কল্যাণ / অকল্যাণ / বিপদ-আপদ :
(১০:১০৭) যদি আল্লাহ
তোমাকে কোন বিপদে ফেলেন তাহলে তিনি ছাড়া আর কেউ নেই যে, এ বিপদ দুর করতে পারে ৷ আর যদি তিনি তোমার কোন মঙ্গল চান তাহলে তার অনুগ্রহ রদ করার
ও কেউ নেই৷ তিনি তার বান্দাদের মধ্যে থেকে যাকে চান
অনুগ্রহ করেন এবং তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু৷
কল্যাণ : আরো দেখুন : স > সাফল্য > সাফল্য লাভের শর্তাবলী :
১। কল্যাণ লাভ করার প্রধান শর্ত হচ্ছে : তাকওয়াবান হওয়া : আল্লাহকে ভয় করা :
(মু’মিনুন:৫৭) আসলে কল্যাণের
দিকে দৌড়ে যাওয়া ও অগ্রসর হয়ে তা অর্জনকারী লোক তো তারাই যারা নিজেদের রবের
ভয়ে ভীত ।
২। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকলে কল্যাণ ও উন্নতি লাভ করা যায় :
(২৭.নমল:৪৬).....আল্লাহর কাছে মাগফেরাত
চাচ্ছোনা কেন? হয়তো তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা যেতে পারে৷”
(সর্বদা পড়তে হবে : আস্তাগফিরুল্লাহা, ইন্নাহু কা-না গাফ্ফারা)
৩। দুনিয়াবী কল্যাণ তো পরীক্ষা স্বরূপ : চাক্ষুষ কল্যাণই আসল কথা নয়, প্রকৃত কল্যাণ তো আল্লাহর হাতে নিবদ্ধ :
(২৭.নমল: ৪৭) তারা বললো “আমরা তো তোমাদেরকে ও
তোমার সাথীদেরকে অমঙ্গলের নিদর্শন হিসেবে পেয়েছি৷” সালেহ জবাব দিল, “তোমাদের মঙ্গল
অমঙ্গলের উৎস তো আল্লাহর হাতে নিবদ্ধ, আসলে তোমাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে৷
(অর্থাৎ তোমরা যা মনে
করছো আসল ব্যাপার তা নয়। আসল ব্যাপারটি তোমার এখনো বুঝতে পারোনি। সেটি হচ্ছে, আমার আসার ফলে তোমাদের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। যতদিন আমি আসিনি ততদিন তোমরা নিজেদের মূর্খতার
পথে চলছিলে। তোমাদের সামনে হক ও বাতিলের কোন সুস্পষ্ট পার্থক্য-রেখা ছিল না। ভেজাল ও নির্ভেজাল যাচাই করার কোন মানদণ্ড ছিল না। অত্যধিক নিকৃষ্ট লোকেরা উঁচুতে উঠে যাচ্ছিল এবং সবচেয়ে ভালো
যোগ্যতা সম্পন্ন লোকেরা মাটিতে মিশে যাচ্ছিল। কিন্তু এখন একটি মানদণ্ড এসে গেছে। তোমাদের সবাইকে এখানে যাচাই ও
পরখ করা হবে। এখন মাঠের মাঝখানে একটি
তুলাদণ্ড রেখে দেয়া হয়েছে। এ তুলাদণ্ড প্রত্যেককে তার ওজন অনুযায়ী পরিমাপ করবে। এখন হক ও বাতিল মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। যে হককে গ্রহণ করবে সে ওজনে ভারী হয়ে যাবে,
চাই এ যাবত তার মূল্য কানাকড়িও না থেকে থাকুক। আর যে বাতিলের উপর অবিচল থাকবে তার ওজন এক রত্তিও হবে না। চাই এ যাবত সে সর্বোচ্চ নেতার পদেই অধিষ্ঠিত থেকে
থাকুক না কেন। কে কোন পরিবারের লোক, কার সহায় সম্পদ কি
পরিমাণ আছে এবং কে কতটা শক্তির অধিকারী তার ভিত্তিতে এখন আর
কোন ফায়সালা হবে না। বরং কে সোজাভাবে সত্যকে গ্রহণ
করে এবং কে মিথ্যার সাথে নিজের ভাগ্যকে জড়িয়ে দেয় এরই ভিত্তিতে ফায়সালা হবে।)
কল্যাণ দাণ ও অকল্যাণ দানের মালিক আল্লাহ
৬:১৭, ১৮, ৪০,
৪১,
যদি আল্লাহ তোমাকে কোন বিপদে ফেলেন তাহলে তিনি
ছাড়া আর কেউ নেই যে, এ বিপদ দুর করতে পারে ৷ আর যদি তিনি তোমার কোন মঙ্গল চান তাহলে তার অনুগ্রহ রদ করার ও
কেউ নেই৷ তিনি তার বান্দাদের মধ্যে থেকে যাকে চান
অনুগ্রহ করেন এবং তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু৷১০:১০৭।
আরো দেখুন : ক্ষ > ক্ষতি > আল্লাহ কারো ক্ষতি করতে চাইলে কেউ তার উপকার করতে পারবে না, আর আল্লাহ কারো উপকার করতে চাইলে কে্উ তার ক্ষতি করতে পারবে না
কল্যাণ লাভ করবে কোন ধরণের লোক আর অকল্যাণ লাভ করবে কোন ধরণের লোক ?
হে মুহাম্মাদ! বলে দাও, হে লোকেরা! তোমাদের
কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য এসে গেছে৷ এখন যারা
সোজা পথ অবলম্বন করবে তাদের সোজা পথ অবলম্ব তাদের জন্যই কল্যাণকর হবে৷ এবং যারা ভুল পথ অবলম্বন করবে তাদের ভুল পথ অবলম্বন তাদের জন্যই ধ্বংস কর হবে৷ আর আমি তোমাদের ওপর হাবিলদার হয়ে আসেনি৷১০:১০৮।
আর আমি একথাও বলতে পারি না যে, তোমরা যাদেরকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখো তাদেরকে আল্লাহ
কখনো কোন কল্যাণ দান করবেন না৷ তাদের মনের অবস্থা আল্লাহই
ভালো জানেন৷ যদি আমি এমনটি বলি তাহলে আমি হবো জালেম” (১১:৩১),
যে ব্যক্তিই সৎপথ অবলম্বন করে, তার সৎপথ অবলম্বন তার নিজের জন্যই কল্যাণকর হয়৷ আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, তার পথভ্রষ্টতার ধ্বংসকারিতা তার ওপরই বর্তায়৷-১৭:১৫,
যারা দুনিয়াবী কল্যাণ পেলে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকে আর দুনিয়াবী কল্যাণ না পেলে ইবাদত করা ছেড়ে দেয় :
(হাজ্ব:১১) আর মানুষের
মধ্যে এমনও কেউ আছে, যে এক কিনারায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর বন্দেগী করে,১৫ যদি তাতে তার উপকার হয় তাহলে নিশ্চিন্ত হয়ে যায় আর যদি কোনো বিপদ আসে তাহলে পিছনের দিকে ফিরে যায় ১৬ তার দুনিয়াও গেলো এবং আখেরাতও৷ এ হচ্ছে
সুস্পষ্ট ক্ষতি৷১৭
(১৫. অর্থাৎ দীনী
বৃত্তের মধ্যখানে নয় বরং তার এক প্রান্তে বা কিনারায় অথবা
অন্য কথায় কুফর ও ইসলামের সীমান্তে দাঁড়িয়ে
বন্দেগী করে। যেমন কোন দো-মনা ব্যক্তি কোন সেনাবাহিনীর এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকে। যদি দেখে সেনাদল বিজয়লাভ করছে তাহলে তাদের সাথে মিলে
যায় আর যদি দেখে পরাজিত হচ্ছে তাহলে আস্তে আস্তে কেটে পড়ে।
১৬. এখানে এমন সব
লোকের কথা বলা হয়েছে যাদের মানসিক গঠন অপরিপক্ক, আকীদা-বিশ্বাস নড়বড়ে এবং যারা প্রবৃত্তির পূজা করে। তারা ইসলাম গ্রহণ করে লাভের শর্তে। তাদের ঈমান এ শর্তের সাথে জড়িত হয় যে, তাদের আকাংখা পূর্ণ হতে হবে,
সব ধরণের নিশ্চিন্ততা অর্জিত হতে হবে, আল্লাহর দীন তাদের কাছে কোন স্বার্থ ত্যাগ দাবী করতে পারবে না এবং দুনিয়াতে তাদের কোন
ইচ্ছা ও আশা অপূর্ণ থাকতে পারবে না। এসব হলে তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট এবং তার দীন তাদের কাছে খুবই ভালো। কিন্তু যখনই কোন আপদ বলাই নেমে আসে অথবা আল্লাহর
পথে কোন বিপদ, কষ্ট ও ক্ষতির শিকার হতে হয় কিংবা কোন আকাংখা পূর্ণ
হয় না তখনই আর আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা,
রসূলের রিসালাত ও দীনের সত্যতা কোনটাই ওপরই তারা নিশ্চিন্ত থাকে না। এরপর তারা এমন প্রতিটি বেদীমূলে মাথা নোয়াতে উদ্যেগী হয় যেখানে তাদের লাভের আশা ও লোকসান থেকে বেঁচে যাবার সম্ভাবনা থাকে।
১৭. এখানে একটি অনেক
বড় সত্যকে কয়েকটি কথায় প্রকাশ করে দেয়া হয়েছে। আসলে দো-মনা মুসলমানের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়। কাফের যখন নিজের রবের মুখাপেক্ষী না হয়ে এবং পরকাল
থেকে বেপরোয়া ও আল্লাহর আইনের অনুগত্য মুক্ত
হয়ে একনিষ্ঠভাবে বস্তুগত স্বার্থের পেচনে দৌঁড়াতে থাকে তখন সে নিজের পরকাল হারালেও দুনিয়ার স্বার্থ কিছু না কিছু হাসিল করেই নেয়। আর মু'মিন যখন পূর্ণ ধৈর্য, অবিচলতা, দৃঢ় সংকল্প ও স্থৈর্য সহকারে আল্লাহর দীনের আনুগত্য করে তখন যদিও পার্থিব সাফল্য শেষ পর্যন্ত তার পদ-চুম্বন করেই থাকে,
তবুও যদি দুনিয়া একেবারেই তার নাগালের বাইরে চলে যেতেই
থাকে, আখেরাতে তার সাফল্য সুনিশ্চিত হয়। কিন্তু এ দো-মনা মুসলমান নিজের দুনিয়ার স্বার্থ লাভ করতে পারে না এবং আখেরাতেও তার সাফল্যের কোন সম্ভবনা থাকে না। তার মন ও মস্তিষ্কের কোন এক প্রকোষ্ঠ আল্লাহ ও
আখেরাতের অস্তিত্বের যে ধারণা রয়েছে এবং ইসলামের সাথে সম্পর্ক তার মধ্যে নৈতিক সীমারেখা কিছু না কিছু মেনে চলার যে প্রবণতা সৃষ্টি করেছে,
দুনিয়ার দিকে দৌড়াতে থাকলে এগুলো তার হাত টেনে ধরে। ফলে নিছক দুনিয়াবী ও বৈষয়িক স্বার্থ অন্বেষার জন্য যে ধরনের দৃঢ়তা ও একনিষ্ঠতার প্রয়োজন তা একজন কাফেরের মতো তার মধ্যে সৃষ্টি হয় না। আখেরাতের কথা চিন্তা করলে দুনিয়ার লাভ ও স্বার্থের
লোভ, ক্ষতির ভয় এবং প্রবৃত্তির কামনা বাসনাকে বিধিনিষেধের শৃংখলে বেঁধে রাখার
ব্যাপারে মানসিক অস্বীকৃতি সেদিকে যেতে দেয় না বরং বৈষয়িক
স্বার্থ পূজা তার বিশ্বাস ও কর্মকে এমনভাবে বিকৃত করে দেয়
যে, আখেরাতে তার শাস্তি থেকে নিষ্কৃতিলাভের সম্ভাবনা থাকে না। এভাবে সে দুনিয়া ও আখেরাত দুটোই হারায়।)
যে ব্যক্তিই
পবিত্রতা অবলম্বন
করে সে
নিজেরই ভালোর
জন্য /
কল্যাণের জন্য করে
(৩৫-ফাতির:১৮) ...আর যে ব্যক্তিই পবিত্রতা অবলম্বন করে সে নিজেরই ভালোর জন্য করে এবং ফিরে আসতে
হবে সবাইকে আল্লাহরই দিকে৷
প্রকৃত কল্যাণ লাভের জন্য ওহীর জ্ঞান প্রয়োজন : বান্দা নিজেকে ততটা জানেনা, যতটা আল্লাহ তাকে জানেন :
(৩৫-ফাতির:৩১)....অবশ্যই আল্লাহ নিজের বান্দাদের অবস্থা অবগত আছেন এবং সব জিনিসের প্রতি দৃষ্টি রাখেন৷ ৫৪
৫৪. বান্দার
কল্যাণ কোন জিনিসের মধ্যে রয়েছে তার নেতৃত্ব ও পথপ্রদর্শনের উপযোগী নীতি কি এবং তার
প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ নীতি নিয়ম কি কি এ সত্যগুলো সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়াই হচ্ছে
এখানে আল্লাহর এ গুনাবলী বর্ণনা করার উদ্দেশ্য। এ বিষয়গুলো আল্লাহ ছাড়া আর
কেউ জানতে পারে না। কারণ বান্দার প্রকৃতি ও চাহিদা একমাত্র তিনিই জানেন এবং তার প্রকৃত প্রয়োজন ও কল্যানের প্রতি একমাত্র তিনিই দৃষ্টি রাখেন। বান্দা নিজেকে তত বেশী জানে না যত বেশী তার স্রষ্টা তাকে জানেন। তাই সত্য সেটিই এবং একমাত্র সেটিই হতে পারে যা তিনি অহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন।
=================================
প্রশ্ন: ৪১ : সুদ দাতা, গ্রহীতা, লেখক, ও সাক্ষীদাতা সকলেই কি অপরাধী ?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন