শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯

কবি



কাফিরদের অভিযোগ : মুহাম্মদ সা:  এবং অন্যান্য নবীগণ কবি ছিলেন : এবং এর জওয়াব :


(৩৭- আস সফ্ফাত :৩৬) এবং বলতো, “আমরা কি একজন উন্মাদ কবির জন্য আমাদের মাবুদদেরকে ত্যাগ করবো?”  

(২১:৫) তারা বলে, “বরং এসব বিক্ষিপ্ত স্বপ্ন, বরং এসব তার মনগড়া বরং এ ব্যক্তি কবি৷  নয়তো সে আনুক একটি নিদর্শন যেমন পূর্ববর্তীকালের নবীদেরকে পাঠানো হয়েছিল নিদর্শন সহকারে৷

(১০:৩৮) তারা কি একথা বলে, পয়ম্বর নিজেই এটা রচনা করেছে?

(১১:১৩) এরা কি বলছে, নবী নিজেই এ কিতাবটি রচনা করেছে ?

(১১:৩৫) হে মুহাম্মদ! এরা কি একথা বলে যে, এ ব্যক্তি নিজেই সবকিছু রচনা করেছে ?
(১৬:১০১) ....তখন এরা বলে, তুমি নিজেই এ কুরআন রচনা কর৷  আসলে এদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না৷

(ফুরকান:৪) যারা নবীর কথা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা বলে, এ ফুরকান একটি মনগড়া জিনিস, যাকে এ ব্যক্তি নিজেই তৈরি করেছে এবং অপর কিছু লোক তার এ কাজে তাকে সাহায্য করেছে৷ বড়ই জুলুম  ও ডাহা মিথ্যায় তারা এসে পৌছেছে৷৫) বলে, এসব পুরাতন লোকদের লেখা জিনিস - যেগুলো এ ব্যক্তি লিখিয়ে নিয়েছে এবং তা তাকে সকাল-সাঁঝে শুনানো হয়৷
এতো পুরান কাহিনী, এমন কথা আমরাও শুনাতে পারি : :৩১,


(২৬.শুআরা:২২৪) আর কবিরা! তাদের পেছনে চলে পথভ্রান্ত যারা৷১৪২ ২২৫) তুমি কি দেখ না তারা উপতক্যায় উপত্যকায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়১৪৩ ২২৬) এবং এমনসব কথা বলে যা তারা করে না?১৪৪ 

(১৪২. অর্থাৎ কবিদের সাথে যারা থাকে ও চলাফেরা করে তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যাদেরকে চলাফেরা করতে তোমরা দেখছো তাদের থেকে স্বভাবে-চরিত্রে ,চলনে-বলনে , অভ্যাসে-মেজাজে সম্পূর্ণ আলাদা উভয় দলের ফারাকটা এতই সুস্পষ্ট যে, এক নজর দেখার পর যে কোন ব্যক্তি উভয় দলের কোনটি কেমন তা চিহ্নিত করতে পারেএকদিকে আছে একান্ত ধীর-স্থির ও শান্ত শিষ্ঠ আচরণ , ভদ্র ও মার্জিত রুচি এবং সততা , ন্যায়পরায়ণতা ও আল্লাহভীতি প্রতিটি কথায় ও কাজে আছে দায়িত্বশীলতার অনুভূতিআচার-ব্যবহারে মানুষের অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টিলেনদেনে চূড়ান্ত পর্যায়ের আমানতদারী ও বিশ্বস্ততা কথা যখনই বলা হয় শুধুমাত্র কল্যাণ ও ন্যায়ের জন্যই বলা হয় , অকল্যাণ বা অন্যায়ের একটি শব্দও কখনো উচ্চারিত হয় নাসবচেয়ে বড় কথা,এদেরকে দেখে পরিষ্কার জানা যায়, এদের সামনে রয়েছে একটি উন্নত ও পবিত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য , এ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের নেশায় এরা রাতদিন সংগ্রাম করে চলেছে এবং এদের সমগ্র জীবন একটি উদ্দেশ্যে উৎসর্গীত হয়েছেঅন্যদিকে অবস্থা হচ্ছে এই যে, সেখানে কোথাও প্রেম চর্চা ও শরাব পানের বিষয় আলোচিত হচ্ছে এবং শ্রোতাবর্গ লাফিয়ে লাফিয়ে তাতে বাহবা দিচ্ছে কোথাও কোন দেহপশারিণী অথবা কোন পুরনারী বা গৃহ-ললনার সৌন্দর্যের আলোচনা চলছে এবং শ্রোতারা খুব স্বাদ নিয়ে নিয়ে তা শুনছে "কোথাও অশ্লীল কাহিনী বর্ণনা করা হচ্ছে এবং সমগ্র সমাবেশের উপর যৌন কামনার প্রেত চড়াও হয়ে বসেছেকোথাও মিথ্যা ও ভাঁড়ামির আসর বসেছে এবং সমগ্র মাহফিল ঠাট্টা-তামাশায় মশগুল হয়ে গেছেকোথাও কারোর দুর্নাম গাওয়া ও নিন্দাবাদ করা হচ্ছে এবং লোকেরা তাতে বেশ মজা পাচ্ছেকোথাও কারো অযথা প্রশংসা করা হচ্ছে এবং শাবাশ ও বাহবা দিয়ে তাকে আরো উসকিয়ে দেয়া হচ্ছেআবার কোথাও কারো বিরুদ্ধে শত্রুতা ও প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং তা শুনে মানুষের মনে আগুন লেগে যাচ্ছেএসব মজলিসে কবির কবিতা শোনার জন্য যে বিপুল সংখ্যক লোক জমায়েত হয় এবং বড় বড় কবিদের পেছনে যেসব লোক ঘুরে বেড়ায় তাদেরকে দেখে কোন ব্যক্তি একথা অনুভব না করে থাকতে পারে না যে, এরা হচ্ছে নৈতিকতার বন্ধনমুক্ত, আবেগ ও কামনার স্রোতে ভেসে চলা এবং ভোগ ও পাপ-পংকিলতার পূজারী অর্ধ-পাশবিক একটি নরগোষ্ঠি দুনিয়ায় মানুষের যে কোন উন্নত জীবনাদর্শ ও লক্ষ্যও থাকতে পারে এ চিন্তা কখনো এদের মন-মগজ স্পর্শও করতে পারে নাএ দু'দলের সুস্পষ্ট পার্থক্য ও ফারাক যদি কারো নজরে না পড়ে তাহলে সে অন্ধআর যদি সবকিছু দেখার পরও কোন ব্যক্তি নিছক সত্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ঈমানকে বেমালুম হজম করে একথা বলতে থাকে যে মুহাম্মাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর আশেপাশে যারা সমবেত হয়েছে তারা কবি ও কবিদের সাংগোপাংগদের মতো , তাহলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে ,তারা মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে নির্লজ্জতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গেছে
১৪৩. "অর্থাৎ তাদের নিজস্ব চিন্তার ও বাকশক্তি ব্যবহার করার কোন একটি নির্ধারিত পথ নেইবরং চিন্তার পাগলা ঘোড়া বল্গাহারা অশ্বের মতো পথে বিপথে মাঠে ঘাটে সর্বত্র উদভ্রান্তের মতো ছুটে বেড়ায়আবেগ, কামনা-বাসনা বা স্বার্থের প্রতিটি নতুন ধারা তাদের কণ্ঠ থেকে একটি নতুন বিষয়ের রূপে আবির্ভূত হয়চিন্তা ও বর্ণনা করার সময় এগুলো সত্য ও ন্যায়সংগত কিনা সেদিকে দৃষ্টি রাখার কোন প্রয়োজনই অনুভব করা হয় না কখনো একটি তরংগ জাগে , তখন তার স্বপক্ষে জ্ঞান ও নীতিকথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে দেয়া হয় আবার কখনো দ্বিতীয় তরংগ জাগে ,সেই একই কণ্ঠ থেকে এবার একেবারেই পুতিগন্ধময় নীচ, হীন ও নিম্নমুখী আবেগ উৎসারিত হতে থাকেকখনো কারোর প্রতি সন্তুষ্ট হলে তাকে আকাশে চড়িয়ে দেয়া হয় আবার কখনো নারাজ হলে সেই একই ব্যক্তিকেই পাতালের গভীর গর্ভে ঠেলে দেয়া হয়আল্লাহ বিশ্বাস ও নাস্তিক্যবাদ, বস্তুবাদিতা ও আধ্যাত্মিকতা , সদাচার ও অসদাচার, পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা ও অপবিত্রতা-অপরিচ্ছন্নতা , গাম্ভীর্য ও হাস্য-কৌতুক এবং প্রশংসা ও নিন্দাবাদ সবকিছুর একই কবির একই কাব্যে পাশাপাশি দেখা যাবেকবিদের এ পরিচিত বৈশিষ্ট্য যারা জানে তারা কেমন করে এ কুরআনের বাহককে কবিত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারে ৷ কারণ তাঁর ভাষণ মাপাজোকা , তাঁর বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন ,তাঁর পথ একেবারে সুস্পষ্ট ও নির্ধারিত এবং সত্য , সততা ন্যায় ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করা ছাড়া তাঁর কণ্ঠ থেকে অন্য কোন কথাই বের হয়নিকুরআন মজীদের অন্য এক জায়গায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলা হয়েছে , কবিত্বের সাথে তাঁর প্রকৃতি ও মেজাজের আদৌ কোন সম্পর্ক নেইঃ
----------------------------------------
""আমি তাকে কবিতা শিখাইনি এবং এটা তার করার মতো কাজও নয়"" (ইয়াসিন, ৬৯)
এটি এমন একটি সত্য ছিল , যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ব্যক্তিগতভাবে জানতেন তাঁরা সবাই একথা জানতেননির্ভরযোগ্য হাদীসে বলা হয়েছে: কোন একটি কবিতাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্রামের মুখস্থ ছিল নাকথাবার্তার মাঝখানে কোন কবির ভালো কবিতার চরণ তাঁর মুখে এলেও তা অনুপযোগীভাবে পড়ে যেতেন অথবা তার মধ্যে শব্দের হেরফের হয়ে যেতোহযরত হাসান বাসরী বলেন, একবার ভাষণের মাঝখানে তিনি এক কবিতার চরণ এভাবে পড়লেন:
.....................................
হযরত আবু বকর (রা) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! চরণটি হবে এ রকম,
..........................
একবার তিনি আব্বাস ইবনে মিরদাস সুলামীকে জিজ্ঞেস করলেন, এ কবিতাটা কি তোমার:
.......................
আব্বাস বললেন, শেষ বাক্যাংশটি ওভাবে নয়, বরং এভাবে হবে: ..................একথায় রসূলুল্লাহ (সা) বললেন, কিন্তু অর্থ তো উভয়ের এক
হযরত আয়েশাকে (রা) জিজ্ঞেস করা হয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কখনো নিজের ভাষণের মধ্যে কবিতা ব্যবহার করতেন৷ তিনি বলেন, কবিতার চেয়ে বেশী তিনি কোন জিনিসকে ঘৃণা করতেন নাতবে কখনো কখনো তিনি বনী কায়েসের কবিতা পড়তেনকিন্তু প্রথমটা শেষে এবং শেষেরটা প্রথম দিকে পড়ে ফেলতেনহযরত আবু বকর (রা) বলতেন, হে আল্লাহর রসূল! এভাবে নয় বরং এভাবে তখন তিনি বলতেন, "আমি কবি নই এবং কবিতা পাঠ করা আমার কাজ নয়" আরবের কবিতা অংগনে যে ধরনের বিষয়বস্তুর সমাবেশ ঘটেছিল তা ছিল যৌন আবেদন ও অবৈধ প্রেমচর্চা অথবা শরাব পান কিংবা গোত্রীয় ঘৃণা, বিদ্বেষ ও যুদ্ধবিগ্রহ বা বংশীয় ও বর্ণগত অহংকারকল্যাণ ও সুকৃতির কথার স্থান সেখানে অতি অল্পই ছিল ছাড়া মিথ্যা, অতিরঞ্জন, অপবাদ, নিন্দাবাদ, অযথা প্রশংসা, আত্মগর্ব, তিরস্কার, দোষারোপ, পরিহাস ও মুশরিকী অশ্লীল পৌরনিকতা তো এ কাব্যধারার শিরায় শিরায় প্রবাহিত ছিলতাই এ কাব্য সাহিত্য সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রায় ছিল:
...................................................
"তোমাদের কারো পেটে পুঁজে ভরা থাকা কবিতায় ভরা থাকার চেয়ে ভালোতবুও যে কবিতায় কোন ভালো কথা থাকতো তিনি তার প্রশংসা করতেন" তাঁর উক্তি ছিল : ........................... "তার কবিতা মু'মিন কিন্তু অন্তর কাফের" একবার একজন সাহাবী একশোটা ভালো ভালো কবিতা তাঁকে শুনান এবং তিনি বলে যেতে থাকলে বলেন:.......... অর্থাৎ "আরো শুনাও
১৪৪. এটি হচ্ছে কবিদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মধারার সম্পূর্ণ বিপরীতনবী (সা) সম্পর্কে তাঁর প্রত্যেক পরিচিত জন জানতেন , তিনি যা বলতেন তাই করতেন এবং যা করতেন তাই বলতেনতাঁর কথা ও কর্মের সামঞ্জস্য এমনই একটি জাজ্বল্যমান সত্য ছিল যা তাঁর আশেপাশের সমাজের কেউ অস্বীকার করতে পারতো নাঅথচ সাধারণ কবিদের সম্পর্কে সবাই জানতো যে, তারা বলতেন এক কথা এবং করতেন অন্য কিছু তাদের কবিতায় দানশীলতার মাহাত্ম এমন উচ্চ কণ্ঠে প্রচারিত হবে যেন মনে হবে তাদের চেয়ে বড় আর কোন দাতা নেইকিন্তু তাদের কাজ দেখলে বুঝা যাবে তারা বড়ই কৃপণবীরত্বের কথা তারা বলবেন কিন্তু নিজেরা হবেন কাপুরুষঅমুখাপেক্ষিতা, অল্পে তুষ্টি ও আত্মমর্যাদাবোধ হবে তাদের কবিতার বিষয়বস্তু কিন্তু নিজেরা লোভ , লালসা ও আত্ম বিক্রয়ের শেষ সীমানাও পার হয়ে যাবেনঅন্যের সামান্যতম দুর্বলতাকেও কঠোরভাবে পাকড়াও করবেন কিন্তু নিজেরা চরম দুর্বলতার মধ্যে হাবুডুবু খাবেন)

(৩৬-ইয়াসিন :৬৯) আমি এ (নবী)-কে কবিতা শিখাইনি এবং কাব্য চর্চা তার জন্য শোভনীয়ও নয়৷৫৮  এ তো একটি উপদেশ এবং পরিস্কার পঠনযোগ্য কিতাব, 

৫৮. কাফেররা তাওহীদ, আখেরাত, মৃত্যুপরের জীবন ও জান্নাত -জাহান্নাম সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথাকে নিছক কাব্য কথা গণ্য করে নিজেরা তাকে গুরুত্বহীন করে দেবার যে প্রচেষ্টা চালাতো এখানে তারই জবাব দেয়া হয়েছে

(৩৭- আস সফ্ফাত :৩৭) অথচ সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং রসূলদেরকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিল ২১ 

২১. রসূলদেরকে সত্য বলে মেনে নেয়ার তিনটি অর্থ রয়েছে এবং এ তিনটি অর্থই এখানে প্রযুক্তএক , তিনি পূর্ববর্তী এমন কোন রসূলের বিরোধিতা করেননি যার অনুসারীদের তাঁর বিরুদ্ধে পোষণ করার কোন যুক্তিসংগত কারণ থাকতোবরং তিনি আল্লাহর সমস্ত পূর্ববর্তী রসূলদের সত্য বলতেন দুই , তিনি কোন নতুন ও অভিনব কথা আনেননিবরং শুরু থেকে আল্লাহর সব রসূল যে কথা বলে আসছিলেন তিনি ও সে একই কথা পেশ করতেনতিন , পূর্ববর্তী রসূলগণ তাঁর সম্পর্কে যেসব খবর দিয়েছিলেন তিনি সেগুলোর সঠিক প্রয়োগক্ষেত্র ছিলেন

==================================
প্রশ্ন: ৫৩: কুরআন একত্রে নাযিল করা হলো না কেন ?

কলম / কালি


যদি সমুদ্রের পানি  কলমের কালিতে পরিণত হয় তবুও আল্লাহর কালিমা সমূহ লেখা শেষ হবেনা:


(১৮:১০৯) হে মুহাম্মাদ! বলো, যদি আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র কালিতে পরিণত হয় তাহলে সেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমার রবের কথা শেষ হবে না৷ বরং যদি এ পরিমাণ কালি আবারও আনি তাহলে তাও যথেষ্ট হবে না৷

পৃথিবীর সমস্ত গাছ যদি কলম হয়ে যায় তবুও আল্লাহর সৃষ্টি নিদর্শনের কথা লেখা শেষ হবে না :



(৩১-লোকমান: ২৭) পৃথিবীতে যত গাছ আছে তা সবই যদি কলম হয়ে যায় এবং সমুদ্র (দোয়াত হয়ে যায়) , তাকে আরো সাতটি সমুদ্র কালি সরবরাহ করে তবুও আল্লাহর কথা (লেখা) শেষ হবে না৷ ৪৮ অবশ্যই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও জ্ঞানী৷


৪৮ . "আল্লাহর কথা" মানে তার সৃষ্টিকর্ম এবং তার শক্তি ও জ্ঞানের নিদর্শন। এ বিষয়বস্তুটি সূরা আল কাহফের ১০৯ আয়াতে এর থেকে আরো একটু ভিন্ন ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এক ব্যক্তি ধারণা করবে, বোধ হয় এ বক্তব্যে বাড়াবাড়ি বা অতিকথন আছে। কিন্তু সামান্য চিন্তা করলে এক ব্যক্তি অনুভব করবে , এর মধ্যে তিল পরিমাণও অতিকথা নেই। এ পৃথিবীর গাছগুলো কেটে যতগুলো কলম তৈরি করা যেতে পারে এবং পৃথিবীর বর্তমান সাগরের পানির সাথে আরো তেমনি সাতটি সাগরের পানিকে কালিতে পরিণত করলে তা দিয়ে আল্লাহর শক্তি, জ্ঞান ও সৃষ্টির কথা লিখে শেষ করা তো দূরের কথা হয়তো পৃথিবীতে যেসব জিনিস আছে সেগুলোর তালিকা তৈরি করাই সম্ভবপর হবে না। শুধুমাত্র এ পৃথিবীতেই যেসব জিনিসের অস্তিত্ব রয়েছে সেগুলোই গণনা করা কঠিন, তার ওপর আবার এই অথৈ মহাবিশ্বের সৃষ্টির বিবরণ লেখার তো কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না।


এ বর্ণনা থেকে আসলে এ ধরনের একটি ধারণা দেয়াই উদ্দেশ্য যে, এত বড় বিশ্ব-জাহানকে যে আল্লাহ অস্তিত্ব দান করেছেন এবং আদি থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত এর যাবতীয় আইন্তশৃঙ্খলা ব্যবস্থা পরিচালনা করে চলেছেন তার সার্বভৌম কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে তোমরা যেসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সত্তাকে উপাস্যে পরিণত করে বসেছো তাদের গুরুত্ব ও মর্যাদাই বা কি । এই বিরাট -বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করা তো দূরের কথা এর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান এবং নিছক জ্ঞানটুকু পর্যন্ত লাভ করার ক্ষমতা কোন সৃষ্টির নেই। তাহলে কেমন করে এ ধারণা করা যেতে পারে যে, সৃষ্টিকুলেরর মধ্য থেকে কেউ এখানে আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব ক্ষমতার কোন অংশও লাভ করতে পারে, যার ভিত্তিতে সে ভাগ্য ভাঙা গড়ার ক্ষমতার অধিকারী হয়ে বসে ।

=====================================

প্রশ্ন: ৫৪ : নামাজের ভিতর দুরুদ পরা কি সুন্নাত না ওয়াজিব

কবর



(২৭.নামল:৬৭) এ অস্বীকারকারীরা বলে থাকে যখন আমরা ও আমাদের বাব দাদরা মাটি হয়ে যাব তখন তাদের সত্যিই কবর থেকে বের করা হবে নাকি?৬৮) এখবর আমাদেরও অনেক দেয়া হয়েছে এবং ইতিপূর্বে আমাদের বাব দাদাদেরকেও অনেক দেয়া হয়েছিল, কিন্তু এসব নিছক কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়, যা আগের জামানা থেকে শুনে আসছি৷

যারা কবরে আছে তাদেরকে তুমি শুনাতে পারো না :  


(৩৫-ফাতির:২২)..আল্লাহ যাকে চান শুনান কিন্তু (হে নবী!) তুমি তাদেরকে শুনাতে পার না যারা কবরে শায়িত রয়েছে৷৪৩ 
৪৩. অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছার ব্যাপার তো ভিন্নতিনি চাইলে পাথরকেও শ্রবনশক্তি দান করেনকিন্তু যাদের বক্ষদেশে বিবেকের কবর রচিত হয়েছে তাদের হৃদয়ে নিজের কথা বদ্ধমূল করে দিতে পারা এবং যারা কথা শুনতেই চায় না তাদের বধির কর্ণকুহরে সত্যের ধ্বনি পৌছিয়ে দেবার সাধ্য রসূলের নেইতিনি তো কেবলমাত্র তাদেরকেই শুনাতে পারেন যারা যুক্তিসংগত কথা শুনতে চায়

মৃত্যুর পর কবর জগতে মানুষের চেতনা থাকবে ? নাকি মৃত্যুর পর চেতনা বিলুপ্ত অবস্থায় থাকবে এবং  একেবারে হাশরের ময়দানে চেতনা ফিরে পাবে ?


(৩৬-ইয়াসিন :২৭) সে বললো, “হায়! যদি আমার সম্প্রদায় জানতো আমার রব কোন জিনিসের বদৌলতে আমার মাগফিরাত করেছেন এবং আমাকে মর্যাদাশালী লোকদের অন্তরভুক্ত করেছেন৷ ২৩ 

২৩. এটি সেই মু'মিন ব্যক্তির উন্নত নৈতিক মানসিকতার একটি শ্রেষ্ঠতম আদর্শযারা এ মাত্র হত্যা কর্ম সংঘটিত করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তাঁর মনে কোন ক্রোধ ও প্রতিশোধ স্পৃহা ছিল না তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য কোন বদদোয়া করছেন নাএর পরিবর্তে তিনি এখনো তাদের কল্যাণ কামনা করে চলছিলেনমৃত্যুর পর তাঁর মনে যদি কোন আকাংখা জন্ম নিয়ে থাকে তাহলে তা ছিল কেবলমাত্র এতটুকু যে, হায়, আমার জাতি যদি আমার এ শুভ পরিণাম জানতে পারতো এবং আমার জীবন থেকে না হলেও আমার মৃত্যু থেকেও যদি শিক্ষা নিয়ে সত্য -সঠিক পথ অবলম্বন করতোএ ভদ্র-বিবেকবান মানুষটি নিজের হত্যাকারীদের জন্যও জাহান্নামের প্রত্যাশা করতেন নাবরং তিনি চাইতেন তারা ঈমান এনে জান্নাতের অধিকারী হোকএরি প্রশংসা করে হাদীসে বলা হয়েছে, -----------"এ ব্যক্তি জীবিত অবস্থায়ও নিজের জাতির কল্যাণকামী থেকেছে এবং মৃত্যুর পরও। "
এ ঘটনাটি বর্ণনা করে মহান আল্লাহ মক্কার কাফেরদেরকে পরোক্ষভাবে এ সত্যটির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাথী মু'মিনরাও তোমাদের ঠিক তেমনি যথার্থ কল্যাণকামী যেমন এ মর্দে মু'মিন তাঁর জাতির কল্যাণকামী ছিলতোমাদের সকল প্রকার উৎপীড়ন-নিপীড়ন সত্ত্বেও এরা তোমাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও প্রতিশোথধ স্পৃহা পোষণ করে না তোমাদের সাথে এদের শত্রুতা নেইবরং এদের শত্রুতা তোমাদের গোমরাহীর সাথেতোমরা সত্যসঠিক পথে ফিরে আসবে, কেবল এ জন্যই এরা লড়াই করছেএ ছাড়া এদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই
যেসব আয়াত থেকে বরযখের (মৃত্যের পর থেকে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত)জীবনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় আয়াতটি তার অন্যতম থেকে জানা যায় মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়-কাল চূড়ান্ত অস্তিত্ব বিলুপ্তির যুগ নয় কোন কোন স্বল্পজ্ঞান-সম্পন্ন লোক রকম ধারণা পোষণ করে থাকে বরং সময় দেহ ছাড়াই প্রাণ জীবিত থাকে, কথা বলে কথা শোনে, আবেগ-অনুভূতি পোষণ করে, আনন্দ দুঃখ অনুভব করে এবং দুনিয়াবাসীদের ব্যাপারেও তার আগ্রহ অব্যাহত থাকে যদি এমনটি না হতো, তাহলে মৃত্যুর পর মর্দে মু'মিনকে কেমন করে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয় এবং তিনিই বা কেমন করে তার জাতির জন্য আকাংখা করেন যে, হায় যদি তারা তাঁর শুভ পরিণাম সম্পর্কে জানতে পারতো


(৩৬-ইয়াসিন :৫২) ভীত হয়ে বলবে, ”আরে কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো?৪৮-“এটা সে জিনিস যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রসূলদের কথা সত্য ছিল৷ ৪৯ 

৪৮. অর্থাৎ তখন তাদের এ অনুভূতিই থাকবে না যে, তারা মরে গিয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে এখন আবার তাদেরকে জীবিত করে উঠানো হয়েছেবরং তারা এ চিন্তায় মগ্ন থাকবে যে, তারা ঘুমিয়েছিল, এখন হঠাৎ কোন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে জেগে উঠেছে এবং ছুটে চলছে। (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ত্বা-হা ৭৮ এবং ইবরাহীম, ১৮ টীকা

৪৯. কে এ জবাব দেবে, তা এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়নিহতে পারে কিছুক্ষণ পরে তারা নিজেরাই বিষয়টির প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারবে এবং মনে মনে বলবে, হায়! আমাদের দুর্ভাগ্য, এ তো সে জিনিসই যার খবর আল্লাহর রসূল আমাদের দিতেন এবং আমরা তাঁকে মিথ্যুক বলতামআবার এও হতে পারে, মুমিনরা তাদের বিভ্রান্তির দূর করে দেবে এবং তাদেরকে জানাবে, এটা ঘুম থেকে জেগে ওঠা নয় বরং মৃত্যুর পর দ্বিতীয় জীবনতাছাড়া এও হতে পারে যে, কিয়ামতের সমগ্র পরিবেশ তাদেরকে এ জবাব দেবে অথবা ফেরেশতারা তাদেরকে প্রকৃত অবস্থা জানাবে

কবর দেবার পদ্ধতি :


হাবিল কাবিলের ঘটনায় কবর দেবার পদ্ধতি শেখানো হয়েছে :
:৩১,


কবর পূজা / মাজার পূজা :


আল্লাহকে বাদ দিয়ে মৃতদেরকে ডেকে কি কোন লাভ হবে? 

(১৬:২০) আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যেসব সত্তাকে লোকেরা ডাকে, তারা কোনো একটি জিনিসেরও স্রষ্টা নয় বরং তারা নিজেরাই সৃষ্টি৷২১) তারা মৃত, জীবিত নয় এবং তারা কিছুই জানে না তাদেরকে কবে (পুনর্বার জীবিত করে) উঠানো হবে৷
(১৩:৩১) আর কী হতো, যদি এমন কোন কুরআন নাযিল করা হতো যার শক্তিতে পাহাড় চলতে থাকতো অথবা পৃথিবী বিদীর্ণ হতো কিংবা মৃত কবর থেকে বের হয়ে কথা বলতে থাকতো ?”  (এ ধরনের নিদর্শন দেখিয়ে দেয়া তেমন কঠিন কাজ নয়) বরং সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই হাতে কেন্দ্রীভূত৷  তাহলে ঈমানদাররা কি (এখানো পর্যন্ত কাফেরদের চাওয়ার জবাবে কোন নিদর্শন প্রকাশের আশায় বসে আছে এবং তারা একথা জেনে) হতাশ হয়ে যায়নি যে, যদি আল্লাহ চাইতেন তাহলে সমগ্র মানব জাতিকে হেয়াদাত দিয়ে দিতেন ?

কবরের উপর মসজিদ বা ইবাদতখানা বা মাজার  নির্মাণ কি বৈধ : (আরো দেখুন: >মাজার নির্মাণ)   


(১৮:২১) এভাবে আমি নগরবাসীদেরকে তাদের অবস্থা জানালাম,  যাতে লোকেরা জানতে পারে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামতের দিন নিশ্চিতভাবেই আসবে৷ (কিন্তু একটু ভেবে দেখো, যখন এটিই ছিল চিন্তার আসল বিষয়) সে সময় তারা পরস্পর এ বিষয়টি নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছিল যে, এদের (আসহাবে কাহফ) সাথে কি করা যায়৷ কিছু লোক বললো, “এদের ওপর একটি প্রাচীর নির্মাণ করো, এদের রবই এদের ব্যাপারটি ভালো জানেন৷”  কিন্তু তাদের বিষয়াবলীর ওপর যারা প্রবল ছিল  তারা বললো, “আমরা অবশ্যি এদের (কবরের) ওপর একটি ইবাদাতখানা নির্মাণ করবো
(ব্যাখ্যা : আসহাবে কাহাফ অর্থাৎ সেই গুহাবাসী যুবকদেরকে প্রায় তিনশত বছর পর ঘুমিয়ে রাখার পর আল্লাহ তাদেরকে আবার জাগ্রত করে দেখালেন, এটা ছিল একটা প্রমাণ, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ মানুষকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করতে পারবেন, কিন্তু এ বিষয়টি অনুধাবন না করে ঐ সময়কার কিছু কিছু লোক এটা চাইল যে, আসহাবে কাহাফের মৃতদের কবরের উপর  একটি সমাধি সৌধ নির্মাণ করতেআল্লাহ এ বিষয়টি উল্লেখ করে কবরের উপর সমাধিসৌধ বা ইবাদতখানা নির্মাণ করতে চাওয়ার সমালোচনা করেছেন)

কবরের সবাইকে আল্লাহ জাগিয়ে তুলবেন হাশরের ময়দানে :


(হাজ্ব:৬) এসব কিছু এজন্য যে, আল্লাহ সত্য,  তিনি মৃতদেরকে জীবিত করেন এবং তিনি সব জিনিসের ওপর শক্তিশালী৷  ৭) আর এ (একথার প্রমাণ) যে, কিয়ামতের সময় অবশ্যই আসবে, এতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে উঠাবেন যারা কবরে চলে গেছে৷
বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন : > কুরআন বিজ্ঞান > বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আল্লাহর অস্তিত্ব আখিরাতের সত্যতার প্রমাণ

ঈমানদার সৎকর্মশীল বান্দা বরযখের আযাব থেকে , কিয়ামতের দিনের কষ্ট থেকে , হিসেবের কঠোরতা থেকে , হাশরের ময়দানের অপমান থেকে এবং নিজের দুর্বলতা ও অপরাধের কারণে পাকড়াও থেকে আল্লাহর মেহেরবানীতে রক্ষা পাবে :


(৩৯-যুমার:৩৪) তারা তাদের রবের কাছে যা চাইবে তা-ই পাবে৷ ৫৩ এটা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান৷

টিকা: ৫৩. একথা লক্ষ রাখতে হবে যে , এখানে (فِى الْجَنَّةِ) না বলে عِنْدَ رَبِّهِمْ (তাদের রবরে কাছে ) কথাটি বলা হয়েছে৷ একথা সুস্পষ্ট যে মৃত্যুর পরেই কেবল বান্দা তার রবের কাছে পৌঁছে ৷ তাই জান্নাতে পৌঁছার পর এ আচরণ করা হবে না৷ বরং মৃত্যুর পর থেকে জান্নাতে প্রবেশ পর্যন্ত সময়েও মু'মিন নেককার বান্দার সাথে আল্লাহ তা'আলা এ আচরণ করবেন ৷ এটাই আয়াতের প্রতিপাদ্য বিষয় বলে মনে হয়৷ ঈমানদার সৎকর্মশীল বান্দা বরযখের আযাব থেকে , কিয়ামতের দিনের কষ্ট থেকে , হিসেবের কঠোরতা থেকে , হাশরের ময়দানের অপমান থেকে এবং নিজের দুর্বলতা ও অপরাধের কারণে পাকড়াও থেকে অবশ্যই রক্ষা পেতে চাইবে , আর মহিমান্বিত আল্লাহ তার এসব আকাংখা পূরণ করবেন৷
=================================
প্রশ্ন ৫৫ : অপচয় সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের বাণী কী? অপচয়কারীর শাস্তি কি?