কাবা ঘর :
নিরাপত্তার ঘর :
(২৯-আনকাবুত:৬৭)
তারা কি দেখে না, আমি একটি নিরাপদ হারম বানিয়ে দিয়েছি, অথচ তাদের আশেপাশে লোকদেরকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়? ১০৫
এরপরও কি তারা বাতিলকে মেনে নেবে এবং আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করবে?
১০৫ .
অর্থাৎ তারা যে মক্কা শহরে বাস করে, যে শহরে তারা পূর্ণ নিরাপদ জীবন যাপন করছে, কোন লাত বা হুবল কি একে হারম তথা নিরাপদ স্থানে
পরিণত করেছে ৷ আরবের আড়াই হাজার বছরের চরম অশান্তি ও নৈরাজ্যের পরিবেশ এ স্থানটিকে
সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় মুক্ত রাখার কি কোন দেবতা বা দেবীর সাধ্যায়াত্ত
ছিল ৷ আমি ছাড়া আর কে এর মর্যাদা রক্ষাকারী ছিল ৷
হজ্বপালনকারীদের নিকট থেকে মক্কার বাড়ীঘরের ভাড়া আদায় করা কি বৈধ ?
মসজিদে হারামের চতুর্সীমায় যে কাজ গুলো হারাম:
কাবা ঘর প্রসঙ্গ : বিস্তারিত দেখুন : ম > মসজিদ > মসজিদুল হারাম ।
কাবাঘর এর কারণে মক্কার অর্থনৈতিক অবস্থার বিবিরণ :
আরো বিস্তারিত : ন > নবীদের জীবনের ঘটনাবলী > ইব্রাহিম আ: > ইব্রাহিম আ: ও কাবাঘর।
ঈমান ও সৎকাজ না থাকলে, কাবাঘরের খাদেম হয়েও কোন লাভ নেই, বেঈমানদের শাস্তি জাহান্নাম :
যারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে : মুশরিকরা যখন নিজেরাই কুফরীর
সাক্ষ্য দিচ্ছে সুতরাং মসজিদুল হারামের খাদেম হয়ে তাদের কোন লাভ নেই : ৯:১৭ (অর্থাৎ, ঈমান গ্রহণ না করে রাসূল সা: এর পথে না চললে কা’বা ঘরের খাদেম হয়েও কোন লাভ
নেই, সমস্তআমলই বরবাদ হয়ে যাবে এবং চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে) ।
আরবদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার কারণ ও কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কাবা ঘর : কিন্তু আল্লাহর ইবাদত ও তার প্রতি ত্যাগ স্বীকারই
হচ্ছে মূল বিষয় :
(২৮-ক্বাছাছ
: ৫৭) তারা বলে, "যদি আমরা তোমার সাথে এ হেদায়াতের অনুসরণ করি তাহলে নিজেদের দেশ থেকে আমাদেরকে উৎখাত করে দেয়া হবে৷"৮০ এটা কি সত্য নয়, একটি নিরাপদ হারমকে আমি তাদের জন্য অবস্থানস্থলে
পরিণত করেছি, যেদিকে সব ধরনের ফলমূল চলে আসে আমার পক্ষ থেকে রিযিক হিসেবে? কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে
না৷৮১
৮০. কুরাইশ
বংশীয় কাফেররা ইসলাম গ্রহণ না করার অজুহাত হিসেবে একথাটি বলতো। গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলে
জানা যাবে, এটিই ছিল তাদের কুফরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক কারণ।
৮১. এটি
হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের আপত্তির প্রথম জবাব। এর অর্থ হচ্ছে , যে হারামের শান্তি ও নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয়
গুরুত্বের বদৌলতে আজ তোমরা এমন যোগ্যতার অধিকারী হয়েছো, যার ফলে সারা দুনিয়ার
বাণিজ্যপণ্যের স্রোত এহেন অনুর্বর ধূলিবিবর্ণ উপত্যকায় চলে আসছে, তার এই নিরাপদ ও কেন্দ্রীয়
মর্যাদা কি তোমাদের কোন কৌশল অবলম্বনের ফলে অর্জিত হয়েছে ৷ আড়াই হাজার বছর
আগে আল্লাহর এক বান্দা জনশূন্য পাহাড়ের মাঝখানে এ পানি ও বৃক্ষলতাহীন উপত্যকায়
তাঁর স্ত্রী ও দুধের বাচ্চাকে নিয়ে এখানে আসেন। তিনি এখানে পাথর ও কাদা দিয়ে একটি
কক্ষ নির্মাণ করেন এবং একে ডাক দিয়ে বলেন, আল্লাহ একে হারমে পরিণত করেছেন , এসো এ ঘরের দিকে এবং একে প্রদক্ষিণ করো। এখন ২৫ শতক বছর থেকে এ জায়গাটি আরবের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে, মারাত্মক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশে দেশের এ একটিমাত্র স্থানে নিরাপত্তা লাভ করা যায়, আরবের আবালবৃদ্ধবণিতা একে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে এবং প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ একে প্রদক্ষিণ করার জন্য চলে
আসে। এসব আল্লাহ প্রদত্ত বরকত ও সমৃদ্ধি নয়তো আর কি হতে
পারে ৷ এ নিয়ামত লাভের ফলেই তো তোমরা আরবের সরদার হয়ে গেছো এবং বিশ্ব বাণিজ্যের
একটি বড় অংশ তোমাদের করতলগত হয়েছে। এখন কি তোমরা মনে করো , যে আল্লাহ তোমাদেরকে এ নিয়ামত দান করেছেন তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তোমরা সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠবে
আর তাঁর দ্বীনের অনুগত হয়ে চললেই ধ্বংস হয়ে যাবে ৷ )
=============================
প্রশ্ন ২৮ : ইতিকাফের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ।
=============================
প্রশ্ন ২৮ : ইতিকাফের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন