শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯

কথা





আল্লাহর নামে এমন কথা বলা যা আসলে আল্লাহ বলেন নি, সবচেয়ে বড় হারাম : :৩৩, :৩৭
(মুমিনুন:৯১)....এরা যেসব কথা তৈরী করে তা থেকে আল্লাহ পাক-পবিত্র৷
(২১:২২) যদি আকাশে ও পৃথিবীতে এক আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ইলাহ হতো তাহলে (পৃথিবী ও আকাশ) উভয়ের ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যেতো৷  কাজেই এরা যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছে আরশের প্রভুব আল্লাহ  তা থেকে পাক-পবিত্র৷ 
(২০:২৮) (হে আল্লাহ)  এবং আমার জিভের জড়তা দূর করে দাও, যাতে লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে৷

মূসা : এর সাথে তুর পর্বতে আল্লাহ যে কথা বলেছিলেন তার প্রকৃত স্বরূপ  কি ছিল ?

বিস্তারিত দেখুন : > নবীদের জীবনের ঘটনাবলী > হযরত মূসা আ: > তুর পর্বত বা তুওয়া উপত্যকা কোথায় অবস্থিত ? যে পাহাড়ে মূসা : আগুন জ্বলতে দেখেছিলেন বর্তমানে এর অবস্থান কোথায় ?

বাজে কথা / বাজে কাজ  থেকে দুরে থাকা :

(মুমিনুন:৩) (মু’মিনরা)  বাজে কাজ থেকে দূরে থাকে, (তারাই সফলকাম)
''যখন এমন কোন জায়গা দিয়ে তারা চলে যেখানে বাজে কথা হতে থাকে অথবা বাজে কাজের মহড়া চলে তখন তারা ভদ্রভাবে সে জায়গা অতিক্রম করে চলে যায়''
(আল ফুরকান, ৭২ আয়াত)

স্ত্রীকে মা বলে দিলেই মা হয়ে যায়না বা  তালাক হয়ে যায়না, এটি গোণাহের কথা এবং কাফফারা যোগ্য অপরাধ :

(৩৩-আহযাব: )…….এসব তো হচ্ছে এমন ধরনের কথা যা তোমরা সম্মুখে উচ্চারণ করো, কিন্তু আল্লাহ এমন কথা বলেন যা প্রকৃত সত্য এবং তিনিই সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন৷  
(বিস্তারিত দেখুন : > যিহার, > তালাক)
"যিহার" আরবের একটি বিশেষ পরিভাষাপ্রাচীন কালে আরবের লোকেরা স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করতে করতে কখনো একথা বলে বসতো, "তোমার পিঠ আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের মতো" একথা কারো মুখ থেকে একবার বের হয়ে গেলেই মনে করা হতো, এ মহিলা এখন তার জন্য হারাম হয়ে গেছেকারণ সে তাকে তার মায়ের সাথে তুলনা করেছেএ ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, স্ত্রীকে মা বললে বা মায়ের সাথে তুলনা করলে সে মা হয়ে যায় নামা তো গর্ভধারিনী জন্মদাত্রীনিছক মুখে মা বলে দিলে প্রকৃত সত্য বদলে যায় নাএর ফলে যে স্ত্রী ছিল সে তোমাদের মুখের কথায় মা হয়ে যাবে না(এখানে যিহার সম্পর্কিত শরীয়াতের বিধান বর্ণনা করা উদ্দেশ্য নয় যিহার সম্পর্কিত আইন বর্ণনা করা হয়েছে সূরা মুজাদিলার ২-৪ আয়াতে)


কথার ফুলঝুড়ি, কথার মালা, গাল-গল্প, লাহওয়াল হাদীস / নাটক / গল্প কবিতা / গান বাজনা   :

(৩১-লোকমান: ৬) আর মানুষদেরই মধ্যে এমনও কেউ আছে,   যে মনোমুগ্ধকর কথা   কিনে আনে লোকদেরকে জ্ঞান ছাড়াই   আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য এবং এ পথের আহ্বানকে হাসি-ঠাট্টা করে উড়িয়ে দেয়৷   ধরনের লোকদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব৷  ৭) তাকে যখন আমার আয়াত শুনানো হয় তখন সে বড়ই দর্পভরে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন সে তা শুনেইনি, যেন তার কান কালা৷ বেশ, সুখবর শুনিয়ে দাও তাকে একটি যন্ত্রণাদায়ক আযাবের৷  
৫ . অর্থাৎ একদিকে তো আল্লাহর পক্ষ থেকে এ পথনির্দেশনা ও অনুগ্রহ এসেছে, যা থেকে কিছু লোক লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে ঐ সমস্ত সৌভাগ্যবান লোকদের পাশাপাশি এমন দুর্ভাগ্য লোকেরাও রয়ে গেছে যারা আল্লাহর আয়াতের মোকাবিলায় এ কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করেছে
৬ . আসল শব্দ হচ্ছে "লাহওয়াল হাদীস" অর্থাৎ এমন কথা যা মানুষকে আত্ম-সমাহিত করে অন্য প্রত্যেকটি জিনিস থেকে গাফিল করে দেয়শাব্দিক অর্থের দিক দিয়ে এ শব্দগুলোর মধ্যে নিন্দার কোন বিষয় নেইকিন্তু খারাপ, বাজে ও অর্থহীন কথা অর্থে শব্দটির ব্যবহার হয়যেমন গালগল্প, পুরাকাহিনী, হাসি-ঠাট্টা, কথা-কাহিনী, গল্প, উপন্যাস, গান বাজনা এবং এ জাতীয় আরো অন্যান্য জিনিস
'লাহওয়াল হাদীস' কিনে নেয়ার এ অর্থও হতে পারে যে, ঐ ব্যক্তি সত্য কথা বাদ দিয়ে মিথ্যা কথা গ্রহণ করে এবং সঠিক পথনির্দেশনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে এমন কথার প্রতি আগ্রহান্বিত হয় যার মাধ্যমে তার জন্য দুনিয়াতেও কোন মঙ্গল নেই এবং আখেরাতেও নেই কিন্তু এটি এই বাক্যাংশটির রূপক অর্থ এর প্রকৃত অর্থ এই যে, মানুষ তার নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে কোন বাজে জিনিস কিনেএ ব্যাখ্যার সমর্থনে বহু হাদীসও রয়েছে ইবনে হিশাম মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের হাদীস উদ্ধৃত করেছেনতাতে তিনি বলেছেন, মক্কার কাফেরদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যখন এ দাওয়াত সম্প্রসারিত হয়েই চলছিল তখন নদ্বর ইবনে হারেস কুরাইশ নেতাদেরকে বললো, তোমরা যেভাবে এ ব্যক্তির মোকাবিলা করছো, তাতে কোন কাজ হবে নাএ ব্যক্তি তোমাদের মধ্যেই জীবন যাপন করে শৈশব থেকে প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছেছেআজ পর্যন্ত নৈতিক চরিত্রের দিকে দিয়ে সে ছিল তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে সত্যবাদী ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোকএখন তোমরা বলছো, সে গণক, যাদুকর, কবি, পাগলএকথা কে বিশ্বাস করবে ৷ যাদুকর কোন ধরনের তুকতাক কারবার চালায় তা কি লোকেরা জানে না ৷ গণকরা কি সব কথাবার্তা বলে তা কি লোকদের জানতে বাকি আছে ৷ লোকেরা কি কবি ও কবিতা চর্চার ব্যাপারে অনভিজ্ঞপাগলার কেমন কেমন করে তাকি লোকেরা জানে না ৷ এ দোষগুলো মধ্য থেকে কোনটি মুহাম্মদ (সা) এর ওপর প্রযোজ্য হয় যে, সেটি বিশ্বাস করার জন্য তোমরা লোকদেরকে আহ্বান জানাতে পারবে ৷ থামো, এ রোগের চিকিৎসা আমিই করবোএরপর সে মক্কা থেকে ইরাক চলে গেলোসেখান থেকে অনারব বাদশাহদের কিস্‌সা কাহিনী এবং রুস্তম ও ইসফিন্দিয়ারের গল্পকথা সংগ্রহ করে এনে গল্প বলার আসর জমিয়ে তুলতে লাগলো তার উদ্দেশ্য ছিল, এভাবে লোকেরা কুরআনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং এসব গল্প- কাহিনীর মধ্যে ডুবে যাবে(সীরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খণ্ড, ৩২০-৩২১পৃঃ) আসবাবুন নযুলের মধ্যে এ বর্ণনাটি ওয়াহেদী কালবী ও মুকাতিল থেকে উদ্ধৃত করেছেনইবনে আব্বাস (রা) এর ওপর আরো এতটুকু বৃদ্ধি করেছেন যে, নদ্বর এ উদ্দেশ্যে গায়িকা বাঁদীদেরকেও কিনে এনেছিলকোন ব্যক্তি সম্পর্কে নবী (সা) এর কথায় প্রভাবিত হতে চলেছে বলে তার কাছে খবর এলেই সে তার জন্য নিজের একজন বাঁদী নিযুক্ত করতো এবং তাকে বলে দিতো ওকে খুব ভালো করে পানাহার করাও ও গান শুনাও এবং সবসময় তোমার সাথে জড়িয়ে রেখে ওদিক থেকে ওর মন ফিরিয়ে আনোবিভিন্ন জাতির বড় বড় অপরাধীরা প্রত্যেক যুগে যেসব ধুর্তামী ও চালবাজীর আশ্রয় নিয়ে এসেছে এ প্রায় সে একই ধরনের চালবাজি ছিলতারা জনগণকে খেল-তামাশা ও নাচগানে (কালচার) মশগুল করতে থাকেএভাবে তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার প্রতি নজর দেবার চেতনাই থাকে না এবং এ অস্তিত্ব জগতের মধ্যে তারা একথা অনুভবই করতে পারে না যে, তাদেরকে এক ভয়াবহ ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
লাহওয়াল হাদীসের এ ব্যাখ্যাই বিপুল সংখ্যক সাহাবী ও তাবেঈ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে (রা) জিজ্ঞেস করা হয়, এ আয়াতে যে লাহওয়াল হাদীস শব্দ এসেছে এর তাৎপর্য কি ৷ তিনি তিনবার জোর দিয়ে বলেন, "আল্লাহর কসম এর অর্থ হচ্ছে গান" (ইবনে জারীর, ইবনে আবি শাইবাহ, হাকেম, বায়হাকী) প্রায় এ একই ধরনের উক্তি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) , জাবের ইবনে আবদুল্লাহ, মুজাহিদ, ইকরামাহ, সাঈদ ইবনে জুবাইর , হাসান বাসরী ও মাকহূল থেকে উদ্ধৃত হয়েছেইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতেম ও তিরমিযী হযরত আবু উমামাহ বাহেলীর (রা) হাদীস উদ্ধৃত করেছেন তাতে নবী (সা) বলেছেনঃ
----------------------------------------
" গায়িকা মেয়েদের কেনাবেচা ও তাদের ব্যবসায় করা হালাল নয় এবং তাদের দান নেয়াও হালাল নয়"
অন্য একটি হাদীসে শেষ বাক্যটির শব্দাবলী হচ্ছেঃ ---------" তাদের মূল্য খাওয়া হারাম" অন্য একটি হাদীসে একই আবু উমামাহ থেকে নিম্নোক্ত শব্দাবলী উদ্ধৃত হয়েছেঃ
-----------------------
'বাঁদীদেরকে গান-বাজনা করার শিক্ষা দেয়া এবং তাদের বেচা-কেনা করা হালাল নয় এবং তাদের দাম হারাম"
এ তিনটি হাদীসে একথা সুস্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে যে, ----------আয়াতটি এ ব্যাপারেই নাযিল হয়কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী 'আহকামুল কুরআনে' হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক ও ইমাম মালেকের বরাত দিয়ে হযরত আনাস (রা) একটি রেওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন তাতে বলা হয়েছে , নবী সাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেনঃ
-------------------------
" যে ব্যক্তি গায়িকা বাঁদীর মাহফিলে বসে তার গান শুনবে, কিয়ামতের দিন তার কানে গরম শীসা ঢেলে দেয়া হবে"
(এ প্রসঙ্গে একথা জেনে নেয়া উচিত যে, সে যুগে গান-বাজনার "সংস্কৃতি" বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বরং পুরোপুরি বাঁদীদের বদৌলতেই জীবিত ছিলস্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত মেয়েরা সেকালে "আর্টিষ্ট" হননিতাই নবী (সা) গায়িকাদের কেনা-বেচার কথা বলেছেন, দাম শব্দের সাহায্যে তাদের "ফী" র ধারণা দিয়েছেন এবং গায়িকা মেয়েদের জন্য "কাইনা"শব্দ ব্যবহার করেছেনআরবী ভাষায় বাঁদীদের জন্য এ শব্দটি বলা হয়)
৭ . "জ্ঞান ছাড়াই" শব্দের সম্পর্কে "কিনে আনে" এর সাথেও হতে পারে আবার "বিচ্যুত করে" এর সাথেও হতে পারেযদি প্রথম বাক্যাংশের সাথে এর সম্পর্ক মেনে নেয়া হয়, তাহলে এর অর্থ হবে, সেই মূর্খ অজ্ঞ লোক এই মনোমুগ্ধকর জিনিসটি কিনে নেয় এবং সে জানে না কেমন মূল্যবান জিনিস বাদ দিয়ে সে কেমন ধ্বংসকর জিনিস কিনে নিচ্ছেএকদিকে আছে জ্ঞান ও সঠিক পথনির্দেশনা সমৃদ্ধ আল্লাহর আয়াতবিনামূল্যে সে তা লাভ করছে কিন্তু তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অন্যদিকে রয়েছে সব অর্থহীন ও বাজে জিনিসসেগুলো চিন্তা ও চরিত্রশক্তি ধ্বংস করে দেয়নিজের টাকা পয়সা খরচ করে সে সেগুলো লাভ করছেআর যদি একে দ্বিতীয় বাক্যাংশের সাথে সম্পর্কযুক্ত মনে করা হয় , তাহলে এর অর্থ হবে যে, সে জ্ঞান ছাড়াই লোকদের পথ দেখাচ্ছে এবং আল্লাহর সৃষ্টিকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে সে যে নিজের ঘাড়ে কত বড় জুলুমের দায়ভাগ চালিয়ে নিচ্ছে, তা সে জানে না
৮ . অর্থাৎ এ ব্যক্তি লোকদেরকে কিস্‌সা-কাহিনী গান-বাজনায় মুশগুল করে আল্লাহর আয়াতের প্রতি বিদ্রুপ করতে চায়সে কুরআনের এ দাওয়াতকে ঠাট্টা-তামাশার মধ্যে উড়িয়ে দিতে চায় আল্লাহর দীনের সাথে লড়াই করার জন্য সে যুদ্ধের এমনসব নকশা তৈরি করতে চায় যেখানে একদিকে মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর আয়াত শোনাতে বের হবেন, অন্যদিকে কোন সুশ্রী ও সুকণ্ঠী গায়িকার মাহফিল গুলজার হতে থাকবে, আবার কোথাও কোন বাচাল কথক ইরান-তুরানের কাহিনী শুনাতে থাকবে এবং লোকেরা এসব সাংস্কৃতিক তৎপরতায় আকণ্ঠ ডুবে গিয়ে আল্লাহ, আখেরাত ও নৈতিক চরিত্রনীতির কথা শোনার মুডই হারিয়ে ফেলবে
৯ . এ শাস্তি তাদের অপরাধের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারিত তারা আল্লাহর দ্বীন, তার আয়াত ও তার রসূলকে লাঞ্ছিত করতে চায়এর বদলায় আল্লাহ তাকে কঠিন লাঞ্ছনাকর আযাব দেবেন



পবিত্র কথা : যেখানে এর অর্থ কালিমা তাইয়্যেবা :

(হাজ্ব:২৪) তাদেরকে পবিত্র কথা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে  এবং তাদেরকে দেখানো হয়েছে শ্রেষ্ঠ গুণাবলী সম্পন্ন আল্লাহর পথ৷
(যদিও পবিত্র কথা শব্দের অর্থ ব্যাপক কিন্তু এখানে এর অর্থ হচ্ছে সে কালেমায়ে তাইয়েবা ও সৎ আকীদ-বিশ্বাস যা গ্রহণ করে সে মু'মিন হয়েছে)

পবিত্র কথা পবিত্র কাজ তথা সৎকথা সৎকাজ দুটির সমন্বয়েই একজন মানুষ সম্মন মর্যাদা লাভ করতে পারে :

(৩৫-ফাতির:১০)...তাঁর কাছে শুধুমাত্র পবিত্র কথাই ওপরের দিকে আরোহণ করে এবং সৎকাজ তাকে ওপরে ওঠায়৷২১  আর যারা অনর্থক চালবাজী করে ২২ তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি এবং তাদের চালবাজী নিজেই ধ্বংস হবে৷ 
২১. এ হচ্ছে মর্যাদা লাভ করার আসল উপায় আল্লাহর কাছে মিথ্যা, কলুষিত ও ক্ষতিকারক কথা কখনো উচ্চ মর্যাদা লাভ করে না তাঁর কাছে একমাত্র এমন কথা উচ্চ মর্যাদা লাভ করে যা হয় সত্য , পবিত্র-পরিচ্ছন্ন, বাস্তব ভিত্তিক, যার মধ্যে সদিচ্ছা সহকারে একটি ন্যয়নিষ্ঠ আকিদা-বিশ্বাস ও একটি সঠিক চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে তারপর একটি পবিত্র কথাকে যে জিনিসটি উচ্চ মর্যাদার দিকে নিয়ে যায় সেটি হচ্ছে কথা অনুযায়ী কাজ যেখানে কথা খুবই পবিত্র কিন্তু কাজ তার বিপরীত সেখানে কথার পবিত্রতা নিস্তেজ ও শক্তিহীন হয়ে পড়ে কেবলমাত্র মুখে কথার খই ফুটালে কোন কথা উচ্চ মর্যাদায উন্নীত হয় না বরং এ জন্য সৎকাজের শক্তিমত্তার প্রয়োজন হয়
এখানে একথাও অনুধাবন করতে হবে যে, কুরআন মজীদ ভালো কথা ও ভালো কাজকে পরস্পরের অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য বিষয় হিসেবে পেশ করেকোন কাজ নিছক ভালো হতে পারে না যতক্ষন না তার পেছনে থাকে ভালো আকীদা বিশ্বাসআর কোন ভালো আকীদা-বিশ্বাস এমন অবস্থায় মোটেই নির্ভরযোগ্য হতে পারে না যতক্ষন না মানুষের কাজ তার প্রতি সমর্থন যোগায় এবং তার সত্যতা প্রমান করেকোন ব্যক্তি যদি মুখে বলতে থাকে, আমি এক ও লা-শরীক আল্লাহকে মাবুদ বলে মানি কিন্তু কার্যত সে গাইরুল্লাহর ইবাদাত করে, তাহলে এ কাজ তার কথাকে মিথ্যা প্রমাণিত করেকোন ব্যক্তি যদি মুখে মদ হারাম বলতে থাকে এবং কার্যত মদ পান করে চলে, তাহলে শুধুমাত্র তার কথা মানুষের দৃষ্টিতেও গৃহীত হতে পারে না, আর আল্লাহর কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না
২২. অর্থাৎ বাতিল ও ক্ষতিকর কথা নিয়ে এগিয়ে আসে তারপর শঠতা ,প্রতারণা ও মনোমুদ্ধকর যুক্তির মাধ্যমে তাকে সামনের দিকে এগিয়ে দেবার চেষ্টা করে এবং তার মোকাবেলায় সত্য ও হক কথাকে ব্যর্থ করার জন্য সবচেয়ে খারাপ ব্যবস্থা আবলম্বন করতেও পিছপা হয় না

আল্লাহ সম্বন্ধে  মনগড়া ও বানানো কোন কথা গ্রহণযোগ্য নয় :

(মুমিনুন:৯১)....এরা যেসব কথা তৈরী করে তা থেকে আল্লাহ পাক-পবিত্র৷


আল্লাহ তোমাদের সব কথাই জানেন :

(২০:৭) তুমি যদি নিজের কথা উচ্চকন্ঠে বলো, তবে তিনি তো চুপিসারে বলা কথা বরং তার চাইতেও গোপনে বলা কথাও জানেন৷


আল্লাহর সাথে কথা বলা প্রসঙ্গে :

কথা পাল্টে দেওয়া : :৫৮, ৫৯, ৭৫, ৯৩, ১০৪, :৪৬, ১৩৫ (পেচানো কথা বলা), :১৩, ৪১, 

তারা বলে , আল্লাহ আমাদের সাথে কেন কথা বলেন না ? অথচ আল্লাহ সুষ্পষ্ট আয়াত সমূহ নাযিল করেছেন ২:১১৮, :২৫৩, (নবীদের সাথে কথা বলা ) , :১৬৪,(মূসা আ: এর সাথে সরাসরি আল্লাহর কথা বলা )
কিয়ামতের দিন আল্লাহ কাদের সাথে কথা বলবন না : :১৪৭, :৭৭,
(১৭:৪৮) দেখো, কী সব কথা এরা তোমার ওপর ছুঁড়ে দিচ্ছে, এরা পথভ্রষ্ট হয়েছে, এরা পথ পায় না৷

(১২:৬) এবং ঠিক এমনটিই হবে (যেমনটি তুমি স্বপ্নে দেখেছো যে,) তোমার রব তোমাকে (তাঁর কাজের জন্য) নির্বাচিত করবেন এবং তোমাকে কথার মর্মমূলে পৌঁছানো শেখাবেন
(১৮:৫) ..তাদের মুখ থেকে বেরুনো একথা অত্যন্ত সাংঘাতিক ! তারা নিছক মিথ্যাই বলে৷ 

কিয়ামতের দিনে আল্লাহ যার সাথে কথা বলবেন না :

:১৭৪, :৭৭,

কথা নাবলা :পূর্ববর্তী শরীয়ত সমূহে রোজা রাখলে কথা না বলাও রোজার শর্তের অন্তর্ভূক্ত ছিল  :

(১৯:২৬) তারপর তুমি খাও, পান করো এবং নিজের চোখ জুড়াও৷ তারপর যদি তুমি মানুষের দেখা পাও তাহলে তাকে বলে দাও, আমি করুণাময়ের জন্য রোযার মানত মেনেছি, তাই আজ আমি কারোর সাথে কথা বলবো না


আল্লাহর কথা তথা আল্লাহর গুণাবলী লেখা শেষ হবেনা , যদিও সমুদ্র কালিতে পরিণত হয় :

(১৮:১০৯) হে মুহাম্মাদ! বলো, যদি আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র কালিতে পরিণত হয় তাহলে সেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমার রবের কথা শেষ হবে না৷ বরং যদি এ পরিমাণ কালি আবারও আনি তাহলে তাও যথেষ্ট হবে না৷ 

একজাতির কথা অন্য জাতির কথার সাথে পার্থক্য হয়ে থাকে :

(১৮:৯২) আবার সে (যুলকারনাইন) (আর একটি অভিযানের) আয়োজন করলো৷ ৯৩) এমনকি যখন দু পাহাড়ের মধ্যখানে পৌঁছুলো তখন সেখানে এক জাতির সাক্ষাত পেলো৷ যারা খুব কমই কোনো কথা বুঝতে পারতো৷

কথোপকথন : হযরত মূসা : এর সাথে আল্লাহর কথোপকথন :

২০:১১-১৪, ২০:১৭-৪৭, 
(বিস্তারিত দেখুন : > নবীদের জীবনের ঘটনাবলী > হযরত মূসা J

বানানো কথা, মনগড়া কথা:

(২১:১৮) .....আর তোমাদের জন্য ধ্বংস! যেসব কথা তোমরা তৈরি করো সেগুলোর বদৌলতে৷

বাজে গল্পসল্প  না করে কুরআন অধ্যয়ন কর , কুরআন শ্রবণ করো :

(মুমিনুন:৬৫) ---এখন বন্ধ করো   তোমাদের আর্তচিৎকার আমার পক্ষ থেকে এখন কোন সাহায্য দেয়া হবে না ৷৬৬) আমার আয়াত তোমাদের শোনানো হতো, তোমরা তো (রসূলের আওয়াজ শুনতেই ) পিছন ফিরে কেটে পড়তে, ৬৭) অহংকারের সাথে তা অগ্রাহ্য করতে, নিজেদের আড্ডায় বসে তার সম্পর্কে গল্প দিতে ও আজেবাজে কথা বলতে ৷
(২৯-আনকাবুত:৪৫) (হে নবী !) তোমার প্রতি অহির মাধ্যমে যে কিতাব পাঠানো হয়েছে তা তেলাওয়াত করো

কটুকথা / খারাপ কথা / বিশ্রী কথা / বাজে কথা :

:১৪৮, :১৮৬, :৩৩,

মুনাফিকেরা ঠাট্টার ছলে মুসলমানদেরকে/রাসুল মুহাম্মদ সা: কে অনেক কটুকথা/ কুফরী কথা বলতো :

:৭৪,
(মুমিনুন:৬৭) অহংকারের সাথে তা অগ্রাহ্য করতে, নিজেদের আড্ডায় বসে তার সম্পর্কে গল্প দিতে  ও আজেবাজে কথা বলতে ৷

কথা বলতে হবে মুখে লাগাম দিয়ে : লাগামহীন কথাবার্তা ধ্বংসের কারণ :

(নূর:১৪) যদি তোমাদের প্রতি দুনিয়ায় ও আখেরাতে আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হতো তাহলে যেসব কথায় তোমরা লিপ্ত হয়ে গিয়েছিলে সেগুলোর কারণে তোমাদের ওপরে মহাশাস্তি নেমে আসতো৷

শোনা কথা যা বিবেকবর্জিত, তা মুখে মুখে ছড়ানো মারাত্মক অন্যায় : এক্ষেত্রে চুপ থাকা উচিত :

(নূর:১৫) (একটু ভেবে দেখো তো¸ সে সময় তোমরা কেমন মারাত্মক ভুল করেছিলে) যখন তোমরা এক মুখ থেকে আর এক মুখে এ মিথ্যা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছিলে এবং তোমরা নিজেদের মুখে এমন সব কথা বলে যাচ্ছিলে যা সম্পর্কে তোমাদের কিছুই জানা ছিল না ৷ তোমরা একে একটা মামুলি কথা মনে করেছিলে অথচ আল্লাহর কাছে এটা ছিল্ গুরুতর বিষয়৷

শোনা কথা ছড়ানো অন্যায় : এক্ষেত্রে কি বলতে হবে ?

(নূর:১৬) একথা শোনার সাথে সাথেই তোমরা বলে দিলে না কেন, ‘‘এমন কথা মুখ দিয়ে বের করা আমাদের শোভা পায় না , সুব্‌হানাল্লাহ! এ তো একটি জঘন্য অপবাদ৷’’  

কুরআন তেলাওয়াত করার নির্দেশ :

(২৯-আনকাবুত:৪৫) (হে নবী !) তোমার প্রতি অহির মাধ্যমে যে কিতাব পাঠানো হয়েছে তা তেলাওয়াত করো

কুরআন নিয়ে চিন্তা / ফিকির করার নির্দেশ :

(মুমিনুন:৬৮) তারা কি কখনো এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা করেনি? 
(অর্থাৎ তাদের এ মনোভাবের কারণ কি৷ তারা কি এ বাণী বোঝেইনি, তাই একে মানছে না৷ মোটেই না, কারণ এটা নয়কুরআন কোন হে আয়ালি নয়কোন দুর্বোধ্য ভাষায় কিতাবটি লেখা হয়নি কিতাবটিতে এমন সব বিষয়বস্তুর সমাবেশ ঘটানো হয় নি যা মানুষের বোধগম্য নয়তারা এর প্রত্যেকটি কথা ভালোভাবে বোঝেএরপরো বিরোধিতা করছেকারণ তারা একে মানতে চায় না এমন নয় এ, তারা একে বুঝার চেষ্টাকরছে কিন্তু বুঝতে পারছে না তাই মানতে চায় না)

সমস্ত মতভেদ দূর করবে কুরআন :

(২৭.নামল:৭৬) যথার্থই এই কোরআন বনীইসরাইলকে বেশিরভাগ এমন সব কথার স্বরূপ বর্ণনা করে যেগুলোতে তারা মতভেদ করে৷
(অদৃশ্যজ্ঞানী আল্লাহর জ্ঞানের একটি প্রকাশ হচ্ছে এই যে, একজন নিরক্ষর ব্যক্তির মুখ থেকে এ কুরআনে এমন সব ঘটনার স্বরূপ উদ্ঘাটন করা হচ্ছে যা বনী ইসরাঈলের ইতিহাসে ঘটেছেঅথচ বনী ইসরাঈলদের আলেমদের মধ্যেও তাদের নিজেদের ইতিহাসের এসব ঘটনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে (এর নজির সূরা নমলের প্রথম দিকের রুকূগুলোতেই পাওয়া যাবে, যেমন আমরা টীকায় বলেছি))

কুরআন কোন অভিনব কথা নিয়ে আসেনি, বরং এর শিক্ষা আবহমান কাল থেকেই চলে আসছে:

(মুমিনুন:৬৮)......অথবা সে (রাসুল সা: ) এমন কথা নিয়ে এসেছে যা কখনো তাদের (অস্বীকারকারীদের) পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?
(অর্থাৎ তিনি কি এমন একটি অভিনব কথা পেশ করছেন যা তাদের কান কোনদিন শুনেনি এবং এটিই তাদের অস্বীকারের কারণ৷ মোটেই না, কারণ এটাও নয়আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীদের আসা, কিতাবসহকারে আসা, তাওহীদের দাওয়াত দেয়া, আখেরাতের জবাবদিহির ভয় দেখানো এবং নৈতিকতার পরিচিত সৎবৃত্তিগুলো পেশ করা, এগুলোর মধ্য থেকে কোন একটিও এমন নয় যা ইতিহাসে আজ প্রথমবার দেখা দিয়েছে এবং ইতিপূর্বে আর কখনো এসব কথা শুনা যায় নিতাদের আশপাশের দেশগুলো তারা জানে না এমন নয় তাদের নিজেদের দেশেই ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলইহিমাস সামালাম এসেছেনহুদ, সালেহ ও শোআইব আলাইহিমুস সালামো এসেছেনতাঁদের নাম আজো তাদের মুখে মুখেতারা নিজেরাই তাঁদেরকে আল্লাহর প্রেরিত বলে মানেতারা একথাও জানে যে, তাঁরা মুশরিক ছিলেন না বরং এক আল্লাহর বন্দেগীর শিক্ষা দিতেনতাই প্রকৃতপক্ষে তাদের অস্বীকারের কারণ এই নয় যে, তারা এমন একটি পুরোপুরি আনকোরা নতুন কথা শুনছে যা ইতিপূর্বে কখনো শোনেনি(আরো বেশী জানার জন্য দেখুন আল ফুর্‌কান, ৮৪; আস্‌ সাজ্‌দাহ, ৫ ও সাবা ৩৫ টীকা))

কুরআনে কোন অভিনব কথা বলা হয়নি, বরং মানুষের নিজেদের প্রয়োজনের কথাই বলা হয়েছে :

(মুমিনুন:৭১) ---না, বরং আমি তাদের নিজেদের কথাই তাদের কাছে এনেছি এবং তারা নিজেদের কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে৷ ৬৯  

(৬৮ . এ ছোট্ট বাক্যটির মধ্যে একটি অনেক বড় কথা বলা হয়েছে এটি ভালোভাবে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে দুনিয়ায় সাধারণত অজ্ঞ মূর্খ লোকদের নিয়ম এই হয়ে থাকে যে, তাদের সামনে যে ব্যক্তি সত্য কথাটি বলে দেয় তারা তার প্রতি অসন্তষ্ট হয়প্রকারন্তরে তারা যেন বলতে চায়, যা সত্য ও বাস্তব সম্মত তা না করুক সত্য সব অবস্থায়াই সত্য থাকে সারা দুনিয়ার লোকেরা এক জোট হলেও সত্য ও বাস্তবতাকে এক এক ব্যক্তির ইচ্ছা ও বাসনা অনুযায়ী ঢেলে বের করে আনা এবং প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য বিপরীতমুখী বাসনার সাথে একাত্ন হওয়া তো দূরের কথা কোন বাস্তব ঘটনাকে অবাস্তব এবং সত্যকে অসত্যে পরিণত করাও সম্ভবপর নয় নির্বুদ্ধিতায় আক্রান্ত বুদ্ধিবৃত্তি কখনো এ কথা চিন্তা করার প্রয়োজনই বোধ করে না যে, সত্য ও তাদের বাসনার মধ্যে যদি বিরোধ থাকে তাহলে এ দোষটা সত্যের নয় বরং তাদের নিজেদের তার বিরোধিতা করে তারা তার কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না বরং তাদের নিজেদের ক্ষতি করবে বিশ্ব-জাহানের এ বিশাল ব্যবস্থা যেসব অবিচল সত্য ও আইনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে তার ছত্রছায়ায় বাস করে মানুষের জন্য নিজের চিন্তা , বাসনা ও কর্মপদ্ধতিকে সত্য অনুযায়ী তৈরী করে নেয়া এবং এ উদ্দেশ্যে সর্বক্ষণ যুক্তি, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা করতে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই কেবলমাত্র একজন নির্বোধই এখানে যা কিছু সে বোঝে বা যা কিছু হয়ে যাক বলে তার মন চায় অথবা নিজের বিদ্ধিষ্ট মনোভাবের কারণে যা কিছু হয়েছে বা হওয়া উচিত বলে সে ধারণা করে নিয়েছে তার ওপর দ্বিধাহীন হয়ে যাওয়া এবং তার বিরুদ্ধে কারোর সবচেয়ে শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত যুক্তি-প্রমাণও শুনতে প্রস্তুত না হওয়ার চিন্তা ও কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে
৬৯ . এখানে 'কথা' শব্দটির তিনটি অর্থ হওয়া সম্ভব এবং তিনটি অর্থই এখানে প্রযোজ্য
(ক) 'কথা' প্রকৃতির বর্ণনা অর্থে এ প্রেক্ষিতে আয়াতের অর্থ হবে , আমি অন্য কোন জগতের কথা বলছি না বরং তাদের নিজেদেরই সত্য ও প্রকৃতি এবং তার দাবী-দাওয়া তাদের সামনে পেশ করছি , যাতে তারা নিজেদের এ ভুলে যাওয়া পাঠ মনে করতে পারেকিন্তু তারা এটা গ্রহণ করতে পিছপাও হচ্ছে তাদের এ পলায়ন কোন অসংশ্লিষ্ট জিনিস থেকে নয় বরং নিজেদেরই কথা থেকে
(খ) 'কথা' উপদেশ অর্থেএ প্রেক্ষিতে আয়াতের ব্যাখ্যা হবে , যা কিছু পেশ করা হচ্ছে তা তাদেরই ভালোর জন্য একটি উপদেশ এবং তাদের এ পলায়ন অন্য কোন জিনিস থেকে নয় বরং নিজেদেরই কল্যাণের কথা থেকে
(গ) 'কথা' সম্মান ও মর্যাদা অর্থে এ অর্থ গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে , আমরা এমন জিনিস তাদের কাছে এনেছি যা তারা গ্রহণ করলে তারাই মর্যাদা ও সম্মানের অধীকারী হবে এ থেকে তাদের এ মুখ ফিরিয়ে নেয়া অন্য কোন জিনিস থেকে নয় বরং নিজেদেরই উন্নতি এবং নিজেদেরই উত্থানের একটি সুবর্ণ সুযোগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার নামান্তর)

তোমরা যেসব কথা (মিথ্যা অভিযোগ) তৈরী করছো, তার মোকাবিলায় দয়াময় আল্লাহই আমার সাহায্যকারী :

(২১:১১২) (শেষে) রসূল বললো : হে আমার রব! তুমি ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করে দাও৷ আর হে লোকেরা ! তোমরা যেসব কথা তৈরি করছো তার মুকাবিলায় আমাদের দয়াময় রবই আমাদের সাহায্যকারী সহায়ক৷” 


জান্নাতের একটি নিয়ামত হলো সেখানে কোন কটু কথা শোনা যাবেনা :

(১৯:৬২) সেখানে তারা কোন বাজে কথা শুনবে না, যা কিছুই শুনবে ঠিকই শুনবে৷ আর সকাল সন্ধ্যায় তারা অনবরত নিজেদের রিযিক লাভ করতে থাকবে৷  
( মূলে "সালাম" শব্দ ব্যবহৃত হয়েছেএর মানে হচ্ছে দোষ-ত্রুটিমুক্তজান্নাতে মানুষ যে সমস্ত নিয়ামত লাভ করবে তার মধ্যে একটি বড় নিয়ামত হবে এই যে, সেখানে কোন আজেবাজে অর্থহীন ও কটু কথা শোনা যাবে না সেখানকার সমগ্র সমাজ হবে পাক-পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও ক্লেদমুক্তপ্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃতিই হবে ভারসাম্যপূর্ণসেখানকার বাসিন্দারা পরনিন্দা, পরচর্চা, গালি-গালাজ, অশ্লীল গান ও অন্যান্য অশালীন ধ্বনি একেবারেই শুনবে নাসেখানে মানুষ শুধুমাত্র ভালো, ন্যায়সংগত ও যথার্থ কথাই শুনবেএ দুনিয়ায় যে ব্যক্তি একটি যথার্থ পরিচ্ছন্ন ও শালীন, রুচির অধিকারী একমাত্র সে-ই এ নিয়ামতের কদর বুঝতে পারেকারণ একমাত্র সে-ই অনুভব করতে পারে যে মানুষের জন্য এমন একটি পূতিগন্ধময় সমাজে বাস করা কত বড় বিপদ যেখানে কোন মুহূর্তেই তার কান মিথ্যা, পরনিন্দা, ফিতনা, ফাসাদ, অশ্লীল অশালীন ও যৌন উত্তেজক কথাবার্তা থেকে সংরক্ষিত থাকে না)


:৮১,
মুনাফিকেরা নিজেদের কথার দ্বারা রাসুলকে কষ্ট দেয় : :৬১ (তারা বলেছে : এ ব্যক্তি তো অতিশয় কান কথা শোনে) ,

কথার মর্মমূলে পৌছানো :

(হে আমার রব ) তুমি আমাকে কথার গভীরে প্রবেশ করা শিখিয়েছো৷-১২:১০১,
(১২:) এবং ঠিক এমনটিই হবে (যেমনটি তুমি স্বপ্নে দেখেছো যে,) তোমার রব তোমাকে (তাঁর কাজের জন্য) নির্বাচিত  করবেন এবং তোমাকে কথার মর্মমূলে পৌঁছানো শেখাবেন  আর তোমার প্রতি ইয়াকূবের পরিবারের প্রতি তাঁর নিয়ামত ঠিক তেমনিভাবে পূর্ণ করবেন যেমন এর আগে তিনি তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম ইসহাকের প্রতি করেছেন৷ নিসন্দেহে তোমার রব সর্বজ্ঞ বিজ্ঞানময়৷

কথার তাৎপর্য :

(১৮:৭৮) ...এখন আমি যে কথাগুলোর ওপর তুমি সবর করতে পারোনি সেগুলোর তাৎপর্য তোমাকে বলবো৷৭৯) সেই নৌকাটির ব্যাপার ছিল এই যে, সেটি ছিল কয়েকজন গরীব লোকের, তারা সাগরে মেহনত মজদুরী করতো৷ আমি সেটিকে ত্রুটিযুক্ত করে দিতে চাইলাম৷ কারণ সামনের দিকে ছিল এমন বাদশাহর এলাকা যে প্রত্যেকটি নৌকা জবরদস্তি ছিনিয়ে নিতো৷৮০) আর ঐ বালকটির ব্যাপার হচ্ছে এই যে, তার বাপ-মা ছিল মুমিন৷ আমাদের আশংকা হলো, বালক তার বিদ্রোহাত্মক আচরণ ও কুফরীর মাধ্যমে তাদেরকে বিব্রত করবে৷৮১) তাই আমরা চাইলাম তাদের রব তার বদলে তাদেরকে যেন এমন একটি সন্তান দেন যে চরিত্রের দিক দিয়েও তার চেয়ে ভালো হবে এবং যার কাছ তেকে সদয় আচরণও বেশী আশা করা যাবে৷ ৮১) তাই আমরা চাইলাম তাদের রব তার বদলে তাদেরকে যেন এমন একটি সন্তান দেন যে চরিত্রের দিক দিয়েও তার চেয়ে ভালো হবে এবং যার কাছ তেকে সদয় আচরণও বেশী আশা করা যাবে৷৮২) এবার থাকে সেই দেয়ালের ব্যাপারটি৷ সেটি হচ্ছে এ শহরে অবস্থানকারী দুটি এতীম বালকের৷ এ দেয়ালের নীচে তাদের জন্য সম্পদ লুকানো আছে এবং তাদের পিতা ছিলেন একজন সৎলোক৷ তাই তোমার রব চাইলেন এ কিশোর দুটি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যাক এবং তারা নিজেদের গুপ্তধন বের করে নিক৷ তোমার রবের দয়ার কারণে এটা করা হয়েছে৷ নিজ ক্ষমতা ও ইখতিয়ারে আমি এটা করিনি৷ তুমি যেসব ব্যাপারে সবর করতে পারোনি এ হচ্ছে তার ব্যাখ্যা৷

সর্বদা উত্তম কথা বল :

(১৭:৫৩) আর হে মুহাম্মাদ! আমার বান্দাদেরকে  বলে দাও, তারা যেন মুখে এমন কথা বলে যা সর্বোত্তম৷ আসলে শয়তান মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করে৷ প্রকৃতপক্ষে শয়তান হচ্ছে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু৷

কথা বদলে ফেলা :

(১৭:৭৩) হে মুহাম্মাদ ! তোমার কাছে আমি যে অহী পাঠিয়েছি তা থেকে তোমাকে ফিরিয়ে রাখার জন্য এ লোকেরা তোমাকে বিভ্রাটের মধ্যে ঠেলে দেবার প্রচেষ্টায় কসুর করেনি, যাতে তুমি আমার নামে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা তৈরি করো৷  যদি তুমি এমনটি করতে তাহলে তারা তোমাকে নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো৷

আরো দেখুন : > মিথ্যা কথা,


কথা বলতে না পারা : নিদর্শন : চিহ্ন :  

(১৯:১০) যাকারিয়া বললেন, “হে আমার রব! আমার জন্য নিদর্শন স্থির করে দাও (যে আমার সন্তান হবে), তখন  তাকে বলা হলো  তোমার জন্য নিদর্শন হচ্ছে তুমি পরপর তিনদিন লোকদের সাথে কথা বলতে পারবে না

শিশুর কথা বলা :

(১৯:২৯) মারয়াম শিশুর প্রতি ইশারা করলো৷ লোকেরা বললো, “কোলের শিশুর সাথে আমরা কি কথা বলবো? ৩০) শিশু বলে উঠলো, “আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন ও নবী করেছেন ৩১) এবং রবকতময় করেছেন যেখানেই আমি থাকি না কেন আর যতদিন আমি বেঁচে থাকবো ততদিন নামায ও যাকাত আদায়ের হুকুম দিয়েছেন৷  ৩২) আর নিজের মায়ের হক আদায়কারী করেছেন, এবং আমাকে অহংকারী ও হতভাগা করেননি৷  ৩৩) শান্তি আমার প্রতি যখন আমি জন্ম নিয়েছি ও যখন আমি মরবো এবং যখন আমাকে জীবিত করে উঠানো হবে

মুখ ফিরিয়ে কথা বলা অহংকারের পরিচায়ক :

(৩১-লোকমান: ১৮) আর মানুষের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কথা বলো না, ৩১   পৃথিবীর বুকে চলো না উদ্ধত ভঙ্গিতে, আল্লাহ পছন্দ করেন না আত্মম্ভরী ও অহংকারীকে৷ ৩২  
৩১ . মূল শব্দগুলো হচ্ছে, -------"সা'আর" বলা হয় আরবী ভাষায় একটি রোগকেএ রোগটি হয় উটের ঘাড়েএ রোগের কারণে উট তার ঘাড় সবসময় একদিকে ফিরিয়ে রাখেএ থেকেই -------"অমুক ব্যক্তি উটের মতো তার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে" অর্থাৎ অহংকারপূর্ণ ব্যবহার করলো এবং মুখ ফিরিয়ে কথা বললো ব্যাপারেই তাগলাব গোত্রের কবি আমর ইবনে হাই বলেনঃ
-----------------------------
" আমরা এমন ছিলাম কোন দাম্ভিক স্বৈরাচারী আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কথা বললো তখন আমরা তার বক্রতার এমন দফারফা করলাম যে একেবারে সোজা হয়ে গেলো "
৩২ . মূল শব্দগুলো হচ্ছে ---------ও -------"মুখতাল" মানে হচ্ছে, এমন ব্যক্তি যে নিজেই নিজেকে কোন বড় কিছু মনে করেআর ফাখূর তাকে বলে ,যে নিজের বড়াই করে অন্যের কাছেমানুষের চালচলনে অহংকার, দম্ভ ও ঔদ্ধত্যের প্রকাশ তখনই অনিবার্য হয়ে উঠে , যখন তার মাথায় নিজের শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্বাস ঢুকে যায় এবং সে অন্যদেরকে নিজের বড়াই ও শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করাতে চায়

কথা বলতে হবে মুখে লাগাম দিয়ে : লাগামহীন কথাবার্তা ধ্বংসের কারণ :

(নূর:১৪) যদি তোমাদের প্রতি দুনিয়ায় ও আখেরাতে আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হতো তাহলে যেসব কথায় তোমরা লিপ্ত হয়ে গিয়েছিলে সেগুলোর কারণে তোমাদের ওপরে মহাশাস্তি নেমে আসতো৷

কথা বলতে হবে কেমন আওয়াজে : কথা বলার নীতি :

দেখুন : গ > গলার আওয়াজ, ক > কন্ঠস্বর

কথা কাজের গড়মিল :

(২৬.শুআরা:২২৬) এবং এমনসব কথা বলে যা তারা করে না?
(এটি হচ্ছে কবিদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মধারার সম্পূর্ণ বিপরীতনবী (সা) সম্পর্কে তাঁর প্রত্যেক পরিচিত জন জানতেন , তিনি যা বলতেন তাই করতেন এবং যা করতেন তাই বলতেনতাঁর কথা ও কর্মের সামঞ্জস্য এমনই একটি জাজ্বল্যমান সত্য ছিল যা তাঁর আশেপাশের সমাজের কেউ অস্বীকার করতে পারতো নাঅথচ সাধারণ কবিদের সম্পর্কে সবাই জানতো যে, তারা বলতেন এক কথা এবং করতেন অন্য কিছু তাদের কবিতায় দানশীলতার মাহাত্ম এমন উচ্চ কণ্ঠে প্রচারিত হবে যেন মনে হবে তাদের চেয়ে বড় আর কোন দাতা নেইকিন্তু তাদের কাজ দেখলে বুঝা যাবে তারা বড়ই কৃপণবীরত্বের কথা তারা বলবেন কিন্তু নিজেরা হবেন কাপুরুষঅমুখাপেক্ষিতা, অল্পে তুষ্টি ও আত্মমর্যাদাবোধ হবে তাদের কবিতার বিষয়বস্তু কিন্তু নিজেরা লোভ , লালসা ও আত্ম বিক্রয়ের শেষ সীমানাও পার হয়ে যাবেনঅন্যের সামান্যতম দুর্বলতাকেও কঠোরভাবে পাকড়াও করবেন কিন্তু নিজেরা চরম দুর্বলতার মধ্যে হাবুডুবু খাবেন)
(বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন : ক > কবি > জবাব)


কাফেরদের বিভিন্ন ধরণের কটু কথার বিপরীতে মুহাম্মদ সা: এর প্রতি আল্লাহর নসীহত :

দেখুন : ম > মুহাম্মদ সা: > হে মুহাম্মাদ ! , এরা যেসব কথা তৈরী করে, তা তোমাকে কষ্ট দেয় কিন্তু এরা তোমাকে মিথ্যা বলে না বরং জালেমরা আসলে আল্লাহর আয়াতকেই অস্বীকার করছে  
এবং : হে নবী! এরা যে কথা বলে তার ওপর সবর করো

========================================
প্রশ্ন ৩৭ঃঃ চাউল বা টাকা দিয়ে কি ফিতরা আদায় করা যাবে?  




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন