কন্যা সন্তান :
(বিস্তারিত দেখুন : স > সন্তান)
কন্যা সন্তান আল্লাহর রাস্তায় সমর্পণ করা :
৩:৩৭
﴿فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا ۖ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقًا ۖ قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَٰذَا ۖ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ ۖ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ﴾
৩৭) অবশেষে তার রব কন্যা সন্তানটিকে সন্তুষ্টি সহকারে কবুল করে নিলেন, তাকে খুব ভালো মেয়ে হিসেবে গড়ে তুললেন এবং যাকারিয়াকে বানিয়ে দিলেন তার অভিভাবক ৷ যাকারিয়া৩৫ যখনই তার কাছে মিহরাবে৩৬ যেতো, তার কাছে কিছু না কিছু পানাহার সামগ্রী পেতো৷ জিজ্ঞেস করতোঃ ‘‘মারয়াম এগুলো তোমরা কাছে কোথা থেকে এলো?’’ সে জবাব দিতোঃ আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে৷ আল্লাহ যাকে চান, বেহিসেব দান করেন ৷
৩৫. এখান থেকে সেই সময়ের আলোচনা শুরু হয়েছে যখন হযরত মারায়াম প্রাপ্ত বয়স্কা হলেন, তাঁকে বাইতুল মাকদিসের ইবাদাতগাহে (হাইকেল) পৌঁছিয়ে দেয়া হলো এবং সেখানে তিন দিন-রাত আল্লাহর যিকিরে মশগুল হয়ে গেলেন৷ শিক্ষা ও অনুশীলন দানের জন্য তাকে হযরত যাকারিয়ার অভিভাবকত্বে সোপর্দ করা হয়েছিল৷ আত্মীয়তার সম্পর্কের দিক দিয়ে সম্ভবত হযরত যাকারিয়া ছিলেন তার খালু৷ তিনি হাইকেলের অন্যতম পুরোহিত ছিলন৷ এখানে সেই যাকারিয়া নবীর কথা বলা হয়নি৷ যাকে হত্যা করার ঘটনা বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে উল্লেখিত হয়েছে৷
৩৬. মেহরাব শব্দটি বলার সাথে সাথে লোকদের দৃষ্টি সাধারণত আমাদের দেশে মসজিদে ইমামের দাঁড়াবার জন্য যে জায়গাটি তৈরী করা হয় সেদিকে চলে যায়৷ কিন্তু এখানে মেহরাব বলতে সে জায়গাটি বুঝানো হয় নি৷ খৃষ্টান ও ইহুদীদের গীর্জা ও উপাসনালয়গুলোতে মূল উপাসনা গৃহের সাথে লাগোয়া ভূমি সমতল থেকে যথেষ্ট উঁচুতে যে কক্ষটি তৈরী করা হয়, যার মধ্যে উপাসনালয়ের খাদেম, পুরোহিত এতেকাফকারীরা অবস্থান করে, তাকে মেহরাব বলা হয়৷ এই ধরনের একটি কামরায় হযরত মারয়াম এতেকাফ করছিলেন৷
৪:১২৭
﴿وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ ۖ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ فِي يَتَامَى النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَن تَنكِحُوهُنَّ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْوِلْدَانِ وَأَن تَقُومُوا لِلْيَتَامَىٰ بِالْقِسْطِ ۚ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِهِ عَلِيمًا﴾
১২৭) লোকেরা মেয়েদের ব্যাপারে কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করছে ৷১৫২ বলে দাও, আল্লাহ তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে ফতোয়া দেন এবং একই সাথে সেই বিধানও স্মরণ করিয়ে দেন, যা প্রথম থেকে এই কিতাবে তোমাদের শুনানো হচ্ছে৷১৫৩ অর্থাৎ এই এতিম মেয়েদের সম্পর্কিত বিধানসমূহ, যাদের হক তোমরা আদায় করছো না১৫৪ এবং যাদেরকে বিয়ে দিতে তোমরা বিরত থাকছো (অথবা লোভের বশবর্তী হয়ে নিজেরাই যাদেরকে বিয়ে করতে চাও)৷১৫৫ আর যে শিশুরা কোন ক্ষমতা রাখে না তাদের সম্পর্কিত বিধানসমূহ ৷১৫৬ আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, এতিমদের সাথে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ইনসাফের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে এবং যে কল্যাণ তোমরা করবে তা আল্লাহর অগোচর থাকবে না৷
১৫২. একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি যে, মেয়েদের ব্যাপারে লোকেরা কি জিজ্ঞেস করে৷ তবে পরে যে ফতোয়া দেয়া হয়েছে তা থেকে প্রশ্নের ধরন স্বতস্ফূর্তভাবে সুস্পষ্ট হয়ে যায়৷
১৫৩. এটা আসল প্রশ্নের জওয়াব নয়৷ তবে লোকদের প্রশ্নের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করার পূর্বে আল্লাহ এই সূরার শুরুতে বিশেষ করে এতিম মেয়েদের সম্পর্কে এবং সাধারণভাবে এতিম শিশুদের ব্যাপারে যেসব বিধি-বিধান বর্ণনা করেছিলেন সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন৷ আল্লাহর দৃষ্টিতে এতিমদের অধিকারের গুরুত্ব যে কত বেশী এ থেকে তা সহজেই সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে৷ প্রথম দুই রুকূ'তে তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য জোর তাকীদ করা হয়েছিল৷ কিন্তু তাকে যথেষ্ট মনে করা হয়নি৷ কাজেই এখন সামাজিক প্রসংগর আলোচনা আসতেই লোকদের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেয়ার পূর্বেই আল্লাহ নিজেই এতিমদের স্বার্থের প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন৷
১৫৪. সেই আয়াতটির দিকে ইংগিত করা হয়েছে যাতে বলা হয়েছেঃ ''যদি এতিমদের সাথে বেইনসাফী করতে ভয় পাও তাহলে যেসব মেয়েদের তোমরা পছন্দ করো-------'' (সূরা-আননিস,-৩)
১৫৫. ----------------- এর অর্থও হতে পারেঃ ''তোমরা তাদেরকে বিয়ে করার আগ্রহ পোষণ করো৷'' আবার এ অর্থও হতে পারে, ''তোমরা তাদেরকে বিয়ে করা পছন্দ কর না৷'' হযরত আয়েশা (রা) এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ কিছু লোকের অভিভাবকত্বে এমন কিছু এতিম মেয়ে ছিল, যাদের কাছে কিছু পৈতৃক ধন-সম্পত্তি ছিল৷ তারা এই মেয়েগুলোর ওপর নানাভাবে জুলুম করতো৷ মেয়েরা সম্পদশালিনী হবার সাথে সাথে সুন্দরী হলে তারা তাদের বিয়ে করতে চাইতো এবং মোহরানা ও খোরপোষ আদায় না করেই তাদের সম্পদ ও সৌন্দর্য উভয়টিই ভোগ করতে চাইতো৷ আর তারা অসুন্দর বা কুৎসিত হলে নিজেরা তাদের বিয়ে করতো না এবং অন্য কারো সাথে তাদের বিয়ে দিতেও চাইতো না৷ কারণ অন্য কারো সাথে বিয়ে দিলে এমন কোন শক্ত মালিক পক্ষ সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা ছিল, যে তাদের থেকে এতিমদের হক বুঝে নেয়ার দাবী করতো৷
১৫৬. এই সূরার প্রথম ও দ্বিতীয় রুকূ'তে এতিমদের অধিকার সম্পর্কে যে সমস্ত বিধান বর্ণিত হয়েছে এখানে সেদিকেই ইংগিত করা হয়েছে৷
কন্যা সন্তান হত্যা করা :
(১৬:৫৮) যখন এদের কাউকে কন্যা সন্তান জন্মের সুখবর
দেয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে ভিতরে ভিতরে
গুমরে মরতে থাকে৷ (১৬:৫৯) লোকদের থেকে লুকিয়ে ফিরতে থাকে, কারণ এ দুঃসংবাদের পর সে
লোকদের মুখ দেখাবে কেমন করে৷ ভাবতে থাকে, অবমাননার সাথে মেয়েকে রেখে দেবে, না তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে
?
কন্যা সন্তান লাভের সংবাদ কি দু:সংবাদ ?
৩:৩৫, ৩:৩৬,
(১৬:৫৮) যখন এদের কাউকে কন্যা সন্তান জন্মের সুখবর
দেয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে ভিতরে ভিতরে
গুমরে মরতে থাকে৷ (১৬:৫৯) লোকদের থেকে লুকিয়ে ফিরতে থাকে, কারণ এ দুঃসংবাদের পর সে
লোকদের মুখ দেখাবে কেমন করে৷ ভাবতে থাকে, অবমাননার সাথে মেয়েকে রেখে দেবে, না তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে
? দেখো, কেমন খারাপ কথা যা এরা আল্লাহর ওপর আরোপ করে৷৬০) যারা আখেরাত বিশ্বাস করে না
তারাই তো খারাপ গুণের অধিকারী হবার যোগ্য৷ আর আল্লাহর জন্য তো রয়েছে মহত্তম গুণাবলী, তিনিই তো সবার ওপর
পরাক্রমশালী এবং জ্ঞানের দিক দিয়ে পূর্ণতার
অধিকারী৷
কনা সন্তান জীবিত রাখা :
(১৪:৬) স্মরণ করো যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বললো,
“আল্লাহর সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো যা তিনি তোমাদের প্রতি করেছেন৷ তিনি তোমাদের ফিরাউনী সম্প্রদায়ের কবল থেকে
মুক্ত করেছেন, যারা তোমাদের ওপর ভয়াবহ
নির্যাতন চালাতো, তোমাদের ছেলেদের হত্যা করতো এবং তোমাদের মেয়েদের জীবিত রাখতো৷ এর মধ্যে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য
মহা পরীক্ষা ছিল৷ - ৭:১২৭, ১৪১,
আল্লাহ কি নিজের জন্য পুত্রের পরিবর্তে কন্যা পছন্দ করেছেন?
(৩৭- আস সফ্ফাত : ১৪৯) তারপর
তাদেরকে একটু জিজ্ঞেস করো, ৮৬ (তাদের মন কি একথায় সায় দেয় যে,) তোমাদের রবের জন্য তো হচ্ছে কন্যারা এবং তাদের নিজেদের জন্য পুত্ররা? ৮৭ ১৫০) সত্যই কি আমি ফেরেশ্তাদেরকে মেয়ে হিসেবে
সৃষ্টি করেছি এবং তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে একথা
বলছে ? ১৫১) ভালো করেই শুনে রাখো, আসলে তারা তো মনগড়া কথা বলে যে, ১৫৩) আল্লাহ কি নিজের
জন্য পুত্রের পরিবর্তে কন্যা পছন্দ করেছেন? ১৫৪) তোমাদের কি হয়ে গেছে,
কিভাবে ফায়সালা করছো? ১৫৫) তোমরা কি সচেতন হবে না ? ১৫৬) অথবা তোমাদের
কাছে তোমাদের এসব কথার স্বপক্ষে কোন পরিষ্কা প্রমাণপত্র আছে ? ১৫৭) তাহলে আনো তোমাদের সে কিতাব, যদি তোমরা সত্যবাদী হও৷ ৮৮
৮৬. এখান থেকে
আর একটি বিষয় শুরু হচ্ছে । প্রথম বিষয়টি ১১ আয়াত থেকে শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ মক্কার কাফেরদের সামনে এ প্রশ্ন রাখা হয়েছিলঃ " তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, তাদেরকে সৃষ্টি করা বেশী কঠিন কাজ, না আমি যেগুলো সৃষ্টি করে রেখেছি সেগুলো ৷ " এখন তাদেরকে সামনে এ দ্বিতীয় প্রশ্ন আনা হচ্ছে । প্রথম প্রশ্নের উদ্দেশ্যে ছিল কাফেরদেরকে তাদের এ
ভ্রষ্টতা সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া যে , তারা মৃত্যু পরের জীবন ও শাস্তি - পুরস্কারকে অসম্ভব মনে করতো এবং এ জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিদ্রূপ করতো । এখন এ দ্বিতীয় প্রশ্নটি তাদের এ
মূর্খতা সম্পর্কে সতর্ক করে দেবার জন্য পেশ করা হচ্ছে যে , তারা বলতো আল্লাহর সন্তান আছে
এবং অনুমানের ঘোড়া দাবড়িয়ে যাকে ইচ্ছা তাকেই আল্লাহর সন্তান বলে আখ্যায়িত
করতো।
৮৭. হাদীস
থেকে জানা যায় , আরবে কুরাইশ , জুহাইনিয়া , বনী সালেমাহ , খুযা'আহ , নবী য়ুলাহ এবং অন্যান্য গোত্র বিশ্বাস করতো , ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা । কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে
তাদের এ জাহেলী আকীদার কথা বলা হয়েছে । উদাহরণস্বরূপ দেখুন সূরা আন নিসা , ১১৭ ; আন নাহল , ৫৭ - ৫৮ বনী ইসরাঈল , ৪০ ; আয যুখরুফ , ১৬ - ১৯ এবংআন নাজম , ২১- ২৭ আয়াতসমূহ।
৮৮. অর্থাৎ
ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা মনে করার জন্য দু'টি বুনিয়াদই হতে পারে। এ ধরনের কথা তারা বলতে পারে প্রত্যক্ষ দর্শনের ভিত্তিতে অথবা এ ধরনের দাবী । যারা করে তাদের কাছে আল্লাহ
এমন কোন কিতাব থাকতে হবে যাতে আল্লাহ নিজেই ফেরেশতাদেরক নিজের কন্যা বলে উল্লেখ
করে থাকবেন। এখন এ বিশ্বাসের প্রবক্তারা যদি কোন প্রত্যক্ষ দর্শনের দাবী করতো না পারে এবং এমন কোন কিতাব ও তাদের কাছে না থাকে যাতে একথা বলা হয়েছে , তাহলে নিছক উড়ো কথার ভিক্তিতে একটি দীনী বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করে নেয়া এবং বিশ্ব - জাহানের মালিকের
সাথে সুস্পষ্ট হাস্যকর কথা সম্পৃক্ত করে দেয়ার চাইতে বড় মূর্খতা ও বোকামি আর কী হতে পারে।
আরো বিস্তারিত দেখুন : ফ
> ফেরেশতা > ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা সন্তান নির্ধারণ করা এবং ফেরেশতাদের
পক্ষ থেকে তার জবাব।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন