শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯

কবি



কাফিরদের অভিযোগ : মুহাম্মদ সা:  এবং অন্যান্য নবীগণ কবি ছিলেন : এবং এর জওয়াব :


(৩৭- আস সফ্ফাত :৩৬) এবং বলতো, “আমরা কি একজন উন্মাদ কবির জন্য আমাদের মাবুদদেরকে ত্যাগ করবো?”  

(২১:৫) তারা বলে, “বরং এসব বিক্ষিপ্ত স্বপ্ন, বরং এসব তার মনগড়া বরং এ ব্যক্তি কবি৷  নয়তো সে আনুক একটি নিদর্শন যেমন পূর্ববর্তীকালের নবীদেরকে পাঠানো হয়েছিল নিদর্শন সহকারে৷

(১০:৩৮) তারা কি একথা বলে, পয়ম্বর নিজেই এটা রচনা করেছে?

(১১:১৩) এরা কি বলছে, নবী নিজেই এ কিতাবটি রচনা করেছে ?

(১১:৩৫) হে মুহাম্মদ! এরা কি একথা বলে যে, এ ব্যক্তি নিজেই সবকিছু রচনা করেছে ?
(১৬:১০১) ....তখন এরা বলে, তুমি নিজেই এ কুরআন রচনা কর৷  আসলে এদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না৷

(ফুরকান:৪) যারা নবীর কথা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা বলে, এ ফুরকান একটি মনগড়া জিনিস, যাকে এ ব্যক্তি নিজেই তৈরি করেছে এবং অপর কিছু লোক তার এ কাজে তাকে সাহায্য করেছে৷ বড়ই জুলুম  ও ডাহা মিথ্যায় তারা এসে পৌছেছে৷৫) বলে, এসব পুরাতন লোকদের লেখা জিনিস - যেগুলো এ ব্যক্তি লিখিয়ে নিয়েছে এবং তা তাকে সকাল-সাঁঝে শুনানো হয়৷
এতো পুরান কাহিনী, এমন কথা আমরাও শুনাতে পারি : :৩১,


(২৬.শুআরা:২২৪) আর কবিরা! তাদের পেছনে চলে পথভ্রান্ত যারা৷১৪২ ২২৫) তুমি কি দেখ না তারা উপতক্যায় উপত্যকায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়১৪৩ ২২৬) এবং এমনসব কথা বলে যা তারা করে না?১৪৪ 

(১৪২. অর্থাৎ কবিদের সাথে যারা থাকে ও চলাফেরা করে তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যাদেরকে চলাফেরা করতে তোমরা দেখছো তাদের থেকে স্বভাবে-চরিত্রে ,চলনে-বলনে , অভ্যাসে-মেজাজে সম্পূর্ণ আলাদা উভয় দলের ফারাকটা এতই সুস্পষ্ট যে, এক নজর দেখার পর যে কোন ব্যক্তি উভয় দলের কোনটি কেমন তা চিহ্নিত করতে পারেএকদিকে আছে একান্ত ধীর-স্থির ও শান্ত শিষ্ঠ আচরণ , ভদ্র ও মার্জিত রুচি এবং সততা , ন্যায়পরায়ণতা ও আল্লাহভীতি প্রতিটি কথায় ও কাজে আছে দায়িত্বশীলতার অনুভূতিআচার-ব্যবহারে মানুষের অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টিলেনদেনে চূড়ান্ত পর্যায়ের আমানতদারী ও বিশ্বস্ততা কথা যখনই বলা হয় শুধুমাত্র কল্যাণ ও ন্যায়ের জন্যই বলা হয় , অকল্যাণ বা অন্যায়ের একটি শব্দও কখনো উচ্চারিত হয় নাসবচেয়ে বড় কথা,এদেরকে দেখে পরিষ্কার জানা যায়, এদের সামনে রয়েছে একটি উন্নত ও পবিত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য , এ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের নেশায় এরা রাতদিন সংগ্রাম করে চলেছে এবং এদের সমগ্র জীবন একটি উদ্দেশ্যে উৎসর্গীত হয়েছেঅন্যদিকে অবস্থা হচ্ছে এই যে, সেখানে কোথাও প্রেম চর্চা ও শরাব পানের বিষয় আলোচিত হচ্ছে এবং শ্রোতাবর্গ লাফিয়ে লাফিয়ে তাতে বাহবা দিচ্ছে কোথাও কোন দেহপশারিণী অথবা কোন পুরনারী বা গৃহ-ললনার সৌন্দর্যের আলোচনা চলছে এবং শ্রোতারা খুব স্বাদ নিয়ে নিয়ে তা শুনছে "কোথাও অশ্লীল কাহিনী বর্ণনা করা হচ্ছে এবং সমগ্র সমাবেশের উপর যৌন কামনার প্রেত চড়াও হয়ে বসেছেকোথাও মিথ্যা ও ভাঁড়ামির আসর বসেছে এবং সমগ্র মাহফিল ঠাট্টা-তামাশায় মশগুল হয়ে গেছেকোথাও কারোর দুর্নাম গাওয়া ও নিন্দাবাদ করা হচ্ছে এবং লোকেরা তাতে বেশ মজা পাচ্ছেকোথাও কারো অযথা প্রশংসা করা হচ্ছে এবং শাবাশ ও বাহবা দিয়ে তাকে আরো উসকিয়ে দেয়া হচ্ছেআবার কোথাও কারো বিরুদ্ধে শত্রুতা ও প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং তা শুনে মানুষের মনে আগুন লেগে যাচ্ছেএসব মজলিসে কবির কবিতা শোনার জন্য যে বিপুল সংখ্যক লোক জমায়েত হয় এবং বড় বড় কবিদের পেছনে যেসব লোক ঘুরে বেড়ায় তাদেরকে দেখে কোন ব্যক্তি একথা অনুভব না করে থাকতে পারে না যে, এরা হচ্ছে নৈতিকতার বন্ধনমুক্ত, আবেগ ও কামনার স্রোতে ভেসে চলা এবং ভোগ ও পাপ-পংকিলতার পূজারী অর্ধ-পাশবিক একটি নরগোষ্ঠি দুনিয়ায় মানুষের যে কোন উন্নত জীবনাদর্শ ও লক্ষ্যও থাকতে পারে এ চিন্তা কখনো এদের মন-মগজ স্পর্শও করতে পারে নাএ দু'দলের সুস্পষ্ট পার্থক্য ও ফারাক যদি কারো নজরে না পড়ে তাহলে সে অন্ধআর যদি সবকিছু দেখার পরও কোন ব্যক্তি নিছক সত্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ঈমানকে বেমালুম হজম করে একথা বলতে থাকে যে মুহাম্মাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর আশেপাশে যারা সমবেত হয়েছে তারা কবি ও কবিদের সাংগোপাংগদের মতো , তাহলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে ,তারা মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে নির্লজ্জতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গেছে
১৪৩. "অর্থাৎ তাদের নিজস্ব চিন্তার ও বাকশক্তি ব্যবহার করার কোন একটি নির্ধারিত পথ নেইবরং চিন্তার পাগলা ঘোড়া বল্গাহারা অশ্বের মতো পথে বিপথে মাঠে ঘাটে সর্বত্র উদভ্রান্তের মতো ছুটে বেড়ায়আবেগ, কামনা-বাসনা বা স্বার্থের প্রতিটি নতুন ধারা তাদের কণ্ঠ থেকে একটি নতুন বিষয়ের রূপে আবির্ভূত হয়চিন্তা ও বর্ণনা করার সময় এগুলো সত্য ও ন্যায়সংগত কিনা সেদিকে দৃষ্টি রাখার কোন প্রয়োজনই অনুভব করা হয় না কখনো একটি তরংগ জাগে , তখন তার স্বপক্ষে জ্ঞান ও নীতিকথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে দেয়া হয় আবার কখনো দ্বিতীয় তরংগ জাগে ,সেই একই কণ্ঠ থেকে এবার একেবারেই পুতিগন্ধময় নীচ, হীন ও নিম্নমুখী আবেগ উৎসারিত হতে থাকেকখনো কারোর প্রতি সন্তুষ্ট হলে তাকে আকাশে চড়িয়ে দেয়া হয় আবার কখনো নারাজ হলে সেই একই ব্যক্তিকেই পাতালের গভীর গর্ভে ঠেলে দেয়া হয়আল্লাহ বিশ্বাস ও নাস্তিক্যবাদ, বস্তুবাদিতা ও আধ্যাত্মিকতা , সদাচার ও অসদাচার, পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা ও অপবিত্রতা-অপরিচ্ছন্নতা , গাম্ভীর্য ও হাস্য-কৌতুক এবং প্রশংসা ও নিন্দাবাদ সবকিছুর একই কবির একই কাব্যে পাশাপাশি দেখা যাবেকবিদের এ পরিচিত বৈশিষ্ট্য যারা জানে তারা কেমন করে এ কুরআনের বাহককে কবিত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারে ৷ কারণ তাঁর ভাষণ মাপাজোকা , তাঁর বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন ,তাঁর পথ একেবারে সুস্পষ্ট ও নির্ধারিত এবং সত্য , সততা ন্যায় ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করা ছাড়া তাঁর কণ্ঠ থেকে অন্য কোন কথাই বের হয়নিকুরআন মজীদের অন্য এক জায়গায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলা হয়েছে , কবিত্বের সাথে তাঁর প্রকৃতি ও মেজাজের আদৌ কোন সম্পর্ক নেইঃ
----------------------------------------
""আমি তাকে কবিতা শিখাইনি এবং এটা তার করার মতো কাজও নয়"" (ইয়াসিন, ৬৯)
এটি এমন একটি সত্য ছিল , যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ব্যক্তিগতভাবে জানতেন তাঁরা সবাই একথা জানতেননির্ভরযোগ্য হাদীসে বলা হয়েছে: কোন একটি কবিতাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্রামের মুখস্থ ছিল নাকথাবার্তার মাঝখানে কোন কবির ভালো কবিতার চরণ তাঁর মুখে এলেও তা অনুপযোগীভাবে পড়ে যেতেন অথবা তার মধ্যে শব্দের হেরফের হয়ে যেতোহযরত হাসান বাসরী বলেন, একবার ভাষণের মাঝখানে তিনি এক কবিতার চরণ এভাবে পড়লেন:
.....................................
হযরত আবু বকর (রা) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চরণটি হবে এ রকম,
..........................
একবার তিনি আব্বাস ইবনে মিরদাস সুলামীকে জিজ্ঞেস করলেন, এ কবিতাটা কি তোমার:
.......................
আব্বাস বললেন, শেষ বাক্যাংশটি ওভাবে নয়, বরং এভাবে হবে: ..................একথায় রসূলুল্লাহ (সা) বললেন, কিন্তু অর্থ তো উভয়ের এক
হযরত আয়েশাকে (রা) জিজ্ঞেস করা হয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কখনো নিজের ভাষণের মধ্যে কবিতা ব্যবহার করতেন৷ তিনি বলেন, কবিতার চেয়ে বেশী তিনি কোন জিনিসকে ঘৃণা করতেন নাতবে কখনো কখনো তিনি বনী কায়েসের কবিতা পড়তেনকিন্তু প্রথমটা শেষে এবং শেষেরটা প্রথম দিকে পড়ে ফেলতেনহযরত আবু বকর (রা) বলতেন, হে আল্লাহর রসূল! এভাবে নয় বরং এভাবে তখন তিনি বলতেন, "আমি কবি নই এবং কবিতা পাঠ করা আমার কাজ নয়" আরবের কবিতা অংগনে যে ধরনের বিষয়বস্তুর সমাবেশ ঘটেছিল তা ছিল যৌন আবেদন ও অবৈধ প্রেমচর্চা অথবা শরাব পান কিংবা গোত্রীয় ঘৃণা, বিদ্বেষ ও যুদ্ধবিগ্রহ বা বংশীয় ও বর্ণগত অহংকারকল্যাণ ও সুকৃতির কথার স্থান সেখানে অতি অল্পই ছিল ছাড়া মিথ্যা, অতিরঞ্জন, অপবাদ, নিন্দাবাদ, অযথা প্রশংসা, আত্মগর্ব, তিরস্কার, দোষারোপ, পরিহাস ও মুশরিকী অশ্লীল পৌরনিকতা তো এ কাব্যধারার শিরায় শিরায় প্রবাহিত ছিলতাই এ কাব্য সাহিত্য সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রায় ছিল:
...................................................
"তোমাদের কারো পেটে পুঁজে ভরা থাকা কবিতায় ভরা থাকার চেয়ে ভালোতবুও যে কবিতায় কোন ভালো কথা থাকতো তিনি তার প্রশংসা করতেন" তাঁর উক্তি ছিল : ........................... "তার কবিতা মু'মিন কিন্তু অন্তর কাফের" একবার একজন সাহাবী একশোটা ভালো ভালো কবিতা তাঁকে শুনান এবং তিনি বলে যেতে থাকলে বলেন:.......... অর্থাৎ "আরো শুনাও
১৪৪. এটি হচ্ছে কবিদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মধারার সম্পূর্ণ বিপরীতনবী (সা) সম্পর্কে তাঁর প্রত্যেক পরিচিত জন জানতেন , তিনি যা বলতেন তাই করতেন এবং যা করতেন তাই বলতেনতাঁর কথা ও কর্মের সামঞ্জস্য এমনই একটি জাজ্বল্যমান সত্য ছিল যা তাঁর আশেপাশের সমাজের কেউ অস্বীকার করতে পারতো নাঅথচ সাধারণ কবিদের সম্পর্কে সবাই জানতো যে, তারা বলতেন এক কথা এবং করতেন অন্য কিছু তাদের কবিতায় দানশীলতার মাহাত্ম এমন উচ্চ কণ্ঠে প্রচারিত হবে যেন মনে হবে তাদের চেয়ে বড় আর কোন দাতা নেইকিন্তু তাদের কাজ দেখলে বুঝা যাবে তারা বড়ই কৃপণবীরত্বের কথা তারা বলবেন কিন্তু নিজেরা হবেন কাপুরুষঅমুখাপেক্ষিতা, অল্পে তুষ্টি ও আত্মমর্যাদাবোধ হবে তাদের কবিতার বিষয়বস্তু কিন্তু নিজেরা লোভ , লালসা ও আত্ম বিক্রয়ের শেষ সীমানাও পার হয়ে যাবেনঅন্যের সামান্যতম দুর্বলতাকেও কঠোরভাবে পাকড়াও করবেন কিন্তু নিজেরা চরম দুর্বলতার মধ্যে হাবুডুবু খাবেন)

(৩৬-ইয়াসিন :৬৯) আমি এ (নবী)-কে কবিতা শিখাইনি এবং কাব্য চর্চা তার জন্য শোভনীয়ও নয়৷৫৮  এ তো একটি উপদেশ এবং পরিস্কার পঠনযোগ্য কিতাব, 

৫৮. কাফেররা তাওহীদ, আখেরাত, মৃত্যুপরের জীবন ও জান্নাত -জাহান্নাম সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথাকে নিছক কাব্য কথা গণ্য করে নিজেরা তাকে গুরুত্বহীন করে দেবার যে প্রচেষ্টা চালাতো এখানে তারই জবাব দেয়া হয়েছে

(৩৭- আস সফ্ফাত :৩৭) অথচ সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং রসূলদেরকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিল ২১ 

২১. রসূলদেরকে সত্য বলে মেনে নেয়ার তিনটি অর্থ রয়েছে এবং এ তিনটি অর্থই এখানে প্রযুক্তএক , তিনি পূর্ববর্তী এমন কোন রসূলের বিরোধিতা করেননি যার অনুসারীদের তাঁর বিরুদ্ধে পোষণ করার কোন যুক্তিসংগত কারণ থাকতোবরং তিনি আল্লাহর সমস্ত পূর্ববর্তী রসূলদের সত্য বলতেন দুই , তিনি কোন নতুন ও অভিনব কথা আনেননিবরং শুরু থেকে আল্লাহর সব রসূল যে কথা বলে আসছিলেন তিনি ও সে একই কথা পেশ করতেনতিন , পূর্ববর্তী রসূলগণ তাঁর সম্পর্কে যেসব খবর দিয়েছিলেন তিনি সেগুলোর সঠিক প্রয়োগক্ষেত্র ছিলেন

==================================
প্রশ্ন: ৫৩: কুরআন একত্রে নাযিল করা হলো না কেন ?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন