খাদ্য :
(২১:৮) সেই রসূলদেরকে আমি এমন দেহবিশিষ্ট করিনি যে, তারা খেতো না এবং
তারা চিরজীবিও ছিল
না৷
(ফুরকান:৭) তার বলে, “এ কেমন রসূল, যে খাবার খায় এবং হাটে বাজারে ঘুরে বেড়ায়? কেন তার কাছে
কোন ফেরেশতা পাঠানো হয়নি, যে তার সাথে থাকতো এবং
(অস্বীকারকারীদেরকে) ধমক দিতো?
অপরের গৃহে খাওয়ার বিধান :
দেখুন : স > সামাজিকতা ।
যিনি লালন পালন করেন, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ঔষধ পানীয় দেন – তিনি রব :
(২৬.শুআরা:৭৭) (ইব্রাহিম বললেন ) ... একমাত্র রাব্বুল আলামীন …..৭৯) তিনি আমাকে খাওয়ান ও পান করান৮০) এবং
রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন৷
খাওয়া দাওয়া ও ভোগ্য সামগ্রীগুলোতো দুনিয়াতে ঈমানদররা পাবেই আর কিয়ামতে / পরকালে তা একান্তভাবেই ঈমানদারদের জন্য হবে :
(৭-আ’রাফ : ৩২) দুনিয়ার জীবন তো একটি খেল-তামাসার ব্যাপার৷২০ আসলে যারা ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে চায় তাদের জন্য আখেরাতের
আবাসই ভালো৷ তবে কি তোমরা বুদ্ধি-বিবেচনাকে
কাজে লাগাবে না ?
২০. এর মানে এ নয় যে, দুনিয়ার জীবনটি
নেহাত হাল্কা ও গুরুত্বহীন বিষয়, এর মধ্যে কেন
গাম্ভীর্য নেই এবং নিছক খেল-তামাসা করার জন্য এ জীবনটি তৈরী
করা হয়েছে। বরং এর মানে হচ্ছে, আখেরাতের যথার্থ ও চিরন্তন
জীবনের তুলনায় দুনিয়ার এ জীবনটি ঠিক তেমনি যেমন কোন ব্যক্তি কিছুক্ষণ খেলাধূলা করে চিত্তবিনোদন করে তারপর তার আসল ও
গুরুত্বপূর্ণ কাজ করাবারে মনোনিবেশ করে। তাছাড়া একে খেলাধূলার সাথে তুলনা করার কারণ হচ্ছে এই যে, এখানে প্রকৃত সত্য গোপন
থাকার ফলে যারা ভেতরে দৃষ্টি না দিয়ে শুধুমাত্র বাইরেরটুকু দেখতে অভ্যস্ত তাদের জন্য বিভ্রান্তির শিকার
হবার বহুতর কারণ বিদ্যামান। এসব বিভ্রান্তির শিকার হয়ে মানুষ প্রকৃত সত্যের বিরুদ্ধে
এমন সব অদ্ভুত ধরনের কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করে যার
ফলশ্রুতিতে তাদের জবীন নিছক একটি খেলা ও তামাসার বস্তুতে পরিণত হয়। যেমন যে ব্যক্তি এ
পৃথিবীতে বাদশাহের আসনে বসে তার মর্যাদা আসলে নাট্যমঞ্চের সেই কৃত্রিম বাদশাহার চাইতে মোটেই ভিন্নতর নয়, যে, সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে সিংহাসনে বসে এবং এমনভাবে হুকুম চালাতে থাকে সে সত্যিকারের
একজন বাদশাহ। অথচ প্রকৃত বাদশাহীর সামান্যতম নামগন্ধও তার মধ্যে নেই। পরিচালকের সামান্য ইংগিতেই তার বরখাস্ত, বন্দী ও হত্যার সিদ্ধান্তও
হয়ে যেতে পারে। এ দুনিয়ার সর্বত্র এ ধরনের অভিনয়ই চলছে। কোথাও কোন পীর-অলী বা
দেব-দেবীর দরবারে মনস্কামনা পূরণের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। অথচ সেখানে মনস্কামনা
পূর্ণ করার ক্ষমতার লেশ মাত্রও নেই। কোথাও অদৃশ্য
জ্ঞানের কৃতিত্বের প্রকাশ ঘটানো হচ্ছে। অথচ সেখানে অদৃশ্য জ্ঞানের বিন্দু বিসর্গও নেই। কোথাও কেউ মানুষের জীবিকার মালিক হয়ে বসে
আছে। অথচ সে বেচারা নিজের জীবিকার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী। কোথাও কেউ নিজেকে সম্মান ও অপমানের এবং লাভ ও ক্ষতির সর্বময় কর্তা মনে করে বসে আছে। সে এমনভাবে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ডংকা বাজিয়ে চলছে যেন মনে হয়, আশেপাশের সমুদয়
সৃষ্টির সে এক মহাপ্রভু। অথচ তার ললাটে
চিহ্নিত হয়ে আছে দাসত্বের কলংক টীকা। ভাগ্যের সামান্য হেরফেরই শ্রেষ্ঠত্বের আসন থেকে নামিয়ে তাকে সেসব লোকের পদতলে নিষ্পিষ্ট করা হতে পারে
যাদের ওপর কাল পর্যন্তও সে প্রভুত্ব ও কৃর্তত্ব চালিয়ে
আসছিল । দুনিয়ার এই মাত্র কয়েকদিনের জীবনেই এসব
অভিনয় চরছে । মৃত্যুর মুহূর্ত
আসার সাথে সাথেই এক লহমার মধ্যেই এসব কিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। এ জীবনের সীমান্ত
পার হবার সাথে সাথেই মানুষ এমন এক জগতে পৌছে যাবে যেখানে সবকিছুই হবে প্রকৃত সত্যের অনুরূপ এবং যেখানে এ
দুনিয়ার জীবনের সমস্ত বিভ্রান্তির আবরণ খুলে ফেলে দিয়ে মানুষকে দেখিয়ে দেয়া হবে কি পরিমাণ সত্য সে সাথে
করে এনেছে। সত্যের মীযান তথা ভারসাম্যপূর্ণ তুলাদণ্ডে পরিমাপ করে তার মূল্য ও মান
নির্ধারণ করা হবে।
===================================
প্রশ্ন: ৬১ : কুরবাণীর নিয়ম কানুন সংক্রান্ত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন