শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯

কিবলা


  

 কিবলা :  (আরো দেখুন : > মসজিদ > মসজিদুল হারাম )


(১0:৮৭) আর আমি মূসা ও তার ভাইকে ইশারা করলাম এই বলে যে, মিসরে নিজের কওমের জন্য কতিপয় গৃহের সংস্থান করো, নিজেদের ঐ গৃহগুলোকে কিবলায় পরিণত করো এবং নামায কায়েম করো৷  আর ঈমানদারদেরকে সুখবর দাও৷

(ব্যাখ্যা : এ আয়াতটির অর্থের ব্যাপারে মুফাস্সিরদের মধ্যে মতভেদ ঘটেছিলএর শব্দাবলী এবং যে পরিবেশে এ শব্দাবলী উচ্চারিত হয়েছিল তা বিশ্লেষণ করে আমি একথা বুঝেছি যে, সম্ভবত মিসরে সরকারের কঠোর নীতি ও নির্যাতন এবং বনী ইসরাঈলের নিজের দুর্বল ঈমানের কারণে  ইসরাঈলী ও মিসরীয় মুসলমানদের মধ্যে জামায়াতের সাথে নামায পড়ার ব্যবস্থা খতম হয়ে গিয়েছিলএর ফলে তাদের ঐক্যগ্রন্থী ছিন্নভিন্ন এবং তাদের দীনী প্রাণসত্তর মৃত্যু ঘটেছিলএ জন্য এ অবস্থাটিকে নতুন কর কায়েম করারা জন্য হযরত মূসাকে হুকুম দেয়া হয়েছিলতাকে বলা হয়েছিল জামায়াতবদ্ধভাবে নামায পড়ার জন্য মিসরে কয়েকটি গৃহ নির্মাণ করো, অথবাগৃহের ব্যবস্থা করে নাওকারণ একটি বিকৃত ও বিক্ষিপ্ত মুসলিম জাতির দীনী প্রাণসত্তার পুনরুজ্জীবন এবং তার ইতস্তত ছড়ানো শক্তিকে নতুন করে একত্র করার উদ্দেশ্যে ইসলামী পদ্ধতিতে যে কোন প্রচেষ্টাই চালানো হবে তার প্রথম পদক্ষেপেই অনিবার্যভাবে জামায়াতের সাথে নামায কায়েম করার ব্যবস্থা করতে হবেএ গৃহগুলোকে কিবলাহ গন্য করার যে অর্থ আমি বুঝেছি তা হচ্ছে এই যে, এ গৃহগুলোকে সমগ্র জাতির জন্য কেন্দ্রীয় গুরুত্বের অধিকারী এবং তাদের কেন্দ্রীয় সম্মিলন স্থলে পরিণত করতে হবেআর এরপরই নামায কায়েম করো, কথাগুলো বলার মানে হচ্ছে এই যে, পৃথক পৃথকভাবে যার যার জায়গয় নামায পড়ে নেয়ার পরিবর্তে লোকদের এ নির্ধারিত স্থানগুলোয় জামায়াতে হয়ে নামায পড়তে হবেকারণ কুরাআন পরিভাষায় যাকে ইকামাতে সালাত বলা হয় জামায়াতের সাথে নামায পড়া অনিবার্যভাবে তার অন্তরভুক্ত রয়েছে)
কিবলা পরিবর্তন প্রসঙ্গ : ২:১৪২, ১৪৪, ১৪৫, (কিবলা পরিবর্তনের আদেশ ছিল পরীক্ষা স্বরুপ : রাসুলের  কে কতটুকু অনুসারী)২:১৪৭, ১৪৮,
কিবলা হচ্ছে মসজিদে হারাম তথা কাবা ঘর : ২:১৪৯,
(আলে ইমরান :৯৬) নিসন্দেহে মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ইবাদাত গৃহটি নির্মিত হয় সেটি মক্কায় অবস্থিত ৷ তাকে কল্যাণ ও বরকত দান করা হয়েছিল এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতের কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল
(ইহুদীদের একটি আপত্তি ছিল এই যে, মুসলমানরা বাইতুল মাকদিসকে বাদ দিয়ে কাবাকে কিবলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে কেন৷ অথচ এ বাইতুল মাকদিসই ছিল পূর্ববর্তী নবীদের কিবলাহসূরা বাকারায় এ আপত্তির জবাব দেয়া হয়েছেকিন্তু ইহুদীরা এরপর ও নিজেদের আপত্তির ওপর জোর দিয়ে আসছিলতাই এখানে আবার এর জবাব দেয়া হয়েছেবাইতুল মাকিদস সম্পর্কে বাইবেল নিজেই সাক্ষ দিচ্ছে যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সাড়ে চারশো বছর পর হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এটি নির্মান করেছিলেন(১-রাজাবলী, ৬:১) আর হযরত সুলাইমানের (আ) আমলেই এটি তাওহীদবাদীদের কিবলাহ গণ্য হয়(১-রাজাবলী, ৮:২৯-৩০) বিপরীত পক্ষে সমগ্র আরববাসীর একযোগে সুদীর্ঘকালীন ধারাবাহিক বর্ণনায় একথা প্রমাণিত যে, কাবা নির্মাণ করেছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামতিনি হযরত মূসার (আ) আট নয়শো বছর আগে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিলেনকাজেই কাবার অগ্রবর্তী অবস্থান ও নির্মান সন্দেহাতীতভাবে সত্য)

====================================

প্রশ্ন ২৪ : তাওহীদ কাকে বলে? উহা কত প্রকার ও কি কি?



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন