খরচ :
আল্লাহর পথে খরচ :
২:১৯৫, ২১৯, ২৪৫, ২৫৪, ২৬১-২৬৮, ২৭১ (গোপন ও প্রকাশ্য
খরচ) ২৭১, ২৭২-২৭৪, ৩:৯২ (প্রিয় বস্তু
থেকে ব্যয় কর), ৩:১৩৪, (স্বচ্ছলতা ও অভাব উভয় অবস্থায় ব্যয় কর), ৫:১২, (উত্তম ঋণ),
৬:১৩৬ (শিরককারীরা শরীকদের জন্য খরচের অংশ নির্ধারণ করে),
আপনজন পিতামাতা ও আত্নীয়দের জন্য খরচ সংক্রান্ত : ২:২১৫,
মু’মিনদের যে রিজিক্ব আল্লাহ দান করেছেন, তা থেকে তারা
আল্লাহর পথে খরচ করে : ৮:৩,
যারা সোনারূপা জমা করে রাখে অথচ আল্লাহর পথে খরচ করেনা,
তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও : ৯:৩৪, একদিন এই সোনারূপা উত্তপ্ত করে
তাদের কপালে ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে এবং বলা হবে তোমাদের জমাকৃত সোনারূপার
স্বাদ গ্রহণ কর : ৯:৩৫,
আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং
ব্যয় কর সে জিনিস যার
প্রতিনিধিত্বমূলক মালিকানা তিনি তোমাদের দিয়েছেন৷ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে ও অর্থ -সম্পদ খরচ করবে তাদের জন্য বড়
প্রতিদান রয়েছে-৫৭:৭,
(১৬:৭৫) আল্লাহ একটি উপমা দিচ্ছেন৷ একজন হচ্ছে গোলাম, যে অন্যের
অধিকারভুক্ত এবং নিজেও কোনো ক্ষমতা রাখে না৷ দ্বিতীয়জন এমন এক ব্যক্তি যাকে আমি
নিজের পক্ষ থেকে ভালো রিযিক দান করেছি এবং সে তা থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে খুব খরচ করে৷
বলো, এরা দুজন কি সমান ?-আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু অধিকাংশ লোক (এ সোজা কথাটি)
জানে না৷
(১৬:৯০) আল্লাহ ন্যায়-নীতি, পরোপকার ও
আত্মীয়-স্বজনদের দান করার হুকুম দেন এবং
অশ্লীল-নির্লজ্জতা ও দুষ্কৃতি এবং অত্যাচার-বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন৷ তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা
শিক্ষালাভ করতে পারো৷
৭৭. অর্থাৎ তারা
সত্যের পথে সম্পদ উৎসর্গও
করে। সম্ভবত এখানে এদিকেও ইংগিত করা হয়েছে যে, তারা নিছক সত্যের সন্ধানে হাব্শা
থেকে সফর করে মক্কায় এসেছিল। এ পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ের পেছনে তাদের কোন বৈষয়িক লাভের
উদ্দেশ্য ছিল না। তারা যখন শুনল মক্কায় এক ব্যক্তি নবুওয়াতের দাবী করেছেন তখন তারা
নিজেরা সশরীরে এসে অনুসন্ধান চালনো জরুরী মনে করল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এভাবে অনুসন্ধানের
পর যদি প্রমাণিত হয় তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন সত্য নবী, তাহলে তারা তাঁর
প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর থেকে পথ-নির্দেশনা লাভ করা থেকে বঞ্চিত থাকবে না।
(বিস্তারিত
ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : ম > মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দাও। )
আল্লাহর পথে খরচ - এমন একটি ব্যবসা যাতে কোন ক্ষতির সম্ভাবনাই নেই, বরং শুধুমাত্র লাভ আর লাভ :
(৩৫-ফাতির:২৯) যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে এবং
আমি তাদেরকে যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে খরচ করে, নিসন্দেহে তারা এমন একটি
ব্যবসায়ের প্রত্যাশী যাতে কোনক্রমেই ক্ষতি হবে না৷ ৩০) (এ ব্যবসায়ে
তাদের নিজেদের সবকিছু নিয়োগ করা কারণ হচ্ছে এই যে) যাতে তাদের প্রতিদান পুরোপুরি
আল্লাহ তাদেরকে দিয়ে দেন এবং নিজের অনুগ্রহ থেকে আরো বেশী করে তাদেরকে দান করবেন৷ ৫১ নিসন্দেহে আল্লাহ
ক্ষমাশীল ও গুনগ্রাহী৷ ৫২
৫১. ঈমানদারদের এ কাজকে ব্যবসায়ের সাথে
তুলনা করা হচ্ছে। কারণ মানুষ ব্যবসায়ের নিজের অর্থ, শ্রম, ও মেধা নিয়োগ করে
কেবলমাত্রা আসল ফেরত পাবার এবং শ্রমের পারিশ্রমিক লাভ করার জন্য নয় বরং বাড়তি কিছু মুনাফা
অর্জন করার জন্য। অনুরূপভাবে একজন মু'মিন ও আল্লহর
হুকুম পালন,
তার ইবাদাত বন্দেগী এবং তার দীনের জন্য সংগ্রাম সাধনায় নিজের ধন, সময়, শ্রম ও যোগত্যা নিয়োগ
করে শুধুমাত্র এসবের পুরাপুরি প্রতিদান লাভ করার জন্য নয় বরং এই সংগে আল্লাহ তার
নিজ অনুগ্রহে বাড়তি অনেক কিছু দান করবেন এই আশায়। কিন্তু উভয় ব্যবসায়ের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ পার্থিব ব্যবসায়ের নিছক মুনাফালাভেরই আশা
থাকে না,
লোকসান এবং দেউলিয়া হয়ে যাবার আশংকাও থাকে। কিন্তু একজন আন্তরিকতা সম্পন্ন বান্দা আল্লাহর সাথে
যে ব্যবসায় করে তাতে লোকসান ও ক্ষতির কোন আশংকাই নেই।
৫২. অর্থাৎ নিজের আন্তরিকতা সম্পন্ন মু'মিনদের সাথে
আল্লাহ এমন সংকীর্ণমনা প্রভুর মত ব্যবহার করেন
না, যে কথায় কথায় পাকড়াও
করে এবং সামান্য একটি ভুলের দরুন নিজের কর্মচারীর সমস্ত
সেবা ও বিশ্বস্ততা অস্বীকার করে। তিনি মহানুভব
দানশীল প্রভু। তার বিশ্বস্ত বান্দার ভুল ভ্রান্তি তিনি উপেক্ষা করে যান এবং তার পক্ষে যা কিছু সেবা করা সম্ভব
হয়েছে তাকে যথার্থ মূল্য
দান করেন।
খরচ করার নীতি : কৃপণতা ও অপব্যয় - এ দুয়ের মাঝামাঝি :
(২৫.ফুরকান:৬৭) তারা
যখন ব্যয় করে তখন অযথা ব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করেনা বরং উভয় প্রান্তিকের
মাঝামাঝি তাদের ব্যয় ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে৷
(অর্থাৎ তাদের অবস্থা এমন নয় যে , আরাম-আয়েশ , বিলাসব্যসন , মদ-জুয়া , ইয়ার-বন্ধু , মেলা-পার্বন ও বিয়েশাদীর পেছনে অঢেল পয়সা খরচ করছে এবং
নিজের সামর্থ্যের চেয়ে অনেক বেশী করে নিজেকে
দেখাবার জন্য খাবার-দাবার , পোষাক-পরিচ্ছদ , বাড়ি-গাড়ি , সাজগোজ ইত্যাদির পেছনে নিজের টাকা-পয়সা ছড়িয়ে
চলছে। আবার তারা নিজের অর্থলোভীর মতো নয় যে এক একটা একটা পয়সা
গুণে রাখে। এমন অবস্থাও তাদের নয় যে, নিজেও খায় না, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী
নিজের ছেলেমেয়ে ও পরিবারের লোকজনদের প্রয়োজনও পূর্ণ করে না এবং প্রাণ খুলে কোন ভালো কাজে কিছু ব্যয়ও করে
না। আরবে এ দু'ধরনের লোক বিপুল সংখ্যায় পাওয়া যেতো। একদিকে ছিল একদল লোক যারা
প্রাণ খুলে খরচ করতো। কিন্তু প্রত্যেকটি খরচের উদ্দেশ্য
হতো ব্যক্তিগত বিলাসিতা ও আরাম-আয়েশ অথবা গোষ্ঠির মধ্যে নিজেকে উঁচু মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত রাখা এবং নিজের
দানশীলতা ও ধনাঢ্যতার ডংকা বাজানো। অন্যদিকে ছিল সর্বজন পরিচিত কৃপণের দল। ভারসাম্যপূর্ণ নীতি খুব কম
লোকের মধ্যে পাওয়া যেতো। আর এই কম লোকদের
মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ।
এ প্রসংগে অমিতব্যয়িতা ও কার্পণ্য কি
জিনিস তা জানা উচিত। ইসলামের দৃষ্টিতে তিনটি জিনিসকে
অমিতব্যয়িতা বলা হয়। এক , অবৈধ কাজে অর্থ ব্যয় করা , তা একটি পয়সা হলেও । দুই , বৈধ কাজে ব্যয় করতে গিয়ে সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে সে
নিজের সামর্থের চাইতে বেশী ব্যয় করে অথবা নিজের
প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশী যে অর্থসম্পদ সে লাভ করেছে তা
নিজেরই বিলাসব্যসনে ও বাহ্যিক আড়ম্বর অনুষ্ঠানে ব্যয় করতে পারে। তিন , সৎকাজে ব্যয় করা।
কিন্তু আল্লাহর জন্য নয় বরং অন্য মানুষকে দেখাবার জন্য। পক্ষান্তরে কার্পণ্য বলে বিবেচিত হয় দু'টি জিনিস । এক , মানুষ নিজের ও
নিজের পরিবার-পরিজনদের প্রয়োজন পূরণের জন্য
নিজের সামর্থ ও মর্যাদা অনুযায়ী ব্যয় করে না। দুই , ভালে ও সৎকাজে তার
পকেট থেকে পয়সা বের হয় না। এ দু'টি প্রান্তিকতার
মাঝে ইসলামই হচ্ছে ভারসাম্যের পথ। এ সম্পর্কে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ رِفْقُهُ فِي مَعِيشَتِهِ
"নিজের অর্থনৈতিক
বিষয়াদিতে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা মানুষের ফকীহ (জ্ঞানবান) হবার অন্যতম আলামত।" (আহমদ ও তাবারানী , বর্ণনাকারী আবুদ দার্দা) )
এবং আল্লাহর পথে খরচ করো হালাল রিযিক্ব থেকে, কারণ শুধুমাত্র হালাল রিযিক্ব থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করলেই তা কবুল ও গ্রহণযোগ্য হয় :
২৮ . রিযিক বলতে বুঝায় হালাল রিযিক। হারাম ধন-সম্পদকে আল্লাহ তার প্রদত্ত সম্পদ
হিসেবে বর্ণনা করেন না। কাজেই এ আয়াতের
অর্থ হচ্ছে, যা সামান্য কিছু পবিত্র রিযিক আমি দিয়েছি
তা থেকেই খরচ করে। তার সীমা অতিক্রম করে নিজের খরচপাতি
পুরা করার জন্য হারাম সম্পদে হাত দেয় না।
২৮ . রিযিক বলতে বুঝায় হালাল রিযিক। হারাম ধন-সম্পদকে আল্লাহ তার প্রদত্ত সম্পদ
হিসেবে বর্ণনা করেন না। কাজেই এ আয়াতের
অর্থ হচ্ছে, যা সামান্য কিছু পবিত্র রিযিক আমি দিয়েছি
তা থেকেই খরচ করে। তার সীমা অতিক্রম করে নিজের খরচপাতি
পুরা করার জন্য হারাম সম্পদে হাত দেয় না।
খরচ করার পর খরচকারীর মানসিক অবস্থা কিরূপ হওয়া উচিত ? অহমিকা নাকি নম্রতা ও ভয় ?
(মু’মিনুন:৬০) এবং যাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে,
যা কিছুই দেয় এমন অবস্থায় দেয় যে, ৬১) তাদের অন্তর এ চিন্তায় কাঁপতে থাকে যে, তাদেরকে তাদের রবের
কাছে ফিরে যেতে হবে৷ ৫৪
(৫৪ . আরবী ভাষায় ''দেয়া'' ----- শব্দটি শুধুমাত্র
সম্পদ বা কোন বস্তু দেয়া অর্থেই ব্যবহার হয় না বরং বিমূর্ত জিনিস দেয়া অর্থেও
বলা হয়। যেমন কোন ব্যক্তির আনুগত্য গ্রহণ করার জন্য বলা হয় ----- আবার কোন ব্যক্তির
আনুগত্য অস্বীকার করার জন্য বলা হয় ----- কাজেই এ দেয়ার মানে শুধুমাত্র এই নয় যে, তারা আল্লাহর পথে
অর্থ-সম্পদ দান করে বরং আল্লাহর দরবারে আনুগত্য ও বন্দেগী পেশ করাও এর অর্থের অন্তরভূক্ত।
এ অর্থের দৃষ্টিতে আয়াতের পুরোপুরি মর্ম এই দাঁড়ায় যে, আল্লাহর হুকুম পালনের ক্ষেত্রে যা কিছু সদাচার, সেবামূলক কাজ ও ত্যাগ করে সে জন্য একটুও
অহংকার ও তাকওয়ার বড়াই করে না এবং
আল্লাহর প্রিয়পাত্র হয়ে যাবার অহমিকায় লিপ্ত হয় না। বরং নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী সবকিছু করার পরও এ মর্মে
আল্লাহর ভয়ে ভীত হতে থাকে যে, না জানি এসব তাঁর কাছে গৃহীত হবে কিনা এবং রবের কাছে
মাগফেরাতের জন্য এগুলো যথেষ্ট হবে কিনা। ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকেম ও জারির বর্ণিত নিম্মোক্তা
হাদীসটিই এ অর্থ প্রকাশ করে। এখানে
হযরত আয়েশা (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেনঃ 'হে আল্লাহর রসূল! এর অর্থ কি এই যে, এক ব্যক্তি চুরি, ব্যভিচার ও শরাব পান করার সময়ও আল্লাকে ভয় করবে৷'' এ প্রশ্ন থেকে জানা যায়, হযরত আয়েশা একে ---------- অর্থে গ্রহণ করছিলেন অর্থাৎ ''যা কিছু করে করেই যায়। জবাবে নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
------------
''না, হে সিদ্দীকের মেয়ে! এর অর্থ হচ্ছে এমন
লোক, যে নামায পড়ে, রোযা রাখে, যাকাতা দেয় এবং মহান আল্লাহকে ভয় করতে থাকে।''
এ জবাব থেকে জানা যায় যে, আয়াতের সঠিক পাঠ
----- নয় বরং ----- এবং এ ----- শুধু
অর্থ-সম্পদ দান করার সীমিত অর্থে নয় বরং আনুগত্য করার ব্যাপক অর্থে।
একজন মু'মিন কোন্ ধরনের
মানসিক অবস্থা সহকারে আল্লাহর বন্দেগী করে এ আয়াতটি তা বর্ণনা করে। হযরত
উমরের (রা) অবস্থাই এর পূর্ণ চিত্র প্রকাশ করে। তিনি সারা জীবনের অতুলনীয় কার্যক্রমের
পর যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে থাকেন তখন আল্লাহর জবাবদিহির ভয়ে ভীত হতে থাকেন
এবং যেতে থাকেন, যদি আখেরাতে সমান
সমান হয়ে মুক্তি পেয়ে যাই তাহলেও বাঁচোয়া। হযরত হাসান বাসরী (র) বড়ই চমৎকার
বলেছেনঃ মু'মিন আনুগত্য করে
এরপরও ভয় করে এবং মুনাফিক
গোনাহ করে তারপরও নির্ভীক ও বেপরোয়া থাকে।))
খরচ বনাম কৃপণতা :
(৬৬. আল্লাহ কখনো
হারাম ও নাপাক সম্পদকে নিজের
রিযিক হিসেবে আখ্যায়িত করেননি, এর আগে আমরা একথা বলেছি। তাই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, যে পাক-পবিত্র রিযিক
ও যে হালাল উপার্জন আমি তাদেরকে দান করেছি তা থেকে তারা খরচ করে। আবার খরচ করা মানেও সব ধরনের
যা-তা খরচ নয় বরং নিজের ও নিজের পরিবার পরিজনদের বৈধ প্রয়োজন পূর্ণ করা,আত্মীয়, প্রতিবেশী ও
অভাবীদেরকে সাহায্য করা,
জন কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা এবং আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করার জন্য আর্থিকত্যাগ স্বীকার
করা। অযথা খরচ, ভোগ বিলাসিতার জন্য
খরচ এবং লোক দেখানো খরচেকে কুরআন "খরচ" গণ্য করছে না। বরং কুরআনের
পরিভাষায় এ খরচকে অমিতব্যয়িতা ও ফজুল খরচ বলা হয়। অনুরূপভাবে কার্পণ্য ও সংকীর্ণমনতা
সহকারে যা খরচ করা হয়, তার ফলে মানুষ নিজের পরিবার
পরিজনদেরকেও সংকীর্ণতার মধ্যে রাখে এবং নিজেও নিজের মর্যাদা অনুযায়ী প্রয়োজন
পূর্ণ করতে পারে না আর এই সংগে নিজের সামর্থ অনুযায়ী অন্যদেরকে সাহায্য করতেও পিছপা
হয়। এ অবস্থায় মানুষ যদিও কিছু না কিছু খরচ করে কিন্তু কুরআনের ভাষায় এ খরচের নাম
"ইনফাক" নয়। কুরআন একে বলে "কৃপণতা" ও মানসিক সংকীর্ণতা।)
আল্লাহর পথে খরচ না করা :
কৃপণতা করা :
(১৭:১০০) হে
মুহাম্মাদ! এদেরকে বলে দাও,
যদি আমার রবের রহমতের ভাণ্ডার তোমাদের অধীনে থাকতো তাহলে তোমরা
ব্যয় হয়ে যাবার আশংকায় নিশ্চিতভাবেই তা ধরে রাখতে৷ সত্যিই মানুষ বড়ই সংকীর্ণমনা৷
খরচ হবে আর স্থায়ী থাকবে :
বিজয়ের পূর্বে খরচ করা আর বিজয়ের পরে খরচ করা এক নয় :
কি ব্যাপার যে, তোমরা আল্লাহর পথে খরচ করছো না, অথচ যমীন ও আসমানের উত্তরাধিকার তাঁরই৷
তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পরে অর্থ ব্যয় করবে ও জিহাদ করবে তারা
কখনো সেসব বিজয়ের সমকক্ষ হতে পারে না যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জিহাদ
করেছে৷ বিজয়ের পরে ব্যয়কারী ও জিহাদকারীদের তুলনায় তাদের মর্যাদা অনেক বেশী৷ যদিও
আল্লাহ উভয়কে ভাল প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ তোমরা যা করছো
আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত -৫৭:১০,
আল্লাহর পথে খরচের দুনিয়ায় সুফল :
আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম : ৯:৯৯,
রাসুলের কাছ থেকে রহমতের দোয়া লাভের উপায় : ৯:৯৯,
আল্লাহর পথে খরচ করলে, তার চেয়ে বেশী পাওয়া যায় :
(৩৪-সাবা: ৩৯)....যা কিছু
তোমরা ব্যয় করে দাও তার জায়গায় তিনি তোমাদের আরো দেন, তিনি সব রিযিকদাতার চেয়ে ভাল রিযিকদাতা”৷৬০
৬০. রিযিকদাতা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, দাতা এবং এ ধরেনর
আরো বহু গুণ রয়েছে, যা আসলে আল্লাহরই গুন কিন্তু রূপক অর্থে বান্দাদের সাথে ও সংশ্লিষ্ট করা হয়। যেমন আমরা এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলি, সে অমুক ব্যক্তির
রোজগারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অথবা সে এ উপহারটি
দিয়েছে। কিংবা সে অমুক জিনিসটি তৈরি করেছে বা উদ্ভাবন করেছে। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ নিজের জন্য উত্তম রিযিক দাতা শব্দ ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ যাদের সম্পর্কে তোমরা ধারণা করে থাক যে, তারা রুজি দান করে থাকে তাদের সবার চেয়ে আল্লাহ উত্তম
রিযিকদাতা।
আল্লাহর পথে খরচের পরকালীন সুফল :
আল্লাহ নিজের রহমতের ছায়াতলে তাদেরকে আশ্রয় দিবেন :
৯:৯৯, তোমাদের মধ্যে যারা
ঈমান আনবে ও অর্থ -সম্পদ খরচ করবে তাদের জন্য বড় প্রতিদান রয়েছে-৫৭:৭,
যেদিন তোমরা ঈমানদার নারী ও পুরুষদের দেখবে, তাদের ‘নূর’ তাদের সামনে ও ডান দিকে দৌড়াচ্ছে৷ (তাদেরকে বলা হবে) “আজ তোমাদের জন্য
সুসংবাদ৷” জান্নাতসমূহ থাকবে
যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে৷ যেখানে তারা চিরকাল থাকবে৷ এটাই
বড় সফলতা৷ -৫৭:১২,
মুনাফিকদের আল্লাহর পথে খরচের স্বরূপ :
মুনাফিকেরা স্বেচ্ছায় ব্যয় করুক অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যয়
করুক তা কবুল করা হবে না, কেননা তারা ফাসিক : ৯:৫৩, মুনাফিকদের আল্লাহর পথে খরচ
কবুল না করার কারণ তারা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি সঠিক ভাবে ঈমান আনেনি :৯:৫৪, এবং মুনাফিকেরা আল্লাহর পথে খরচ করে
অনিচ্ছাকৃত ভাবে : ৯:৫৪, মুনাফিকেরা নিজেরাতো আল্লাহর পথে জিহাদে ব্যয় করেইনা বরং
যেসব ঈমানদাররা নিজেদের কষ্টার্জিত সম্পদ জিহাদের পথে ব্যয় করে তাদেরকেও বিদ্রুপ
করে, এজন্য আল্লাহও তাদের সাথে বিদ্রুপ করছেন অর্থাৎ তাদেরকে ঈমানের তৌফিক দেবেন
না এবং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তদ শাস্তি : ৯:৭৯,
(৫৭:১৩) সেদিন মুনাফিক নারী পুরুষের অবস্থা হবে এই যে, তারা মু’মিনদের বলবেঃ আমাদের প্রতি একটু লক্ষ কর
যাতে তোমাদের ‘নূর’ থেকে আমরা কিছু
উপকৃত হতে পারি৷ কিন্তু তাদের বলা হবেঃ পেছনে চলে যাও৷ অন্য কোথাও নিজেদের ‘নূর’ তালাশ কর৷ অতপর একটি
প্রাচীর দিয়ে তাদের মাঝে আড়াল করে দেয়া হবে৷ তাতে একটি দরজা
থাকবে৷ সে দরজার ভেতরে থাকবে রহমত আর বাইরে থাকবে আযাব৷(৫৭:১৪) তারা ঈমানদারদের
ডেকে ডেকে বলবে আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? ঈমানদাররা জওয়াব
দেবে হাঁ, তবে তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ফিতনার
মধ্যে নিক্ষেপ করেছিলে , সুযোগের সন্ধানে ছিলে, সন্দেহে নিপতিত ছিলে এবং মিথ্যা আশা-আকাংখা
তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিলো৷ শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ফায়সালা এসে হাজির হলো এবং শেষ মুহুর্ত
পর্যন্ত সে বড় প্রতারক আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা করে চললো৷
আল্লাহর পথে কিছু খরচকে জোরপূর্বক অর্থদন্ড মনে করে যারা :
আরব বেদুইন মুনাফিকরা (গ্রামীন আরব মুনাফিকেরা)আল্লাহর পথে
কিছু খরচকে জোরপূর্বক অর্থদন্ড মনে করে ৯:৯৮,
আল্লাহর পথে খরচ না করার দুনিয়াতে শাস্তি :
আল্লাহ অন্তরে মুনাফিকী বদ্ধমূল করে দেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত
তাদের পিছু ছাড়বে না : ৯:৭৫-৭৭,কৃপণ ধনী যারা নিজেরাতো আল্লাহর পথে ব্যয় করে না
বরং যেসব মু’মিনরা আল্লাহর পথে জিহাদে ব্যয় করে তাদেরকে বিদ্রুপ করে, এ ধরণের
মুনাফিকদের জন্য রাসুল সা:ও যদি সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবুও তাদের ক্ষমা
করা হবে না : ৯:৭৯-৮০,
(৫৭:২২) পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের ওপর যেসব
মুসিবত আসে তার একটিও এমন নয় যে, তাকে আমি সৃষ্টি করার পূর্বে একটি গ্রন্থে লিখে
রাখিনি৷ এমনটি করা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ কাজ৷(২৩) (এ সবই এজন্য) যাতে যে ক্ষতিই তোমাদের হয়ে থাকুক তাতে তোমরা মনক্ষুন্ন না
হও৷ আর আল্লাহ তোমাদের
যা দান করেছেন ৷ সেজন্য গর্বিত না হও৷ যারা নিজেরা নিজেদের বড় মনে করে এবং অহংকার করে, (২৪) নিজেরাও কৃপণতা
করে এবং মানুষকেও কৃপণতা করতে উৎসাহ দেয় আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না৷ এরপর
ও যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আল্লাহ অভাবশূন্য ও অতি প্রশংসিত৷
আল্লাহর পথে খরচ না করার পরকালীন শাস্তি :
(৫৭:১৩) সেদিন মুনাফিক নারী পুরুষের অবস্থা হবে এই যে, তারা মু’মিনদের বলবেঃ আমাদের প্রতি একটু লক্ষ কর
যাতে তোমাদের ‘নূর’ থেকে আমরা কিছু
উপকৃত হতে পারি৷ কিন্তু তাদের বলা হবেঃ পেছনে চলে যাও৷ অন্য কোথাও নিজেদের ‘নূর’ তালাশ কর৷ অতপর একটি
প্রাচীর দিয়ে তাদের মাঝে আড়াল করে দেয়া হবে৷ তাতে একটি দরজা
থাকবে৷ সে দরজার ভেতরে থাকবে রহমত আর বাইরে থাকবে আযাব৷(৫৭:১৪) তারা ঈমানদারদের
ডেকে ডেকে বলবে আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? ঈমানদাররা জওয়াব
দেবে হাঁ, তবে তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ফিতনার
মধ্যে নিক্ষেপ করেছিলে , সুযোগের সন্ধানে ছিলে, সন্দেহে নিপতিত ছিলে এবং মিথ্যা আশা-আকাংখা
তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিলো৷ শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ফায়সালা এসে হাজির হলো এবং শেষ মুহুর্ত
পর্যন্ত সে বড় প্রতারক আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা করে চললো৷ (৫৭: ১৫) অতএব, তোমাদের নিকট থেকে
আর কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না৷ আর তাদের নিকট থেকেও গ্রহণ করা হবে
না যারা সুস্পষ্টভাবে কুফরীরতে লিপ্ত ছিল৷ তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম ৷ সে (জাহান্নাম) তোমাদের খোঁজ
খবর নেবে৷ এটা অত্যন্ত নিকৃষ্ট পরিণতি৷
আল্লাহর পথে খরচ হচ্ছে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেয়া :
এমন কেউ কি আছে যে আল্লাহকে ঋণ দিতে পারে? উত্তম ঋণ যাতে
আল্লাহ তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে ফেরত দেন৷ আর সেদিন তার জন্য রয়েছে সর্বোত্তম
প্রতিদান-৫৭:১১,
(৫৭:১৮) দান সাদকা
প্রদানকারী নারী ও পুরুষ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ
দান করে, নিশ্চয়ই কয়েকগুণ
বৃদ্ধি করে তাদেরকে ফেরত দেয়া হবে৷ তাছাড়াও তাদের জন্য আছে সর্বোত্তম প্রতিদান৷
মু’মিনরা প্রতিশোধ পরায়ন মানসিকতা সম্পন্ন হবে না :
ব্যক্তিগত কষ্টের কারণে দান বন্ধ করা যাবেনা:
যদি চাও আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুক তবে অপরকে ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল :
(নূর:২২) তোমাদের মধ্য থেকে যারা প্রাচুর্য ও
সামর্থের অধিকারী তারা যেন এ মর্মে কসম খেয়ে না বসে যে, তারা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন, গরীব-মিসকীন ও
আল্লাহর পথে গৃহত্যাগকারীদেরকে
সাহায্য করবে না ৷ তাদেরকে ক্ষমা করা ও তাদের দোষ-ক্রটি উপেক্ষা করা উচিত ৷ তোমরা কি চাও না আল্লাহ তোমাদের মাফ করেন? আর আল্লাহ
ক্ষমাশীলতা ও দয়া
গুণে গুণান্বিত ৷
(হযরত আবুবকরে কন্যা ও হযরত মুহাম্মদ সা: এর
স্ত্রী হযরত আয়শা রা: এর বিরুদ্ধে যারা অপবাদ রটনা করেছিল, নবীর পরিবার ও হযরত আবু
বকরকে চরম কষ্ট দিয়েছিল, তথাপি হযরত আবু বকর তাদের প্রতি তার দানের হাত বন্ধ
করেননি। )
অপব্যয় করো না : আরো দেখুন : অ > অপব্যয় :
বাজে খরচ করো না৷ যারা বাজে খরচ করে তারা শয়তানের
ভাই আর শয়তান তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ৷ – (১৬:২৭)
আত্নীয় স্বজন ও অভাবীদেরকে যে দান করা হয়, এটা তাদের প্রতি অনুগ্রহ নয় বরং এটা তাদের অধিকার :
(৩০-রূম: ৩৮) কাজেই (হে মুমিন!) আত্মীয়দেরকে তাদের
অধিকার দাও এবং মিসকীন ও মুসাফির কে (দাও তাদের অধিকার)৷ ৫৭ এ পদ্ধতি এমন লোকদের
জন্য ভালো যারা চায় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তারাই সফলকাম হবে৷ ৫৮
৫৭ . আত্মীয়-স্বজন, মিসকিন ও মুসাফিরদেরকে দান করার কথা বলা হয়নি। বরং
বলা হচ্ছে, এ তাঁর অধিকার এবং
অধিকার মনে করেই তোমাদের এটা দেয়া উচিত। এ অধিকার দিতে গিয়ে তোমার মনে এ ধারণা না
জন্মে যে, তাঁর প্রতি তুমি
অনুগ্রহ করছো এবং তুমি কোন মহান দানশীল সত্ত্বা আর সে কোন একটি সামান্য ও নগণ্য সৃষ্টি, তোমার অনুগ্রহের কণা
ভক্ষণ করেই সে জীবিকা নির্বাহ করে।
বরং একথা ভালোভাবে তোমার মনে গেঁথে যাওয়া উচিত যে, সম্পদের আসল মালিক যদি তোমাকে বেশি এবং অন্য বান্দাদেরকে কম
দিয়ে থাকেন , তাহলে এ বর্ধিত
সম্পদ হচ্ছে এমন সব লোকের
অধিকার যাদেরকে তোমার আওতাধীনে তোমাকে পরীক্ষা করার জন্য দেয়া হয়েছে। তুমি তাদেরকে
এ অধিকার দান করছো কি করছো না এটা তোমার মালিক দেখতে চান।
৫৮ . এর দ্বারা একথা বুঝানো হচ্ছে না
যে, কেবলমাত্র মিসকীন, মুসাফির ও আত্মীয়-স্বজনদের অধিকার দিয়ে দিলেই সাফল্য লাভ করা যাবে এবং এ ছাড়া
সাফল্য লাভ করার জন্য আর কোন জিনিসের প্রয়োজন নেই। বরং এর অর্থ হচ্ছে, যেসব লোক এ
অধিকারগুলো জানে না এবং এ অধিকারগুলো প্রদান করে না তারা সাফল্য লাভ করবে না। বরং সাফল্য লাভ করবে এমনসব
লোক যারা একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি
অর্জনের জন্য অধিকার গুলো জানে এবং এগুলো প্রদান করে।
আল্লাহর পথে খরচ ও কাফের সম্প্রদায় :
তোমাদেরকে আল্লাহ যে রিজিক্ব দিয়েছেন তা থেকে খরচ কর - এ কথা বললে কাফের সম্প্রদায়ের জবাব – আমরা কি তাদেরকে খাওয়াব, যাদেরকে আল্লাহ চাইলে নিজেই খাওয়াতে পারতেন ?
(৩৬-ইয়াসিন :৪৭) এবং যখন এদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদের যে রিযিক দান করেছেন তার মধ্য থেকে কিছু আল্লাহর পথে খরচ করো তখন এসব
কুফরীতে লিপ্ত লোক মু’মিনদেরকে জবাব দেয় “আমরা কি তাদেরকে খাওয়াবো, যাদেরকে আল্লাহ চাইলে নিজেই খাওয়াতেন? তোমরা তো পরিস্কার বিভ্রান্তির শিকার
হয়েছো৷ ৪৩
৪৩. এর মাধ্যমে একথা বলাই উদ্দেশ্য যে, কুফরী কেবল তাদের
দৃষ্টিশক্তিকেই অন্ধ করে দেয়নি বরং তাদের নৈতিক অনূভূতিকেও নির্জীব
করে দিয়েছে। তারা আল্লাহর ব্যাপারেও সঠিক চিন্তা-ভাবনা করে না এবং আল্লাহর
সৃষ্টির সাথেও যথার্থ ব্যবহার করে না। তাদের কাছে রয়েছে প্রত্যেক
উপদেশের উল্টা জবাব। প্রত্যেক পথভ্রষ্টতা ও অসদাচরণের জন্য একটি বিপরীত দর্শন। প্রত্যেক সৎকাজ থেকে দূরে থাকার জন্য একটি মনগড়া বাহানা তাদের কাছে তো রয়েছেই।
=====================================
প্রশ্ন: ৬৫ : হজ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন