কর্মফল :
(৩৯-সুরা
যুমার:৪৮.) সেখানে
তাদের সামনে নিজেদের
কৃতকর্মের সমস্ত মন্দ
ফলাফল প্রকাশ হয়ে
পড়বে। আর যে
জিনিস সম্পর্কে তারা
ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতো
তা-ই তাদের
ওপর চেপে বসবে।
যাবতীয় বিষয়ের শেষ ফায়সালা আল্লাহর হাতে :
(৩১-লোকমান: ২২)....আর যাবতীয়
বিষয়ের শেষ ফায়সালা
রয়েছে আল্লাহরই হাতে৷
যে বিন্দুপরিমাণ সৎকর্ম করবে সেও তা দেখবে আর যে বিন্দু পরিমাণ অসৎকর্ম করবে সেও তা দেখবে :
(৩১-লোকমান: ২৩).....তাদেরকে ফিরে তো
আসতে হবে আমারই
দিকে৷ তখন আমি
তাদেরকে জানিয়ে দেবো
তারা কি সব
কাজ করে এসেছে৷
কর্মফল :
এখন তাদের (পূর্ববর্তী
বহু অসৎ জাতির ) পরে আমি পৃথিবীতে তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি , তোমরা কেমন
আচরণ করো তা দেখার জন্য
– ১০:১৪,
২:২৮১ (কর্মের বদলা পুরোপুরি দেওয়া হবে), ২৮৬, ৩:২২ ( যাদের কর্ম বিফল হয়েছে), ৩:২৪, ২৫, ৩:৫৭,
শেষ আবাস হবে জাহান্নাম এমন সব অসৎকাজের কর্মফল হিসেবে যেগুলো তারা (নিজেদের ভুল আকীদা ও ভূল কার্যধারার কারণে) ক্রমাগতভাবে আহরণ করতো:১০:৭-৮,
আরো বলা হয়েছেঃ
তোমরা তোমাদের রবের
কাছে ক্ষমা চাও
এবং তাঁর দিকে
ফিরে এসো, তাহলে তিনি একটি
দীর্ঘ সময় পর্যন্ত
তোমাদের উত্তম জীবন
সামগ্রী দেবেন এবং অনুগ্রহ
লাভের যোগ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অনুগ্রহ দান
করবেন৷ তবে যদি তোমরা
মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে
আমি তোমাদের ব্যাপারে একটি অতীব ভয়াবহ
দিনের আযাবের ভয়
করছি৷১১:৩।
(১১:১১৫)
আর সবর করো
কারণ আল্লাহ সৎকর্মকারীদের কর্মফল কখনো নষ্ট
করেন
(১৬:১১২) ...তখন আল্লাহ
তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন করালেন
এভাবে যে, ক্ষুধা ও
ভীতি তাদেরকে গ্রাস করলো৷
(১৬:৭) দেখো, তোমরা ভালো
কাজ করে থাকলে
তা তোমাদের নিজেদের
জন্যই ভাল ছিল
আর খারাপ কাজ করে থাকলে
তোমাদের নিজেদেরই জন্য
তা খারাপ প্রমাণিত হবে৷
(হাজ্ব:৪১) .........আর সমস্ত
বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর
হাতে৷
(২৯-আনকাবুত:৫৫)
(এবং এরা জানতে
পারবে) সেদিন যখন
আযাব এদেরকে ওপর
থেকে ঢেকে ফেলবে
এবং পায়ের নীচে থেকেও
আর বলবে, যেসব কাজ
তোমরা করতে এবার
তার মজা বোঝো৷
(৩০-রূম: ১০) শেষ পর্যন্ত যারা অসৎকাজ করেছিল তাদের পরিণাম হয়েছিল বড়ই অশুভ,
কারণ তারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা বলেছিল এবং তারা সেগুলোকে বিদ্রুপ করতো৷
(৩২- আস-সাজদা
: ১৯) যারা ঈমান
এনেছে এবং যারা
সৎকাজ করেছে তাদের
জন্য তো রয়েছে
জান্নাতের বাসস্থান , ৩২
আপ্যায়নের জন্য তাদের
কাজের প্রতিদানস্বরূপ৷
৩২ . অর্থাৎ সেই জান্নাতগুলো নিছক
তাদের প্রমোদ উদ্যান
হবে না বরং
সেখানেই হবে তাদের
আবাস। চিরকাল তারা সেখানে
বসবাস করবে।
ফলাফল কি কর্ম অনুযায়ী হয় ? না তাকদীর অনুযায়ী ?
আরো দেখুন : প > প্রতিদান / পুরস্কার।
সবাই
কর্ম অনুযায়ীই
ফলাফল লাভ
করবে :
(৩৭- আস
সফ্ফাত :৩৮) (এখন তাদেরকে
বলা হবে) তোমরা
নিশ্চিতভাবেই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির
স্বাদ গ্রহণ করবে৩৯) এবং পৃথিবীতে তোমরা যে সমস্ত
কাজ করতে তারই
প্রতিদান তোমাদের দেয়া
হচ্ছে৷
(৩৬-ইয়াসিন :৫৪)
আজ কারো প্রতি তিলমাত্র জুলুম করা হবে
না এবং যেমন কাজ তোমরা করে এসেছ ঠিক তারই প্রতিদান তোমাদের দেয়া হবে ।
(৩৬-ইয়াসিন :৬৩) এটা সে জাহান্নাম,
যার ভয় তোমাদের দেখানো হতো৷ ৬৪) দুনিয়ায় যে
কুফরী তোমরা করতে
থেকেছো তার ফলস্বরূপ আজ এর ইন্ধন
হও৷
(নূর:৩৮) (আর
তারা এসব কিছু
এ জন্য করে)
যাতে আল্লাহ তাদেরকে
তাদের সর্বোত্তম কর্মের প্রতিদান দেন
এবং তদুপরি নিজ
অনুগ্রহ দান করেন
৷ আল্লাহ যাকে
চান বেহিসেব দান করেন৷৬৯
(৬৯ . আল্লাহর আসল
আলো উপলব্ধি ও তার
ধারায় অবগাহন করার
জন্য যেসব গুনের
প্রয়োজন এখানে সেগুলোর
ব্যাখ্যা করে দেয়া হয়েছ।
আল্লাহ অন্ধ বন্টনকারী নন। যাকে ইচ্ছা
এমনি বিনা কারণে
তার পাত্র এমনভাবে ভরে দেবেন
যে, উপচে পড়ে
যেতে থাকবে আবার
যাকে ইচ্ছ গলা
ধাক্কা দিয়ে বের
করে দেবেন,
এটা আল্লাহর বন্টন
নীতি নয়। তিনি
যাকে দেন, দেখেশুনেই দেন।
সত্যের নিয়ামত দান করার
ব্যাপারে তিনি যা
কিছু দেখেন তা
হচ্ছেঃ মানুষের মনে
তাঁর প্রতি ভালোবাসা, আগ্রহ, আকর্ষণ,
ভয় এবং তাঁর
পুরস্কার গ্রহনের আকাংখা
ও ক্রোধ থেকে
বাঁচার অভিলাষ আছে। সে
পার্থিব স্বার্থ পূজায়
নিজেকে বিলীন করে
দেয়নি। বরং যাবতীয়
কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও তার সমগ্র
হৃদয়-মন আচ্ছন্ন
করে থাকে তার
মহান প্রতিপালকের স্মৃতি।
সে রসাতলে যেতে চায়
না বরং কার্যত
এমন উচ্চমার্গে উন্নীত
হতে চায় যেদিক
তার মালিক তাকে পথ দেখাতে
চায়। সে এ দু'দিনের জীবনের লাভ
প্রত্যাশী হয় না
বরং তার দৃষ্টি
থাকে আখেরাতের চিরন্তন জীবনের
ওপর। এসব কিছু
দেখে মানুষকে আল্লাহর
আলোয় অবগাহন করার সুযোগ দেবার
ফায়সালা করা হয়।
তারপর যখন আল্লাহ
দেবার জন্য এগিয়ে
আসে তখন এত
বেশী দিয়ে দেন যে, মানুষে নিজের নেবার
পাত্র সংকীর্ণ থাকলে
তো ভিন্ন কথা, নয়তো তাঁর দেবার ব্যাপারে কোন
সীমাবদ্ধতা এবং শেষ
সীমানা নেই।)
যেমন কর্ম তেমন ফল : তবে সৎকাজের প্রতিদান সৎকাজের তুলনায় বেশী দেওয়া হবে:
(৩০-রূম: ৪৪)
যে কুফরী করেছে
তাঁর কুফরীর শাস্তি
সেই ভোগ করবে৷ আর যারা
সৎকাজ করেছে তারা নিজেদেরই জন্য সাফল্যের পথ পরিষ্কার করছে,
(২৭-নমল:৯০)
আর যারা অসৎ
কাজ নিয়ে আসবে, তাদের সবাইকে অধোমুখে
আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ
করা হবে৷ তোমরা কি
যেমন কর্ম তেমন
ফল - ছাড়া অন্য
কোন প্রতিদান পেতে
পার?
(কুরআন মজীদের বহু জায়গায় একথা
সুস্পষ্ট করে বলে
দেয়া হয়েছে যে, আখেরাতে অসত কাজের
প্রতিদান ঠিক ততটাই দেয়া হবে
যতটা কেউ অসত
কাজ করেছে এবং
সতকাজের প্রতিদান আল্লাহ
মানুষের প্রকৃত কাজের তুলনায় অনেক
বেশী দেবেন। এ
সম্পর্কিত আরো বেশী
দৃষ্টান্তের জন্য দেখুন
সূরা ইউনুস ২৬-২৭, আল কাসাস-৮৪, আনকাবুত-৭, সাবা-৩৭-৩৮ এবং
আল মু'মিন ৪০
আয়াত।)
(দেখুন : স > সৎকাজ)
জান্নাত দেওয়া হবে মানুষকে তার কর্মফল এর পুরস্কার স্বরূপ :
(ফুরকান:১৫) এদের
বলো, এ পরিণাম
ভলো অথবা সেই
চিরন্তন জান্নাত যার
প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছ মুত্তাকীদেরকে? সেটি হবে
তাদের কর্মফল এবং
তাদের সফরের শেষ
মনযিল৷
১৬) সেখানে তাদের
প্রত্যেকটি ইচ্ছা পূর্ণ
হবে৷ তার মধ্যে
তারা থাকবে চিরকাল
তা প্রদান করা হবে
তোমার রবের দায়িত্বের অন্তরভুক্ত একটি অবশ্য
পালনীয় প্রতিশ্রুতি৷
জান্নাতে এমনকিছু রয়েছে যা চোখ কোনদিন দেখেনি, কান কোনদিন শুনেনি এবং হৃদয় যার কল্পনাও করতে পারেনি :
(৩২- আস-সাজদা
: ১৭) তারপর কেউ
জানে না তাদের
কাজের পুরস্কার হিসেবে
তাদের চোখের শীতলতার
কি সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখা হয়েছে৷ ২৯
২৯ . বুখারী, মুসলিম , তিরমিযী
ও মুসনাদে আহমাদে
বিভিন্ন সূত্রে হযরত
আবু হুরাইরা (রা)
বর্ণিত এই হাদীসে কুদসীটি উদ্ধৃত হয়েছে যে, নবী (সা ) বলেছেনঃ
----------------------------
" আল্লাহ বলেন, আমার সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য আমি
এমনসব জিনিস সংগ্রহ
করে রেখেছি যা কখনো
কোন চোখ দেখেনি, কোন
কান শোনেনি এবং
কোন মানুষ কোনদিন
তা কল্পনাও করতে পারে
না।"
এ বিষয়বস্তু সামান্য
শাব্দিক হেরফের করে
হযরত আবু সাঈদ
খুদরী (রা) , হযরত মুগীরাহ ইবনে
শু'বা (রা)
এবং হযরত সাহল
ইবনে সা'আদ সায়েদী
নবী করীম (সা)
থেকে রেওয়াযাত করেছেন এবং
মুসলিম,
আহমাদ, ইবনে জারীর
ও তিরমিযী সহীহ
সনদ সহকারে তা উদ্ধৃত করেছেন।
(বিস্তারিত দেখুন : জ > জান্নাত, ও জ > জাহান্নাম) ।
আলকাতরার পোষাক :
(১৪:৪৯) সেদিন
তোমরা অপরাধীদের দেখবে, শিকলে তাদের হাত
পা বাঁধা, ৫০) আলকাতরার পোশাক পরে
থাকবে এবং আগুনের
শিখা তাদের চেহারা
ডেলে ফেলতে থাকবে৷ ৫১) এটা
এ জন্য হবে
যে, আল্লাহ প্রত্যেকে তার
কৃতকর্মের বদলা দেবেন৷
হিসেব নিতে আল্লাহর একটুও দেরী
হয় না৷
একজনের কর্মফল আরেকজন ভোগ করবে না : একজনের শাস্তি অন্যজনকে দেওয়া হবে না :
এ বিষয়ে আরো
দেখুন : পরকাল (পাপের বোঝা)
বিস্তারিত দেখুন : ব > বোঝা ।
(নুর:৫৪) ... তাহলো
ভালোভাবে জেনে রাখো, রসূলের ওপর যে
দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে
দেয়া হয়েছে সে জন্য রাসূল
দায়ী এবং তোমাদের
ওপর যে দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেয়া
হয়েছে সে জন্য তোমরাই
দায়ী ৷
তবে : কাউকে পথভ্রষ্ট করে থাকলে ঐ ব্যক্তির পাপের বোঝাও বহন করতে হবে : তাই বলে তার পাপ কমবে না:
(১৬:২৫) এসব কথা
তারা এজন্য বলছে
যে, কিয়ামতের দিন তারা
নিজেদের বোঝা পুরোপুরি উঠাবে আবার সাথে সাথে
তাদের বোঝাও কিছু
উঠাবে যাদেরকে তারা
অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্ট করছে৷ দেখো,
কেমন কঠিন দায়িত্ব, যা
তারা নিজেদের মাথায়
নিয়ে নিচ্ছে৷
জমীনে ও সাগরে বিপর্যয় মানুষের দুই হাতের উপার্জন :
(৩০-রূম: ৪১)
মানুষের কৃতকর্মের দরুন
জলে-স্থলে বিপর্যয়
দেখা দিয়েছে, যার ফলে
তাদেরকে তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন করানো
যায়, হয়তো তারা
বিরত হবে৷
(বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : ব
> বিপর্যয় > জমীনে ও সাগরে বিপর্যয় মানুষের দুই হাতের উপার্জন। )
যারা আল্লাহ সাথে
কুফরীর নীতি অবলম্বন
করে রেখেছে তাদের
ওপর তাদের কৃতকর্মের দরুন কোন না কোন
বিপর্যয় আসতেই থাকে
অথবা তাদের ঘরের
কাছেই কোথাও তা
অবতীর্ণ হয়৷ এ ধারাবাহিকতা চলতেই
থাকবে যে পর্যন্ত
না আল্লাহর ওয়াদা
পূর্ণ হয়ে-১৩:৩১,
নিজ হাতে সুতা কাটার পর নিজেই তা কুটি কুটি করে ছিড়ে
ফেলা
:
(১৬:৯২) তোমাদের অবস্থা
যেন সেই মহিলাটির মতো না হয়ে
যায় যে নিজ
পরিশ্রমে সূতা কাটে
এবং তারপর নিজেই তা
ছিঁড়ে কুটি কুটি
করে ফেলে৷ তোমরা
নিজেদের কসমকে পারস্পরিক ব্যাপারে ধোঁকা ও প্রতারণার হাতিয়ারে পরিণত করে
থাকো,
যাতে এক দল অন্য দলের
তুলনায় বেশী ফায়দা
হাসিল করতে পারো৷
অথচ আল্লাহ এ
অংগীকারের মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করেন৷ আর কিয়ামতের দিন অবশ্যই
তিনি তোমাদের সমস্ত
মতবিরোধের রহস্য উন্মোচিত করে দেবেন৷
দুনিয়াতে খারাপ কাজের কিছু কিছু কর্মফল
ভোগ করানো হয়, যাতে মানুষ সতর্ক হয়ে সঠিক পথে ফিরে আসে :
(আরো দেখুন : দ > দাওয়াতী কাজ > দাওয়াতী কাজে আল্লাহর নীতি সমূহ )
(৩২:২১) সেই
বড় শাস্তির পূর্বে
আমি এ দুনিয়াতেই (কোন না কোন
) ছোট শাস্তির স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন
করাতে থাকবো, হয়তো তারা
(নিজেদের বিদ্রোহাত্মক নীতি
থেকে ) বিরত হবে৷
("বড় শাস্তি"
বলতে আখেরাতের শাস্তিকে বুঝানো
হয়েছে। কুফরী ও
ফাসেকীর অপরাধে এ
শাস্তি দেয়া হবে।
এর মোকাবিলায় "ছোট শাস্তি"
শব্দ ব্যবহার করা
হয়েছে । এর
অর্থ হচ্ছে এ
দুনিয়ায় মানুষ যেসব কষ্ট
পায় সেগুলো। যেমন
ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন
রোগ, নিজের প্রিয়তম লোকদের মৃত্যু, ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মারাত্মক ক্ষতি,
ব্যর্থতা ইত্যাদি। সামাজিক
জীবনে ঝড়-তুফান, ভূমিকম্প, বন্যা, মহামারী, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, যুদ্ধ এবং
আরো বহু আপদ-বিপদ, যা লাখো লাখো
কোটি কোটি মানুষকে
প্রভাবিত করে। এসব
বিপদ অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন ও
কল্যাণকর দিক বর্ণনা
করে বলা হয়েছে, এর ফলে বড়
শাস্তি ভোগ করার
আগেই যেন মানুষ সচেতন হয়ে
যায় এবং এমন
চিন্তা ও অন্যকথায় এর অর্থ হবে
, দুনিয়ায় আল্লাহ মানুষকে একেবারেই পরমানন্দে রাখেননি। নিশ্চিন্তে ও
আরামে জীবনের গাড়ি
চলতে থাকলে মানুষ এ ভুল
ধারণায় লিপ্ত হয়ে
পড়বে যে, তার চেয়ে
বড় আর কোন
শক্তি নেই যে, তার কোন ক্ষতি করতে পারে।
বরং আল্লাহ এমন
ব্যবস্থা করে রেখেছেন
যার ফলে মাঝে
মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি , জাতি ও
দেশের ওপর এমন
সব বিপদ-আপদ
পাঠাতে থাকেন, যা তাদেরকে
একদিকে নিজেদের অসহায়তা এবং
অন্যদিকে নিজেদের চেয়ে
বড় ও উর্ধ্বে
একটি মহাপরাক্রমশালী সর্বব্যাপী শাসন ব্যবস্থার অনুভূতি দান করে।
এ বিপদ প্রত্যেকটি ব্যক্তি,
দল ও জাতিকে একথা স্মরণ
করিয়ে দেয় যে, তোমাদের ভাগ্য ওপরে
অন্য একজন নিয়ন্ত্রণ করছেন। সবকিছু তোমাদের হাতে
দিয়ে দেয়া হয়নি।
আসল ক্ষমতা রয়েছে
তার হাতে যিনি
কর্তৃত্ব সহকারে এসব কিছু
করে চলছেন। তার
পক্ষ থেকে যখনই
কোন বিপদ তোমাদের
ওপর আসে , তার বিরূদ্ধে কোন
প্রতিরোধ তোমরা গড়ে
তুলতে পারো না
এবং কোন জিন, রূহ ,দেব-দেবী, নবী বা অলীর কাছে
সাহায্য প্রার্থনা করেও
তার পথ রোধ
করতে সক্ষম ও
না।
এদিক দিয়ে বিচার
করলে এ বিপদ
নিছক বিপদ নয়
বরং আল্লাহর সতর্ক
সংকেত। মানুষকে সত্য জানাবার এবং তার
বিভ্রান্তি দূর করার
জন্য একে পাঠানো
হয়। এর থেকে
শিক্ষা গ্রহণ করে যদি
মানুষ দুনিয়াতেই নিজের
বিশ্বাস ও কর্ম
শুধরে নেয় তাহলে
আখেরাতে আল্লাহর বড় শাস্তির
মুখোমুখি হবার তার
কোন প্রয়োজনই দেখা
দেবে না।)
(তওবা: ১২৬) এরা কি
দেখে না, প্রতি বছর
এদেরকে দুএকটি পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়? ১২৫ কিন্তু এরপরও এরা
তাওবাও করে না
কোন শিক্ষাও গ্রহণ
করে না৷
১২৫ . অর্থাৎ এমন
কোন বছর অতিবাহিত হয়
না যখন তাদের
ঈমানের দাবী এক
দুবার পরীক্ষার সম্মুখীন হয় না এবং এভাবে তার
অন্তসারশূন্যতা প্রকাশ হয়ে
যায় না। কখনো
কুরআনে এমন কোন
হুকুম আসে যার মাধ্যমে তাদের
ইচ্ছা ও প্রবৃত্তির আশা আকাংখার ওপর
কোন নতুন বিধি
নিষেধ আরোপ করা হয়। কখনো
দীনের এমন কোন
দাবী সামনে এসে
যায় যার ফলে
তাদের স্বার্থ ক্ষুন্ন
হয়। কখনো এমন কোন
আভ্যন্তরীণ , সংকট সৃষ্টি হয়
যার মাধ্যমে তারা
নিজেদের পার্থিব সম্পর্ক এবং নিজেদের
ব্যক্তিগত,
পারিবারিক ও গোত্রীয় স্বার্থের মোকাবিলায় আল্লাহর ও তার
রসূলের দীনকে কি
পরিমাণ ভালবাসে তার
পরীক্ষা করাই উদ্দেশ্য হয়। কখনো এমন কোন যুদ্ধ
সংঘটিত হয় যার
মাধ্যমে তারা যে
দীনের ওপর ঈমান
আনার দাবী করছে
তার জন্য ধন, প্রাণ , সময়
ও শ্রম ব্যয়
করতে তারা কতটুকু
আগ্রহী তার পরীক্ষা
হয়ে যায়। এ
ধরনের সকল অবস্থায় কেবল
তাদের মিথ্যা অংগীকারের মধ্যে যে মুনাফিকীর আবর্জনা চাপা পড়ে
আছে তা শুধু উন্মুক্ত হয়ে সামনে চলে
আসে না বরং
যখন তারা ঈমানদের
দাবী থেকে মুখ
ফিরিয়ে নিয়ে পালাতে থাকে
তখন তাদের ভেতরের
ময়লা আবর্জনা আগের
চাইতে আরো বেশী
বেড়ে যায়।
(৩০-রূম: ৪১)
মানুষের কৃতকর্মের দরুন
জলে-স্থলে বিপর্যয়
দেখা দিয়েছে, যার ফলে
তাদেরকে তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন করানো
যায়, হয়তো তারা
বিরত হবে৷ ৬৪
৬৪ . এখানে আবার
রোম ও ইরানের মধ্যে যে
যুদ্ধ চলছিল এবং
যার আগুন সমগ্র
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল
সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
"লোকদের স্বহস্তের উপার্জন"
বাক্যাংশের অর্থ হচ্ছে, ফাসেকী , অশ্লীলতা, জুলুম ও
নিপীড়নের এমন একটি ধারা
যা শিরক ও
নাস্তিক্যবাদের আকীদা- বিশ্বাস অবলম্বন ও
আখেরাতকে উপেক্ষা করার
ফলে অনিবার্যভাবে মানবিক
নৈতিক গুণাবলী ও
চরিত্রের মধ্যে সৃষ্টি হয়ে
থাকে। " হয়তো তারা
বিরত হবে" এর
অর্থ হচ্ছে, আখেরাতে শাস্তি
লাভ করার পূর্বে আল্লাহ
এ দুনিয়ায় মানুষের
সমস্ত নয় বরং
কিছু খারাপ কাজের
ফল এজন্য ভোগ করান যে, এর ফলে সে
প্রকৃত সত্য উপলব্ধি
করবে এবং নিজের
চিন্তাধারার ভ্রান্তি অনুধাবন করে নবীগণ
সবসময় মানুষের সামনে
যে সঠিক বিশ্বাস
উপস্থাপন করে এসেছেন
এবং যা গ্রহণ না করলে
মানুষের কর্মধারাকে সঠিক
বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত করার দ্বিতীয় কোন পথ নেই
সেদিকে ফিরে আসবে।
কুরআন মজীদের বিভিন্ন
স্থানে,
এ বিষয়টি বর্ণনা
করা হয়েছে। যেমন
দেখুন,
আত তাওবা, ১২৬; আর রা'আদ,
২১ ; আস সাজদাহ, ২১
এবং আত তূর, ৪৭ আয়াত।
৩৭. এটি সূরা
আস সাজদার ২১ আয়াতের বিষয়বস্তুর পুনরাবৃত্তি । সেখানে
বলা হয়েছে "সেই
বড় আযাবের পূর্বে
আমি দুনিয়াতেই তাদেরকে কোন না
কোন ছোট আযাবের
স্বাদ ভোগ করাতে
থাকবো । হয়তো
এরা তাদের বিদ্রোহত্মক আচরণ
থেকে বিরত হবে"
। অর্থাৎ দুনিয়াতে মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত ও জাতিগত পর্যায়ে আযাব
নাযিল করে আমি
তাদের একথা স্বরণ
করিয়ে দিতে থাকবো
যে, ওপরে
কোন এক উচ্চতর
শক্তি তাদের ভাগ্যের
ফায়সালা করছে ।
তাঁর ফায়সালা পরিবর্তন করার শক্তি কেউ রাখে
না । তবে
যারা জাহেলিয়াতের মধ্যে
ডুবে আছে তারা
এ ঘটনাবলী থেকে পূর্বেও কোন
শিক্ষা গ্রহণ করেনি
এবং ভবিষ্যতেও কখনো
করবে না ।
দুনিয়াতে যেসব বিপর্যয় আসে তারা
তার অর্থ বুঝে
না । তাই
তারা এসব বিপর্যয়ের এমন এমন সব
ব্যাখ্যা করে যা তাদেরকে
সত্য উপলব্ধি করা
থেকে আরো দূরে
নিয়ে যায় ।
নিজেদের নাস্তিকতা বা শিরকের ক্রুটি
ধরা পড়ে তাদের
মেধা ও মস্তিষ্ক এমন ব্যাখ্যার দিকে
কখনো আকৃষ্ট হয় না ।
একটি হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম এ বিষয়টি
ব্যক্ত করেছেন । তিনি
বলেছেনঃ
------------------------------
"মুনাফিক যখন অসুস্থ
হয়ে পড়ে এবং
পরে যখন সুস্থ
হয়ে যায় তখন
তার অবস্থা হয়
সেই উটের মত যাকে
তার মালিক বেঁধে
রাখলো কিন্তু সে
বুঝলো না তাকে
কেন বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং
তারপর আবার যখন
খুলে দিল তখনও
সে কিছু বুঝলো
না তাকে কেন ছেড়ে
দেয়া হলো" । ( আরো
ব্যাখ্যার দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আল আম্বিয়া, টীকা ৪৫; আন নামল, টীকা ৬৬; আল আনকাবূত, টীকা ৭২
ও ৭৩) ।
মানুষকে বিপদে আপদে বা দু:খ দুর্দশায় ও দুর্ভিক্ষে নিক্ষেপ করা হয় যাতে তারা বিনম্র হয়ে সঠিক পথে ফিরে আসে :
আমি যখনই কোন
জনপদে নবী পাঠিয়েছি, সেখানকার লোকেদেরকে প্রথমে অর্থকষ্ট ও দুঃখ -দুর্দশায় সম্মুখীন করেছি,
একথা ভেবে যে, হয়তো তারা বিনম্র
হবে ও নতি
স্বীকার করবে-৭:১৯৪,
ফেরাউনের লোকদেরকে আমি
কয়েক বছর পর্যন্ত
দুর্ভিক্ষ ও ফসলহানিতে আক্রান্ত করেছি এ উদ্দেশ্যে যে,
হয়তো তাদের চেতনা
ফিরে আসবে৷-৭:১৩০,
আর আমি ভাল
ও খারাপ অবস্থায়
নিক্ষেপ করার মাধ্যমে
তাদেরকে পরীক্ষা করতে
থাকি,
হয়তো তারা ফিরে আসবে-৭:১৬৮,
লোকদেরকে
হেদায়াত দান করার পর আবার তাদেরকে পথভ্রষ্ট করা
আল্লাহর রীতি নয়, যতক্ষন না তিনি তাদেরকে
কোন জিনিস থেকে সংযত হয়ে চলতে হবে তা পরিস্কার করে
জানিয়ে দেন৷ আসলে
আল্লাহ প্রত্যেকটি জিনিসের জ্ঞান রাখেন :৯:১১৫,
এরা
কি দেখে না, প্রতি বছর এদেরকে দুএকটি পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়? কিন্তু
এরপরও এরা তাওবাও করে না কোন শিক্ষাও
গ্রহণ করে না -৯:১২৬,
(মু’মিনুন:৭৫) যদি
আমি তাদের প্রতি
করুণা করি এবং
বর্তমানে তারা যে
দুঃখ-কষ্টে ভুগছে
তা দূর করে দেই, তাহলে তারা নিজেদের
অবাধ্যতার স্রোতে একেবারেই ভেসে যাবে৷৭৬) তাদের
অবস্থা হচ্ছে এই
যে, আমি তাদের
দুঃখ-কষ্টে ফেলে
দিয়েছি,
তারপরও তারা নিজেদের রবের সামনে
নত হয়নি এবং
বিনয় ও দীনতাও
অবলম্বন করে না
৷
ভ্রমণ কর পৃথিবীতে এবং মিথ্যাবাদীদের পরিণাম দেখ:
দেখুন : ভ > ভ্রমণ > ভ্রমণ কর পৃথিবীতে এবং মিথ্যাবাদীদের পরিণাম দেখ।
কর্ম ভালো ও মন্দের মিশ্রণ যাদের, তাদের কি হবে ? :
১।
যাদের
কর্ম
মিশ্র
ধরণের
কিছু
ভালো,
কিছু
মন্দ,
অসম্ভব
নয়,
আল্লাহ
তাদের
প্রতি
আবার
মেহেরবান
হয়ে
যাবেন
:
আরো কিছু লোক আছে, যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিয়েছে৷ তাদের কাজকর্ম
মিশ্র ধরনের কিছু ভাল, কিছু মন্দ৷ অসম্ভব নয়, আল্লাহ তাদের প্রতি আবার মেহেরবান হয়ে
যাবেন৷ কারণ , তিনি ক্ষমাশীল ও করুণাময়-৯:১০২,
(৩৪-সাবা: ৪) আর
এ কিয়ামত এ
জন্য আসবে যে, যারা ঈমাম এনেছে
ও সৎকাজ করতে
থেকেছে তাদেরকে আল্লাহ পুরস্কৃত করবেন, তাদের জন্য রয়েছে
মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিযিক৷৫) আর যারা আমার আয়াতকে ব্যর্থ করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে তাদের জন্য রয়েছে
ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি৷৮
৮. ওপরে আখেরাতের সম্ভাবনার যুক্তি পেশ
করা হয়েছিল এবং
এখানে তার অপরিহার্যতার যুক্তি উপস্থাপন করা
হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে,
এমন একটি সময়
অবশ্যই আসা উচিত
যখন জালেমদেরকে তাদের
জলুমের এবং সৎকর্মশীলদেরকে তাদের সৎকাজের
প্রতিদান দেয়া হবে। যে সৎকাজ করবে
সে পুরস্কার পাবে এবং যে খারাপ
কাজ করবে সে
শাস্তি পারে, সাধারণ বিবেক
বৃদ্ধি এটা চায়
এবং এটা ইনসাফেরও দাবী। এখন যদি তোমরা
দেখো, বর্তমান জীবনে
প্রত্যেকটি অসৎলোক তার অসৎকাজের পুরোপুরি সাজা
পাচ্ছে না। এবং প্রত্যেকটি সৎলোক তার সৎকাজের
যথার্থ পুরস্কার লাভ করছে না
বরং অনেক সময়
অৎসকাজ ও সৎকাজের
উলটো ফলাফল পাওয়া
যায়, তাহলে তোমাদের স্বীকার
করে নিতে হবে
যে, যুক্তি, বিবেক ও
ইনসাফের এ অপরিহার্য দাবী একদিন অব্শ্যই পূর্ণ
হতে হবে। সেই দিনের
নামই হচ্ছে কিয়ামত
ও আখেরাত। তার আসা
নয় বরং না আসাই বিবেক ও
ইসসাফের বিরোধী।
এ প্রসংগে ওপরের
আয়াত থেকে আর
একটি বিষয়ও সুস্পষ্ট হয়ে যায়। এখানে বলা হয়েছে,
ঈমান ও সৎকাজের
ফল হচ্ছে গোনাহের
মার্জনা ও সম্মানজনক রিযিক লাভ এবং
যারা আল্লাহর দীনকে হেয়
করার জন্য বিদ্বিষ্ট ও শক্রতামূলক প্রচেষ্টা চালাবে তাদের জন্য
রয়েছে নিকৃষ্টমূলক শাস্তি। এ থেকে আপনাআপনি একথা স্পষ্ট হয়ে
গেছে যে, সাচ্চা দিলে যে ব্যক্তি ঈমান আনবে
তার কাজের মধ্যে
যদি কিছু গলদও
থাকে তাহলে সে
সম্মানজনক রিযিক না পেয়ে থাকলেও মাগফিরাত থেকে বঞ্চিত হবে
না। আর যে
ব্যক্তি কুফরী করবে
কিন্তু আল্লাহর সত্য দীনের
মোকাবিলায় বিদ্বেষমূলক ও
বৈরী নীতি অবলম্বন
করবে না সে
শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে
না ঠিকই কিন্তু
নিকৃষ্টমূলক শাস্তি তার
জন্য নয়।
২। কুরআনের প্রতি আমল, আনুগত্য ও আচরণের দিক থেকে মুসলমানদেরকে কুরআনে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে : ক। জুলুমকারী খ। মধ্যপন্থী গ। অগ্রবর্তী – তিনিটি দলই কি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পাবে ?
(৩৫-ফাতির:৩২)
তারপর আমি এমন
লোকদেরকে এ কিতাবের
উত্তরাধিকারী করেছি যাদেরকে
আমি ( এ উত্তরাধিকারের জন্য) নিজের
বান্দাদের মধ্য থেকে
বাছাই করে নিয়েছি৷৫৫ এখন তাদের
মধ্য থেকে কেউ
নিজের প্রতি জুলুমকারী, কেউ
মধ্যপন্থী এবং কেউ
আল্লাহর হুকুমে সৎকাজে
অগ্রবর্তী,
এটিই অনেক বড়
অনুগ্রহ৷ ৫৬
৫৬. অর্থাৎ এ
মুসলমানরা সবাই একরকম নয়। বরং এরা তিন
শ্রেনীতে বিভক্ত হয়ে
গেছে।
এক- নিজেদের প্রতি
জুলুমকারী। এরা হচ্ছে
এমনসব লোক যারা
আন্তরিকতা সহকারে কুরআনকে আল্লাহ কিতাব
এবং মুহাম্মাদ (সা)
কে আল্লাহর রসূল
বলে মানে কিন্তু
কার্যত আল্লাহর কিতাব ও
রসূলের সুন্নাতের অনুসরণের হক আদায় করে
না। এরা মু'মিন কিন্তু গোনাহদার। অপরাধী কিন্তু বিদ্রোহী নয়। দুর্বল ঈমানদার, তবে মুনাফিক
এবং চিন্তা ও মননের দিক
দিয়ে কাফের নয়
। তাই এদেরকে আত্মনিপীড়ক হওয়া সত্তেও কিতাবের
ওয়ারিসদের অন্তরভূক্ত এবং আল্লাহর
নির্বাচিত বান্দাদের মধ্যে
শামিল করা হয়েছে
। নয়তো একথাসুস্পষ্ট,
বিদ্রোহী, মুনাফিক এবং চিন্তা
ও মননের দিক
দিয়ে কাফেরদের প্রতি
এ গুনাবলী আরোপিত হতে পারে
না তিন শ্রেণীর
মধ্য থেকে এ
শ্রেণীর ঈমানদারদের কথা
সবার আগে বলার কারণ
হচ্ছে এই যে
উম্মাতের মধ্যে এদের
সংখ্যাই বেশী ।
দুইঃ মঝামাঝি অবস্থানকারী।এরা হচ্ছে
এমন লোক যারা
এ উত্তরাধিকারের হক কমবেশী আদায় করে
কিন্তু পুরোপুরি করে
না । হুকুম পালন করে
এবং অমান্যও করে
। নিজেদের প্রবৃত্তিকে পুরোপুরি লাগামহীন করে ছেড়ে দেয়নি
বরং তাকে আল্লাহর
অনুগত করার জন্য নিজেদের যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালায় কিন্তু
কখনো তার বাগডোর
ঢিলে করে দেয়
এবং গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে
। এভাবে এদের জীবনে
ভালো ও মন্দ
উভয় ধরনের কাজের
সমাবেশ ঘটে। এরা সংখ্যায় প্রথম দলের
চইতে কম এবং
তৃতীয় দলের চেয়ে
বেশী হয় । তাই এদেরকে
দু' নম্বরে রাখা হয়েছে ।
তিনঃ ভালো কাজে
যারা অগ্রবর্তী । এরা হয়
কিতাবের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে প্রথম সারির লোক
। এরাই আসলে এ
উত্তরাধিকারের হক আদায়কারী । কুরআন ও সুন্নাতের অনুসরণের ক্ষেত্রেও এরা অগ্রগামী । আল্লাহর পয়গাম তাঁর
বান্দাদের কাছে পৌছিয়ে
দেবার ক্ষেত্রেও এরা এগিয়ে
থাকে । সত্যদীনের জন্য ত্যাগ
স্বীকারেও এরাই এগিয়ে
যায় । তাছাড়া সত্য, ন্যায়, সুকৃতি ও
কল্যাণের যে কোন
কাজেও এরাই হয়
অগ্রবর্তী । এরা জেনে বুঝে গোনাহ
করে না । আর অজান্তে
কোন গোনাহর কাজ আনুষ্ঠিত হলেও সে সম্পর্কে জানার সাথে সাথেই এদের
মাথা লজ্জায় নত
হয়ে যায়। প্রথম দু'টি দলের
তুলনায় উম্মাতের মধ্যে এদের সংখ্যা
কম । তাই এদের
কথা সবার শেষে
বলা হয়েছে, যদিও উত্তরাধিকারের হক আদায় করার ক্ষত্রে
এরাই অগ্রগামী ।
"এটিই অনেক বড়
অনুগ্রহ" বাক্যটির সম্পর্ক
যদি নিকটতম বাক্যের
সাথে ধরে নেয়া
হয় তাহলে এর অর্থ
হবে, ভলো কাজে
অগ্রগামী হওয়াই হচ্ছে
বড় অনুগ্রহ এবং
যারা এমনটি করে মুসলিম উম্মতের
মধ্যে তারাই সবার
সেরা । আর এ
বাক্যটির সম্পর্ক পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে মিল রেখে
করা হলে এর
অর্থ হবে, আল্লাহর কিতাবের
উত্তরাধিকারের জন্য নির্বাচিত হওয়াই বড়
অনুগ্রহ এবং আল্লাহর
সকল বান্দাদের মধ্যে
সেই বান্দাই সর্বশ্রেষ্ঠ যে কুরআন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের প্রতি ঈমান
এনে নির্বাচনে সফলকাম হয়েছে ।
৩।
গোনাহগার মু’মিন/ মুসলমান যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে – তাদের শেষফল কি হবে ?
(৩৫-ফাতির:৩২)..... এখন তাদের
মধ্য থেকে কেউ
নিজের প্রতি জুলুমকারী, কেউ
মধ্যপন্থী এবং কেউ
আল্লাহর হুকুমে সৎকাজে অগ্রবর্তী, এটিই
অনেক বড় অনুগ্রহ৷ ৫৬ ৩৩) চিরস্থায়ী জান্নাতে তারা প্রবেশ
করবে৷ ৫৭ সেখানে তাদেরকে সোনার কংকন ও
মুক্তা দিয়ে সাজানো
হবে৷ সেখানে তাদের
পোশাক হবে রেশমের ৩৪) এবং
তারা বলবে- আল্লাহর
শোকর,যিনি আমাদের
দঃখ মোচন করেছেন৷ ৫৮ অবশ্যই আমাদের রব ক্ষমাশীল ও
গুণের সমাদরকারী,৫৯
৫৭. মুফাসসিরগণের একটি
দলের মতে এ
বাক্যের সম্পর্ক নিকটবর্তী দু'টি বাক্যের
সাথেই রয়েছে । অর্থাৎ সৎকাজে অগ্রগামীরাই বড়
অনুগ্রহের অধিকারী এবং
তারাই এ জান্নাতগুলোতে প্রবেশ করবে। অন্যদিকে প্রথম দু'টি দলের ব্যাপারে নিরবতা অবলম্ব করা
হয়েছে,
যাতে তারা নিজেদের পরিণামের কথা চিন্তা করে
এবং নিজেদের বর্তমান
অবস্থা থেকে বের
হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে
যাবার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে পারে। আল্লামা যামাখ্ শারী
এ অভিমতটি বলিষ্ঠভাবে বিবৃত
করেছেন এবং ঈমাম
রাযী একে সমর্থন
দিয়েছেন।
কিন্তু অধিকাংশ মুফাস্ সির বলেন,
ওপরের সমগ্র আলোচনার সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। আর এর অর্থ
হচ্ছে,
এ তিনটি দলই শেষ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে,
কোন প্রকার হিসেব-নিকেশ ছাড়াই বা হিসেব নিকেশের পর এবং সব রকমের জবাবাদিহি থেকে সংরক্ষিত থেকে অথবা কোন শাস্তি পাওয়ার পর যে কোন অবস্থাতেই হোক না কেন কুরআনের পূর্বাপর আলোচনা এ ব্যাখ্যার প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। কারণ
সামনের দিকে কিতাবের উত্তরাধিকারীদের মোকাবিলায় অন্যান্য দল সম্পর্কে বলা হচ্ছে,
আর যারা কুফরী করেছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। এ থেকে
জানা যায়,
যারা এ কিতাবকে মেনে নিয়েছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং যারা এর প্রতি ঈমান আনতে অস্বীকার করেছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীসও এর প্রতি সমর্থন জানায়। হযরত
আবুদ দারদা এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে উদ্ধৃত করেছেন ইমাম আহমাদ,
ইবনে জারীর,
ইবনে আবী হাতেম,
তাবারানী, বায়হাকী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ। হাদীসে
নবী করীম ﷺ বলছেনঃ
فَأَمَّا الَّذِينَ سَبَقُوا
فَأُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَأَمَّا
الَّذِينَ اقْتَصَدُوا فَأُولَئِكَ الذين يُحَاسَبُونَ حِسَاباً يَسِيراً وَأَمَّا
الَّذِينَ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ يُحْبَسُونَ فِى طُولِ
الْمَحْشَرِ ثُمَّ هُمُ الَّذِينَ تتلقاهم اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ فَهُمُ الَّذِينَ
يَقُولُونَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِى أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ
"যারা সৎকাজে এগিয়ে
গেছে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে কোনরকম
হিসেব-নিকেশ ছাড়াই। আর যারা
মাঝপথে থাকবে তাদের
হিসেব -নিকেশ হবে, তবে তা হবে
হালকা। অন্যদিকে যারা নিজেদের প্রতি জুলুম
করেছে তাদেরকে হাশরের
দীর্ঘকালীন সময়ে আটকে
রাখা হবে, তারপর তাদেরকে আল্লাহর রহমতের
মধ্যে নিয়ে নেয়া
হবে এবং এরাই
হবে এমনসব লোক
যারা বলবে, সেই আল্লাহর শোকর যিনি
আমাদের থেকে দু:খ দূর
করে দিয়েছেন" ।
এ হাদীসে নবী
করীম (সা) নিজেই
এ আয়াতটির পুরোপুরি ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। এখানে ঈমানদারদের তিনটি শ্রেণীর
পরিণাম আলাদা আলাদাভাবে তুলে ধরেছেন। মাঝখানে অবস্থানকারীদের হালকা জবাবদিহির সম্মুখীন হবার অর্থ
হচ্ছে,
কাফেরদেরকে তো তাদের কুফরীর শাস্তি
ছাড়াও তাদের প্রত্যেকটি অপরাধ ও গোনাহের
পৃথক শাস্তিও দেয়া
হবে। কিন্তু এর বিপরীতে ঈমানদারদের মধ্যে
যারা ভালো ও
মন্দ উভয় ধরনের
কাজ নিয়ে হাজির
হবে তাদের সৎ ও
অসৎ কাজগুলোর সম্মিলিত হিসেব -নিকেশ হবে। প্রত্যেক সৎকাজের জন্য
আলাদা পুরস্কার ও প্রত্যেক অসৎ কাজের জন্য
আলাদা শাস্তি দেয়া
হবে না। আর ঈমানদারদের মধ্যে থেকে যারা নিজেদের
প্রতি জুলুম করবে
তাদেরকে হাশরের সমগ্র
সময় -কালে আটকে
রাখা হবে - একথার অর্থ
হচ্ছে এই যে, তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ
করা হবে না
বরং তাদেরকে আদালতের কার্যকাল শেষ
হওয়া পর্যন্ত আটকে
রাখার শাস্তি দেয়া
হবে। অর্থাৎ হাশরের সমগ্র সময় -কাল
(না জানি তা
কত শত বছরের
সমান দীর্ঘ হবে)
তার পূর্ণ কঠোরতা
সহকারে তাদের ওপর দিয়ে
অতিক্রান্ত হবে। শেষ পর্যন্ত
আল্লাহ তাদের প্রতি
রহম করবেন এবং আদালতের কাজ
শেষ হবার সময়
হুকুম দেবেন, ঠিক আছে, এদেরকেও জান্নাতে দিয়ে
দাও। এ বিষয়বস্তু সম্বলিত বিভিন্ন
উক্তি মুহাদ্দিসগণ বিভিন্ন
সাহাবী যেমন, হযরত উমর (রা), হযরত
উসমান (রা), হযরত
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ
(রা), হযরত আবুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা),
হযরত আয়েশা (রা),
হযরত আবু সাঈদ
ধুদরী (রা) এবং
হযরত বারাআ ইবনে
আজেব (রা) থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আর একথা বলা
নিস্প্রয়োজন যে, সাহাবীগণ এহেন
ব্যাপারে কোন কথা
ততক্ষণ পর্যন্ত বলতে পারেন
না। যতক্ষণ না তাঁরা
নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া
সাল্লামের মুখে তা শুনে থাকবেন।
কিন্তু এ থেকে
একথা মনে করা
উচিত নয় যে, মুসলমানদের মধ্য থেকে
যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে
তাদেরকে কেবলমাত্র আদালত
সমাপ্তিকালীন সময় পর্যন্ত
আটকে রাখারই শাস্তি দেয়া হবে
এবং তাদের মধ্য
থেকে কেউ জাহান্নামে যাবেই না। কুরআন ও হাদীসে বহুবিধ অপরাধের
কথা উল্লেখিত হয়েছে। এসব অপরাধকারীদের ঈমানও
তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারবে
না। যেমন যে
মু'মিন কোন
মু'মিনকে জেনে বুঝে
হত্যা করে আল্লাহ
নিজেই তার জন্য জাহান্নামের শাস্তি ঘোষণা করেছেন। অনুরূপভাবে উত্তরাধিকার আইনের
আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমারেখা ভংগকারীদের জন্যও কুরআন
মজীদে জাহান্নামের শাস্তির
ভয় দেখানো হয়েছে। সূদ হারাম
হবার হুকুম জারী
হবার পর যারা
সূদ খাবে তাদের
জন্য পরিস্কার বলে দেয়া
হয়েছে,
তারা আগুনের সাথি। এ ছাড়াও আরো
কোন কোন কবীরাহ গোনাহকারীদের জন্যও
হাদীসে সুস্পষ্টভাবে বলে
দেয়া হয়েছে যে, তারা জাহান্নামে যাবে।
৫৮. সব ধরনের
দু:খ। দুনিয়ায় যেসব চিন্তা
ও পেরেশানীতে আমরা
লিপ্ত ছিলাম তার
হাত থেকেও মুক্তি
পাওয়া গেছে। কিয়ামতে নিজের পরিণাম
সম্পর্কে যে দুশ্চিন্তা ছিল তাও খতম
হয়ে যাবে এবং
এখন সামনের দিকে অখন্ড
নিশ্চিন্ততা,
সেখানে কোন প্রকার
দু:খ কষ্টের
প্রশ্নই থাকে না।
৫৯. অর্থাৎ আমাদের
অপরাধ তিনি ক্ষমা করে
দিয়েছেন এবং কর্মের
যে সামান্যতম পুঁজি
আমরা সাথে করে
নিয়ে এসেছিলাম তাকে বিপুল
মর্যাদা ও মূল্যদান করে তার বিনিময়ে
তাঁর জান্নাত আমাদের
দান করেছেন।
সমস্ত ব্যাপার আল্লাহর দিকেই ফিরে যায় : ৮:৪৪ (وَإِلَى
اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ)
কর্মফল নষ্ট হয়ে যাবে যাদের :
১। আল্লাহ এবং ফেরেশতাদেরকে যেসব অবিশ্বাসীরা দেখতে চায়, তারা অহংকারী এবং তাদের পরিণতি :
(১৭:৯২) অথবা
তুমি আকাশ ভেংগে
টুকরো টুকরো করে
তোমার হুমকি অনুযায়ী
আমাদের ওপর ফেলে দেবে৷ অথবা
আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে নিয়ে
আসবে৷
(ফুরকান:২১) যারা
আমার সামনে হাজির
হবার আশা করে
না তারা বলে, “ কেন আমাদের কাছে
ফেরেশতা পাঠানো হয় না
? অথবা আমরা আমাদের
রবকে দেখি না
কেন ? বড়ই অহংকার
করে তারা নিজেদের
মনে মনে এবং সীমা
অতিক্রম করে গেছে
তারা অবাধ্যতায়৷২২) যেদিন
তারা ফেরেশতাদের দেখবে
সেটা অপরাধীদের জন্য
কোন সুসংবাদের দিন
হবে না৷ চিৎকার করে উঠবে
তারা,
“হে আল্লাহ ! বাচাও
বাচাও”
২৩) এবং তাদের
সমস্ত কৃতকর্ম নিয়ে
আমি ধূলোর মতো
উড়িয়ে দেবো৷
(এ একই বিষয়বস্তু সূরা আন'আমের ৮
আয়াতে এবং সূরা
হিজরের ৭-৮
এবং ৫১-৬৪
আয়াতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এছাড়াও সূরা বনী
ইসরাঈলের ৯০ থেকে
৯৫ পর্যন্ত আয়াতেও কাফেরদের অনেকগুলো অদ্ভুত এ অভিনব
দাবীর সাথে এগুলোর
উল্লেখ করে তার
জবাব দেয়া হয়েছে। ব্যাখ্যার জন্য
দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ইবরাহীম ৩৫
ও ৩৬ টীকা।)
কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করতে হবে : ঈমান ও সৎকর্ম ছাড়া নবীর আত্নীয় বা নবীর স্ত্রী-পুত্র হলেও কোন কাজ হবেনা , অন্য কারো সুপারিশে মুক্তি পাওয়ার প্রশ্নই আসেনা :
দেখুন : স > সুপারিশ > পরকালে হাশরের ময়দানে কোন আত্মীয়তা কাজে আসবে না :
নবীর স্ত্রীও যদি অশ্লীল কাজ করে তবে তাদেরকেও কোন ছাড় দেওয়া হবেনা,
বরং তাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি
:
ঈমান না আনলে মুহাম্মদ সা: এর আত্মীয়দেরকেও আত্মীয়তার ভিত্তিতে কোনরূপ সুপারিশ লাভের সুবিধা দেওয়া হয়নি :
কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়ে যাবে কাদের ? যারা আখিরাত অস্বীকার করে ?
আমার নিদর্শনসমূহকে যারাই মিথ্যা
বলছে এবং আখেরাতের সাক্ষাতের কথা অস্বীকার করেছে তাদের
সমস্ত কর্মকাণ্ড ব্যর্থ
হয়ে গেছে ৷ যেমন কর্ম
তেমন ফল- এ ছাড়া
লোকেরা কি আর
কোন প্রতিদান পেতে
পারে?-৭:১৪৭,
কর্মফল :
কর্মের প্রতিদান হিসেবে জান্নাত দেওয়া হবে :
সে সময় আওয়াজ ধ্বনিত হবে : তোমাদেরকে এই যে জান্নাতের উত্তরাধিকারী বানানো হয়েছে, এটা তোমরা লাভ করেছো সেই সমস্ত কাজের প্রতিদানে যেগুলো তোমরা অব্যাহত ভাবে করতে”-৭:৪৩,
যেমন কর্ম তেমন ফল :
ক্রমাগত ভাবে সত্য অস্বীকার করার কারণে হেদায়েত লাভের তৌফিক ছিনিয়ে নেয়া হয় ফলে পরকালীন শাস্তির যোগ্য হয়ে পড়ে :
কোন প্রকার অধিকার
ছাড়াই যারা পৃথিবীতে বড়াই করে বেড়ায়, শীঘ্রই আমার নিদর্শনসমূহ থেকে আমি
তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে
দেবো৷ তারা আমার
যে কোন নিদর্শন
দেখলেও তার প্রতি ঈমান
আনবে না৷ তাদের
সামনে যদি সোজা
পথ এসে যায়
তাহলে তারা তা
গ্রহণ করবেনা৷ আর যদি
বাঁকা পথ দেখতে
পায় তাহলে তারা
ওপর চলতে আরম্ভ
করবে৷ কারণ তারা
আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছে
এবং সেগুলোর ব্যাপারে বেপরোয়া থেকেছে৷ আমার নিদর্শনসমূহকে যারাই মিথ্যা বলছে
এবং আখেরাতের সাক্ষাতের কথা অস্বীকার করেছে তাদের সমস্ত
কর্মকাণ্ড ব্যর্থ হয়ে
গেছে ৷
যেমন কর্ম তেমন
ফল- এ ছাড়া
লোকেরা কি আর
কোন প্রতিদান পেতে পারে?-৭:১৪৬-১৪৭,
কর্মনীতি :
কর্মনীতির সংশোধন যারা করবে : ৭:৩৫,
আমল বরবাদ হয়ে গিয়েছে কাদের ?
====================
প্রশ্ন ৩৪ : কোরআন তো ইতিহাসের কিতাব নয় তাহলে এতো ইতিহাস কেন বর্ননা করা হয়েছে???
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন