কবর :
(২৭.নামল:৬৭) এ
অস্বীকারকারীরা বলে থাকে “
যখন আমরা ও আমাদের বাব দাদারা মাটি হয়ে যাব তখন তাদের সত্যিই কবর থেকে বের করা হবে নাকি?৬৮) এখবর আমাদেরও অনেক দেয়া হয়েছে এবং ইতিপূর্বে
আমাদের বাব দাদাদেরকেও অনেক দেয়া হয়েছিল, কিন্তু এসব নিছক কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়, যা আগের জামানা থেকে শুনে আসছি৷”
যারা
কবরে আছে
তাদেরকে তুমি
শুনাতে পারো
না :
(৩৫-ফাতির:২২)..আল্লাহ যাকে চান শুনান কিন্তু (হে নবী!) তুমি
তাদেরকে শুনাতে পার না যারা কবরে শায়িত রয়েছে৷৪৩
৪৩. অর্থাৎ আল্লাহর
ইচ্ছার ব্যাপার তো ভিন্ন। তিনি চাইলে পাথরকেও শ্রবনশক্তি দান করেন। কিন্তু যাদের বক্ষদেশে বিবেকের কবর রচিত হয়েছে তাদের
হৃদয়ে নিজের কথা বদ্ধমূল করে দিতে পারা এবং
যারা কথা শুনতেই চায় না তাদের বধির কর্ণকুহরে সত্যের ধ্বনি পৌছিয়ে দেবার সাধ্য রসূলের নেই। তিনি তো কেবলমাত্র তাদেরকেই শুনাতে পারেন যারা যুক্তিসংগত কথা শুনতে চায়।
মৃত্যুর পর কবর জগতে মানুষের চেতনা থাকবে ? নাকি মৃত্যুর পর চেতনা বিলুপ্ত অবস্থায় থাকবে এবং একেবারে হাশরের ময়দানে চেতনা ফিরে পাবে ?
(৩৬-ইয়াসিন :২৭) সে বললো, “হায়! যদি আমার সম্প্রদায়
জানতো আমার রব কোন জিনিসের বদৌলতে আমার মাগফিরাত করেছেন এবং আমাকে মর্যাদাশালী লোকদের
অন্তরভুক্ত করেছেন৷ ”২৩
২৩. এটি সেই মু'মিন ব্যক্তির উন্নত নৈতিক মানসিকতার একটি শ্রেষ্ঠতম আদর্শ। যারা এ মাত্র হত্যা কর্ম সংঘটিত করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তাঁর মনে কোন ক্রোধ ও প্রতিশোধ স্পৃহা ছিল না। তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য কোন বদদোয়া করছেন না। এর পরিবর্তে তিনি এখনো তাদের কল্যাণ কামনা করে চলছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর মনে যদি কোন আকাংখা জন্ম নিয়ে থাকে তাহলে তা ছিল কেবলমাত্র এতটুকু যে, হায়, আমার জাতি যদি আমার এ শুভ পরিণাম জানতে পারতো এবং আমার জীবন থেকে না হলেও আমার মৃত্যু থেকেও যদি শিক্ষা নিয়ে সত্য
-সঠিক পথ অবলম্বন করতো। এ ভদ্র-বিবেকবান মানুষটি নিজের হত্যাকারীদের জন্যও
জাহান্নামের প্রত্যাশা করতেন না। বরং তিনি চাইতেন তারা ঈমান এনে জান্নাতের অধিকারী
হোক। এরি প্রশংসা করে হাদীসে বলা হয়েছে,
-----------"এ ব্যক্তি জীবিত অবস্থায়ও
নিজের জাতির কল্যাণকামী থেকেছে এবং মৃত্যুর পরও। "
এ ঘটনাটি বর্ণনা করে মহান আল্লাহ মক্কার কাফেরদেরকে পরোক্ষভাবে এ সত্যটির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাথী মু'মিনরাও তোমাদের ঠিক তেমনি যথার্থ কল্যাণকামী যেমন এ মর্দে মু'মিন তাঁর জাতির কল্যাণকামী ছিল। তোমাদের সকল প্রকার
উৎপীড়ন-নিপীড়ন সত্ত্বেও এরা তোমাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও
প্রতিশোথধ স্পৃহা পোষণ করে না। তোমাদের সাথে এদের শত্রুতা নেই। বরং এদের শত্রুতা তোমাদের গোমরাহীর সাথে। তোমরা সত্যসঠিক পথে ফিরে আসবে, কেবল এ জন্যই এরা লড়াই করছে। এ ছাড়া এদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই।
যেসব আয়াত থেকে বরযখের (মৃত্যের পর থেকে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত)জীবনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় এ আয়াতটি তার অন্যতম। এ থেকে জানা যায় মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত
পর্যন্ত সময়-কাল চূড়ান্ত অস্তিত্ব বিলুপ্তির যুগ নয়। কোন কোন স্বল্পজ্ঞান-সম্পন্ন লোক এ রকম ধারণা পোষণ করে থাকে। বরং এ সময় দেহ ছাড়াই প্রাণ জীবিত থাকে, কথা বলে ও কথা শোনে, আবেগ-অনুভূতি পোষণ করে, আনন্দ ও দুঃখ অনুভব করে এবং দুনিয়াবাসীদের
ব্যাপারেও তার আগ্রহ অব্যাহত থাকে। যদি এমনটি না হতো, তাহলে মৃত্যুর পর এ মর্দে মু'মিনকে কেমন করে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয় এবং তিনিই বা কেমন করে তার জাতির জন্য এ আকাংখা করেন যে, হায় যদি তারা তাঁর এ শুভ পরিণাম সম্পর্কে জানতে পারতো।
(৩৬-ইয়াসিন :৫২) ভীত হয়ে বলবে, ”আরে কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড়
করালো?৪৮-“এটা সে জিনিস যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রসূলদের কথা সত্য ছিল৷ ৪৯
৪৮. অর্থাৎ তখন তাদের এ অনুভূতিই থাকবে না যে,
তারা মরে গিয়েছিল এবং দীর্ঘকাল
পরে এখন আবার তাদেরকে জীবিত করে উঠানো হয়েছে। বরং তারা এ চিন্তায় মগ্ন থাকবে যে, তারা ঘুমিয়েছিল, এখন হঠাৎ
কোন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে
জেগে উঠেছে এবং ছুটে চলছে। (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ত্বা-হা ৭৮ এবং ইবরাহীম, ১৮ টীকা।
৪৯. কে এ জবাব দেবে,
তা এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। হতে পারে কিছুক্ষণ পরে তারা
নিজেরাই বিষয়টির প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারবে এবং মনে মনে বলবে, হায়! আমাদের দুর্ভাগ্য, এ তো সে জিনিসই যার খবর আল্লাহর রসূল আমাদের দিতেন এবং আমরা
তাঁকে মিথ্যুক বলতাম। আবার এও হতে পারে,
মুমিনরা তাদের বিভ্রান্তির দূর
করে দেবে এবং তাদেরকে জানাবে, এটা ঘুম
থেকে জেগে ওঠা নয় বরং মৃত্যুর
পর দ্বিতীয় জীবন। তাছাড়া এও হতে পারে যে,
কিয়ামতের সমগ্র পরিবেশ তাদেরকে এ জবাব দেবে অথবা ফেরেশতারা
তাদেরকে প্রকৃত অবস্থা জানাবে।
কবর :
কবর দেবার পদ্ধতি :
হাবিল কাবিলের ঘটনায় কবর দেবার পদ্ধতি শেখানো হয়েছে :
৫:৩১,
কবর পূজা / মাজার পূজা :
আল্লাহকে
বাদ দিয়ে মৃতদেরকে
ডেকে কি কোন
লাভ হবে?
(১৬:২০)
আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যেসব সত্তাকে লোকেরা ডাকে, তারা কোনো একটি জিনিসেরও স্রষ্টা নয় বরং তারা নিজেরাই সৃষ্টি৷২১) তারা মৃত, জীবিত নয় এবং তারা কিছুই জানে না তাদেরকে কবে
(পুনর্বার জীবিত করে) উঠানো হবে৷
(১৩:৩১) আর কী হতো, যদি এমন কোন কুরআন নাযিল করা হতো যার শক্তিতে পাহাড়
চলতে থাকতো অথবা পৃথিবী বিদীর্ণ হতো কিংবা মৃত কবর থেকে বের হয়ে কথা
বলতে থাকতো ?” (এ ধরনের নিদর্শন দেখিয়ে দেয়া তেমন কঠিন কাজ নয়) বরং সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই হাতে
কেন্দ্রীভূত৷ তাহলে ঈমানদাররা কি (এখানো
পর্যন্ত কাফেরদের চাওয়ার জবাবে কোন নিদর্শন প্রকাশের আশায় বসে আছে এবং তারা একথা জেনে) হতাশ হয়ে যায়নি যে, যদি আল্লাহ চাইতেন তাহলে সমগ্র মানব জাতিকে হেয়াদাত দিয়ে দিতেন ?
কবরের
উপর মসজিদ বা ইবাদতখানা বা মাজার নির্মাণ কি
বৈধ : (আরো দেখুন: ম>মাজার নির্মাণ)
(১৮:২১) এভাবে আমি
নগরবাসীদেরকে তাদের অবস্থা জানালাম, যাতে লোকেরা জানতে পারে আল্লাহর
প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামতের দিন নিশ্চিতভাবেই আসবে৷ (কিন্তু একটু ভেবে দেখো, যখন এটিই ছিল চিন্তার আসল বিষয়) সে সময় তারা পরস্পর এ বিষয়টি নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত
হয়েছিল যে, এদের (আসহাবে কাহফ) সাথে কি করা যায়৷ কিছু লোক বললো, “এদের ওপর একটি প্রাচীর নির্মাণ করো, এদের রবই এদের ব্যাপারটি ভালো জানেন৷” কিন্তু তাদের
বিষয়াবলীর ওপর যারা প্রবল ছিল তারা বললো, “আমরা অবশ্যি এদের (কবরের) ওপর একটি ইবাদাতখানা নির্মাণ করবো”৷
(ব্যাখ্যা : আসহাবে
কাহাফ অর্থাৎ সেই গুহাবাসী যুবকদেরকে প্রায় তিনশত বছর পর ঘুমিয়ে রাখার পর আল্লাহ তাদেরকে আবার জাগ্রত করে দেখালেন, এটা ছিল একটা
প্রমাণ, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ মানুষকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করতে
পারবেন, কিন্তু এ বিষয়টি অনুধাবন না করে ঐ সময়কার কিছু কিছু লোক এটা চাইল যে, আসহাবে
কাহাফের মৃতদের কবরের উপর একটি সমাধি সৌধ
নির্মাণ করতে। আল্লাহ এ বিষয়টি উল্লেখ করে কবরের উপর সমাধিসৌধ বা ইবাদতখানা
নির্মাণ করতে চাওয়ার সমালোচনা করেছেন। )
কবরের সবাইকে আল্লাহ জাগিয়ে তুলবেন – হাশরের ময়দানে :
(হাজ্ব:৬) এসব কিছু
এজন্য যে, আল্লাহ সত্য, তিনি মৃতদেরকে জীবিত করেন এবং তিনি সব জিনিসের ওপর শক্তিশালী৷ ৭) আর এ (একথার প্রমাণ) যে, কিয়ামতের সময় অবশ্যই আসবে, এতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে উঠাবেন যারা
কবরে চলে গেছে৷
এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন : ক > কুরআন ও বিজ্ঞান > বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
থেকে আল্লাহর অস্তিত্ব ও আখিরাতের সত্যতার প্রমাণ ।
ঈমানদার
সৎকর্মশীল বান্দা বরযখের আযাব থেকে , কিয়ামতের দিনের কষ্ট থেকে , হিসেবের কঠোরতা থেকে , হাশরের ময়দানের অপমান থেকে
এবং নিজের দুর্বলতা ও অপরাধের কারণে পাকড়াও থেকে আল্লাহর মেহেরবানীতে রক্ষা পাবে :
=================================
প্রশ্ন ৫৫ : অপচয় সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের বাণী কী? অপচয়কারীর শাস্তি কি?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন