রতারণা, :






(৩: ৭০) হে আহ্‌লি কিতাব! কেন আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করছো, অথচ তোমরা নিজেরাই তা প্রত্যক্ষ করছো ?৬০





৬০ . এ বাক্যটির আর একটি অনুবাদও হতে পারে৷ সেটি হচ্ছে, ''তোমরা নিজেরা সাক্ষ দিচ্ছো" উভয় অবস্থাতেই মূল অর্থের ওপর কোন প্রভাব পড়ে না৷ আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জীবন,সাহাবায়ে কেরামের জীবনের ওপর তাঁর শিক্ষা ও অনুশীলনের বিস্ময়কর প্রভাব এবং কুরআনের উন্নতমানের বিষয়বস্তু এসবগুলোই মহান আল্লাহর এমনি উজ্জ্বল নিদর্শন ছিল৷ যা দেখার পর নবী-রসূলদের অবস্থা ও আসমানী কিতাবসমূহের ধারাবিবরণীর সাথে পরিচিত ব্যক্তি মাত্রেরই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার ছিল৷ কাজেই অনেক আহলি কিতাব (বিশেষ করে তাদের আলেম সমাজ) একথা জেনে নিয়েছিল যে, পূর্ববর্তী নবীগণ যে নবীর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম সেই নবী৷ এমন কি কখনো কখনো সত্যের প্রবল শক্তির চাপে বাধ্য হয়ে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্যতা ও তাঁর উপস্থাপিত শিক্ষাকে সত্য বলে স্বীকার করে নিতো৷ এ জন্যই কুরআন বার বার তাদের বিরুদ্ধে ও অভিযোগ এনেছে যে, তোমরা নিজেরাই আল্লাহর যেসব নিদর্শনের সত্যতার সাক্ষ দিচ্ছো, সেগুলোকে তোমরা নিজেদের মানসিক দুস্কৃতিপরায়তার কারণে ইচ্ছা করেই মিথ্যা বলছো কেন?






(৩: ৭১) হে আহলি কিতাব ! কেন সত্যের গায়ে মিথ্যার প্রলেপ লাগিয়ে তাকে সন্দেহযুক্ত করে তুলছো ? কেন জেনে বুঝে সত্যকে গোপন করছো?

























ইহুদী :














ইহুদী-খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে তাদের সুফল : ২:৬২, ৪:১৬২,






ইহুদীদের ধারণা আগুণ তাদেরকে মাত্র কয়েকদিনের জন্য ষ্পর্শ করবে : ২:৮০, ৩:২৪, ২৫,






ইহুদী খ্রিষ্টানদের মৃত্যু কামনা করার আহ্বান : ২:৯৪, ৯৫,






ইহুদীরা জীবনের প্রতি লোভী মুশরিকদের চেয়েও বেশী : ২:৯৬, ৯৭, ৯৮,






ইহুদীদের অ্ঙ্গীকার ভঙ্গ : ২:১০১, ১০০,






ইহুদীরা চায়না মুসলমানদের উপর কোন অনুগ্রহ বর্ষিত হোক : ২:১০৫,






ইহুদীদের জন্য নখধারী প্রাণী ও পশুর চর্বি হারাম ছিল : ৬:১৪৬,






ইহুদী, খ্রিষ্টান ও মুশরিক এ তিন দলের মধ্যে ইহুদী ও মুশরিকগণ মুসলমানদের শত্রুতায় তীব্র আর খ্রীষ্টনরা কিছুটা কম, কারণ : ৫:৮২-৮৫,






আহলে কিতাব প্রসঙ্গ সমূহ : ২:১৪০, ১৪৫, ১৪৬,






৩:৬৪-৭০ : ইবরাহীম আ: ইহুদী বা নাসারা ছিলেন না, তিনি ছিলেন হানীফ, এ আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ।






৩:৭১, ৭৫, ৭৬, ৯৮-১০০, ১০১






৫:৪১, ৫১, ৫৭, ৫৮,






আহলে কিতাবরা চায় কোন রকমে মুসলমানদেরকে কাফের বানাতে : ২:১০৯, ১৩৫,


৩:৬৯, ৭০, ৯৮-১০০, ১০১, ১১০-১১৫


৪:৪৫,






ইহুদী খ্রীষ্টানদের দাবী শুধুমাত্র তারাই জান্নাতে যাবে : ২:১১১,






আহলে কিতাবগণ জেনেশুনে সত্য গোপন করে এবং সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করে : ৩:৭১, ৯৯,










ইহুদীরা বলে খ্রীষ্টানরা কোন ভিত্তির উপর নেই এবং খ্রীষ্টানরা বলে ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপর নেই : ২:১১৩,










ইহুদী খ্রিষ্টানারা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না, যতক্ষণ না আপনি তাদের দ্বীন গ্রহণ করেন : ৬:৯০,






আহলে কিতাবদের মধ্যে আমানতদার লোকও রয়েছে : ৩:৭৫






(১৬:১১৮) ইতিপূর্বে আমি তোমাকে যেসব জিনিসের কথা বলেছি সেগুলো আমি বিশেষ করে ইহুদীদের জন্য হারাম করেছিলাম৷ আর এটা তাদের প্রতি আমার জুলুম ছিল না বরং তাদের নিজেদেরই জুলুম ছিল, যা তারা নিজেদের ওপর করছিল৷



============================







কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন